এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

player
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির (বাঁয়ে) ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের কারণ হিসেবে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নের’ কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য এই আলোচনা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সভা ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধি ছাড়াও থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থ বিভাগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির প্রতিনিধি।

আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক হবে বলে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএসইসি ও বিআইসিএম শাখা থেকে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাহিদ হোসেন সাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের কারণ হিসেবে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নের’ কথা জানানো হয়েছে।

বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রীর সাঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য এই আলোচনা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পুঁজিবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ এই সভার সভাপতিত্বে থাকবেন। সভায় গভর্নর ও বিএসইসি চেয়ারম্যান তাদের প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে জানা গেছে।

এই বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আগেই নানা বিষয় আলোচনা হয়েছিল যেসব বিষয় নিয়ে, সেগুলোর বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও পর্যালোচনার জন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

তবে কোন কোন বিষয় কবে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলো উল্লেখ করেননি এই কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের দিকে দৃষ্টি রয়েছে বিনিয়াগকারীদের।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বাজার যখন উত্থানে ছিল, তখন এই বিষয়গুলো সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজার সংশোধন শুরু হওয়ার পর এই মতভেদ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার দুই পক্ষে আনুষ্ঠানিক একটি বৈঠক হয়। এতে আলোচনা হয় মূলত চারটি বিষয় নিয়ে। তবে বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন দুই ইস্যুতে। প্রথমত ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে বিবেচনা করা হবে; দ্বিতীয়ত, বন্ডের বিনিয়োগ ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে কি না।

বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যে না রাখতে। এতে বাংলাদেশের বন্ড বাজার বড় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

বৈঠকের পর দিন পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়। টানা পতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে এক দিনেই সূচক বেড়ে যায় ১৪৩ পয়েন্ট।

এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

তবে এ নিয়ে উচ্ছ্বাসের মধ্যে সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে ফের উদ্বেগ দেখা যায়। এই বিজ্ঞপ্তির ভাষার সঙ্গে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিনের বলা কথার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তারপরেও বৈঠকের পর কোনো কথা না বলার একদিন পর এই বিজ্ঞপ্তি বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জন্ম দেয়।

বিএসইসি কমিশনার জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন, নীতিগতভাবে একমত হতে পেরেছেন। তার বক্তব্য ছিল এমন: ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।

‘আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সেই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলোয় আলোচনা হয়েছে, সামনে এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তির ভাষাটা ছিল এমন- ‘সভা শেষে বিএসইসি কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উক্ত সভায় কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

এতে বলা হয়, ‘সভায় পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।…ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের দুই দিন আগেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য জানিয়ে এসেছে বিএসইসি। সরকার যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে, সে অনুরোধ জানানো হয়েছে এতে।

আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি সরকার প্রধানকে জানান, বাজার মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ হওয়ায় পুঁজিবাজারে অযাচিত বিক্রয়চাপ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, সেটি না জানালেও বিএসইসি চেয়ারম্যান বৈঠকের ফলাফল প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।

যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনা হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

বিএসইসির সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই বিজ্ঞপ্তির পর গণমাধ্যমের সামনে আসতে চেয়েছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। পরে তিনি কথা বলেন অর্থ সচিবের সঙ্গে। সচিব তাকে কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিষয়টি তারা দেখছেন।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

প্রতিদিনের লেনদেনে একটু একটু করে বাড়ছে সূচক। বছরের প্রথম কর্মদিবসে সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। সেখান থেকে ১২ কর্মদিবসে সূচকে ২০০ পয়েন্ট যোগ হয়ে সোমবার দেড় মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ফিরছে একসময় হু হু করে বাড়তে থাকা বিমা, স্বল্প মূলধনি, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানির শেয়ার। এসব খাতের শেয়ারের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায় উঠে আসে কোম্পানিগুলোর নাম।

ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের থাকা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে তাদের অর্থবছরের হিসাব সম্পূর্ণ করেছে। এখন অডিটের মাধ্যমে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে লভ্যাংশ আসতে শুরু করবে। পুঁজিবাজারে মূলত ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক খাত, বিমা, মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থবছর ডিসেম্বরকেন্দ্রিক। ফলে এসব কোম্পানির প্রতি এখনই আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

