আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

player
আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক। … তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে।’

বিএনপি তার চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তারা চান বিএনপি নেত্রী সুস্থ হয়ে উঠুন।

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভা শেষে এমন কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছিল।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা বেশি কথা বলেন বিএনপির আন্দোলনের হুমকি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ইস্যুতে।

খালেদা জিয়া মারা গেলে রাজনীতি প্রভাব পরবে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘প্রভাব পরবে, কি না পরবে, সেটা তো পরের বিসয়। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর আগের কেন তারা এটা কামনা করছে? আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে। ওই গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কীভাবে তারেক জিয়াকে টেমস নদীর ওপার থেকে দেশে ফিরিয়ে এসে এদেশে খমিনী স্টাইলে একটা বিপ্লব করার স্বপ্ন তারা দেখছে। সে স্বপ্ন তাদের দুঃস্বপ্নই থাকবে।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে আইন নয়, সরকার বাধা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি যত না উদ্যোগী, তার চেয়ে বেশি হচ্ছে তারা স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে তারা রাজনীতির ইস্যু খুঁজে বেরাচ্ছে।

‘এটার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। তাদের ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে চায়। তারা দেশে একটা বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করতে চায়। সে কারণে বেগম জিয়াকে নিয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।’

খালেদা জিয়াকে বিষ দেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল যে অভিযোগ এনেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘মির্জা ফখরুল কী করে বলেন স্লো পয়জনিং করে বেগম জিয়াকে মারা ষড়যন্ত্র করছে সরকার? ডাক্তার সব আপনাদের, আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের তো ওখানে ‍ঢুকতে দেন না। গৃহপরিচালিকা আগেও ছিল, এখনও আছে, সঙ্গে মির্জা ফখরুলরা ঘুরঘুর করেন। স্লো পয়জনিং করলে তো আপনারাই করছেন।’

বিএনপি একটি অশুভ পরিস্থিতি তৈরির ‘প্রণান্তকর অপপ্রয়াস’ করছে বলেও মনে করেন সড়ক মন্ত্রী। কবলেন, ‘বিএনপি বিভিন্নভাবে সামাজিক আন্দোলগুলোতে, ছাত্রদের হাফভাড়ার দাবি, নিরাপদ সড়ক, গামেন্টর্স শ্রমিকদের আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে। মাঠে নামার জন্য বিভিন্নভাবে তারা একটা সহিংস বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহিত রেখেছে।’

যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সহিংসতা করা হয়, তাহলে তারা কঠোর হবেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার ঢাকা শহরকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে আলোকসজ্জা করবো। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর বিশেষভাবে রয়েছে, উৎসবমুখর বিজয়শোভা যাত্রা করব, যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত যাব।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যে কারণে আইভী বারবার

যে কারণে আইভী বারবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিন বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই কেন বারবার বেছে নেয় নারায়ণগঞ্জবাসী? সেটা কী মেয়র হিসেবে তার পারফরম্যান্স, নাকি শামীম ওসমান বিরোধিতা?

উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততা—এই তিন গুণ দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জবাসীর মন জয়ের পাশাপাশি আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন বলে মনে করেন নগরের বিশিষ্টজনরা।

তারই ধারাবাহিকতায় এই হ্যাটট্রিক জয় এসেছে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আইভী ভোটযুদ্ধে পাস করলেও এই জয় নৌকার নয় বলে অভিমত তাদের।

রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট। সেই ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে উড়িয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেন আইভী। ব্যবধান ছিল ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোট। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট না হলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত বলেও বিজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন মেয়র আইভী।

আইভীর পথটি অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। তার কারণ নারায়ণগঞ্জের ভোটের সমীকরণ। এখানকার হিসাব-নিকাশ দেশের আর ১০টি এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এই জেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আর সেই বিরোধ হয়ে ওঠে নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয়।

২০১৬ সালে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি এলে আওয়ামী লীগ আস্থা রাখেন আইভীর ওপর। সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আইভী।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দেয়ার পর প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও দলের সমর্থন বঞ্চিত হন আইভী। কিন্তু তৎকালীন পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মাঠে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠে প্রকাশ্য। নির্বাচনে কী হবে না হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাখো ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাস্ত করে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আইভী।

