‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

player
‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

মায়ের সঙ্গে দুর্জয় ও অবন্তিকা। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘ শাবকের মৃত্যুর ঘটনায় চিড়িয়াখানার প্রাণী চিকিৎসকদের দায়ী করে দুটি সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক নূরজাহান সরকার।

অধ্যাপক নূরজাহান তার বক্তব্যে চিড়িয়াখানায় কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। আর এতে চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন পাঠিয়েছে আইনি নোটিশ।

নোটিশে অধ্যাপক নূরজাহানের বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানিকর, অশালীন, বিদ্বেষপ্রসূত ও কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ মাধ্যম থেকে সাক্ষাৎকারটি অপসারণ করতে বলা হয়েছে। নইলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে নোটিশে।

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার অবশ্য এখন বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষক। তিনি বলছেন, দায়িত্বটি পালন করতে পারেন কেবল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা থেকে মাস্টার্স করা ‘বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা’।

অধ্যাপক অধ্যাপক নূরজাহানের দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএ)। তবে অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বন্যপ্রাণীর দেখভালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়ার দাবির সঙ্গেও একমত নন বিভিএ অ্যাসোসিয়েশন নেতারা। এর মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা বলছেন, ‘বইয়ের থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বাস্তব অভিজ্ঞতা দেশে একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই আছে।’

ঢাকা চিড়িয়াখানায় মাছিবাহিত রোগ ইপেসনোমায় আক্রান্ত হয়ে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর মারা যায় দুর্জয় ও অবন্তিকা নামের দুটি বাঘ শাবক।

এ বিষয়ে ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশনে ২৬ নভেম্বর প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে অধ্যাপক নূরজাহান সরকার ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। পরে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমেও একই মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার অধ্যাপক নূরজাহানকে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে আইনি নোটিশ পাঠান বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নূরজাহান বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, “সেই টিভিতে (ইনডিপেনডেন্ট) যদি ‘আলতু-ফালতু’ বা ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ শব্দগুলো এসে থাকে, তা হলে এটি স্লিপ অফ টাং। তবে আমি তাদের (ভেটেরিনারিয়ান) ‘আলতু-ফালতু’ বলিনি। তাদের আলতু-ফালতুভাবে সেখানে (চিড়িয়াখানা) দেয়া হয়েছে, এটা বুঝিয়েছি।’

তবে ভেটেরিনারিয়ানদের চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব ঠিক নয় বলে বুধবারও দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের চিড়িয়াখানায় দায়িত্ব পালন করা ঠিক নয়। কারণ এখানে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে পাস করা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে কী করে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে চার বছরের স্নাতক শেষ করে মাস্টার্সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ হবে তারাই এ দায়িত্ব পালন করবে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি নামে একটি কোর্স রয়েছে।’

‘প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা থিওরিটিক্যাল পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ফিল্ড ভিজিটেও যান। এর মাধ্যমে তারা অভিজ্ঞতা (বন্যপ্রাণী বিষয়ক) অর্জন করেন।’

অধ্যাপক নূরজাহান অবশ্য স্বীকার করেন বাঘের মতো বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা বিষয়ে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তরদের ‘হাতেকলমে’ প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো সুযোগ দেশে নেই। তাহলে তারা বাঘের চিকিৎসা কীভাবে করবেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাঘ তো আর ফিল্ডে গিয়ে দেখা যাবে না। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের সুন্দরবনে নিয়ে যাই, চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাই। এতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ বিষয়ে আলাদা কোনো ল্যাব ফ্যাসিলিটিও নেই, তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞ হন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক জোর দিচ্ছেন বই থেকে অর্জিত জ্ঞানের উপর। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার যখন বেসিক নলেজ থাকবে, তখন গবেষণার মাধ্যমে আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এভাবেই অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে।

‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা তো গৃহপালিত পশুর ওপর পড়াশোনা করে। আর বাঘ হলো বন্যপ্রাণী। তাই চিড়িয়াখানায় ভেটেরিয়ানদের নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়া উচিত।’