এদিন লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারের লেনদেন একবারও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেনি। তবে ৩ জানুয়ারি থেকে হাজার কোটি টাকার লেনদেনের যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে। এই যাত্রায় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ১১ জানুয়ারি, ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

সোমবার লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। যার ফলে সূচকের উত্থানে পতনের যে বড় ঢেউ দেখা যেত, সেটি ছিল না বললেই চলে।

খানিক সময়ের জন্য সূচকের পতন উত্থানের হার কমে এলেও পরবর্তী সময়ে আবার সেটি শেয়ার কেনার আগ্রহে উঠে এসেছে। দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৫ পয়েন্টে। এর আগে ২১ নভেম্বর সূচক ছিল ৭ হাজার ৮৫ পয়েন্টে।

সোমবার লেনদেনে সাধারণ বিমা খাতের ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। আর জীবন বিমা খাতের ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ দর বেড়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৬১ শতাংশ, নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের ৬৮ শতাংশ, ব্যাংকের ৫৯ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ৩৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

তৃতীয় দিনে লেনদেন থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের গ্রিন সুকুকের দাম আরও কমেছে। এদিন সুকুকটির দর কমে হয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যেই এই সুকুকের লেনদেন গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। সেদিন সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১১০ টাকা। লেনদেন শেষ হয় ১০১ টাকায়। দ্বিতীয় দিনের লেনদেনে দর আরও কমে হয় ৯৫ টাকা। সোমবার তৃতীয় দফায় প্রতিটি সুকুকের দর কমেছে সাড়ে ৩ টাকা।

সূচক উত্থানে ছিল যেসব কোম্পানি

সোমবার সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল টেলিকম খাতের রবির। শেয়ারদর ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ উত্থানে সূচক বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ২ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচক উত্থানে ভূমিকা রেখেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ফার্মার অবদান ছিল ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট। বিএসআরএমের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, এতে সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট।

এ ছাড়া সাইফ পাওয়ারের ২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট, বার্জার পেইন্টের ২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট ও ডরিন পাওয়ারের ১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট অবদান ছিল সূচক বৃদ্ধিতে।

পাশাপাশি শেয়ারদর কমায় সূচক পতনে ত্বরান্বিত করেছে তিতাস গ্যাস, আরএকে সিরামিক, আইসিবি, পাওয়ার গ্রিড, ওয়ালটন, বিএটিবিসি, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফ।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

সোমবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সদ্য লেনদেনে আসা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের। দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া এদিন ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে আছে শমরিতা হসপিটাল, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেনে এদিন কোম্পানিটির ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। দর বৃদ্ধিতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪ টাকা ২০ পয়সা।

প্রাইম লাইফের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া ফুওয়াং ফুডের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

৮ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্রগতি লাইফের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও ডরিন পাওয়ারের ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

৭ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সাইফ পাওয়ারের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া এ তালিকায় আছে লিব্রা ইনফিউশন ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স।

দরপতনে ১০ কোম্পানি

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত দুই কর্মদিবস ধরে কমছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। সোমবার দরপতনে ৫০ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার নেমেছে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

আরএকে সিরামিকের শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। আরও দুটি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। একটি হচ্ছে তিতাস গ্যাস, যার শেয়ারদর ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যটি এএমসিএল (প্রাণ), যার শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৪ শতাংশের বেশি শেয়ারদর কমেছে আরও সাতটি কোম্পানির। এর মধ্যে রংপুর ফাউন্ডির ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, কাট্টলি টেক্সটাইলের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, সমতা লেদারের ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, এপেক্স স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

লেনদেনে ১০ কোম্পানি

সোমবার টাকার অঙ্কে লেনদেন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, যার ১৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

সাইফ পাওয়ারের লেনদেন হয়েছে ১০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২টি শেয়ার।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৫টি শেয়ার।

ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৯টি শেয়ার।

পাওয়ার গ্রিডের ৫৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিকের ৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতের ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফের ৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ১৭ লাখ ও ফরচুন সুজের ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দিলো ইউনিয়ন ব্যাংক। ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ৭৯২টি শেয়ার। প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ৫৩৭টি শেয়ার।

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, ডিএসইর সিআরও (ইনচার্জ) ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ডিএসইর ট্রেনিং অ্যাডেমির প্রধান ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে আইপিও আবেদনের নতুন নির্দেশনা কার্যকর করে বিএসইসি। যেখানে আবেদন করলেই শেয়ার পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য নূন্যতম ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে পুঁজিবাজারে।

সোনালী লাইফকে দিয়ে যখন আইপিওতে প্রথম সবার জন্য শেয়ারের ব্যবস্থা চালু হয়, সে সময় থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হয় একেকজন বিনিয়োগকারীকে। পরে কেবল ১০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন ব্যাংককে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই শর্তে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

শর্ত হিসেবে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

গত এক বছরের বেশি সময়ে ইউনিয়ন ব্যাংক সহ মোট তিনটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা।
উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কোন কোম্পানির আবেদনে কত শেয়ার মিলেছে

লটের বদলে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একেকজন সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৫৪টি শেয়ার পেয়েছেন বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ২৯ টাকা করে। এই হিসাবে প্রতিজনের লেগেছে ১ হাজার ৫৬৬ টাকা।

৬০টি করে শেয়ার পেয়েছেন সাউথবাংলা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য ১০ হাজার টাকা আবেদন করলেও বিনিয়োগকারীর সেই আবেদন থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০টি করে শেয়ার পাওয়া গেছে একটি পেস্ট্রিসাইডসের। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের বিপরীতে কেটে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার পাওয়া গেছে ১৯টি করে, বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ১৯০ টাকা আর একেকজন সোনালী লাইফের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭টি করে, একেকজনের কাছ থেকে কাটা হয়েছে ১৭০ টাকা।

গত ১ এপ্রিল থেকে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দের পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে স্থিরমূল্যে আইপিওতে আসা বিনিয়োগকারীরা ৫০০টি শেয়ার বরাদ্দের জন্য আবেদন করতেন ৫ হাজার টাকায়। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যেসব কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করেছে, সেগুলোর আইপিওতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হতো।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের আবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৩০টি শেয়ার। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছিলেন ২২টি শেয়ার।

ইউনিয়ন ব্যাংকের আগে সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয় বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকায় আবেদনের বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬টি, প্রবাসীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০টি।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার কারখানা। ছবি: ওয়েসবাইট থেকে নেয়া

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরু করা গ্রিন সুকুক আল-ইসতিসনার দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। ৩ হাজার কোটি টাকার এই সুকুক পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা।

তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

রোববার সুকুকের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন ৯৫ টাকায় নামলেও পরবর্তী সময়ে লেনদেন শেষে ৯৮ টাকা ৫০ পয়সায় থেমেছে। ফলে আগের দিনের তুলনায় সুকুকটির দর কমেছে আড়াই টাকা। আর লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনা নতুন প্রডাক্ট এই সুকুক।

পুঁজিবাজারে বন্ড খাতের ১৫টি বন্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে দুটি বন্ডের দর বেড়েছে। কমেছে তিনটির। বাকি বন্ডগুলোর লেনদেন হয়নি।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, বিভিন্ন ফিচার নিয়ে এ ধরনের কনভার্টাবল বন্ড পুঁজিবাজারে একেবারেই নতুন। এ বন্ডের বিপরীতে শেয়ার নেয়া যাবে, শেয়ার নিতে না চাইলে মুনাফা নেয়ার নানা সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে আগে বন্ডে এমন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কোনো কিছু তালিকাভুক্ত হয়নি। ধারণা না থাকায় এ বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।

তিনি বলেন, আর এই বন্ডটি পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ। তাদের একটি বেক্সিমকো সিনথেটিক নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনও ভোগান্তিতে। জিএমজি এয়ারলাইনসের প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করে এখনও অনেকের টাকা ফেরত দেয়নি এই গ্রুপ। ফলে এই গ্রুপের পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট সুকুক বন্ডে তারা কতটা বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেবে, সেটি নিয়েও সন্দেহ আছে বিনিয়োগকারীদের। যার ফলে আগ্রহ কম।

লেনদেনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সুকুকের মোট ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড হাতবদল হয়েছিল।

সুকুকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানও স্বীকার করেছিলেন, পুঁজিবাজারে এ ধরনের বন্ড নতুন হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।

পরবর্তী সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানান।

সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।

এসব প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ আছে।

সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ১৬ আগস্ট সুকুকের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের কাছ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে আইপিও আবেদন চাওয়া হয়। আবেদনের মেয়াদ ২৩ আগস্ট শেষ হলে দেখা যায় মাত্র ৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার জন্য আবেদন জমা পড়ে।