এমনকি তার আগে যে পৌরসভা ছিল, তারও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়নি আইভীকে। ওই সময়ের জেলা বিএনপির সহসভাপতি নূর ইসলামকে হারিয়ে পৌরসভার নেতৃত্ব নেন তিনি।

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘সব কটি নির্বাচন ছিল চ্যালেঞ্জিং। এটিও তার চেয়ে কম নয়। একেকটার ধরন একেক রকম। আমি এত চ্যালেঞ্জের কথা বলতে চাই না। নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা।’

কোন জাদুমন্ত্রে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছেন, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্নটি রাখা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

মৃদু হেসে নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, ‘আমার যত কিছু হয়েছে বা অতীতেও যে বিজয় হয়েছে, সব কিছুর মূলে কিন্তু আমার জনশক্তি, জনস্রোত এবং জনসমর্থন। জনসমর্থন যদি না থাকত, তাহলে আমি নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’

কেন এই জনসমর্থন তার ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন নৌকা প্রতীকের এই বিজয়ী।

আইভী বলেন, ‘এটা সত্যি যে, জনগণের যে আস্থা আমার প্রতি, তার কারণ মানুষকে কখনও মিথ্যে বলিনি, কখনও অযথা আশ্বাস দিইনি। আমি গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে যে আপনাদের সঙ্গে মিশেছি, কাজ করেছি, যেটা পেরেছি সেটা করেছি, যেটা পারিনি সেটা বলিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবেসেছি, মানুষ প্রতিবারই আমাকে প্রতিদান দিয়েছে।’

আইভীর এই সাফল্যকে উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততার মেলবন্ধন মনে করে নারায়ণগঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস। প্রথমত তার কাজ, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে তিনি মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। এটি উন্নয়ন বলি বা অন্য যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করি। এটা নগরবাসীর কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাফল্যের দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ধীমান সাহা বলছেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীর সততার কথা।

তিনি বলেন, ‘এসব কাজের পেছনে তার সততা ছিল। একটা মানুষ শতভাগ সৎ হয় না। তিনি ৯৯ পার্সেন্ট সৎ ছিলেন। এটা নগরবাসী দেখেছে। তার কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ছিল, সততা ছিল। সততার পাশাপাশি জবাবদিহিও ছিল।

‘আমরা দেখেছি, মেয়র আইভীর পেছনে প্রতিপক্ষের অন্তত ১০০টা ক্যামেরা লাগানো ছিল। এখানে আমি আক্ষরিক ক্যামেরার কথা বলছি না, দৃষ্টিকে বুঝিয়েছি। এত কিছুর পরও তিনি তার কাজটি করে গেছেন। তাই সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আমার কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না।’

আইভীর ‘সাহস’ তাকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়েছে বলেও মত তার।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘কোনো একটি কাজ করতে গিয়ে যদি একটা বিল্ডিং ভাঙতে হয় বা কারও একটু ক্ষতি হয়ে যায়, তারপরও দশজনের কল্যাণের জন্য কাজটা তিনি করেছেন। এই সাহসটা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির মধ্যে দেখা যায় না।’

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে ধীমান সাহা বলেন, ‘সাহস দুই ধরনের। একটি হচ্ছে কাজ করার সাহস। আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের একটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সাহস। সৎ থেকে, কাজ করে, শুভ শক্তির সঙ্গে থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা। অশুভ শক্তি প্রতিটা জেলায়ই আছে। প্রতিটা জেলায়ই একাধিক অশুভ শক্তি থাকে। পাশাপাশি শুভ শক্তিও থাকে। শুভ শক্তিদের যে সম্মিলন, অশুভ শক্তিকে পরাভূত করার যে সাহস, লড়াই করার যে সাহস, তা আইভীর মধ্যে আছে।’

আর তাই আইভী জনমানুষের হৃদয়ে আছে জানিয়ে ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘গতকাল এর প্রতিফলন আমরা দেখেছি, মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে।’

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম দীপু মনে করেন উন্নয়ন, সন্ত্রাস বিরোধিতা আর তরুণদের কাছে টানতে পারার ক্ষমতার দিক বিবেচনায় নিলে, অন্য যে কোনো প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে মানুষ উন্নয়ন চায়। এখানে উন্নয়নের জয় হয়েছে। উনি দৃশ্যমান উন্নয়ন অনেক করেছেন, আমরা দেখেছি।’

