জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

player
জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রপ্তানি আয়ের অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক থেকে

রপ্তানি আয়ের অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক থেকে

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রপ্তানি থেকে আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক খাত থেকে। ছবি: সংগৃহীত

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই যে মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন হচ্ছে, তা কিন্তু নিট পোশাকের ওপর ভর করেই। মানুষ যত সমস্যায়ই থাকুক, যত অর্থ সংকটেই থাকুক না কেন, অতি প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতেই হয়। সে কারণে নিট পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

মহামারিকালে কম দামি পোশাকে ভর করেই রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্ক ছড়ালেও অতি প্রয়োজনীয় কম দামের পোশাক বিশেষ করে নিট পোশাক রপ্তানি কমবে না বলে জানিয়েছেন এ খাতের রপ্তানিকারকরা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৪৭০ কোটি (২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, ৪৫ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি উপখাত ওভেন ও নিট। আগে নিটের চেয়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসত। বেশ কয়েক বছর ধরে রপ্তানি বাণিজ্যে এই দুই খাতের অবদান ছিল কাছাকাছি। কিন্তু করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে ওভেনকে পেছনে ফেলে ওপরে উঠে আসে নিট খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট ২৭ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে এসেছিল ১৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আর নিট পোশাক থেকে এসেছিল ১৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে পাল্টে যায় চিত্র; নিট থেকে আসে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। আর ওভেন থেকে আসে ১৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে। এই ছয় মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ১১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ওভেন থেকে এসেছে ৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের যে বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে তার মধ্যে ৫৬.০৫ শতাংশই এসেছে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে। এই ছয় মাসে নিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১ শতাংশ। আর ওভেনে রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা নিজেরাও ভাবিনি নিট খাতের রপ্তানি এতটা বাড়বে। এই যে মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন হচ্ছে, তা কিন্তু নিট পোশাকের ওপর ভর করেই। মানুষ যত সমস্যায়ই থাকুক, যত অর্থ সংকটেই থাকুক না কেন, অতি প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতেই হয়। সে কারণে নিট পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ওমিক্রন নিয়ে চিন্তায় আছি। তবে যদি দেশে দেশে আবার লকডাউন শুরু না হয়, তাহলে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বর্তমানের ইতিবাচক ধারা আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকবে। সে বিবেচনায় গত অর্থবছরের মতো এবারও একটা ভালো বছর পার করব বলে মনে হচ্ছে।’

ওভেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ও এভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির কঠিন সময়ে কম দামি পোশাক রপ্তানি করছি আমরা। বায়াররা অতি প্রয়োজনীয় পোশাক কিনেছেন। সে কারণে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। এখন অবশ্য ওভেনও ভালো রপ্তানি হচ্ছে। প্রচুর অর্ডার আসছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের ভালো দিন যাচ্ছে বলা যায়। তবে ওমিক্রনের ভয় সব সময় তাড়া করছে আমাদের।’

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট ২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন) থেকে।

এই রপ্তানিতে নিট পোশাক খাতের অবদান হচ্ছে ৪৫ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ওভেনের অবদান ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলের দাম ছুটছে ১০০ ডলারের দিকে

জ্বালানি তেলের দাম ছুটছে ১০০ ডলারের দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স পূর্বাভাস দিয়েছে, তেলের দাম ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই বছরের মাঝামাঝিতেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে জেপি মরগান বলছে, এই বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছেতে পারে। ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়ছেই। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলার। একই সঙ্গে ইউ এস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ ডলার ৩১ সেন্টে। এই দর ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স পূর্বাভাস দিয়েছে, তেলের দাম ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময়েই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আমেরিকাভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক এবং আর্থিক সেবা হোল্ডিং সংস্থা- জেপি মরগান বলছে, এই বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছেতে পারে। ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