এরপর ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়। এই সময়ে কেবল একজন নতুন করে আবেদন করেছিলেন। এ অবস্থায় তৃতীয় দফায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ। সে সময় বিএসইসি বলেছিল, এই সময়ের মধ্যে সুকুকে আইপিও কোটা পূরণ না হলে তা বাতিল হবে।

এ অবস্থায় একই বছরের ২১ ডিসেম্বর সুকুকের লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন শেষ করে বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ২৩ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেক্সিমকো লিমিটেডকে সুকুকের বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করে।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

স্বল্প মূলধনি আবার চাঙা

স্বল্প মূলধনি আবার চাঙা

স্বল্প ‍মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বেড়েছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রোববার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে ছয়টির। আর ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে চারটি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের আগের পুঁজিবাজারে স্বল্প ‍মূলধনি কোম্পানিগুলোর যে চাঙ্গাবস্থা ছিল সেটি চার মাসের ব্যবধানে আবারও হাতছানি দিচ্ছে।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে ছয়টি। আর ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে চারটি।

পুঁজিাবজারে মূলত ৩০ কোটি টাকার নীচে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সেসব কোম্পানিকে স্বল্পমূলধনি কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত বছরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মূলত পুঁজিবাজারে স্বল্প পরিশোধিত মূলধন ও লোকসানি কোম্পানিগুলোকে মূল ব্যবসায় ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড ভেঙে দেয়াসহ বোর্ডে নতুন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করে।

এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ আগে স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর প্রতি। এসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় বিএসইসির উদ্যোগের খবরে শেয়ার বিক্রেতা কম যায় এবং শেয়ার কেনার আগ্রহ বাড়ায় হু হু করে বাড়তে থাকে দর।

যদিও সেপ্টেম্বরের পর স্বল্প মূলধনি এসব কোম্পানির উত্থান খুব বেশি নজরে আসেনি। তবে রোববার দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির স্বল্পমূলধনি হওয়ায় আগ্রহের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে এসব কোম্পানিকে।

রোববার লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার আগ্রহ যে মাত্রায় ছিল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে। বিশেষ করে বেলা ১টা ২৫ মিনিটের পর শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান যেভাবে হয়েছিল শেষ দিকে সে গতি কমে আসে।

দিনে শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ পয়েন্টে। নতুন বছরের এখন পর্যন্ত ১১ দিন লেনদেন হয়েছে। বছরের শুরু হয়েছিল ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্ট দিয়ে। সেখান থেকে অল্প অল্প করে সূচক বেড়ে ১১ জানুয়ারি ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে।

১২ জানুয়ারি আবারও সূচক ৬ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে নেমে আসে। সবশেষ বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭ হাজার ১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। রোবাবর এই সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

এ ছাড়া শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস দশমিক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০২ পয়েন্টে। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।

রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লেনদেন শেষে সূচক ৭ হাজারে শেষ হয়েছে। এর আগের ১৬ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর টানা সাত হাজারে ছিল সূচক। এরপর ছয় হাজারে ছিল সূচক। এদিন লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

লেনদেনে ১৮২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। কমেছে ১৫১টির। দর পাল্টায়নি ৪৫টির।

সূচক বাড়িয়েছে যেসব কোম্পানি

রোরবার সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সিরামিক খাতের আরএকে সিরামিকের ৯১০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া, দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান ছিল জিপিএইচ ইস্পাতের ৫৫৩.৯৬ পয়েন্ট।

ইউনিক হোটেলের অবদান ছিল ৪৮১.৭৫ পয়েন্ট। স্কয়ার টেক্সটাইলের শেয়ার দর এদিন বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। এতে সূচক বাড়তে সহায়ক ছিল ৪৫১.৮৯ পয়েন্ট।

এ ছাড়া, এদিন সূচকে ওয়ালটন হাইকেট ইন্ডাস্ট্রিস, ফরচুন, লিন্ডা বিডি, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও এনভয় টেক্সটাইলের অবদান ছিল মোট ১৯১৪.৫২ পয়েন্ট।

রবি, বেক্সিমকো, বেক্সিমকোফার্মা, স্কয়ালফার্মা, লাফার্জ হোলসিম, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, বার্জার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার দর কমায় সূচক পতনে ত্বরান্বিত করেছিল।