দীপু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতায় সন্ত্রাসবিরোধী যে অবস্থান, সেটা একটা ব্যাপার। তিনি একজন ভিশনারি মেয়র। ছোট করে হলেও ভবিষ্যতে কী কী করবেন তার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে ছিল সবুজবান্ধব নগরী গড়া, যেটাকে আমরা বলছি গ্রিন কনসেপ্ট।’

গ্রিন কনসেপ্টই তরুণদের কাছে টানার কৌশল বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বয়স্ক ভোটার, তারা এতটা বুঝি না। আমরা হয়তো গ্রিন কনসেপ্ট মানে গাছ লাগানো বুঝি। কিন্তু যারা তরুণ ভোটার, তাদের জন্য বিষয়টা জরুরি। তারা এই বিষয়গুলো আমলে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।’

আইভীর পারিবারিক পরিচয়কেও বড় করে দেখছেন দীপু। তিনি বলেন, ‘তার পরিবারের ভক্ত যারা আছেন, তারা সংখ্যায় বিশাল, যারা ওনার বাইরে যাবে না।’

বন্দরকে মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু তৈরি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। অন্তত নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার গুরুত্ব বোঝা গেছে।

জাহিদুল করিম দীপু বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা দাবি ছিল কদম রসুল ব্রিজ। তিনি এর ব্যাপারে বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্রিজটির কাজের উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন।’

এ ছাড়া সামাজিক বাস্তবতায় নারীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার পাস করাকে নৌকার বিজয় বলতে নারাজ তিনি। বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জোট একটা লিফলেট করেছে, যেখানে কোনো মার্কা নেই। বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে বিভিন্ন কারণে মানুষের নৌকা প্রতীকের প্রতি অনীহা আছে। কিন্তু আইভী এর ঊর্ধ্বে। লিফলেটেও বলা হয়েছে, আইভীকে সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিবে এবং সেভাবেই আইভীর জয় হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আইভীকে ভোট দিয়েছে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তার সাহসিকতা ও গত ১০ বছরে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সে জন্য।’

সব গুণ বাদ রেখে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করাকে এগিয়ে রাখলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘যেটা দৃশ্যমান দেখি, যেটা অনুভব করি, সেটা হলো কাজ। নিজের কর্মক্ষেত্র দিয়েই তো মানুষের পরিচয়। কাজই তাকে আর সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। সিটি করপোরেশন বলি, ইউনিয়ন পরিষদ সবখানেই তো পাবলিক ফাংশন। মানুষ আসলে কাজ দিয়েই মূল্যায়ন করে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রোববার ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ‘চমৎকার’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা সেখানে হয়নি। সারাদেশে যে পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে সব জায়গায় সুন্দর, ভালো নির্বাচন হয়েছে।

‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।

‘অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলেও, দৃশ্যত অংশ না নিলেও ভিন্ন অবয়বে সব জায়গাতে তারা নির্বাচনে ছিল। তারাও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তাদের জনপ্রিয়তা কোন জায়গায় আছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আমি আশা করবো সবকিছু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবেন।’

বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা যে আজ এতো এগিয়ে গেল, আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেল, সেটা নিয়ে তো দেশে যেভাবে মাতামাতি হওয়ার কথা ছিলো, তা হয়নি।

‘এই করোনার মধ্যে পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তিন। সেটি নিয়ে আমাদের দেশে পত্রপত্রিকায় মাতামাতি হয়নি। জাতির এগিয়ে যাওয়ার গল্পটাও তো জাতিকে শোনাতে হবে, সেটি আমাদের গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি। প্রথমবার তারা ছিলেন ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী। পরের দুই নির্বাচনে শামীম অনুসারীরা আইভীর পক্ষে ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে। এবার ভোটের প্রচার চলাকালে শামীম অনুসারী ছাত্রলীগের কমিটি, ভোটের ফলাফলের দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি এবং সব শেষ বিলুপ্ত করা হয় শ্রমিক লীগের মহানগর কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন শামীম অনুসারীরা।

ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পর এবার শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত নেতা এ কে এম শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন, যারা সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিক ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে।

আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমেই ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে সোমবার নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু।