অবশ্য গত বছরের অক্টোবরে তেলের বাজারের উত্থানের সময় গোল্ডম্যান স্যাক্স বলেছিল, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। কিন্তু ৮৫ ডলারে উঠে তা নিম্নমুখী হয়েছিল। সে সময় সংস্থাটি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দর গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যেভাবে ১০০ ডলারের দিকে যাচ্ছে, তাতে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে; যেটি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে এই তেলের দাম ইতোমধ্যে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আবার শুরু হয়েছে উত্তেজনা। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গত সোমবার যে হামলা চালিয়েছে, তাতে তিনজন মারা গেছেন। আরব আমিরাত আবার এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়ার হুংকার জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানি বিশ্লেষকেরা শঙ্কা করছিলেন, তেলের দাম আবারও বাড়বে। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ করতে পারে, এই আশঙ্কায় তারা এমনটা বলেছিলেন। তবে আরব আমিরাতে এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরব বলেছে, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা চালিয়ে যাবে।

এদিকে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানি অ্যাডনক বলেছে, এখনো তারা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় এবার তীব্র শীত পড়ায় ঘর গরম রাখতে জ্বালানির চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেও জ্বালানির দাম বাড়ছে।

মহামারির শুরুতে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম শূন্যেরও নিচে চলে গিয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম এখন সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে। কয়েক মাস আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বাজারে তেল ছেড়ে সরবরাহ বৃদ্ধির চেষ্টা করে। চীন ও ভারতও একই পথে হাঁটে। এতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছেদ পড়ে। এ ছাড়া ওপেকও দিনে অতিরিক্ত চার লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন সেই দরকেও ছাড়িয়ে গেল।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বৈঠকে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

দাম বাড়ানোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না। গ্যাসের দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। ব্যাহত হবে শিল্পোৎপাদন।’

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাওয়ার, এনার্জি, ইউটিলিটিস বিষয়ক এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটি।

মতিঝিলে ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

দাম বাড়ানোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না। গ্যাসের দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। ব্যাহত হবে শিল্পোৎপাদন।’

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চীন ও ভারত আরও ২০ বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখবে। বাংলাদেশেও শিল্পের বিকাশের স্বার্থে দেশে মজুত থাকা কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া উচিত সরকারের।’

গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ ব্যাপকভাবে শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

তিনি বলেন, ‘বাপেক্স একা না পারলে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে অনুসন্ধান কূপ খননে গতি আনা উচিত।’

স্ট্যান্ডিং কমিটির ডিরেক্টর-ইন-চার্জ ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবুল কাশেম খান বলেন, ‘দেশে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ নয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও শিল্পায়ন অব্যাহত রাখতে দেশীয় সম্পদকে কাজে লাগানো জরুরি।‘

কয়লা উত্তোলন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে মত দেন আবুল কাশেম খান।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. নাসের বলেন, ‘বিতরণ ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুফল বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।’

এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনার ভার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সাংবাদিক মোল্লা এম আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকারের অন্তত আরও ১০০টি কূপ খনন করা উচিত।’

এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বাইরের শিল্প-কারখানাগুলোকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ওয়ান স্টপ সলিউশন, চরের অনাবাদি জমিতে সোলার প্যালেন স্থাপন, সরকারিভাবে গবেষণা ও উন্নয়নকাজের উদ্যোগ, বর্জ্য ও চালের কুড়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হাতে নেয়ার দাবি জানান কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের এমডি ও সিইও হুমায়ুন রশিদ।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেশীয় ও বিদেশি উৎসের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির কো-চেয়ারম্যান সালাউদ্দীন ইউসুফ, মোহাম্মদ আলী দ্বীন, নাজমুল হক ও এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজল হক।

ভর্তুকি সামাল দিতে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে কয়েকটি বিতরণ সংস্থা গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। তবে তাদের এ প্রস্তাব আপাতত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।

গত সপ্তাহে তিতাস, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি আবাসিকের ক্ষেত্রে দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা, মিটার আছে এমন চুলায় প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করতে চেয়েছিল।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ঘনমিটারপ্রতি ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা, শিল্প খাতে ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ২৪ পয়সা, ক্যাপটিভে (শিল্প-কারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস) ১৩ টাকা ৮৫ পয়সার স্থলে ৩০ টাকা, যানবাহনে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম ৩৫ টাকা থেকে ৭৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

বিইআরসি মনে করছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব বিধিসম্মত হয়নি। তাই সেগুলো আপাতত গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

১৬৭টি চা বাগান রয়েছে দেশে। ছবি: সংগৃহীত

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

করোনাকালেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগানে ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার কেজি বেশি।

