ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

player
ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজয়ে ‘চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই’ বলে মনে করছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বেশির ভাগ জায়গায় নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেন। অন্যান্য দল কৌশল নিয়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টির লোকজনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে।’

আওয়ামী লীগ একটি বড় দল মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউপি নির্বাচনে তৃতীয় দফায় ভোট হয় গত রোববার। সারা দেশে যেসব ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা মার্কা নিয়ে লড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করা প্রার্থীরা।

এর আগের দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা ডুবিয়েছেন কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরেও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি।

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক বিচারে কম ভালো করেছেন।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চাচার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো মুরাদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রায় ৪০ দিন পর প্রকাশ্যে দেখা গেল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানকে।

চাচার জানাজায় অংশ নিতে শনিবার বেলা ২টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই বিচারপতি মাহমুদুল হাসান তালুকদার।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুরাদ হাসান। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এই প্রথম মুরাদ হাসান তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় এলেন।

গত ১ ডিসেম্বর এক ফেসবুক লাইভে মুরাদ হাসান খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশোভন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এমন পরিস্থিতিতে মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুরাদের পদত্যাগের পর তার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মুরাদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এ ছাড়া তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিব্রত ছিলেন। তাকে নির্বাচনি এলাকায় ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণাও দেন দলের কিছু নেতা-কর্মী।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেদিন সংবাদকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যান মুরাদ।

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি


এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। এর ৪০ দিন পর শনিবার তাকে নিজ সংসদীয় এলাকায় দেখা গেছে।

চাচার জানাজা শেষে মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি। এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই মাটি পবিত্র।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

আ.লীগকে সমর্থন করে লাভ কী, প্রশ্ন চুন্নুর

আ.লীগকে সমর্থন করে লাভ কী, প্রশ্ন চুন্নুর

মুন্সিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে শনিবার জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আশা করে তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কী লাভ হয়েছে দেশের? কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির?’

আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে জাতীয় পার্টির কী লাভ হয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেছেন, ‘অনেক আশা করে তিন-তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিলেন, কিন্তু কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির।’

মুন্সিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে শনিবার জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় তিনি এমন প্রশ্ন রাখেন।

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার কথা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

চুন্নু জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দেবেন তারা। সেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ দ্রুত শুরু করবেন।

আগামীতে জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে কি না প্রশ্নে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন জোট হয়। আমাদের দেশেও হয়, হয়েছে। নির্বাচনকালীন জোট এক কথা, ক্ষমতায় যাওয়া আরেক কথা।

‘নির্বাচনকালীন জোট হবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। আমরা এখন জোটের কোনো চিন্তা করছি না। যদি জোট হয়, তবে সেটা জি এম কাদেরের নেতৃত্বে হতে পারে। অন্য কারও নেতৃত্বে জোট হবে, সেই চিন্তা আমাদের মাথায় নেই।’

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জে এসেছি নেতা-কর্মীদের কথা শুনতে, তাদের মতামত নিয়েই জেলা কমিটি করতে দলের চেয়ারম্যানকে সুপারিশ করব।

‘দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আশা করে তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কী লাভ হয়েছে দেশের? কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির?’

পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘লাভ হয়েছে তাদের, যারা কানাডায় বেগমপাড়া বানিয়েছেন, যারা লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ সামান্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তারা বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে চায়, লাঙ্গলের প্রার্থীকে তারা মাঠে দেখতে চায় না। এর জবাব একদিন আওয়ামী লীগকে দিতেই হবে।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে চুন্নু বলেন, ‘সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমতায় যেতে চাইলে জনগণের পাশে থাকতে হবে, তাদের পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও মীর আবদুস সবুর আসুদ।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

শপথ নিলেন সংসদ সদস্য শুভ

শপথ নিলেন সংসদ সদস্য শুভ

জাতীয় সংসদ ভবনে শনিবার বিকেলে খান আহমেদ শুভকে শপথবাক্য পড়ান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ৮৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহিরকে পরাজিত করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৭ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ।

জাতীয় সংসদ ভবনে শপথকক্ষে শনিবার বিকেলে শপথ নেন তিনি।

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পড়ান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব তন্দ্রা শিকদারের সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শপথ শেষে রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে সই করেন খান আহমেদ শুভ।

১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ৮৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহিরকে পরাজিত করেন।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা যান। এর পরই নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

