কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

player
কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনর্নির্মাণে আমরা পরিদর্শন করেছি। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

ভাঙাচোরা আর এবড়োখেবড়ো রাস্তা পেরিয়ে উঠতে হয় সেতুতে। কংক্রিটের তৈরি সেতুর অবস্থা জরাজীর্ণ। এর বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী পয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পারাপারের জন্য সেতুর ওপর বাঁশ বেঁধে দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে।

মাদারীপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের সেতু এটি। প্রায় ১০ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুর ওপর দিয়েই প্রায় ৫ বছর ধরে গ্রামের শিশু, কিশোর, বৃদ্ধসহ ৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার সেতুটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে খোয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর গোবিন্দপুর গ্রামের চর গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে প্রায় ১০ বছর আগে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পলেস্তারাও খসে পড়তে শুরু করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ সেতু নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের ফরাজীকান্দি, মাঝেরকান্দি, মাদবরকান্দি, ডিগ্রি খোয়াজপুর, ভসারচরসহ ৭ গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়। তবে পলেস্তারা খসে পড়তে পড়তে সেতুর অন্তত ৫টি স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে সেতুটি মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এর ওপর দিয়েই স্থানীয়রা মাদারীপুর শহর, স্থানীয় হাটবাজার গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৬ নম্বর চর গোবিন্দপুর উত্তরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিয়াচান দাখিল মাদ্রাসা, হাবিবা ইসলাম নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন।

কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

এ সময় এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার জানানোর পরও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চলাচলে বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫ বছর ধরে সেতুর গর্তের ওপর বাঁশ বেঁধে দিয়ে কোনো মতে হেঁটে চলাচল করছেন তারা। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে হলেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয়রা আরও জানান, এভাবে সেতু পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩ স্কুলশিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ করতে ৩ মাস আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হলেও এখনও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

৩৬ নম্বর চর গোবিন্দপুর উত্তরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় আমাদের অনেক ভয় লাগে। তবে স্কুলে আসতে হলে এভাবেই আসতে হবে, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করি।’

চর গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সোবাহান বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে স্কুলে আসার সময় গত বছর আমার এক সহপাঠী গর্ত দিয়ে নিচে পড়ে পা ভেঙে গেছে। এখানে আমরা দ্রুত নতুন একটি সেতু চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান মীর বলেন, ‘কয়েক বছর ধইরা আমরা ঝুঁকি নিয়া এই সেতু দিয়া হাঁটাচলা করি। হাটবাজারে যাই, শহরে যাই, হাসপাতালে যাই, পোলাপাইন স্কুলে যায়। অনেকবার চেয়ারম্যানকে বলার পরও ব্রিজটা কইরা দেয় নাই। এখন সরকারের কাছে আমাগো একটাই দাবি, এই ব্রিজটি যেন তাড়াতাড়ি কইরা দেয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মুন্সি বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে অন্তত ৭ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। আমরা নিজেরা মিলে ৫ বছর ধরে এভাবে বাঁশ বেঁধে সেতুর ওপর দিয়ে চলাফেরা করলেও দেখার মতো কেউ নেই। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’

এ বিষয়ে খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মুন্সি বলেন, ‘সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিন মাস আগে মাটির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। যেকোনো সময় অর্থ বরাদ্দ হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করি, শিগগির সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনর্নির্মাণে আমরা পরিদর্শন করেছি। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২২ দিনে ৯ জেব্রার মৃত্যু: সাফারি পার্কে বিশেষজ্ঞ দল

২২ দিনে ৯ জেব্রার মৃত্যু: সাফারি পার্কে বিশেষজ্ঞ দল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রার দল। ছবি: নিউজবাংলা

সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগে জেব্রাগুলো দল থেকে আলাদা হয়ে পড়ে যায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পেট ফুলে মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। করোনা সন্দেহে পিসিআর ল্যাবে মৃত জেব্রাগুলোর নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ২২দিনের ব্যবধানে ৯টি জেব্রার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে সাফারি পার্কে বৈঠকে বসেছে বিশেষজ্ঞ দল।