এর কারণ কী- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সাংবাদিক, বোঝেন তো কী কারণে বিলুপ্ত হতে পারে। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর কবির বকুল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। তাকে আইভীর পক্ষে সক্রিয় দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ করলেই কেবল তাদের দেখা গেছে সেখানে।

সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না নিজে ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী। ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করে তিনি ভোটে জিতেছেন। তবে তিনিও নিজের প্রচার নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। আইভীর পক্ষে সেভাবে ভোট চাননি বলে অভিযোগ আছে।

মুন্নাকে কল করা হলে তিনি তিনবার ফোন রিসিভ করে প্রশ্ন শুনে কেটে দেন।

আগের দিন বন্দরনগরীতে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের দিন আওয়ামী লীগের আরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর, থানা ও সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এক আদেশে ২৭টি কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা ছিলেন শামীম ওসমানের অনুসারী। তবে জেলা কমিটির সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর খালু হলেও সেই কমিটিতে শামীম ওসমানের অনুসারীও কম ছিলেন না। এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও সেভাবে ভোটের প্রচারে দেখা যায়নি।

ভোটের প্রচার চলাকালে ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুর নেতৃত্বে কমিটি বিলুপ্ত করার আদেশ আসে। এই দুই নেতাও শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন।

ছাত্রলীগের কমিটির নেতারা ভোটের প্রচার চলাকালে আইভীর পক্ষে নামেননি বলে অভিযোগ ছিল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জে গিয়ে সেখানেই মহানগর কমিটি বিলোপের কথা জানানো হয়। পরদিন রিয়াদের বাসায় যায় ‍পুলিশ। এরপর রিয়াদ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ভোটের প্রচারে নামেন। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ মাঠে না নামলেও মহানগর কমিটির আগের নেতাদেরকেও মাঠে দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আইভী- শামীমের দ্বন্দ্ব। এই দুই নেতার বাবা যথাক্রমে আলী আহম্মেদ চুনকা ও আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার মধ্যকার বিরোধ তারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

২০১১ সালে আইভী ও শামীম পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শামীমকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে আইভী দলের ভেতর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান অনেকটাই দুর্বল করে দেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি আসলে আইভীর পরাজয় চান- এমন কথা ওঠার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আইভীকে ‘বোন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি তার বোনের জয় ছাড়া কিছু চান না।

এবারও একই ধরনের কথা ওঠার পর শামীম ওসমান আগের মতোই সংবাদ সম্মেলনে এসে নৌকার প্রতি তার সমর্থন ঘোষণা করেন। তবে প্রার্থী নিয়ে যে আপত্তি আছে, সেটি তার কথাতেই প্রকাশ পায়।

তার বক্তব্যটা ছিল এমন: ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আইভী এবার ভোটে জয় পাওয়ার পর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় মিষ্টি ও ফুল নিয়ে গেলেও শামীম ওসমানের বাসায় যাননি। শামীম ভোট দিয়ে বলেন, নৌকার পরাজয় হতে পারে না। তবে ফলাফল প্রকাশের পর তার আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহর ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভোট কমেছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীও পাঁচ বছর আগের দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীর তুলনায় ভোট পেয়েছেন কম। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ দেখিয়েছেন চমক।

রোববারের ভোটে পাঁচ বছরের আগের চেয়ে কম হারে ভোট পড়লেও হাত পাখা মার্কা নিয়ে চরমোনাইয়ের দলের প্রার্থী আগের নির্বাচনের চেয়ে ৭২ শতাংশ ভোট বাড়াতে পেরেছেন।

মাছুমের হাত পাখা মার্কায় ভোট পড়েছে ২৩ হাজার ৯৮৭টি। ২০১৬ সালের দ্বিতীয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৯১৪টি। অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

তবে এই নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি।

সেই সঙ্গে কমেছে ভোটের হার। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটারের ৬২ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট দেন, এবার তা কমে হয়েছে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

২০১৬ সালে আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান। এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, যিনি স্বতন্ত্র প্রতীকে ভোটে দাঁড়ান তার দল ভোট বর্জন করায়। তবে এই নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াইয়েই পরিণত হয়।