এবার উত্তরাঞ্চলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ চা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুকূল আবহাওয়া, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত তদারকি, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে বলে জানায় চা বোর্ড।

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি বলেন, ‘প্রতি বছর চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত বছর দেশের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। মহামারিতেও উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতিয়মান, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে চা চাষীদের ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’র মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করায় তারা এবার ৪১ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন করেছে।

২০২০ সালে দেশে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

গ্যাসের দাম আপাতত বাড়ছে না

গ্যাসের দাম আপাতত বাড়ছে না

গত সপ্তাহে তিতাস, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি আবাসিকের ক্ষেত্রে দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা, মিটার আছে এমন চুলায় প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করতে চেয়েছিল। বাণিজ্যিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম গড়ে ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

আবাসিক ও বাণিজ্যিক-সব ধরনের গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি বাড়াতে বিতরণ সংস্থাগুলো যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।

বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি থেকে দেয়া প্রস্তাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরির মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইআরসির সদস্য মকুবল-ই-ইলাহী চৌধুরী।

ভর্তুকি সামাল দিতে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে কয়েকটি বিতরণ সংস্থা গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

গত সপ্তাহে তিতাস, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি আবাসিকের ক্ষেত্রে দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা, মিটার আছে এমন চুলায় প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করতে চেয়েছিল।

নভেম্বরে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ইস্যুতে এমনিতেই জেরবার দেশবাসী নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দাম ছাড়াও সারসহ নানা পণ্যের দাম ও সিএনজিচালিত পরিবহনের ভাড়া আবার বেড়ে মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিত। বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি হয় শহর এলাকায় রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ঘনমিটার প্রতি ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা, শিল্প খাতে ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ২৪ পয়সা, ক্যাপটিভে (শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস) ১৩ টাকা ৮৫ পয়সার স্থলে ৩০ টাকা, যানবাহনে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম ৩৫ টাকা থেকে ৭৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

নভেম্বরে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ইস্যুতে এমনিতেই জেরবার দেশবাসী নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দাম ছাড়াও সারসহ নানা পণ্যের দাম ও সিএনজিচালিত পরিবহনের ভাড়া আবার বেড়ে মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিত। বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি হয় শহর এলাকায় রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে।

বিইআরসির সদস্য মকুবল-ই-ইলাহী চৌধুরী নিউজবাংলাক বলেন, ‘যারা প্রস্তাব দিয়েছিল তাদের কাছে শোনেন কেন এই দাম বাড়াতে হবে? প্রস্তাব করতে গেলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। যেমন, কেন দাম বাড়ানো হবে, কী কারণে বাড়ানো হবে। তারা যে দাবি তুলেছে তা আমরা প্রস্তাব হিসেবেই গ্রহণ করিনি।’

জ্বালানির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইআরসির ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদক ও বিতরণ সংস্থাগুলো এর কাছে প্রস্তাব রাখার পর তারা সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পাশাপাশি ভোক্তা প্রতিনিধিসহ গণশুনানির আয়োজন করে। এরপর তারা একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার সেই অনুযায়ী আদেশ জারি করে।

বিইআরসি মনে করছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব বিধিসম্মত হয়নি। তাই সেগুলো আপাতত গ্রহণ করা হয়নি।

সংস্থাটির সদস্য মো. মকুবল-ই-ইলাহী চৌধুরী নিউজবাংলাক বলেন, ‘যারা প্রস্তাব দিয়েছিল তাদের কাছে শোনেন কেন এই দাম বাড়াতে হবে? প্রস্তাব করতে গেলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। যেমন, কেন দাম বাড়ানো হবে, কী কারণে বাড়ানো হবে। তারা যে দাবি তুলেছে তা আমরা প্রস্তাব হিসেবেই গ্রহণ করিনি।’

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আপাতত ফেরানো হলেও অদূর ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা বলা কঠিন। দেশে এখন গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪২০ কোটি ঘনফুট। তবে করা হয় প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি আকারে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