২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে জেব্রাগুলো মারা যায়। সবশেষ সোমবার রাতে পার্কে একটি জেব্রার মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

নিউজবাংলাকে জেব্রার মৃত্যু ও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির।

তিনি বলেন, ‘জেব্রার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানসহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের তিনজন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর মো. শহিদুল্ল্যাহ ও গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ দল বোর্ড মিটিংয়ে বসেছে।’

মৃত্যুর আগে জেব্রাগুলোর মধ্যে কোনো রোগের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেব্রার মরদেহ ময়নাতদন্ত হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’

২২ দিনে ৯ জেব্রার মৃত্যু: সাফারি পার্কে বিশেষজ্ঞ দল

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ‘জেব্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে মৃত জেব্রাগুলোর ফুসফুস, লিভার, মৃত্যুর পর পেটে থাকা অর্ধগলিত খাবারগুলোর পরীক্ষা করা হয়েছে, যার রিপোর্ট চলে এসেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, মারা যাওয়ার আগে জেব্রাগুলো দল থেকে আলাদা হয়ে পড়ে যায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পেট ফুলে মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। করোনা সন্দেহে পিসিআর ল্যাবে মৃত জেব্রাগুলোর নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এছাড়াও খাবারে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে এমন সন্দেহে খাবার পরীক্ষা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেব্রাগুলো যে খাবার খাচ্ছে তা পার্কে থাকা অন্যান্য প্রাণীগুলোও খাচ্ছে। খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু হলে অন্য প্রাণীগুলোরও মৃত্যু হতে পারতো।’

২২ দিনে ৯ জেব্রার মৃত্যু: সাফারি পার্কে বিশেষজ্ঞ দল

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রার মৃতদেহের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার রাতে পরীক্ষার ফলাফলও হাতে এসেছে। ওই ফল নিয়েই মঙ্গলবার সকালে পার্কে বিশেষজ্ঞ দল বৈঠকে বসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাফারি পার্কে জেব্রাকে ঘাস সরবরাহ করে মাহবুব এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের একজনকে নিয়ে যেসব এলাকা থেকে ঘাস সংগ্রহ করা হয় সেসব এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

‘সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাফারি পার্কের চারণভূমির ঘাস ও মাটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

তিনি জানান, পার্কে মোট ৩১টি জেব্রা ছিল। ৯টি জেব্রার মৃত্যুর পর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে।’

শেয়ার করুন

ভোটের পরদিন করালেন মিষ্টিমুখ, ২ মাস পর ফল বাতিল চেয়ে মামলা

ভোটের পরদিন করালেন মিষ্টিমুখ, ২ মাস পর ফল বাতিল চেয়ে মামলা

ভোটের পরদিন বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান ও মিষ্টিমুখ করান পরাজিত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন রাজন। ছবি: নিউজবাংলা

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদ বলেন, ‘এতদিন পর ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলাটি হাস‍্যকর। ২৯ নভেম্বর আমার নামে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শপথ নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। ভোটের পরদিন আশরাফ আমাকে মিষ্টিমুখ করালেন আর এতদিন পর এসে মামলা করলেন।’

ভোটের পরদিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পরাজিত প্রার্থী, করান মিষ্টিমুখও।

তবে দুই মাস পর সেই নির্বাচনের ফল বাতিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণার দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন আশরাফ উদ্দিন রাজন।

লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালত ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গত ২ জানুয়ারি মামলা করেন তিনি।

আশরাফ দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ান। ১১ নভেম্বরের ভোটে জয়ী হন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের খালেদ সাইফুল্লাহ। আশরাফ ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