আওয়ামী লীগ ও ‘বিএনপির’ কমলেও তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের বাক্সে ভোট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পরও দলটি এই নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি খুশি নয়। তাদের দাবি, তারা যে ভোট পেয়েছে, তার দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভোট পেতে পারতেন।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত নির্বাচনের চেয়ে আমাদের ভোট বেড়েছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে আমাদের হিসাব মতে আমরা দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়ার কথা। আমরা যেভাবে কাজ করেছি, যেভাবে আমাদের সমর্থক রয়েছে তাতে আমরা ৬০-৭০ হাজার ভোট পেতে পারতাম।’

তাহলে কেন পেলেন না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেনি। অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে, তাদের আঙুলের ছাপ দেয়ার পর অন্যজন ভোট দিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনও পর্যাপ্ত প্রভাব খাটিয়েছে। না হলে আমাদের ভোট আরও বাড়ত।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

সোমবার বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগামী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এর আগে সংলাপ করতে বেলা ৩টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। বিকেল ৪টা থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সংলাপ শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে আইন মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। খসড়াটি আজ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর তা নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

‘আইনের খসড়াটি যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (আইন মন্ত্রণালয়) জাতীয় সংসদে পাঠাবে। জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইন বিধিবিধান অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে সার্চ কমিটির জন্য কারও নাম প্রস্তাব করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি শুরু হলো। এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়ায় এক দিনেই তো সব হয় না। এই প্রস্তাবের পর আইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

আইন প্রণয়নে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। আইনটির খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি প্রথমে বিবেচনা এবং পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হওয়ার পর সেটি চলে যাবে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। পরে খসড়াটি আরও আলোচনার জন্য চলে যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সেখানে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, অন্যান্য দলও রয়েছে। এই কমিটিতে আলাপ-আলোচনা শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি চলে যাবে সংসদে।’

অল্প সময়ের মধ্যেই আইনটি করা সম্ভব কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই আইনটি করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিক তাস নেই। আইন আইনের গতিতেই হবে। আইনের বিকল্প কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় আইন পাস হয়, এ ক্ষেত্রেও তাতে বিন্দু পরিমাণ ব্যত্যয় ঘটার কারণ নেই। বিকল্প ভাবার অবকাশই নেই।’

সংসদের চলমান অধিবেশনে আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেহেতু এটা জন দাবি, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্বার্থে একটা আইন পাস হওয়া দরকার ছিল, আগে হওয়ার কথা ছিল। কেন হবে না, প্রক্রিয়া তো আছে। ৫০ বছরে হয়নি। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়বার পারিনি। তৃতীয়বারের আগেও হয়ে যেতে পারে। আইনটি হলে এবারই হবে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না: রিজভী

উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না: রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

‘বর্তমান সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন ফ্লাইওভার, সেতু দেখছে আর বন্দিশালায় ছটফট করছে।… তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না। এখন পিছু হটার সুযোগ নেই। পিছু হটলে জাতি শত বছর পিছিয়ে পড়বে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয়ের পরদিন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষ ছটফট করছে। তার দাবি, উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না।

অবশ্য তিনি আগের দিনের আলোচিত এই নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলেননি। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে প্রার্থীও দেয়নি। তবে দলের নেতা তৈমূর আলম খন্দকার সেখানে মেয়র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর মোকাবিলা করায় কার্যত আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এই লড়াইয়ে ২০১৬ সালের মতোই বিএনপিকে বিপুল ভোটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছেন আইভী, যে নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষ বিশ্বাসযোগ্য কোনো অভিযোগ তুলতে পারেনি।

সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন রিজভী।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়া করতে এই আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন ফ্লাইওভার, সেতু দেখছে আর বন্দিশালায় ছটফট করছে।… তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না। এখন পিছু হটার সুযোগ নেই। পিছু হটলে জাতি শত বছর পিছিয়ে পড়বে।’

বিএনপি নেতার অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চান। ক্ষমতার ক্ষুধার জন্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের দিয়ে মিথ্যা বলানো হচ্ছে। গোটা দেশ আজ বন্দিশালা। …কখন কাকে গুম করবে সেই ভয়ে সব সময় শঙ্কিত থাকে মানুষ।