সরকারের ওপর ক্ষোভ কমানোর উপায় জানালেন গয়েশ্বর

সরকারের ওপর ক্ষোভ কমানোর উপায় জানালেন গয়েশ্বর

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এতে দেশের মানুষের আপনাদের ওপর যত ক্ষোভ আছে, আপনাদের যতটা ঘৃণা করে, তা কমে যেতে পারে।’

পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর জনগণের ক্ষোভ কমবে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এতে দেশের মানুষের আপনাদের ওপর যত ক্ষোভ আছে, আপনাদের যতটা ঘৃণা করে, তা কমে যেতে পারে।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘অনেক দিন ধরে উপলব্ধি করেছি, ঘরে বসে সমস্যার সমাধান হবে না। তবে পরিস্থিতি ভেদে রাজপথের পাশাপাশি ঘরকে অবহেলা করারও সুযোগ কম।’

করোনাভাইরাসকে সরকার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে সরকারের বিধিনিষেধ দীর্ঘকাল মানতে আমরা বাধ্য নয়। সময়ই আমাদের বলে দেবে কখন কী করতে হবে।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কর্মসূচি হয়েছে। বিএনপির শক্তি সরকার পরিমাপ করতে পেরেছে। এ কারণেই সরকার করোনা নামক বিধিনিষেধের অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জরিপেও ৮৮ শতাংশ মানুষ বলছে, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিদেশিরা কাকে অপছন্দ করছে বা করছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু যাদের নাম তালিকায় ছিল না তারাও ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরত আসছেন। আবার বিদেশিরা যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের সরকার পুরস্কারও দিচ্ছে। এসব করে সরকার বিশ্ব বিবেককে চ্যালেঞ্জ করছে।’

তিনি বলেন, 'সুনির্দিষ্টভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সরকার যদি তাদের বিচারের আওতায় আনত, তাহলে বিশ্ববাসীর রুষ্টতা কিছুটা কমত। কিন্তু তারা চ্যালেঞ্জ করেছে। আসলে এদের বুদ্ধি কম বলে মনে হচ্ছে।'

সরকারের মন্ত্রী-এমপি নানা দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘হয়তো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে যাওয়ার পর্বটা শেষ হবে। তবে কারাগার ফাঁকা থাকবে না। দুর্নীতি, সন্ত্রাসসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীনদের কারাগারে যেতে হবে। দ্বিগুণ বড় করতে হবে কারাগার।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এই সরকারের জাতীয় সংসদে যারা আছেন, তাদের দেশের মানুষ ভোটচোর বলে। চোর কখনও সাহসী হয় না। চোরদের যারা সাহসী ভাবে তারা কাপুরুষ। আশা করি আমরা কাপুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হব না। জিয়াউর রহমান সম্মুখভাগে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, তেমনি সব বাধা মোকাবিলা করে জনগণের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

সংগঠনের সভাপতি মিয়া মোহা. আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জামানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

আ.লীগের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সম্ভব নয়: মোশাররফ

আ.লীগের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সম্ভব নয়: মোশাররফ

জেডআরএফের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচনে বিএনপি নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করছে, তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক শুরু করতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনও কোনো নির্বাচনে যাবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেছেন, দেশের চলমান সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর বিকল্প নেই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেডআরএফ।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করছে, তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক শুরু করতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনও কোনো নির্বাচনে যাবে না।

‘কেননা আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন সরকারের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং এসব সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের কোনো বিকল্প নেই।’

দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মোশাররফ হোসেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সে রাতের প্রথম প্রহরে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বিএনপি শুরু থেকেই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করে আসছিল। তবে ২০০৯ সালের ২১ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে বলে, স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আদালত রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করে। খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট।

তার পরও বিএনপি নেতা মোশাররফ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে বলেন, ‘শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সব সেক্টরে অবদান রেখেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার জন্মবার্ষিকীতে জেডআরএফের আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।’

এ সময় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘আমি বলব দেশের জন্য বিশেষ দুটি দিন। একটি ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে অনেকেই জিয়াউর রহমানকে হিংসা করেন। তার নাম মুছে ফেলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই তারা করছে না।

‘যারা জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করেন না, তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না। অন্যরা তো তখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ ইচ্ছা করলে ইতিহাস মুছে দিতে পারে না।’

এ ছাড়া তিনি ৭ নভেম্বরকে আরেকটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দাবি করেন। বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংস করেছিল। কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করেছিল। রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ হত্যা করে প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। তখন ক্যু আর পাল্টা ক্যু হচ্ছিল। তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব যে সংঘটিত হলো, সেটা হলো ইতিহাসের আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সে সময় জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাট চলছিল।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে, আর বিএনপি তা বারবার পুনরুদ্ধার করেছে। এগুলো ইতিহাস। চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না।’

মোশাররফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে বিশ্বাস করে না। কেননা অতীতে জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়েছে। যে কারণে তারা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন, ২৯ ডিসেম্বর রাতেই করেছে। এখন চারদিক থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ওয়ার্নিং দিচ্ছে। র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাতিসংঘ আমলে নিয়েছে।’

জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মাহবুব আলমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, জেডআরএফের অধ্যাপক. আবুল হাসনাত মো. শামীম, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, কৃষিবিদ ড. আকিকুল ইসলাম আকিক, ডা. মেহেদী হাসান, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, প্রকৌশলী সুমায়েল মো. মল্লিক, অ্যামট্যাবের বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লবসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছিল খুবই ষড়যন্ত্রমূলক: আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছিল খুবই ষড়যন্ত্রমূলক: আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আইভী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।’

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন খুবই ষড়যন্ত্রমূলক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বলেছেন, চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে তাকে।

শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা শীর্ষক’ এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন আইভী। জানান, ষড়যন্ত্রে পড়লেও জনগণের আস্থা আর ভালোবাসার কারণে সেখান থেকে বের হতে পেরেছেন তিনি।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ভোটে নৌকা প্রতীকে আইভী ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোটে মেয়র হিসেবে টানা তৃতীয়বার জয় পান।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২টি কেন্দ্রে আইভীর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি মার্কার তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

আইভী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গটি ইঙ্গিত করে আইভী জানান, তার কোনো বাহিনী নেই। অনেক বাধা এসেছে, এমনকি তাকে হত্যার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। এরপরও কখনই বাহিনী তৈরি করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার আস্থা আমার জনগণ। আমার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। তাই সারাক্ষণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি। আমি কখনও কারো কাছ থেকে বেনিফিট নেইনি।’

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এই ভোটে আপত্তি জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী তৈমূর আলম।

ইভিএমে ভোট কম পড়েছে বলে জানালেন আইভী। তিনি বলেন, ‘ইভিএমের কারণে ভোট কমেছে, এটা সত্য। এমন না যে ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। আমার অসংখ্য ভোটার ফেরত গেছে।’

দেশে সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র বলেন, ‘আমি এবার একটি বিষয় দেখলাম, নারী ভোটারদের তিন-চার তলায় নেয়া হয়েছে। কী কারণে নেয়া হলো, আমি জানি না। অনেক ভোটকেন্দ্রে বুথ কমিয়ে দেয়া হয়েছে রহস্যজনকভাবে। কেন করা হলো আমি জানি না। আরও কিছু কারণ আছে, যা আমি এখানে বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না।’

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে ইন্টারনাল কিছু সমস্যা আছে- এটা সবার জানা। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই নির্বাচন করতে হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইভী। তিনি বলেন, ‘আসলে সিটি করপোরেশন চালানো কঠিন। রাজউক আমার নাকের ডগায় অনেক কিছু করছে। দূষণ রোধে আমার কোনো কাজ নেই। শিশুবান্ধব খেলার মাঠ করতে দিচ্ছে না আমাকে। মিডিয়াতে আমাকে ভূমিদস্যু বানানো হয়েছে।

‘অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরাতে দিচ্ছে না। রেল মন্ত্রণালয়, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কাজ করছে আমাকে না জানিয়েই। এসব হচ্ছে সমন্বয় না থাকার ফলে। আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিটিং ডাকলে কমিটির সদস্যরা আসে না। ফলে এই কমিটি নামসর্বস্ব কমিটিতে পরিণত হয়েছে। সিটি গভর্ন্যান্স না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার কখনও শক্তিশালী হবে না।’

নিজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অপপ্রচারও হচ্ছে জানিয়ে আইভী বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।’

সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত ও রাশেদ খান মেনন।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের অবস্থা এখন ‘কিছুটা’ ভালো বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মাহবুব শফিক।

শফিক আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাবা ডা. বরেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধায়নে আছেন। মাঝে কেবিনে নেয়া হয়েছিল। পরে আবার তার পরামর্শে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তবে বাবা অনেকটা ভালো আছেন। যদিও উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে গত মঙ্গলবার চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তার কিছু সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়। পরে আবার আইসিইউতে নেয়া হয় তাকে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে আইনমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি বড় ভাই, ছোট ভাই স্বতন্ত্র
জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
ধানক্ষেতে সিল মারা ব্যালট, রেজাল্টশিট

শেয়ার করুন