নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

player
নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

প্রতিবছরই শীতের শুরুতে পলো দিয়ে মাছ ধরার এ উৎসব করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। শীতকালে নদীর পানি শুকানো শুরু হয়। এ কারণে নদীপারের আশপাশের গ্রামের মানুষরা পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠেন। এটি গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন উৎসব।’

বাঁশের তৈরি পলো নিয়ে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দলবেঁধে নেমে পড়ে নদীর হাঁটুপানিতে। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ। এ সময় এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সে উৎসব দেখতে হাজির হয় নদীরপাড়ের অনেক মানুষ।

নওগাঁ জেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের চিত্র এটি। সম্প্রতি বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ব্রিজের নিচে ছোট যমুনা নদীতে এ উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয়রা। প্রতিবছরই শীতের শুরুতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পলো দিয়ে মাছ ধরার উপযোগী সময় মনে করা হয় শীতকালকে। এ সময় খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যায়। বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য পলো তৈরি করা হয়েছে। আগে থেকেই এলাকায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে মাছ ধরার।

এলাকার শৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা মাছ ধরতে নেমে পড়ে পানিতে। বংশপরম্পরায় চলে আসছে এই ঐতিহ্য। পলো দিয়ে মাছ ধরার এই উৎসবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানে মাছ ধরায় কেউ বাধা দেয় না। নির্ধারিত সময়ে সবাই একসঙ্গে নেমে পড়ে নদীতে।

মাছ ধরার উৎসবে অংশ নেয়া স্থানীয় কোলা গ্রামের তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘হামি পেশায় একজন কৃষক। প্রতিবছোরের শীতের এই সমোয়ত নদীর পানি কুমা যায়। তখন হামরা আশে-পাশের গ্রামের মানুষেরা একসাথে মিলা পলো দিয়া মাছ ধরি। আজক্যা এই মাছ ধরার উৎসোবত প্রায় দেড়শ থ্যাকা দুইশ জনের মতো মানুষ অংশ লিছে।’

বিলাশবাড়ী গ্রামের লিটন হোসেন এসেছেন মাছ ধরার উৎসবে। তিনি বলেন, ‘চার দিন আগে বালুভরা গ্রামের কয়েকজন মিলা মাইকিং করিছে যে আজক্যার নদীত থ্যাকা পলো দিয়া মাছ ধরা হবে। তাই আগে থাকাই বাঁশ ও জাল দিয়া পলো তৈরি করে রাখিছি। আজক্যা আসা একন পর্যন্ত তিনডা বোয়ালমাছ ধরিছি।’

নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

বালুভরা গ্রামের শাহাদত হোসেন বলেন, ‘কোলা, ভাণ্ডারপুর, বিলাশবাড়ী, আক্কেলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুইশজনের মতো অংশ নিয়েছে এ উৎসবে।

‘এ নদীতে বোয়াল, কই,শিং, পুঁটি, শোলসহ বেশ কয়েক জাতের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সবাই মিলে অংশ নিতে পেরে আমাদেরও অনেক ভালো লাগছে। বছরের একটি দিনেই আমরা এই নদীতে এমন আয়োজন করে থাকি।’

মাছ ধরার উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর আশপাশের বিভিন্ন বয়সের মানুষ এসেছে উপভোগ করতে।

ভাণ্ডারপুর গ্রামের রিপন হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে শহরে যাচ্ছিলাম মোটরসাইকেলে করে। নদীতে একসঙ্গে এত মানুষ মাছ ধরছে দেখে নদীর কাছে না এসে আর থাকতে পারলাম না। তাই এসেছি মাছ ধরা দেখতে।’

‘অনেক ভালো লাগছে এমন আয়োজন দেখে। নদীমাতৃক এই দেশে এমন আয়োজন না হলে কেন জানি এক ধরনের অপূর্ণতা রয়ে যায়।’

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। শীতকালে নদীর পানি শুকানো শুরু হয়। এ কারণে নদীপারের আশপাশের গ্রামের মানুষ পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে। এটি গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন উৎসব।

নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা নদী, পুণর্ভবা নদী, আত্রাই নদী, তুলশীগঙ্গা, শিব নদী, ফকিরনি নদী এবং নাগর নদী। বিল মুসছুর, গুটার বিল, দীঘলির বিল, জবই বিলসহ অসংখ্য ছোট বিলও আছে এখানে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তবে নৌকার প্রার্থী বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথাই বলেননি।

নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে ২১ জানুয়ারি উঠান বৈঠক করেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার দেয়া বক্তব্য পর দিন ‘সত্যের সন্ধান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট হয়।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে জয় বাংলা বলবেন, আর কাজ করবেন নৌকার বিরুদ্ধে, আমি লালু, ভুলু ও শাকিলকে বলে দিতে চাই- আগামীকালের পর এলাকায় থাইকেন না।’

যাদেরকে এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের একজন শাকিল রেজা। তিনি নারান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক গত নির্বাচনে যখন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন তখন আমি, লালু আর কালু দিনরাত পরিশ্রম করে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অসহায়দের কাছ থেকে ঘর দেবেন বলে টাকা পয়সা নিয়েছেন।

‘আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ করেছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে আমরা তার সঙ্গে নাই। আর এজন্যই তিনি গ্রামে এসে আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুছলেহ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে ঘুরে নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তার কোনো জনসমর্থন নাই। নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের এমন হীন তৎপরতায় জড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শফিক প্রতিনিয়ত আমার কর্মী সমর্থকদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য আমি দেইনি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা এখনো নিজেদের এলাকায় অবস্থান করছেন। আমি বলেছি আপনারা আওয়ামী লীগ করবেন আবার দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটা ঠিক না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা আমার কাছে নয় দেবেন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএমে।

শেয়ার করুন

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

স্কুলের মাঠে চলছে নির্মাণ কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে। টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

বরগুনার বেতাগীতে টেন্ডারের শিডিউল বিক্রির আগেই কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার।

অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ওই কাজটি পছন্দের ঠিকাদারের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই ঠিকাদার কাজও শুরু করেছেন। গত ১৫ দিন ধরে চলছে এ সব কাজ।

দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা।

বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এলজিইডি বেগাতী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিবিচিনি ইউনিয়নের বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও স্কুলের ভেতরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইডি বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।

ওই দুইটি প্যাকেজের শিডিউল বিক্রির শেষ সময় উল্লেখ করা হয় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৫টা। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১টা।

ই-টেন্ডার পদ্ধতি হওয়ায় সারাদেশ থেকেই অনলাইনে টেন্ডার শিডিউল ক্রয় ও জমা দেয়ার কথা। সেই হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্ত দরপত্র বিক্রির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাকির হোসেন নামের একজন ঠিকাদার গত ১৯ জানুয়ারি ওই স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র আহবান করার পর এতে অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনৈতিকভাবে কাজটি বন্টন করা হয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্রে অংশণে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে কাজটির ঠিকাদার নির্বাচিত হলে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো বলে মনে করেন তারা।

মঙ্গলবার বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কুলের চারপাশে কলাম ঢালাই এবং মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখানে ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার জাকির এই কাজ করছেন।

নিউজবাংলাকে প্রতিষ্ঠানটির (ব্রিট সেন্টার) ইনচার্জ মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এরপর রাস্তার কাজ শুরু হবে।’

গত ১৫ দিন আগে এই কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজের টেন্ডার এখনও সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মো. জাকির বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজ করতে বলেছে, তাই আমি কাজ করছি। আমি নিজেও দরপত্র ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে যে কাজ পাবে তার সাথে সমন্বয় করে নিব।’

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না।’

ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

নিউজবাংলাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এসকে আরিফুল ইসলাম বলেন ‘এই কাজটি আমার দপ্তরের না। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’

শেয়ার করুন

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক রিনা ও আরজিনা। ছবি: নিউজবাংলা

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বরিশাল নগরীতে সাবেক এক নারী কাউন্সিলরের ব্যাগ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারী ছিনতাইকারীকে আটক করেছে সাধারণ মানুষ। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার দুপুরে নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় ওই ছিনতাই ও আটকের ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে ছিনতাই করা ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক হওয়া রিনা ও আরজিনা বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় রহমতপুর রামপট্টি এলাকার বেদেপল্লিতে বাস করেন বলে জানিয়েছেন।

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক হলে তিনি তাদের পিছু নেয়ার কারণ জানতে চান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দেখেন তার বহন করা ব্যাগের চেইন খোলা এবং সেখানে রাখা ৫০ হাজার টাকাও নেই।

এ অবস্থায় সন্দেহজনক ওই দুই নারী রিনা ও আরজিনাকে ধরে ফেলেন পলি। পরে তাদের একজনের ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ রিনা ও আরজিনাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার সাবেক নারী কাউন্সিলর বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুল করিম জানান, দুই নারীকে থানায় রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নৌপুলিশের এসআই ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পাশাপাশি ভাসমান নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

সদর উপজেলার নবীগঞ্জ গুদারাঘাটের পশ্চিম পাশ থেকে বুধবার দুপুরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যায় এক নারী ও যুবকের মরদেহ পাশাপাশি ভাসতে দেখে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নৌপুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর। দুজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

হাসপাতালে গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

‘অটোত করি টেনের (ট্রেন) লাইন পার হবার ধরছিল। টেন হুসেল দেয় নাই, আর শীতোত কিছু দেখা যায় নাই, তখন মারি দিচে। দৌড়ি যায়া দেখি তিন জন পড়ি আছে। ও আল্লাহ এ্যালা হামার কী হইবে...’

