দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

player
দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

বাংলাদেশের বাজারে মঙ্গলবার রাতে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলোর যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো।

রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে মঙ্গলবার রাতে এক অনুষ্ঠানে এ যাত্রা শুরু হয়।

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবাহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প-কারখানা এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট, গ্রিজ, গিয়ার অয়েল, অ্যাডিটিভস সরাসরি ইতালি থেকে আমদানি করে মানসি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৩০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা পাকেলো আপসহীনভাবে গুণগত মান বজায় রেখেছে। গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানটি রেখেছে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল বিভাগ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং অংশীদারদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ।

পাকেলো সব সময় শতভাগ ভার্জিন বেজ অয়েল ব্যবহার করে থাকে। কোনো ধরনের পুনর্ব্যবহৃত বেজ অয়েল ব্যবহার করে না প্রতিষ্ঠানটি। তা ছাড়া কোম্পানিটি পরিবেশের কথা চিন্তা করে পরিবেশবান্ধব তেল নিয়ে এসেছে।

বাজারে যেসব ইঞ্জিন আসছে, সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগতই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে পাকেলো।

এ বিষয়ে মানসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আহমেদ বলেন, ‘গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যকার লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট এবং গ্রিজ উত্পাদন করে থাকে পাকেলো। এ ছাড়া পাকেলো ফর্মুলা ১, ফর্মুলা ২, ফর্মুলা ৩, জিটি সিরিজ, ফর্মুলা ই, ডিটিএম, মোটো জিপি, এন্ডুরোজিপি, ইউরোপীয় লেম্যানস ২৪, রিসি কম্পিটিজিওনি ইত্যাদি রেসিং প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে অংশগ্রহণকারী রেসিং টিমগুলোকে সহযোগিতা করছে।

‘ওইএম এবং পেশাদারদের সরাসরি পরামর্শ দেয়ার জন্য পাকেলোর কাছে উন্নত প্রযুক্তির ল্যাব আছে। পাকেলোর পণ্যের অভিজাত পরিসর ইঞ্জিনকে সব ধরনের চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় সুরক্ষা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পাকেলোর পণ্য নিয়ে এসেছি। আশা করি দেশের মানুষ তাদের পছন্দের গাড়ির জন্য পাকেলোর পণ্য সবার শীর্ষে রাখবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

গত ২১ ডিসেম্বর পিপলস ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনার জন্য গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন সাবিক আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মতিপত্র দেয়ার তিন বছরেও চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক।

কয়েক দফা সম্মতিপত্রের (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) মেয়াদ বাড়ানোর পর সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়।

এখন নতুন করে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে যুক্ত করার মাধ্যমে এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যাংকটি।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

আর অনুমতি না মিললে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির এলওআই বাতিল বলে গণ্য হবে।

জানা যায়, টাকার অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারছিল না পিপলস ব্যাংক। জোগাড় হচ্ছিল না পেইড আপ ক্যাপিটালের (পরিশোধিত মূলধন) ৫০০ কোটি টাকা। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইওেসন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের দুটি পরিচালক পদের মালিকানায় আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ব্যাংকটির মালিকানায় আসছেন সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ফলে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এলওআই’র মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা এম এ কাশেম সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ক্রিকেটার সাবিক আল হাসানকে নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ব্যাংকটিতে সাকিব মোট ২৫ কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করবেন বলে জানা গেছে।

পিপলস ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ও প্রধান উদ্যোক্তা এম এ কাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন। তাই দেরি হলেও আমরা দেশবাসীর কাছে একটি ভালো ব্যাংক উপহার দিতে চাই। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। পিপলস ব্যাংকের মালিকানায় সাকিব আল হাসান ও তার মা যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আমরা তাদের ফাইল বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সাকিবের মতো একজন তারকাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গৌরবের।’

তিনি বলেন, ‘পিপলস ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শিগগিরই পিপলস ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। তাছাড়া সাকিব ও তার মায়ের পরিচালক হওয়ার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনাধীন রয়েছে।’

২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক থেকে নতুন করে তিনটি ব্যাংককে এলওআই দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানার বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক বেশ আগেই চূড়ান্ত লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দ্য সিটিজেন ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে।

তবে শর্ত পূরণ করতে না পারা ও বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পিপলস ব্যাংক এখনও লাইসেন্স পায়নি।

দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে সরকারি ও বিদেশি মালিকানায় ৯টি করে ১৮ ব্যাংক রয়েছে। বাকি ৪৩টি বেসরকারি মালিকানায়।

শেয়ার করুন

করোনার ধাক্কায় বিশ্বে বেকার দাঁড়াবে ২১ কোটি

করোনার ধাক্কায় বিশ্বে বেকার দাঁড়াবে ২১ কোটি

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, ‘চলমান মহামারি এবং এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ- বিশেষ করে ওমিক্রন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করবে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ২০২২ সাল শেষে বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২০ কোটি ৭০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। এই সংখ্যা করোনা মহামারি শুরুর আগের বছর ২০১৯ সালের চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ বেশি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছরের করোনার কারণে অর্থনীতির ধীর পুনরুদ্ধার এবং নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ২০২২ সালে বৈশ্বিক বেকারত্ব বেড়ে ২০ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াবে; যা ২০১৯ সালের চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ বেশি।

আইএলও বলছে, বিশ্বব্যাপী চাকরি পুনরুদ্ধার মহামারির অনিশ্চয়তার কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির গতিপথ এবং সময়কাল সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে কমপক্ষে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় বেশি থাকবে। শুধু তাই নয়, পুনরুদ্ধার করতে পূর্বের ধারণার চেয়েও আরও বেশি সময় লাগবে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই বাধা অব্যাহত থাকবে এবং ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের নতুন চাকরির সুযোগ হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএলওর আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বিশ্বব্যাপী শ্রম বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মহামারির আগের কর্মক্ষমতায় ফিরে আসা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের জন্য অধরা থেকে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, ‘চলমান মহামারি এবং এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ- বিশেষ করে ওমিক্রন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনরুদ্ধারের গতি বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবর্তিত হয়। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে উৎসাহজনক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা পিছিয়ে আছে।’

‘নতুন বছরে উন্নতির ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২১ সালে মহামারির আগের তুলনায় ১২ কোটি ৫০ লাখ কম চাকরি ছিল। ২০২০ সালে কম ছিল ২৫ কোটি ৮০ লাখ।’

‘সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালে ২০ কোটি ৭০ লাখ লোক বেকার হবে। এ সংখ্যা বেশিও হতে পারে; কারণ অনেক লোক শ্রমশক্তি ছেড়েছে এবং এখনও ফিরে আসতে পারেননি। এদের মধ্যে অনেক বেশি সংখ্যক নারীও রয়েছেন। কারণ তাদের অনেকেই বাড়িতে অবৈতনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। যেমন স্কুল বন্ধের সময় বাচ্চাদের পড়ানো বা পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের যত্ন নেওয়া।’

প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, নারীর কর্মসংস্থানের উপর মহামারির অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব আগামী বছরগুলোতে সংকুচিত হবে। তবে একটি বড় আকারের ব্যবধান থেকে যাবে।

রাইডার বলেন, ‘ব্যাপক চাকরির সুযোগ হয়- এমন সব খাতে আরও বেশি বেশি বিনিয়োগ করতে হবে সব দেশকে।’

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের পোশাক কারখানাগুলো। ছবি; নিউজবাংলা

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে দেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্রয় আদেশ পায় বাংলাদেশের একটি তৈরি পোশাক কারখানা। ডিসেম্বরের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য তৈরিও হয়। কিন্তু শিপমেন্টের তারিখ এগিয়ে এলেও ক্রেতা পক্ষের তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।

একপর্যায়ে কারখানার মালিক যোগাযোগ করলে ক্রেতা পক্ষ জানায়, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পণ্যের সরবরাহ নিতে ধীরে চলো নীতি নেয়া হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে করেনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রার্দুভাবে দেশের রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারাখানা মালিকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

স্থানীয় পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ক্রেতারা। তারা ক্রয় আদেশ বাতিল করেনি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহের তারিখ এক বা দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়েছে বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের শুরু থেকেই পোশাক খাতের রপ্তানিতে তেজিভাব লক্ষ্য করা গেছে এবং তা অব্যাহত আছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে আদেশ বাতিলের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা।

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্বেগটা মূলত এ কারণেই।

ওমিক্রন মোকাবিলায় দেশে দেশে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পণ্য নিয়ে কী হবে, এখন আমদানির প্রয়োজন আছে কিনা- এমনটা ভাবতে শুরু করেছে ক্রেতারা।

মোট কথা, ওমিক্রনের কারণে পণ্য নেয়ার বিষয়ে ভাটার টান পড়েছে ক্রেতাদের মাঝে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রেতারা পণ্য নেয়ার সময় পেছাচ্ছেন। তারা ধীরে চলো নীতির জানান দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্রেতা শিপমেন্টের সময় এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে। অবশ্য রপ্তানি আদেশ বাতিল করেনি।

‘জনগণের জীবন স্বাভাবিক না হলে বেচা-কেনা ঠিকমতো হয় না। অনলাইনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম বিক্রি হয়। ওমিক্রনে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্বাভাবিক জীবন-যাপন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তবে রপ্তানি আদেশ বাতিল না হলেও নতুন আদেশ দেয়ার বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে ক্রেতারা।

‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ওমিক্রন সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, ঝুঁকিটা থেকেই যাবে। ওদিকে ওমিক্রন কখন শেষ হবে তা-ও বলা যাচ্ছে না।’

আনোয়ার-উল আলম পারভেজ আরো বলেন, ‘এখন যেসব ক্রয় আদেশ আছে সেগুলোর শিপমেন্টের সময় মে মাস পর্যন্ত আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু আদেশের সময় ২/১ মাস পিছিয়ে দিয়েছে ক্রেতারা। এতে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে লক্ষণ খুব একটা ভালো দেখছি না।’

ইউরোপের বৃহৎ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওমিক্রনের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশে ইউরোপের বড় একটি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানা মালিকরা সক্ষমতার বেশি ক্রয় আদেশ নিয়েছেন। অতিরিক্ত ক্রয় আদেশের কারণে তাদের তৈরি পণ্য সরবরাহ নিয়ে ‌এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ওমিক্রনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ক্রেতা ও রপ্তানিকারক উভয় পক্ষই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ওমিক্রন আরও খারাপের দিকে গেলে সমস্যা হতে পারে।’

শেয়ার করুন

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বাজারে হরেক রকমের চাল থাকলেও দাম শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের নাগালের বাইরে। ফাইল ছবি

বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এই সুবাদে ওএমএস কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে।

করোনার বিধি-নিষেধের মধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সুলভ মূল্যে খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার এক লাফে আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এই বাড়তি ওএমএস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

অপরদিকে ওএমএস শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সরকারের খাদ্যশস্যের সার্বিক মজুদের পরিমাণও। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ নিরাপত্তা দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ২০ লাখ টনের বাফার মজুদে উন্নীত হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং করোনা বিধি-নিষেধের মধ্যে চাপে আছে প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এ পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য ওএমএস-এর আওতা বৃদ্ধি এবং দেশে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ কিছুটা হলেও ক্রেতা-ভোক্তার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন দেশে ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি গুদামে নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে অন্তত ১০ লাখ টন চাল থাকতে হয়। এর বাড়তি থাকা আরও ভালো। খাদ্যশস্যের বর্তমান মজুদ দিয়ে দেশে চাল ও আটার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি করোনাকালীন যে কোনো সংকট মোকাবেলা সম্ভব।’

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত এই ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে নিয়মিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দে ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশন, শ্রমঘন চার জেলা, অন্যান্য জেলা সদর ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ৭০৫টি কেন্দ্রে এই ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ২০ জানুয়ারির পর ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে মোট ১ হাজার ৭৬৪টিতে উন্নিত হবে।

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
আগে ভারত থেকে চাল আমদানি করে সরকার সংকট সামাল দিত। ফাইল ছবি

খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুদ ছিল ৫ লাখ ৩৭ হাজার টন, যা মজুদ হিসেবে ছিল স্মরণকালের মধ্যে তলানীতে।

কিন্তু পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই মজুদ কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বর্তমানে চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ লাখ ৭৮ হাজার টনে।

এর মধ্যে চালের মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯ হাজার টন। গমের মজুদ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন। ধানের মজুদ ৩৮ হাজার টন।

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে চলতি অর্থবছর বাজেট বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত এক বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে অতিরিক্ত চাল ও গম বাবদ প্রয়োজনীয় ব্যয় অনুমোদন করা হয়।

চলতি অর্থবছরে ওএমএস কার্যক্রমের জন্য বাজেটে ১ লাখ ৭০ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৬৪ হাজার টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

কিন্তু চালের বাজার উর্ধ্বমুখী থাকায় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওএমএসের চাল ও আটার চাহিদা বেড়ে যায়। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ওএমএসের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৭ টন চাল এবং ২ লাখ ১২ হাজার ১৯১ টন গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয় মাত্র ৭২২ টন চাল এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৯ টন গম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সরকারি গুদামগুলোতে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ গড়ে তুলেছে। এখন আমাদের খাদ্যশস্যের মুজদের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টন। এই বাফার মজুদ দেশে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বাজার পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে আমরা ওএমএস কার্যক্রমও জোরদার করতে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য এই করোনা পরিস্থিতিতে যাতে দেশের নিন্ম আয়ের মানুষ কম দামে চাল বা আটা কিনতে পারেন।’

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। ফাইল ছবি

খাদ্যশস্যের দামের উর্ধ্বগতি রোধ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা প্রদান এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ওএমএস ব্যবস্থা চালু করে সরকার। এ ব্যবস্থায় বর্তমানে দেশব্যাপি ডিলারদের দোকান ও খোলা ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা ১৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা একবারে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল ও আটা কিনতে পারেন।

গত সাড়ে ছয় মাসে বাজারের তুলনায় কম দামে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টন চাল ও আটা সরবরাহ করা হয়েছে। মুষ্টিমেয় লোক উপকারভোগী হলেও বাজারে পণ্যগুলোর দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, সোমবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হয়েছে। আর খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে।

জানতে চাইলে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ওই পণ্যগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যার সুফল ভোক্তারা পাবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি এই কার্যক্রম না চালানো হতো, তাহলে এখন পণ্যগুলোর যে দাম আছে, বৈশ্বিক বাস্তবতায় তা আরও বেড়ে যেত। তাই আগামীতেও খোলাবাজার কার্যক্রম নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সহায়কই হবে।’

শেয়ার করুন

ভারতে রপ্তানির রেকর্ড

ভারতে রপ্তানির রেকর্ড

ছয় মাসেই ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বড় একটি অংশ তৈরি পোশাকপণ্য। গত অর্থবছরজুড়ে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। রপ্তানিকারকরা বলছেন, এ উল্লম্ফন চলতেই থাকবে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের দেশগুলোয় নয়, ভারতের বাজারেও পণ্য রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ১০৬ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার (১.০৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ভারতে ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

রপ্তানিকারক ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রপ্তানির পালে যে হাওয়া লেগেছে, তাতে অর্থবছর শেষে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে। তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

কিন্তু এবার ছয় মাসেই সেই রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করল।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এ-যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ভারতে মোট রপ্তানির মধ্যে ৩৬ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের। ৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। কটন ও কটন প্রডাক্টস থেকে এসেছে ২ কোটি ১২ লাখ ডলার। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ৮৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমএইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় দেড় শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে।

‘এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্য দ্রুত ও সহজ করতে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামীতে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন রুবেল।

ভারত সরকারের যে সুবিধায় রপ্তানিতে উল্লম্ফন

২০১১ সালের নভেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ভারতের স্পর্শকাতর পণ্যতালিকা ৪৮০টি থেকে মাত্র ২৫টিতে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়েই কার্যত বাংলাদেশকে ভারতে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা প্রদান করা হয়।

প্রতিবেশী হওয়ায় বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় এখানে কম খরচে পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা। স্বাভাবিক নিয়মেই এই বিপুল পরিমাণ শুল্ক সুবিধায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার কথা।

এই সম্ভাবনা দেখে ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বিশ্বব্যাংক বলেছিল, বাণিজ্য সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।

কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না, উল্টো আমদানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রপ্তানির গতি ও চাহিদা প্রত্যাশিত হারে না বাড়াসহ নানা রকম অশুল্ক বাধার বেড়াজালে এখনও দুই দেশের বাণিজ্যে যোজন-যোজন দূরত্ব।

তবুও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি

রপ্তানি বাড়লেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির অঙ্ক এখনও বিশাল। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১০ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে মাত্র ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আর বিপরীতে আমদানি করা হয় ৫৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৬৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে রপ্তানি করেছিল ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬৪০ কোটি ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৪৫ কোটি ২৯ হাজার ডলার। রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৯ লাখ ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৭৬ কোটি টাকা।

রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব

সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে কিছু উদ্যোগ নিলে ভারতে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন ইন্দোবাংলা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা নেই। সেখানে বাড়তি শুল্ক দিয়ে পণ্য পাঠানো সত্ত্বেও প্রতি বছর আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। অথচ ভারতের বাজারে আমরা প্রায় শতভাগ শুল্ক সুবিধা পেয়েও পোশাক রপ্তানি একটা কাউন্টেবল জায়গায় নিতে পারছি না। বুঝতে হবে সেখানে চাহিদা সৃষ্টিতে কোথায় আমাদের দুর্বলতা। শুধু পোশাক নয়, সব রপ্তানি পণ্যেরই একই অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুরোপুরি ভারতের অনুকূলে। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু তাতেও ঘাটতি কমেনি।’

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘এখন একটা বেশ ভালো পরিবেশ দেখা দিয়েছে। লাভের কারণেই ভারতের ব্যবসায়ীরা এখন আমাদের এখান থেকে বেশি পণ্য আমদানি করছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে দুদেশের সরকারের মধ্যেও বেশ সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে। আমার মনে হয়, আমরা কিছু উদ্যোগ নিলে এখন ভারতের বাজারে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়বে। আর সে উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই নিতে হবে।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের একটি বৃহৎ ও বিকাশমান বাজার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখান থেকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণে লাভবান হতে পারেনি। বৈশ্বিক বাজার থেকে ভারতের আমদানির মোট মূল্যমান প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।

‘এখন ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু সেটা কিন্তু ভারতের দেড়শ কোটি লোকের বিশাল বাজারের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এখন যে অনুকুল পরিবেশ দেখা দিয়েছে, সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

শেয়ার করুন

গ্রিন হাই-টেক শিল্পে চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড পেল ওয়ালটন

গ্রিন হাই-টেক শিল্পে চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড পেল ওয়ালটন

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছ থেকে গ্রিন হাই-টেক শিল্প ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার নেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রির ডিএমডি আলমগীর আলম সরকার এবং ওয়ালটন কম্প্রেসরের সিবিও মো. রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ আয়োজন করে গ্রিন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

‘গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাই-টেক শিল্প ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পেয়েছে দেশের সুপার ব্র্যান্ড ও ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। একটি আধুনিক, রিসোর্স-এফিশিয়েন্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরে বিশেষ অবদান রাখায় ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দিয়েছে গ্রিন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

‘বেটার বাংলাদেশ টুমরো’ শীর্ষক উদ্যোগ নিয়েছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম মুর্শেদ। এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্যাপক কাজ করছে ওয়ালটন। ‘বেটার বাংলাদেশ টুমরো’র কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলা, জলজ প্রাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষাসহ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিন হাই-টেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটন পুরস্কৃত হয়েছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনে গত ১১ জানুয়ারি ‘গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়নস-২০২১’ শীর্ষক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রিন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আলমগীর আলম সরকার এবং ওয়ালটন কম্প্রেসরের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. রবিউল আলম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই আর্থিক বিভাগের সহযোগিতায় ‘গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ আয়োজন করে গ্রিন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে টেকসই সবুজ পরিবেশগত ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে অগ্রগামীদের চিহ্নিত ও স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা।

শেয়ার করুন

নতুন শিল্পনীতিতে সেবা খাত উপেক্ষিত: এফবিসিসিআই

নতুন শিল্পনীতিতে সেবা খাত উপেক্ষিত: এফবিসিসিআই

মতিঝিলে সোমবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে শিল্প নীতিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা বলেন, সরকারের বিভিন্ন নীতির মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

নতুন শিল্পনীতিতে সেবা খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলে মনে করছে ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

রাজধানীর মতিঝিলে সোমবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে শিল্প নীতিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এক বৈঠকে এমন মন্তব্য করা হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

খসড়া শিল্পনীতি-২০২১-এর ওপর মতামত জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অর্থনীতির বিকাশে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ-পিপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শিল্পনীতিতে তা উল্লেখ নেই বলে জানায় এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা বলেন, সরকারের বিভিন্ন নীতির মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। নতুন শিল্পনীতির খসড়ায় এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা ও একই সঙ্গে শিল্পনীতিকে সর্বোচ্চ নীতি হিসেবে গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ করেন তারা।

এ ছাড়া নতুন শিল্পনীতির খসড়ায় স্বল্পোন্নত (এলডিসি) পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও এসএমই খাতকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।

সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, ‘অর্থনীতিতে ৫০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে সেবা খাত। অথচ খসড়া শিল্পনীতিতে এ খাত সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি।’

অর্থনীতি বিকাশের স্বার্থে সেবা খাতকে নতুন শিল্পনীতিতে গুরুত্ব দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা বলেন, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে বর্তমান নীতিতে থাকা অনেক সুবিধার সুফল নিতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন নীতি একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কমিটির সদস্যরা মনে করেন, দেশে দ্রুত শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিদ্যমান অন্যান্য নীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে নতুন শিল্পনীতি করতে হবে। তা না হলে এর সুফল মিলবে না।

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি ও শিল্প নীতিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ডিরেক্টর-ইন-চার্জ মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘শিল্পনীতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। বিসিক শিল্পনগরীতে কোনো সেবা না পেলেও সার্ভিস চার্জ বেশি গুনতে হয় উদ্যোক্তাদের।’

বিসিকের বিভিন্ন শিল্পনগরীতে জমির উচ্চমূল্যের কারণে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ সার্কুলার অর্থনীতির দিকে হাঁটছে এবং এ বিষয়ে এফবিসিসিআইও কাজ করছে বলে জানান কমিটির সদস্যরা।

নতুন শিল্পনীতিতে সার্কুলার অর্থনীতিকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া শিল্পের বিকাশে জমির সহজলভ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের নিশ্চয়তা চান স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা।

এফবিসিসিআই বলছে, বর্তমানে ২২৭টি পণ্য দেশে উৎপাদন করতে বিএসটিআইয়ের মানসনদ লাগে। অথচ আমদানির বেলায় এই মানসনদ লাগে মাত্র ৫৫টি পণ্যের। এই বৈষম্যের সুযোগ নিয়ে অনেক নিম্নমানের বিদেশি পণ্য দেশীয় বাজার দখল করেছে।

এ ছাড়া দেশে শিল্প স্থাপনে ৩০টি সনদ লাগে, যা প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। অথচ ভিয়েতনামে এ সংখ্যা মাত্র পাঁচটি এবং নবায়ন করার কোনো বিধান নেই। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে সনদের সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনা এবং নবায়ন করার বিধান বাতিলের সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নীতি) মো. সেলিম উল্লাহ খসড়া শিল্পনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ও আসিফ ইব্রাহিম এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবুল কাশেম খান, ড. নাদিয়া বিনতে আমিন, আব্দুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবীর, এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মনজুর রহমান, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম প্রমুখ।

শেয়ার করুন