তবে অধ্যাপক নূরজাহানের এই দাবি উড়িয়ে দিচ্ছেন বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভেটেরিনারিয়ানদের পড়াশোনার মেয়াদকাল পাঁচ বছর। এর মধ্যে এক বছরের ইন্টার্নিতে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। এই এক বছর ভেটেরিনারিয়ানরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, এর মধ্যে বন্যপ্রাণী পরিচর্যার অভিজ্ঞতাও আছে।

‘শুধু থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার জন্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো ভেটেরিনারি ফ্যাকাল্টি রয়েছে, সেখানে হাসপাতালও আছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি যারা বিশেষজ্ঞ হন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রাণিবিদ্যা থেকে পাস শিক্ষার্থীরা শুধু থিওরিই পড়েন।’

অধ্যাপক নূরজাহান সরকারের যুক্তিতে ক্ষুব্ধ ডা. হাবিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ সারা পৃথিবীতে বন্যপ্রাণীর ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার দায়িত্বে ভেটেরিনারিয়ানেরাই নিয়োজিত আছেন।

‘এ বিষয়ে হাইকোর্টেরও একটি রুল আছে। সেখানে বলা হয়েছে কেউ প্রেসক্রিপশন দিতে চাইলে তাকে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেটধারী হতে হবে। একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বিষয়ে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেট আছে। প্রাণিবিদ্যা থেকে যারা পাস করেন, তাদের তো এ বিষয়ে কোনো সনদ নেই। তা হলে তারা কীভাবে এ পেশায় দায়িত্ব পালন করবেন!’

ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আব্দুল লতিফও সমর্থন করছেন ডা. হাবিবকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন ভেটেরিনারিয়ানরা।’

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা: মৃত বেড়ে ৪

অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা: মৃত বেড়ে ৪

নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ বলেন, ‘অটোরিকশায় ৮ জন যাচ্ছিলেন উত্তরা ইপিজেডে। কুয়াশার কারণে বুঝতে না পারায় লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েন তারা।’

নীলফামারীতে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

নিউজবাংলাকে সৈয়দপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। সবশেষ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান মিনারা আকতার।

মৃতরা হলেন রোমানা আকতার, সায়েরা বেগম, শেফালী বেগম ও মিনারা আকতার।

সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের সোনারা ইউনিয়নের দারোয়ানীতে একটি অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে বুধবার সকাল ৭টার দিকে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন। অটোরিকশায় ৮ জন যাত্রী ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আমির আলী বলেন, ‘সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের দারোয়ানীতে খোলা একটি রেলগেট আছে। একটি অটোরিকশায় করে শ্রমিকরা সবাই কাজে যাচ্ছিলেন। লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।’

এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন মিনারা আকতার, নাসরিন আক্তার, কুলসুমা, অহিদুল ইসলাম ও রওশন আরা।

আহত পাঁচজনের তিনজনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যালে এবং দুজনকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মিনারা আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যালে নেয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।

বর্তমানে রংপুর মেডিক্যালে তিনজন ও নীলফামারী হাসপাতালে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিউজবাংলাকে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ বলেন, ‘অটোরিকশায় ৮ জন যাচ্ছিলেন উত্তরা ইপিজেডে। কুয়াশার কারণে বুঝতে না পারায় লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েন তারা।’

দেড় মাস আগেও নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ভাই-বোনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ৮ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের বৌবাজার মনসাপাড়ায় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

হাসপাতালে গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

‘অটোত করি টেনের (ট্রেন) লাইন পার হবার ধরছিল। টেন হুসেল দেয় নাই, আর শীতোত কিছু দেখা যায় নাই, তখন মারি দিচে। দৌড়ি যায়া দেখি তিন জন পড়ি আছে। ও আল্লাহ এ্যালা হামার কী হইবে...’