নীলফামারীতে বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলাম আপনসহ তিনজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে গুরুতর আহত আপনের স্ত্রী পারুল বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন।

নিউজবাংলাকে পারুল আরও বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গুরুতর আহত অটোর যাত্রী নাজনীন আক্তার ও কুলছুমা বেগম ১৮ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। আর অহিদুল ইসলাম ভর্তি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এর মধ্যে নাজনীনের অবস্থা গুরুতর। আর অহিদুলের ডান পা প্রায় বিচ্ছিন্ন।

কুলছুমার বাবা সায়েদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমরা অটোত করি দৈনিক নীলফামারীর ইপিজেটোত কাজোত যাইত। আইজো সকালে খায়া দায়া বের হইচে, একনা পড়ে শুনে এই ঘটনা।’

নাজনীনের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই গেটোত ঘুণ্টি নাই, ঘরো নাই। শুনচি আগোত আচলো, অন্তপক্ষ ৫০ বচর ধরি দেখি ঘুণ্টি নাই। ঘুণ্টি থাকলে কী এত বড় ঘটনো ঘটে। এইলা দায় কাই নিবে, হামাকে পোহা নাগবে।

‘আর টেন যে আসিল তো হুসেল দিবের নয়, তা তো দেয় নাই, যত শীত থাক, হুসেল কী শীতোত আটকে? হুসেল দিলে সবাই দাঁড়াইলে হয়।’

সৈয়দপুর-চিলাহাটী রেলপথের দারোয়ানিতে বুধবার সকালে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নারীর মারা যান।

নিউজবাংলাকে রংপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা ভালো আছেন।’

শেয়ার করুন

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

বহিষ্কৃত সুমাইয়া বিনতে ইকরাম (বামে) ও আনিকা তাবাসসুম। ছবি: নিউজবাংলা

রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

ছাত্র লাঞ্ছনায় জড়িত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই ছাত্রীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এক শিক্ষার্থীকে এক বছর এবং অন্যজনকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার রাতে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বহিষ্কৃত ওই দুই ছাত্রীর নাম সুমাইয়া বিনতে ইকরাম ও আনিকা তাবাসসুম। তারা দুজনই নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

সুমাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল এবং আনিকা নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সোমবার রাত ৮টার দিকে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের এক ছাত্রকে থাপ্পড় মারেন সুমাইয়া।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সুমাইয়া ও তার সহযোগী আনিকার শাস্তির দাবি জানান। পরে রাত ১১টার দিকে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষই তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দেয়।

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা: মৃত বেড়ে ৪

অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা: মৃত বেড়ে ৪

নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ বলেন, ‘অটোরিকশায় ৮ জন যাচ্ছিলেন উত্তরা ইপিজেডে। কুয়াশার কারণে বুঝতে না পারায় লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েন তারা।’

নীলফামারীতে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

নিউজবাংলাকে সৈয়দপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। সবশেষ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান মিনারা আকতার।

মৃতরা হলেন রোমানা আকতার, সায়েরা বেগম, শেফালী বেগম ও মিনারা আকতার।

সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের সোনারা ইউনিয়নের দারোয়ানীতে একটি অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে বুধবার সকাল ৭টার দিকে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন। অটোরিকশায় ৮ জন যাত্রী ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আমির আলী বলেন, ‘সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের দারোয়ানীতে খোলা একটি রেলগেট আছে। একটি অটোরিকশায় করে শ্রমিকরা সবাই কাজে যাচ্ছিলেন। লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।’

এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন মিনারা আকতার, নাসরিন আক্তার, কুলসুমা, অহিদুল ইসলাম ও রওশন আরা।

আহত পাঁচজনের তিনজনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যালে এবং দুজনকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মিনারা আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যালে নেয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।

বর্তমানে রংপুর মেডিক্যালে তিনজন ও নীলফামারী হাসপাতালে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিউজবাংলাকে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ বলেন, ‘অটোরিকশায় ৮ জন যাচ্ছিলেন উত্তরা ইপিজেডে। কুয়াশার কারণে বুঝতে না পারায় লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েন তারা।’

দেড় মাস আগেও নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ভাই-বোনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ৮ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের বৌবাজার মনসাপাড়ায় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

শেয়ার করুন