এই এলএনজির দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকহারে বেড়েছে। প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানি ব্যয় বাবদ খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা ৩৮ পয়সা। অথচ দেশে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ৩৬ পয়সা। এক বছর আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ঘনফুট এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলারের আশেপাশে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য চলতি অর্থবছরে ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন। কিন্তু চলতি বছরের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কেবল ৪ হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় গত অর্থ বিভাগের কাছে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

করোনাকালেও রেকর্ড চা উৎপাদন

করোনাকালেও রেকর্ড চা উৎপাদন

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সকল চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদান, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, চা শ্রমিকদের মজুরি, রেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের ফলে চা উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড জানিয়েছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ১১ হাজার কেজি।

শতাংশ হিসাবে এক বছরে উৎপাদন বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক বছরে এতো বেশি চা উৎপাদন হয়নি।

চা বোর্ড বলছে, শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকেই গত বছরে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে; ২০২০ সালে যা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ টন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সকল চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদান, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, চা শ্রমিকদের মজুরি, রেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের ফলে ২০২১ সালে দেশের চা উৎপাদন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতেও উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

‘উত্তরাঞ্চলে চা চাষীদের “ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’র মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের ফলে শুধুমাত্র সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে গত বছর আগের চেয়ে ৪১ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।’

২০২০ সালে দেশে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৯ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি।

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে ডিসিদের নির্দেশ

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে ডিসিদের নির্দেশ

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকে সতর্ক সরকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ডিসি সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিদের বলেছি, সামনে রমজান মাস আসছে, কিছু কিছু জিনিসের দাম আমরা ঠিক করে দেই। সেগুলো কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। সে সময় যেন তারা খুব শক্ত ভূমিকায় থাকেন, আইনগত ব্যবস্থা যেন নেন।’

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকেই সতর্ক সরকার। ওই সময়ে দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের শক্ত ভূমিকা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনে অংশ নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিদের বলেছি, সামনে রমজান মাস আসছে, কিছু কিছু জিনিসের দাম আমরা ঠিক করে দেই। সেগুলো কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। সে সময় যেন তারা খুব শক্ত ভূমিকায় থাকেন, আইনগত ব্যবস্থা যেন নেন।’

কোরবানি ঈদের সময় চামড়া কেনাবেচা ইস্যুতেও ডিসিদের শক্ত অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুনশি। তিনি বলেন, ‘কোরবানির সময় চামড়া কেনাবেচার বিষয়টি যেন তদারকি করেন। কেউ যাতে দাম থেকে বঞ্চিত না হন।’

ডিসিদের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিদের ওপর আমাদের অনেকখানি নির্ভরতা আছে। জিনিসপত্র যখন মফস্বল থেকে আসে চাঁদাবাজিতে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, দাম যাতে না বাড়ে, মধ্যস্বত্বভোগী যাতে কমিয়ে আনা যায়, কৃষক যাতে ন্যায্য দাম পায়- এসব ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

এ সময় ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ২০ লাখ টন ভোজ্যতেল দরকার হয়। দেশে ২ লাখ টন উৎপাদিত হয়। বাইরে থেকে তেল আনতে হয় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম বাড়ে তখন দেশেও এর প্রভাব পড়ে। এখন তেলের কনটেইনারের দাম যেটা দুই থেকে আড়াই টাকা ছিল, সেটার দাম ৮-১০ হাজার হয়েছে।

‘যার ফলে দামের ওপর প্রভাব পড়ে। ফলে দেড়-দুই মাস পর পর বসে দাম অ্যাডজাস্ট করতে হচ্ছে। এটা না করলে সামনে রমজান মাস তারা তো এলসি ওপেন করবে না, সেটা আরও ভয়াবহ হবে। এ জন্য তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আগামী মাসের ৬-৭ তারিখে বসে আন্তর্জাতিক বাজার এবং এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করব। এ বিষয়ে আজ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ব্যবসায়ীদের এলসি না খোলার প্রবণতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘যদি ব্যবসায়ী দেখে লস হবে, তখন কী সরকার তাকে ফোর্স করতে পারে? এ জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। আমাদের দেখতে হবে তারা যাতে বেশি লাভ করতে না পারে। লস দিয়ে তারা তো আমদানি করবে না।’

আরও পড়ুন:
ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন
বাইডেনের তেল ছাড়ার ঘোষণায় উল্টো ঊর্ধ্বমুখী দাম

শেয়ার করুন