দেশবাসী দুঃসময়ের মধ্যে দিন যাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র মুক্তির জন্য লড়াই করছে তারা কেউ ভালো নেই। আজ বিশ্ব মহামারির চেয়ে জাতীয় মহামারিতে বেশি আক্রান্ত দেশ। পুরো দেশ আজ অত্যাচার অনাচারে আক্রান্ত।

‘বিরোধী দল আজ প্রতিবাদ করলে, কর্মসূচি দিলে গুম হতে হয়, বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। রেহাই পায় না মিডিয়াকর্মীরাও। তাদেরকেও বন্দি করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে লাশ।’

মনে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাথমিক পাস করেননি

যুক্তরাষ্ট্রে গুম, পুলিশের গুলিতে হত্যার সংখ্যা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের কথা শুনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর মনে হয়, মন্ত্রী বুঝি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পাস করেননি।

বিএনপির মুখপাত্র বলেছেন, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রীরা একের পর এক অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি বললেন, আমেরিকায় প্রতি বছর ছয় লাখ লোক গুম হয়। আপনার তথ্য দেখলে মনে হয় আপনি প্রাইমারিও পাস করেননি। দুদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বললেন আমেরিকায় প্রতি বছর এক লাখ মানুষ গুম হয়।

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রীরা একের পর মিথ্যা বলে যাচ্ছেন, ভিত্তিহীন তথ্য দিচ্ছেন।’

সম্প্রতি র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, তাদের নেতা-কর্মীদের গুম-খুনে জড়িত এই বাহিনী।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ তুলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। গত ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীতে এক আলোচনায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতেই প্রতি বছর সে দেশে ছয় লাখ মানুষ মিসিং হয়। পুলিশ ইন দ্য লাইন অব ডিউটি হাজারখানেক লোক মেরে ফেলে। আর আমাদের এখানে কালেভদ্রে কেউ মারা গেলেই বলবে যে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং। আপনারাই (সাংবাদিক) এসবের আসল মাতব্বর। আপনারাই বলেন বিনা বিচারে হত্যা, আর ওরা বলে ইন দ্য লাইন অব ডিউটি। সবাইকে আরও একটু সচেতন হতে হবে।’

বিদেশিদের মুখ বন্ধ করবেন কীভাবে

বিদেশিরাও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে বলে মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আপনারা (সরকার) অত্যাচার, ভয় দেখিয়ে বিরোধী দল ও মতকে বন্ধ করতে পারেন। কিন্তু আমেরিকা, জার্মান, ব্রিটেনের মুখ বন্ধ করবেন কীভাবে? তারা কি দেখে না? তারা সবই দেখছে।’

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অযৌক্তিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, জনি, সুমনসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কালো মাইক্রোবাস দিয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এগুলো কি আশপাশের মানুষ দেখে না? দেশের মানুষকে রক্তচক্ষু দেখাতে পারেন, কিন্তু বিদেশিদের পারবেন না।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন

সংঘর্ষের ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী

সংঘর্ষের ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী

দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা দেয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আগামীতে কেউ সংঘাতে জড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের সদরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের মন্টারপোল এলাকায় রোববার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ধ্যায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আটক করে থানায় নেয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পরে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের উপস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মনির দর্জি, মোহাম্মদ ব্যাপারী, হায়দার খান, সরোয়ার শেখ, রুবেল মাতুব্বর, আবু ছালে, মো. ইসমাইল, সোবাহান মোল্লা, আব্দুর রহমান ও পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম সালাউদ্দিন ও সদস্য অভিজিৎ দে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি ঘটমাঝি ইউনিয়নে ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনের কথা রয়েছে। ভোটে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল হাওলাদার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন খলিলুর রহমান দর্জি।

দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা রোববার বিকেলে মন্টারপোল বাজারে প্রচারে নামেন। এ সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি প্রচারকে কেন্দ্র করে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া উভয় পক্ষের নির্বাচনি ক্যাম্প, ১০টি মোটরসাইকেল, বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্যসহ আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশসহ ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে সাতজনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।’

তবে সংঘর্ষের বিষয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী কথা বলতে রাজি হননি। তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে নিউজবাংলাকে অনুরোধ করেন।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রচারে নেমে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।’

‘এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে লিখিত দেয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আগামীতে কেউ সংঘাতে জড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি
খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

শেয়ার করুন