ভোটের ফল মেনে নিয়ে আশরাফ অভিনন্দন জানিয়ে খালেদকে ফুল দেন ও মিষ্টিমুখ করান।

আশরাফ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোটের ফলে দেখানো হয়, তিনি ৩ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী খালেদ পান ৪ হাজার ৭৬৮ ভোট। তবে এজেন্টদের দেয়া প্রতিবেদনে ভোট আরও বেশি পেয়েছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ‘ওপর মহলের’ নির্দেশে তার ভোট কমিয়ে দিয়েছে।

আশরাফ বলেন, ‘সঠিক গণনা হলে আমিই জয়ী হতাম। তাই খালেদের গেজেট বাতিল করে আমাকে জয়ী ঘোষণা করার জন্য নালিশি মামলা করেছি। এ মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীকেই বিবাদী করা হয়েছে।’

তবে এত দিন পরে কেন মামলা সে প্রশ্নের উত্তর দেননি আশরাফ। তিনি বলেন, ‘এটা পরে বলব।’

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদ জানান, মামলার কারণে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিন পর ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলাটি হাস‍্যকর। ২৯ নভেম্বর আমার নামে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শপথ নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। ভোটের পরদিন আশরাফ আমাকে মিষ্টিমুখ করালেন আর এতদিন পর এসে মামলা করলেন।’

মামলার বিষয়টি এখনও জানেন না কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘মামলার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

মাদ্রাসার মাঠে কেটে ফেলা গাছ। ছবি: নিউজবাংলা

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে টেন্ডার বা অনুমতি ছাড়াই সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এ অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

অভিযুক্তদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

স্থানীয় আহম্মেদ কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ১৯৮৬ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাস জমিতে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের কাছে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও জমিটি মাদ্রাসার কাছে রেজিস্ট্রি দেয়নি সরকার। মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে অবস্থিত।

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘চারটি কাঁঠাল গাছ বিক্রি করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। যা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম।’ তিনি মনে করেন, গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

নিউজবাংলাকে হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার মো: মফিজুল ইসলাম কাদেরী বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে, রেজিস্ট্রেশন হয়নি। রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার প্রাচীরের ভিতরে থাকায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত রয়েছেন। তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, ‘গাছগুলোর শিকড় প্রাচীরের ক্ষতি করছিল। প্রাচীর ফাটল ধরছিল, তাই কমিটির সকল সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিয়ময় করে রীতিমতো রেজুলেশন করে গাছগুলো কাটা হয়েছে।’

যদিও এর আগে গাছ কাটার কারণ হিসেবে মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনিও দাবি করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে আমার কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা থাকতে পারে না। এটি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার।’

উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মো: রাকিবুজ্জামান বলেন, ‍‘আমি স্থানীয় তহশীলদারের কাছে শুনেছি, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করেছে এবং মাদ্রাসাটিও নাকি খাস জমিতে অবস্থিত।

‘আমি বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি আসলে মাদ্রাসা ও গাছগুলো সরকারি খাস জমিতে আছে কি না? তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

শেয়ার করুন

ফেরি স্বল্পতায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে যাত্রী ভোগান্তি

ফেরি স্বল্পতায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে যাত্রী ভোগান্তি

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরির সংখ্যা না বাড়ানোয় বেড়েছে যাত্রীদের ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা

আব্দুল করিম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় পদ্মা নদী এখন শান্ত। নৌ-চ্যানেলে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাওয়ার ভয়ও নেই। তবুও বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে পারাপারে ফেরি সংখ্যা না বাড়ানোয় আমাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে।’

শীতের মৌসুমে পদ্মায় স্রোতের গতিবেগ কমে নদী শান্ত। তবুও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বাড়ানো হয়নি ফেরির সংখ্যা। ৪ থেকে ৫টি ফেরি দিয়ে শুধুমাত্র চলছে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার। বাস পারাপার বন্ধ থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ পথে চলাচলকারীরা।

গত পাঁচ মাস ধরে এই অবস্থা চললেও এ রুট ব্যবহারকারীদের জন্য শিগগিরই কোনো সু-খবর নেই বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

ফেরি স্বল্পতায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে যাত্রী ভোগান্তি


বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে চার বার ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ।

দুর্ঘটনা এড়াতে ১৮ আগস্ট থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দফায় সীমিত আকারে ফেরি চালু ও বন্ধ হয়।

পরে শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি ঘাটে স্থানান্তরিত করা হয় ফেরিঘাট। তবে ওই রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচর জেগে ওঠায় বন্ধই থাকে ফেরি চলাচল।

এরপর গত ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ৪ থেকে ৫টি ফেরি দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু হয়।

একই দিন থেকে মাঝিকান্দি-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত একই সংখ্যক ফেরি দিয়ে জরুরি সেবা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করায় বিআইডব্লিউটিসি।

তিনি আরও জানান, মাঝিকান্দি-শিমুলীয়া রুটে ২৪ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে ৭ ডিসেম্বর থেকে। এ রুটে দিনের বেলা দুটি ফেরি ও সন্ধ্যার পর থেকে ৪টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। তবে ট্রাকগুলো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ঘুরে চলছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বেড়েছে।

বাংলাবাজার ঘাটে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলার প্রতিবেদক। তারা জানায়, ফেরিতে বাস পারাপার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া দিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ঘুরে চলাচল করছে। আর না হয় অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আব্দুল করিম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় পদ্মা নদী এখন শান্ত। নৌ-চ্যানেলে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাওয়ার ভয়ও নেই। তবুও বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে পারাপারে ফেরি সংখ্যা না বাড়ানোয় আমাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে।’

বরিশালের মুলাদীর যাত্রী কহিনুর বলেন, ‘স্রোতের অজুহাত দেখিয়ে ফেরি কম চালানো হচ্ছে। আর কর্মকর্তাদের এখন কোনো কাজ করতে হচ্ছে না। মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আরও ১০টি ফেরি কী চালু রাখা যেতে পারে না?’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মায় পানির উচ্চতা আগের তুলনায় কমেছে। সেই সঙ্গে স্রোতও আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ফলে ফেরি আরও বাড়ানো যায় কি না তা ভেবে দেখব।’

শেয়ার করুন

ট্রেনে কাটা পড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

ওসি সাইদুর রহমান জানান, আন্ত মিয়া তিলকপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে রেললাইন পার হওয়ার সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়েন তিনি।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে।

তিলকপুর রেলস্টেশনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক আন্ত মিয়া আক্কেলপুর উপজেলার নওজোর গ্রামের বাসিন্দা।

নিউজাবংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, আন্ত মিয়া তিলকপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিলকপুর বাজারে যাওয়ার জন্য রেললাইন পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে আন্ত মিয়া কাটা পড়েন।

সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন। ২৮ ঘণ্টার জন্য তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানাননি ফরিদ।

প্রয়োজনে এবার সব শিক্ষার্থী অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও তারা দাবি আদায় করে ছাড়বেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ অহিংস পন্থায় আন্দোলন করছি। অহিংস আন্দোলনের সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে অনশন। আমরা সাত দিন ধরে অনশন করছি তবুও উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না। অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

‘তার কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

নাঈম আহমদ নামের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছিল। তারাও সোমবার চলে গেছে। চিকিৎসার অভাবে অনশনকারীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অনশনকারীদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন ও ২৪ জানুয়ারি একজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ২৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় রিকশাযাত্রীর মৃত্যু

বাসের ধাক্কায় রিকশাযাত্রীর মৃত্যু

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘রিকশায় করে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার সকালে আনোয়ার হোসেনকে নিউ মার্কেটগামী একটি ৬ নম্বর বাস ধাক্কা দেয়। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ে বাসের ধাক্কায় এক রিকশাযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আনোয়ার হোসেন ডবলমুরিং থানার সুপারিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল গনির ছেলে। তার বয়স ৬১ বছর।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে রিকশাযোগে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের সামনে পৌঁছানোর পর নিউ মার্কেটগামী একটি ৬ নম্বর বাসের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন