উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী

player
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১ এবং আর্মড ফোর্সের ওয়ার কোর্স-২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এটুকু বলব, ২০৪১-এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তারই অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন। এটা আমি আশা করি।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অগ্রসেনানীর ভূমিকায় দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এটুকু বলব, ২০৪১-এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তারই অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন। এটা আমি আশা করি।’

ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে বৃহস্পতিবার সকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১ এবং আর্মড ফোর্সের ওয়ার কোর্স-২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষপূর্তি হবে, সেটাও আমাদের মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে- জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা গড়ে তুলব।’

সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলাম। কাজেই আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।’

এ পর্যন্ত ২৪টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ৩৮৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এবার এনডিসিতে ২৭ জন বিদেশি সামরিক সদস্যসহ মোট ৮৮ জন এবং এএফডব্লিউসিতে মোট ৫৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এনডিসিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেছেন, যা নিঃসন্দেহে আপনাদের কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব অর্জনে সহায়ক হবে।

‘আমি আশা করি, এই কোর্স দুটিতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সামরিক সদস্যদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা সর্বোপরি আমাদের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে যে নিবিড় মিথষ্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তা ভবিষ্যতে অটুট থাকবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে আমি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। প্রথম ২০০০ সালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ করি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৮ থেকে পর পর তিনবার নির্বাচনে জয় পেয়ে দেশের সেবায় সময়-সুযোগ পেয়ে উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ও যুগোপযোগী সামরিক বাহিনী গঠনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষানীতিকে যুগোপযোগী করে জাতীয় প্রতিরক্ষানীতি, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামরিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান ও হেলিকপ্টারসহ মডার্ন ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, বিভিন্ন আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জামাদি, আকাশে বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় শোরাড, ভিশোরাড, সর্বাধুনিক অয়েরলিকন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইত্যাদি সংযোজন করেছি।

“নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম হেলিকপ্টার সংযোজন এবং বিশেষায়িত ফোর্স হিসেবে ‘সোয়াডস’ গঠন করেছি। নতুন নতুন নৌ এবং সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করছি।”

বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এভিয়েশন ও এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ফরোয়ার্ড এভিয়েশন বেজ ও এয়ার ডিফেন্স নোটিফিকেশন সেন্টার নির্মাণ করেছি। আমরা দেশব্যাপী সিএমএইচগুলোকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকে। তারা বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

‘কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও হাসপাতাল স্থাপন, আটকে পড়া দেশি-বিদেশি লোকজনকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা, গুরুতর রোগী এবং চিকিৎসা-স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসা অর্জন করেছে।’

দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি নিশ্চিতকরণে দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকাকেও প্রশংসিত করেছে। আমরা আবারও সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গৌরবের স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। আর্থ-সামাজিক সব সূচকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম হয়েছি।’

করোনা মহামারির মধ্যেও সব মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি।’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দেশ-বিদেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য একটি শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার যে লক্ষ্য সেটা পূরণ হয়েছে বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারি ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত করে তোলার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিৎ’

‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিৎ’

সিপিডির ভার্চুয়াল সংলাপে বিশিষ্টজনরা।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নারীরা আইভীকে নিয়ে গর্ব করেন। ২০১১ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। এসব কাজে আইভীর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিৎ।’

সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে একটি ‘অনন্য’ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশিষ্টজন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, ‘এই নির্বাচন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এটা নিয়ে গবেষণা করা উচিৎ।’

শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে এ অভিমত জানান তারা।

সংলাপে অংশ নেন নারায়াণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, আরমা দত্ত ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপিডির নিবার্হী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রওনক জাহান।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন আমাদের আপ্লুত করেছে। আইভী প্রায়ই ষড়যন্ত্রের কথা বলেন। এটা ঠিক নয়। তার (আইভীর) সাফল্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে কাজ।’

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত ছিল না। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সরকারের জন্য এই নির্বাচন ঝুঁকি ছিল না। কারণ, আইভী হলেন ‘ম্যারাডোনা’ তারকা। আইভীর জিতে আসার সম্ভাবনা ছিল উজ্জ্বল। তৈমূর আলম খন্দকার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তবে এটা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। কেননা ইভিএমে জালিয়াতি প্রমাণ করার সুযোগ নেই।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অনন্য অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

আইভীর ক্লিন ইমেজের কারণে জয়ের পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নারীরা আইভীকে নিয়ে গর্ব করেন। ২০১১ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। এসব কাজে আইভীর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে গবেষণার করার পরামর্শ দেন তিনি।

‘নারায়ণগঞ্জ মেয়রের ক্ষমতা নেই’ একথা সত্য নয় বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। তিনি মনে করেন, মেয়রের হাতে অনেক ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা দরকার কাউন্সিলর ও পৌরসভা মেয়রদের।