নীলফামারীতে বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলাম আপনসহ তিনজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে গুরুতর আহত আপনের স্ত্রী পারুল বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন।

নিউজবাংলাকে পারুল আরও বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গুরুতর আহত অটোর যাত্রী নাজনীন আক্তার ও কুলছুমা বেগম ১৮ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। আর অহিদুল ইসলাম ভর্তি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এর মধ্যে নাজনীনের অবস্থা গুরুতর। আর অহিদুলের ডান পা প্রায় বিচ্ছিন্ন।

কুলছুমার বাবা সায়েদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমরা অটোত করি দৈনিক নীলফামারীর ইপিজেটোত কাজোত যাইত। আইজো সকালে খায়া দায়া বের হইচে, একনা পড়ে শুনে এই ঘটনা।’

নাজনীনের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই গেটোত ঘুণ্টি নাই, ঘরো নাই। শুনচি আগোত আচলো, অন্তপক্ষ ৫০ বচর ধরি দেখি ঘুণ্টি নাই। ঘুণ্টি থাকলে কী এত বড় ঘটনো ঘটে। এইলা দায় কাই নিবে, হামাকে পোহা নাগবে।

‘আর টেন যে আসিল তো হুসেল দিবের নয়, তা তো দেয় নাই, যত শীত থাক, হুসেল কী শীতোত আটকে? হুসেল দিলে সবাই দাঁড়াইলে হয়।’

সৈয়দপুর-চিলাহাটী রেলপথের দারোয়ানিতে বুধবার সকালে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নারীর মারা যান।

নিউজবাংলাকে রংপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা ভালো আছেন।’

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

এভাবে যে পদ আঁকড়ে থাকে, তাকে আমি দানব বলি: জাফর ইকবাল

এভাবে যে পদ আঁকড়ে থাকে, তাকে আমি দানব বলি: জাফর ইকবাল

শাবি উপচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (বাঁয়ে) এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস দাবি করে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘পুলিশ কেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাবে? ক্যাম্পাসে পুলিশ যুদ্ধসাজে ঢুকবেই কেন? শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় শিক্ষকদের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

‘আমি যতটা চিন্তা করেছিলাম অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। তাদের শরীরে স্যালাইনও পুশ করা যাচ্ছে না। বেশির ভাগই বসতে পারছে না। যে মানুষ এই অবস্থা দেখার পরও নিজের জায়গায় অনড় থাকে, তাকে আমি মানুষ বলতে চাই না। আমি তাকে দানব বলি।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর এসব কথা বলেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বুধবার সকালে উপাচার্য ভবনের সামনে পানি খাইয়ে ২৮ শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক।

এর আগে ভোর ৪টায় ক্যাম্পাসে এসে তিনি অনশন ভাঙতে শিক্ষার্থীদের রাজি করান।

অনশন ভাঙার পর শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন এই শিক্ষাবিদ।

এরপর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাণ অনেক মূল্যবান। এ রকম একজন মানুষের জন্য তাদের প্রাণ নষ্ট হতে পারে না। এটা আমি অনশনকারীদের বুঝিয়েছি। তারা সেটা বুঝেছে। এ জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।’

তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে যতগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সবগুলো অমানবিক, নিষ্ঠুর ও দানবীয়।

‘আমি ধরেই নিয়েছিলাম এখানে একটি মেডিক্যাল টিম থাকবে। কিন্তু এখানে কোনো মেডিক্যাল টিম নেই। শুধু তাই নয়, যারা তাদের টাকাপয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল, তাদের গ্রেপ্তার করে মামলা দেয়া হয়েছে। এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কিছু নেই। আমি আশা করব, এই বিষয়গুলো যেন অবশ‌্যই বন্ধ হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন মুক্ত করে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। আমি আশা করি, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো রাখবেন। যদি তারা তা না রাখেন তবে কেবল আমার সঙ্গে নয়, এ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যে সুন্দর আন্দোলন করেছে তা দেশের কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবে না। এই আন্দোলনে দেশের সব তরুণ-তরুণী হৃদয় থেকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের আন্দোলন থেকে কাউকে ফায়দা নেয়ার সুযোগ দেয়নি। নিজেরাই সহযোদ্ধাদের হাসপাতালে নিয়ে গেছে, খাবার রান্না করেছে। সব তারা করেছে। এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য খুব কমই আছে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাবে? ক্যাম্পাসে পুলিশ যুদ্ধসাজে ঢুকবেই কেন?