দর বৃ্দ্ধিতে ১০ কোম্পানি

রোববার দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১৫টি কোম্পানির। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি আছে যাদের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ।

এর মধ্যে স্বল্প মূলধনি কোম্পানি আজিজ পাইপ ও বিমা খাতের ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স রয়েছে। এদিন উভয় কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এ ছাড়া, বিডি অটোসের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৯ শতাংশ, যা পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনি একটি কোম্পানি। ৯.৯৭ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের।

৯.৯৫ শতাংশ দর বেড়েছে এপেক্স ফুডের। এটিও পুঁজিবাজার স্বল্পমূলধনি একটি কোম্পানি। এ ছাড়া, ৯.৯৪ শতাংশ দর বেড়েছে মতিন স্পিনিংয়ের। ৩০ কোটি টাকার নিচে পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি শমরিতা হসপিটাল, রোববার যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ।

এ ছাড়া ফাইন ফুড, স্কয়ার ফার্মা, ফু ওয়াং ফুড, ফারইস্ট লাইফ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স, তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। এরমধ্যে ফাইনফুড স্বল্পমূলধনি কোম্পানি।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

রোববার সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর কমেছে ডেফোডিল কম্পিউটারের ৫.৯৭ শতাংশ। এদিন আরও একটি কোম্পানির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। বসুন্ধরা পেপার কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৫.১৭ শতাংশ।

টেলিকম খাতের রবির শেয়ার দর রোববার কমেছে ৩.৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া, ইস্টার্ন ক্যাবল, রানার অটোমোবাইল, বিচ হ্যাচারি, লাভেলো, ফনিক্স ফিন্যান্সের শেয়ার দর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি। প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ডেসকোও ছিল এই তালিকায়।

২ শতাংশের বেশি দর পতন হয়েছে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের। এদিন কোম্পানির ২.৯৭ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে। এ ছাড়া, মীর আক্তার হোসাইনের শেয়ার দর কমেছে ২.৮৯ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। শেয়ার দর পতনে এদিন কোম্পানির শেয়ার প্রতি হারিয়েছে ৪ টাকা। ফলে ১৪৯ টাকার শেয়ার নেমে এসেছে ১৪৫ টাকায়। রোববার কোম্পানির ৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৫৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৯টি শেয়ার।

এ ছাড়া, ফরচুন সুজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৯৯টি।

আরএকে সিরামিকের ৭১ কোটি ৮০ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিডের ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফের ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া জিপিএইচ ইস্পাতের ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬১ লাখ ৩২ হাজার ৩২টি শেয়ার।

পেনিনসোলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার, লাভেলোর ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার, তিতাস গ্যাসের ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

স্থগিত থাকছে ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণার রায়

স্থগিত থাকছে ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণার রায়

রাজধানীতে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে দেন। আজকে আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছেন। ফলে প্রশাসক পদে থাকতে আপাতত কোনো বাধা নেই।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিতই থাকছে।

রোববার প্রধান বিচারপতিসহ ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালত আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রায় স্থগিত রাখার কথা বলেছে।

১০ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। আপিল বিভাগ আজ শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখে। ফলে বর্তমান প্রশাসক তার পদে থাকতে আপাতত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে দেন। আজকে আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছেন। ফলে প্রশাসক পদে থাকতে আপাতত কোনো বাধা নেই।’

আদালতে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে গত ৬ জানুয়ারি রায় দেয় বিচারপতি খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত করে চার মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনার কয়েক দিন পর ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সাসপেন্ড করে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আইডিআরএর ওই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে ডেল্টা লাইফের বরখাস্ত হওয়া পর্ষদ হাইকোর্টে রিট করেছিল। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায় দিল।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

এনডিডির স্বাস্থ্য বিমাকে বঙ্গবন্ধুর নামে চায় আইডিআরএ

এনডিডির স্বাস্থ্য বিমাকে বঙ্গবন্ধুর নামে চায় আইডিআরএ

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফাইল ছবি

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত বিমা খাতের উন্নয়নে অনবদ্য অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মুজিববর্ষে আইডিআরএ গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনডিডির স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী’র (এনডিডি) স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণ করতে চায় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট ও সব বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১ মার্চ ২০২২ জাতীয় বিমা দিবসের অনুষ্ঠানে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘এ অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিমা খাতের উন্নয়নে অনবদ্য অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এবং মুজিববর্ষের আইডিআরএ গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীর (এনডিডি) স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