জলাবদ্ধতা, ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধ, পরিবেশ দূষণসহ নারায়ণগঞ্জের অনেক সমস্যা রয়েছে। মেয়রের পক্ষে একা সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। পরিবেশ দূষণ করে নারায়ণগঞ্জে শিল্পায়ন করা ঠিক হবে না বলে মত দেন তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। সেলিনা হায়াৎ আইভী জনগণের প্রার্থী। সংসদ নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকের মালিক, টেলিভিশনের মালিকরা নির্বাচনের টিকিট পান।’

সব নির্বাচনে জনগণের প্রার্থী না থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না বলে মত দেন তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কার্যকর একটি নির্বাচন কমিশন জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।’

স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনকে কখনই এক করে দেখতে চান না বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু দেখতে চাইলে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আইভী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতীক হয়ে উঠেছেন। মার্কা নিয়ে নির্বাচন নয়, ব্যক্তি বনাম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়েছেন আইভী।’

অধ্যাপক রেহমান সোবহান আইভীর কাছে জানতে চান নারী ভোটাররা তাকে কেন আকৃষ্ট করেছে? জবাবে আইভী বলেন, ‘আমি কখনই সহিংসতা পছন্দ করি না। যতুটুক পেরেছি নারায়ণগঞ্জের জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা শহরের মধ্যে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। আমি কখন চিন্তা করিনি, ভোট কমে যাবে। সব সময় মনে হয়েছে সৎ পথে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

ইসি নিয়োগ বিল সংসদে উঠছে রোববার

ইসি নিয়োগ বিল সংসদে উঠছে রোববার

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সংলাপে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ইসি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের বিলটি সংসদে উঠছে রোববার।

চলমান শীতকালীন অধিবেশনে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ উত্থাপনের কথা রয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের। রোববারের কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য বিলটি আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বিলটি তোলার পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।

১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

ওই দিন মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আর্টিকেল ১১৮(১)-এর একটি বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইন নিয়ে আসা হয়েছে। এটা খুব বেশি বড় আইন না। এ ধরনের আইন আমরা আগেও হ্যান্ডল করে এসেছি। সেই ধারা অনুযায়ীই এটা করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখানে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। এটা অন্যান্য আইনে যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই। অনুসন্ধান কমিটি করা হবে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে। সেটার দায়িত্ব ও কার্যাবলি একজন যোগ্য প্রতিনিধির সুপারিশ করা।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফ্রেব্রুয়ারিতে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরগরম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যেই ইসি গঠন নিয়ে আইনে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা সংসদে তোলা হচ্ছে।

পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সংলাপে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ইসি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আইন তৈরি হয়নি দেশে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে।

২০১২ সাল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে চার কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে দেশে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ২০১২ সালে এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৭ সালে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসির কমিশনারদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।

সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’

সংবিধানের আলোকে ওই আইন না হওয়ায় প্রতিবারই নির্বাচন কমিশন গঠনে জটিলতা দেখা দেয়। সেই জটিলতা এড়াতে শেষ দুবার সার্চ কমিটি গঠন করে ইসি গঠন হলেও বিতর্ক থামেনি।

গত দুবারের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নতুন বছরের আগেই মধ্য ডিসেম্বরে সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নেন রাষ্ট্রপতি। মধ্য জানুয়ারিতে সংলাপ শেষ হয়। সার্চ কমিটি গঠিত হয় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। নাম প্রস্তাব ও বাছাই শেষে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিইসি ও ইসির নাম প্রকাশ করা হয়।

কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা

কারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনার হতে পারবেন তার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা ঠিক করে দেয়া হয়েছে খসড়া আইনের ৫ ও ৬ ধারায়।

১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; মিনিমাম ৫০ বছর হতে হবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাহলেই উনি হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন।’

অযোগ্যতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অযোগ্যতা হলো তিনি যদি কোনো আদালত কর্তৃক ইনসেন্স অর্থাৎ অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত হন, তা হলে পারবেন না। দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায়মুক্ত না হলেও পারবেন না। কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন তা হলে।

‘আমাদের যাদের সঙ্গে ডুয়েল সিটিজেনশিপ আছে সেখানে তারা থাকতে পারবেন। কিন্তু অনেকে সিটিজেনশিপ স্যারেন্ডার করে দিয়েছেন। তারা আর পারবেন না। নৈতিক স্খলন যদি হয় এবং ফৌজদারি অপরাধে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ড হয়, তা হলে পারবেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যদি কোনোভাবে কনভিক্ট হন, তা হলেও পারবেন না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনার থেকে অবসরে যাওয়ার পর কী কী করতে পারবে না, খসড়া আইনে তাও উল্লেখ করা আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

অনুসন্ধান কমিটিতে থাকবেন কারা

অনুসন্ধান কমিটিতে কারা থাকবেন সেটিও ঠিক করে দেয়া হয়েছে আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এতে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক, যিনি এটার চেয়ারম্যান হবেন।

‘তারপর থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, কন্ট্রোলার বা অডিটর জেনারেল, চেয়ারম্যান পিএসসি। আরও দুজন থাকবেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক।’

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

তামাকজাত পণ্যে করে জোর এমপিদের

তামাকজাত পণ্যে করে জোর এমপিদের

জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার’স ক্লাবে শনিবার ‘জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রত্যাশিত তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচনা সভায় এমপি শামসুল হক টুকু বলেন, ‘তামাকের উচ্চ মূল্য বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের তামাকের ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে। সুনির্দিষ্ট করারোপ করে তামাকজাত দ্রব্যের যাতে মূল্য বৃদ্ধি করা যায়, সরকারকে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর আরোপ জরুরি বলে মত দিয়েছেন একাধিক সংসদ সদস্য (এমপি)।

জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার’স ক্লাবে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ‘জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রত্যাশিত তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ মত দেন।

দ্য ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি সভাপতিত্ব করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকু এমপি। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনুর রশিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আবিদা আঞ্জুম মিতা।

ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত, নীলফামারী-৩ আসনের রানা মোহাম্মদ সোয়াইল ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অপরাজিতা হক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচার্য অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র শাহা, হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, ক্যানসার হোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন ফারুক, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রোগ্রাম হেড মো. শফিকুল ইসলাম, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হক।

আলোচনা সভায় শামসুল হক টুকু বলেন, ‘তামাকের উচ্চ মূল্য বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের তামাকের ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে। সুনির্দিষ্ট করারোপ করে তামাকজাত দ্রব্যের যাতে মূল্য বৃদ্ধি করা যায়, সরকারকে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘তামাকের জন্য ১.৫ মিলিয়ন (১৫ লাখ) মানুষ দক্ষিণ এশিয়ায় মারা যাচ্ছে। এ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। নতুন নতুন তামাক ব্যবহারকারীদের রুখতে তামাকের কর আরোপ বৃদ্ধি করতে হবে।

‘তামাকমুক্ত দেশ গড়তে দ্রুত একটি জাতীয় কর নীতি প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আগামী অর্থবছরেই তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানাচ্ছি।’

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতি বছর ১৮ লাখ মানুষকে তামাক থেকে বিরত করতে হবে এবং নতুনদের তামাক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। তামাকের ব্যবহার যদি রোখা না যায়, তবে আমরা এসডিজি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। তামাকের মতো ক্ষতিকর পণ্য বিক্রিতে অবশ্যই লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘তামাক কোম্পানিগুলোর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। তামাক চাষের জমিগুলোকে তালিকাভুক্ত করে নানা প্রণোদনা দিয়ে তাদের এ চাষ থেকে বিরত করতে হবে।’

ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় কর নীতি থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করায় সুবিধা হবে। এ জন্য সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। চার স্তরভিত্তিক অ্যাডভেলরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের মাধ্যমে অতি দ্রুতই সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এমপিদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন। তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় এসব কর্মকর্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এমপিরা।

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বনজ-মনিরুল

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বনজ-মনিরুল

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার (বাঁয়ে) ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত আইজিপিতে পদোন্নতি পাওয়াদের মধ্যে আছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) থেকে পদোন্নতি পেয়ে বাহিনীটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজিপি) হয়েছেন সাত কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার দুপুরে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তরা ১২ ও ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

বনজ কুমার ও মনিরুল ছাড়াও এআইজিপিতে পদোন্নতি পাওয়া অন্য পাঁচজন হলেন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ তারিক, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের প্রধান ডিআইজি হাসান উল হায়দার, বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, শিল্প পুলিশের ডিআইজি মাহবুবুর রহমান ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি হারুন অর রশিদ।

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের অবস্থা এখন ‘কিছুটা’ ভালো বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মাহবুব শফিক।

শফিক আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাবা ডা. বরেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধায়নে আছেন। মাঝে কেবিনে নেয়া হয়েছিল। পরে আবার তার পরামর্শে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তবে বাবা অনেকটা ভালো আছেন। যদিও উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে গত মঙ্গলবার চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তার কিছু সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়। পরে আবার আইসিইউতে নেয়া হয় তাকে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে আইনমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেনি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।

‘আমরা মনে করি, উপাচার্যের যদি ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকে তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। আর তিনি যদি নিজ থেকে পদত্যাগ না করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে আহ্বান করব, অবিলম্বে যেন তাকে অপসারণ করা হয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেভাবে পুলিশ ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য কখনো এটি করতে পারেন না। এই কাজের মধ্য দিয়ে এই উপাচার্য প্রমাণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

‘সুতরাং তার পদত্যাগ দাবি করা একটি নায্য দাবি। তাই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরা এখানে অবস্থান করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বলেন, ‘শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং পুলিশ যেভাবে হামলা করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সংগঠিত হয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শাবির উপাচার্য বর্বর উপাচার্য। উপাচার্য পদে থাকার তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই।’

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে শুধু নির্মাণ খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম-অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এই তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণ খাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণকাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত-পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী
এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ

শেয়ার করুন