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় শিক্ষকদের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

এ সময় অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি খুবই যৌক্তিক। তাদের দাবি অবশ্যই পূরণ হবে। তাদের যেকোনো দাবি আদায়ের সংগ্রামে আমাদের ডাকলেই আমরা আসব। তাদের পাশে থাকব।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদেরও এ রকম সময়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগলে রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চবির ৩ জোড়া শাটল ট্রেন

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চবির ৩ জোড়া শাটল ট্রেন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ক্রু সংকটের কারণে তিন জোড়া শাটল ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকি তিন জোড়া শাটল ও এক জোড়া ডেমো ট্রেন চলাচল করবে।’

চালকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত জোড়া শাটল ট্রেনের মধ্যে তিন জোড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ক্রু সংকটের কারণে তিন জোড়া শাটল ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকি তিন জোড়া শাটল ও এক জোড়া ডেমো ট্রেন চলাচল করবে।’

এর আগে মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ সিআরবির কন্ট্রোলার অফিসে পাঠান ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই লোকো) মো. ওয়াহিদুর রহমান।

আদেশে বলা হয়, ক্রু স্বল্পতার কারণে ২৬ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৩১/১৩২, ১৩৫/১৩৮ ও ১৪১/১৪২ নম্বরধারী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

মাইলেজ জটিলতা নিরসনে আলটিমেটাম দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা। সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন রানিং স্টাফরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি।

‘এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, মাইলেজ হলো ‘পার্ট অফ পে’। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। এ জটিলতা নিরসনে আমরা মন্ত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। তাই আন্দোলনে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

‘উচ্চমহল’ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, আশা জাফর ইকবালের

‘উচ্চমহল’ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, আশা জাফর ইকবালের

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

জাফর ইকবাল বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমার সঙ্গে সরকারের অনেক উচ্চমহল থেকে কথা বলেছে। আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন, সে কথাগুলো যেন রক্ষা করেন। আমাকে যে কথাটা দিয়েছেন তা যদি রক্ষা করা না হয়, তাহলে বুঝে নেব তারা শুধু ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার সঙ্গে এবং এই দেশের যত প্রগতিশীল মানুষ আছে, সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে সরকারের উচ্চমহল। এই আশ্বাস বাস্তবায়ন করা না হলে সেটি হবে বিশ্বাসঘাতকতা।

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ অনশন করার পর জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী সাবেক অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।

এরপর জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমার সঙ্গে সরকারের অনেক উচ্চমহল থেকে কথা বলেছে। আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো যেন রক্ষা করেন। আমি আর এই ছাত্রদের ভেতর কোনো পার্থক্য নাই।

‘আমাকে যে কথাটা দিয়েছেন তা যদি রক্ষা করা না হয়, তাহলে বুঝে নেব তারা শুধু ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার সঙ্গে এবং এই দেশের যত প্রগতিশীল মানুষ আছে সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাজেই আমি আশা করব তারা যেন আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো রাখেন।’

উপাচার্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের এ রকম মেরুদণ্ডহীন হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

উপাচার্য ফরিদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন করার দরকার নেই জানিয়ে জনপ্রিয় এই লেখক বলেন, ‘এই আন্দোলনের জন্য অনশন করার দরকার নাই। কারণ যে মানুষটার জন্য তারা অনশন করে যাচ্ছে, তার জন্য প্রাণ দেয়া সমীচীন না।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন বলেন, ‘স্টুডেন্টদের গায়ে পুলিশ হাত দেবে, কিন্তু টিচার কিছু বলবে না, টিচার হিসেবে আমার কাছে এর কোনো মাফ নাই। টিচার হওয়ার জন্য আমার যে ক্ষমতা এতে পুলিশ এলে কিন্তু কিচ্ছু করবে না। আমি একজন শিক্ষক। আমি পুলিশ আর স্টুডেন্টদের মাঝে দাঁড়ায়ে আছি।

‘আছি। আমি একদম শকড। আমি অসম্ভব শকড। আমি এই শক কবে কাটায়ে উঠব, জানি না।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা কেউ এ রকম হয়ো না। তোমাদের মধ্যে অনেকে শিক্ষক হবা। খবরদার তোমরা যদি এ রকম কেউ হইছ।’

ঢাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে রওনা দিয়ে ভোরের আগে ক্যাম্পাসে পৌঁছান বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক দুই অধ্যাপক। প্রিয় শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তার কাছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও করেন।

শাবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও শিক্ষার্থীরা নতুন পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অনশন করা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘অনশন থেকে সরে এলেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। দ্রুতই নিজেরা বসে আন্দোলনের ধরন ও কর্মসূচি ঠিক করব।’

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন ও ২৪ জানুয়ারি একজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অবরুদ্ধ উপাচার্যের জন্য প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতা ও দুজন কাউন্সিলর খাবার নিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। ২৮ ঘণ্টা পর ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

অনশন ভাঙার পর নতুন কর্মসূচির পথে শাবি শিক্ষার্থীরা

অনশন ভাঙার পর নতুন কর্মসূচির পথে শাবি শিক্ষার্থীরা

অনশন কর্মসূচি থেকে সরে এলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনশন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার অবস্থান থেকে এখনও সরে আসিনি। এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনশন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার অবস্থান থেকে এখনও সরে আসিনি। এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’


তবে বুধবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষার্থীদের আগের অবস্থান নেই। দুএকজন ঘোরাফেরা করছেন। আগের মতোই পুলিশ মোতায়েন আছে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রায় ১৬৩ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙেন শাবির শিক্ষার্থীরা।

অনশন ভেঙে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘অধ্যাপক জাফর ইকবাল আমাদের কাছে খুব সম্মানিত। আমরা তাকে বিশ্বাস করি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের দাবি পূরণের ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল থেকে তাকে আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি, সরকার তাকে দেয়া এই আশ্বাস রাখবে।’

অপূর্ব বলেন, ‘অনশন থেকে সরে এলেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। দ্রুতই নিজেরা বসে আমরা আন্দোলনের ধরন ও কর্মসূচি ঠিক করব।’

আরেক অনশনকারী শিক্ষার্থী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘আন্দোলন থেকে আমরা সরে আসব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

তিনি বলেন, ‘অনশন ভাঙার পর দাবি মানা না হলে, সেটি কেবল আমাদের সঙ্গে নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গেও হবে প্রতারণা।’

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন ও ২৪ জানুয়ারি একজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওইদিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অবরুদ্ধ উপাচার্যের জন্য প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতা ও দুজন কাউন্সিলর খাবার নিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। ২৮ ঘণ্টা পর ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন

মিতু হত্যায় নিজের মামলাতেই আসামি হচ্ছেন বাবুল

মিতু হত্যায় নিজের মামলাতেই আসামি হচ্ছেন বাবুল

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘একই ঘটনায় দুটি মামলা চলতে পারে না। দুটি মামলাই পিবিআই তদন্ত করছে। তাই আদালতের নির্দেশনা মেনে মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছি। আর এ মামলার নথিতে থাকা আসামি, সাক্ষীর জবানবন্দিসহ যাবতীয় তথ্য বাবুলের করা মামলায় যুক্ত হবে।’ 

মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় তার বাবার করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আদালত এই প্রতিবেদন গ্রহণ করলে মিতু হত্যার ঘটনায় শুধু ২০১৬ সালের ৬ জুন পাঁচলাইশ থানায় করা বাবুল আকতার মামলাটি চলবে। এতে আট আসামির একজন হবেন মিতুর স্বামী বাবুল।

বর্তমানে এ মামলায় কারাগারে আছেন সাবেক এসপি বাবুল আকতার।

মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

সন্ধ্যায় এ তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘একই ঘটনায় দুটি মামলা চলতে পারে না। দুটি মামলাই পিবিআই তদন্ত করছে। তাই আদালতের নির্দেশনা মেনে মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছি। আর এ মামলার নথিতে থাকা আসামি, সাক্ষীর জবানবন্দিসহ যাবতীয় তথ্য বাবুলের করা মামলায় যুক্ত হবে।’

চট্টগ্রাম আদালতে কোর্ট পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহীন ভুঁইয়া বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মিতুর বাবার করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছেন। আদালত সেটির ওপর শুনানি শেষে আদেশ দেবে।’

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ জুন জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ তৈরি হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় গত বছরের ১২ মে বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন তার (বাবুল) আইনজীবী। আদালত গত বছরের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে নিজের করা মামলায়ও চলতি মাসের ৯ তারিখ বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
রুক্ষ বাঘিনীর কারণে প্রাণ গেল দুই শাবকের

শেয়ার করুন