আইডিআরএ সিদ্ধান্তের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবগতির জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার ওই সনদে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতার ধরন ও মাত্রা অনুসারে সেবা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে স্নায়ুবিকাশ জনিত প্রতিবন্ধীদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ প্রণয়নের মাধ্যমে ট্রাস্ট স্থাপনের পর ২০১৪ সালে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টি বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করে।

নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে ট্রাস্ট বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। বর্তমানে এই ট্রাস্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার তহবিলে ব্যাংকের টাকা কত, জিজ্ঞাসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

পুঁজিবাজার তহবিলে ব্যাংকের টাকা কত, জিজ্ঞাসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

এই তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা পাঠানো নিয়ে আপত্তি আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাদের দাবি, এই অর্থ আমানতকারীদের। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে, এই ব্যাখ্যা ঠিক নয়, এই অর্থ আমানতকারীদের নয়, শেয়ারধারীদের। ফলে এই অর্থ স্থিতিশীলতা তহবিলে পাঠানো যুক্তিসংগত।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিলে (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড- সিএমএসএফ) ব্যাংকগুলো কত টাকা বা অবণ্টিত ও দাবিহীন লভ্যাংশ দিয়েছে, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ৩২টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যাংকের কাছেই তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফার ওপর প্রতি বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ঘোষণা করে। নিয়ম অনুযায়ী তা বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে চলে যায়।

এ প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাংকের মাধ্যমে করা হয়। একটি হিসাবে তা জমা দেয় লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ব্যাংক। বর্তমানে প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে হয়। তবে আগে কাগুজে প্রক্রিয়ায় ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট পাঠানো হতো। এই ওয়ারেন্টের একটি অংশ ফেরত আসত। এভাবে অদাবিকৃত মুনাফা তৈরি হয়।

শুরুতে ২১ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়। তবে তহবিল গঠনের আলোচনার পর কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবণ্টিত লভ্যাংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের জানায়। এরপর বেশির ভাগ অবণ্টিত লভ্যাংশই কোম্পানিগুলো বিতরণ করেছে বলে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত কত টাকা তহবিলে জমা পড়ল, সেটি এখনও জানানো হয়নি। তবে সেটি দেড় হাজার কোটি টাকার কম হবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে।

অদাবিকৃত এ লভ্যাংশ নিতে চেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএসইসি। এই অর্থে গঠন করা হয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড সিএমএসএফ।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অদাবিকৃত জমে থাকা লভ্যাংশ এই তহবিলে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

শুরুতে ২১ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়। তবে তহবিল গঠনের আলোচনার পর কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবণ্টিত লভ্যাংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের জানায়। এরপর বেশির ভাগ অবণ্টিত লভ্যাংশই কোম্পানিগুলো বিতরণ করেছে বলে জানানো হয়।

শেষ পর্যন্ত কত টাকা তহবিলে জমা পড়ল, সেটি এখনও জানানো হয়নি। তবে সেটি দেড় হাজার কোটি টাকার কম হবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে।

এই তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা পাঠানো নিয়ে আপত্তি আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাদের দাবি, এই অর্থ আমানতকারীদের। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে, এই ব্যাখ্যা ঠিক নয়, এই অর্থ আমানতকারীদের নয়, শেয়ারধারীদের। ফলে এই অর্থ স্থিতিশীলতা তহবিলে পাঠানো যুক্তিযুক্ত।

এরই মধ্যে এই তহবিলের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদে আইসিবিকে দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আইসিবি এই টাকা বিনিয়োগ করবে পুঁজিবাজারে। বাকি ৫০ কোটি টাকায় একটি মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করার কথা জানানো হয়েছে।

এই তহবিল গঠনের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এর ৪০ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারে। ৫০ শতাংশ অর্থে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেয়া হবে। আর ১০ শতাংশ অর্থ অতালিকাভুক্ত কোম্পানি বা সরকারি সিকিউরিটিজ, স্থায়ী আমানত ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তবে কোনো বিনিয়োগকারী কখনও যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে তার লভ্যাংশ দাবি করে, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তা তহবিল থেকে নিষ্পত্তি করা হবে।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে
এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন