খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল

player
খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের বাধা পেয়ে সেখানেই সমাবেশ করে বিএনপি মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে এই অবৈধ সরকার। আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে তারা স্তব্ধ করে দিতে চায়। তারা তাকে কথা বলতে দিতে চায় না।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। সরকার খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে স্তব্ধ করে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মহিলা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল বের করে মহিলা দল। মিছিল নিয়ে তারা প্রেস ক্লাব অভিমুখে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে পুলিশি বাধায় সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। আজকে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। কেন সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। কিন্তু আইনের মধ্যেই বলা আছে, সরকার চাইলেই তাকে এই মুহূর্তে বিদেশে পাঠাতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে এই অবৈধ সরকার। আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে তারা স্তব্ধ করে দিতে চায়। তারা তাকে কথা বলতে দিতে চায় না।’

মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এখানে বক্তব্য দিলে হবে না। সারা দেশে ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সব মানুষকে একত্রিত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ দেশের যে স্বাধীনতাগুলো আমরা অর্জন করেছিলাম ১৯৭১ সালে, আজকে সে স্বাধীনতাগুলো আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। শুধু তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। ১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, আমাদের মা-বোনেরা যেভাবে সংগ্রাম করেছেন, আজকে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে, তেমনই সংগ্রাম করতে হবে।’

এ সময় মহিলা দলের মিছিলে পুলিশি বাধার প্রতিবাদও জানান ফখরুল।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নিলুফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খানসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারায়ণগঞ্জের সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশংসায় বিদেশিরা: তাজুল

নারায়ণগঞ্জের সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশংসায় বিদেশিরা: তাজুল

সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। ছবি: পিআইডি

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিপ্লোম্যাটদের কাছে এ ম্যাসেজটা গেছে যে, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে ইভিএমে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে অন্য ম্যানুয়াল প্রসেসে যে ভোটগুলো হয়, সেগুলো নিয়ে কিছু কিছু বিতর্ক আছে। ইভিএমে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে, এটা তারা শেয়ার করেছে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে ভারতীয় হাইকমিশনারসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা প্রসংশা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

সচিবালয়ে সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়ালি ভোটে জালিয়াতির সুযোগ থাকলেও ইভিএমে ভোট জালিয়াতির সুযোগ নেই। কারিগরি জটিলতা এবং দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন সম্ভব।

‘নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ভোট গোটা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। মিডিয়া সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে যে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়ার পরও বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে। অনেক জায়গায় দূরের গল্প আমরা শুনি, কিন্তু যে নির্বাচনটা হলো সেটার ফলাফল গোটা জাতির কাছে ও আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যক্ষ করেছে, কাল রাষ্ট্রদূতরাও এ কথাটি বলেছেন। আলোচনার অংশ হিসাবে এ বিষয়টা এসেছে যে, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিপ্লোম্যাটদের কাছে এ ম্যাসেজটা গেছে যে, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে ইভিএমে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে অন্য ম্যানুয়াল প্রসেসে যে ভোটগুলো হয়, সেগুলো নিয়ে কিছু কিছু বিতর্ক আছে।

‘ইভিএমে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে, এটা তারা শেয়ার করেছে।’

ভোটে কারচুপি হয়েছে বলে পরাজিত প্রার্থী তৈমূর খন্দকারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরাজিত হলে প্রার্থীরা এমনটা বলে। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। কোনো মেশিনে ত্রুটি থাকে না, কোনো মানুষ অসুস্থ হয় না, এ কথাটা পৃথিবীতে কেউ বলতে পারবে না।

‘আপনি অসুস্থ হবেন না, জীবনে অসুস্থ হননি, আর কোনো মেশিন খারাপ হয়নি বলতে পারবেন না। তবে কতটুকু খারাপ ছিল হয়তো ভোট দিতে গিয়ে এটা দেখা গেলো আমি দেয়ার পর আরেকজন দিতে গিয়ে কোনো রকম সেটিংস চেঞ্জ হয়ে গেছে। তাৎক্ষণিক সেটি আবার ঠিক করে দিতে হয়েছে। এটা আমি শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘যে কোনো নতুন পদ্ধতি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়। এখন সে জন্য ইচ্ছা করলেই সরকার দেশে একসাথে ইভিএম আরম্ভ করতে পারবে না। এটা অ্যাডাপটেশনের জন্য সময় লাগে। যিনি টেকনোলজি অপারেট করবেন এবং যিনি ইউজ করবেন, সেখানে ইউজারের সমস্যা থাকতে পারে।

‘যারা অপরারেট করছেন তাদেরও টেকনিক্যাল যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ আছে, সেসব জেনে পারফেকশনে আসবে। এগুলো খুব বেশি আলোচনার বিষয় না। পৃথিবীর সব দেশেই এ সমস্যা আছে। আমেরিকায় ইলেকশন, ভারতের ইলেকশনেও কিছু কিছু যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সারা বাংলাদেশে ইভিএম দিয়ে নির্বাচন করা খুব বেশি তাড়াহুড়া হয়ে যাবে। আস্তে আস্তে আমাদের অরিয়েন্টেড হতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন ইভিএমে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি নিয়ে সমালোচনার জায়গা আছে, প্রতিপক্ষ প্রার্থী বলেছেন এখানে মেশিন টেম্পারিং হয়েছে বা কারচুপি হয়েছে। এমন সমালোচনার অভাব নেই। ওখানে সমালোচনার সুযোগ বেশি।

‘ম্যানুয়ালি হলে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে। আর ইভিএমে হলে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। এজন্য এখানে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবে ইভিএমে সারা পৃথিবী শিফট করছে, কারণ ফেইক ভোট যাতে না পড়ে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে। কোথাও কোথাও নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে গিয়ে বিবাদের ঘটনা ঘটে, এতে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের কাম্য না। প্রতিবেশী দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেসব দেশে এসব হানাহানি আরও বেশি, দৃষ্টান্ত আছে।’

বিনা ভোটের নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিনা ভোটে না, এটা হলো আনকন্টেস্টেড। শব্দটা পরিবর্তন করা দরকার। এখানে বিনা ভোটে হয়নি। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। এটা হওয়ার ক্ষেত্রে ডেমেক্রেসিতে নতুন কিছু না।

‘বাংলাদেশেই এ ঘটনা ঘটেছে সেটা ঠিক না। আমার এলাকায়ও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ১৪, বিএনপির ৯ কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ১৪, বিএনপির ৯ কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে রোববার। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রোববার দিনভর ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। রাতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জয়ী ২৭ জন সাধারণ ও ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪ প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন না দিলেও সিটি করপোরেশনটির ৯ ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা-সমর্থকরা।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) দুজন, বাসদের একজন ও স্বতন্ত্র একজন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষেরই তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিপুল ব্যবধানে। বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আইভীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ১১ এবং বিএনপির ১২ জন প্রার্থী সিটি করপোরেশনটিতে কাউন্সিলর পদে জয় পেয়েছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ জনই নতুন মুখ।

জয়ীদের তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজা।

রোববার দিনভর ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। রাতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জয়ী ২৭ জন সাধারণ ও ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের নয়টি পদের মধ্যে আটটিতেই বর্তমান কাউন্সিলররা জয়ী হয়েছেন। একটিতে এসেছে নতুন মুখ।

যারা কাউন্সিলর হয়েছেন

নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনোয়ার হোসেন, ২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, ৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের শাহজালাল বাদল নির্বাচিত হয়েছেন। শাহজালাল বাদল বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন নূর হোসেনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা নূর উদ্দিন। তিনি এবার ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর হিসেবে নতুন মুখ।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক সাংসদ জি এম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল ও ৬ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের মতিউর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের রুহুল আমিন মোল্লা, ৯ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ইস্রাফিল প্রধান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের ইফতেখার আলম, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থক অহিদুল ইসলাম, ১২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা শওকত হাসেম, ১৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নির্বাচিত হয়েছেন। খোরশেদ নির্বাচনে পরাজিত তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই।

১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান, ১৫ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বাসদ নেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের রিয়াদ হাসান বিজয়ী হয়েছেন।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের মো. আবদুল করিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিকলীগ নেতা কামরুল হাসান, ১৯ নম্বরে জাপার মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির মোহাম্মদ শাহেনশাহ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র শাহিন মিয়া, ২২ নম্বরে বিএনপির সুলতান আহমেদ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাউসার বিজয়ী হয়েছেন। আবুল কাউসার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালামের ছেলে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর জাপার আফজাল হোসেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির এনায়েত হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মো. সামসুজ্জোহা, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সিরাজুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জয়ী যারা

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাকসুদা মোজাফফর, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ারা বেগম, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোসাম্মৎ আয়শা আক্তার জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মিনোয়ারা বেগম, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে শারমীন হাবিব, ১৬, ১৬ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আফসানা আফরোজ, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শিউলি নওশাদ, ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাওন অংকন এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সানিয়া আক্তার বিজয়ী হয়েছেন।

এবার সানিয়া আক্তার নারী কাউন্সিলর হিসেবে সেখানে নতুন মুখ।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

ভোটযুদ্ধ শেষে আগের রূপে নারায়ণগঞ্জ

ভোটযুদ্ধ শেষে আগের রূপে নারায়ণগঞ্জ

ভোটের পর দিনই নারায়ণগঞ্জের অলিগলিতে ফিরেছে চিরচেনা রূপ। কোথাও নেই নির্বাচনের রেশ। ছবিটি নগরীর চাষাঢ়া এলাকা থেকে তোলা। নিউজবাংলা

রিকশাচালক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি এই শহরের ’১১ ও ’১৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিছি, কিন্তু এবারের ভোটের মতো ভালো লাগে নাই। দেখেন না, ভোটের এক দিন পরই আগের নারায়ণগঞ্জ হইয়া গেছে।’

শেষ হলো উত্তেজনাপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। টানা ১৯ দিনের নির্বাচনি উত্তেজনা শেষে আবার চিরচেনা রূপে ফিরেছে ঢাকার নিকটতম এই বন্দরনগরী। নির্বাচনি উত্তেজনা থেকে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য খ্যাত শহরটি।

ভোটযুদ্ধে আগের দুই বারের মতো এবারও আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ১৯২টি কেন্দ্রে আইভীর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

নারায়ণগঞ্জের এবারের নির্বাচনকে পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু বলে উল্লেখ করেছেন সবাই। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বিদায়লগ্নে এমন একটি ভোটের পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মাহবুব তালুকদার। তার দৃষ্টিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের পর এটি ‘সর্বোত্তম’।

প্রচারণা ও ভোটের দিন নারায়ণগঞ্জে ঘটেনি কোনো সহিংসতা। ভোটের পরের দিন নগরীর পরিবেশ যেন আরও শান্ত। নির্বাচন-ভোট নিয়ে কোনো হাঁকডাক নেই, যে যার কর্ম নিয়ে ব্যস্ত।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিশ্বাস করে। নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের প্রচারণায় পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে মিছিল-স্লোগানে উল্লাস ছিল। গতকাল নির্বাচন হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জও আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে।’

তার মতে, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দাদের সুষ্ঠু মানসিকতা ও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারায় পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলেছে। যারা বাইরে থেকে এসে চাকরি করেন, তারা তাদের কাজে যোগদান করেছেন।

ভোটযুদ্ধ শেষে আগের রূপে নারায়ণগঞ্জ

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী নজরুল মিয়া বলেন, ‘প্রথমে ভাবছিলাম ভোটের দিন জামেলা অইব, কিন্তু আমি এর আগে কখনও এত সুন্দর একটি ভোট দেখিনি। অনেক ভালোভাবে ভোট হইছে, কোনো সমস্যা হয় নাই। সকাল থেকে দোকান খুলছি।’

সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মেহরুন নেছা। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে রেলযোগে নারায়ণগঞ্জে নেমে দেখি পরিবেশটা ঠিক আগের মতোই। সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এক দিনের মধ্যে ঠিক আগের সেই নারায়ণগঞ্জ দেখতে পেলাম। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে, এ কারণেই পরিবেশটা ভালো আছে।’

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশাচালক ইউসুফ আলী বলেন, ‘ভোট শেষ হইয়া গেছে। তাই সকাল থ্যাইকা গাড়ি নিয়া বের হইছি। শহরে এখনও পোস্টার, ফেস্টুন আছে, কিন্তু পরিবেশটা আগের মতো।

‘আমি এই শহরের '১১ ও '১৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিছি, কিন্তু এবারের ভোটের মতো ভালো লাগে নাই। দেখেন না, ভোটের এক দিন পরই আগের নারায়ণগঞ্জ হইয়া গেছে।’

ভোটযুদ্ধ শেষে আগের রূপে নারায়ণগঞ্জ

পোশাক কারখানার শ্রমিক রোকসানা বলেন, ‘গার্মেন্টসে কাজে যাইতাছি ভাই। ভোটের জন্য গতকাল কারখানা বন্ধ ছিল, আজকে থেকে সব কিছু আগের মতো হয়ে গেসে। গত কিছুদিন ঘুম ভাঙত মিছিল আর নির্বাচনের গান শুইন্না। ভোট শেষ, আজ সকালে আগের মতো ঘুম ভাঙছে।’

সারা দেশে ইউপি নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা হলেও নারায়ণগঞ্জে ছিল শান্তির পরিবেশ। প্রার্থী যে যার মতো তাদের পরাজয় মেনে নিয়েছেন। এতে স্বস্তি পাচ্ছেন ভোটার ও নাগরিকরা। এরপরও কিছু কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তির ভোট শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাই নারায়ণগঞ্জ এখন শান্তি বইছে।’

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয় পাওয়া মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ছবি: সংগৃহীত

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার পরাজিত হলেও কাউন্সিলর পদে বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

খোরশেদ কাউন্সিলর নামেই এলাকায় এমনকি দেশেও সমধিক পরিচিতি পান মাকসুদুল আলম।

মূলত করোনাভাইরাস মহামারির সময় নারায়ণগঞ্জে ভাইরাসটিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন-সৎকারে একটি দল গড়ে তোলেন খোরশেদ।

তার নেতৃত্বে দলটি করোনায় মৃতদের দাফন-সৎকার করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেন। তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই।

রোববারের নির্বাচনে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে ১২ হাজার ৭৭০ ভোট বেশি পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। তার ভোটসংখ্যা ১৩ হাজার ৭৯২।

খোরশেদ এর আগেও দুইবার একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহর সঙ্গে। ফয়েজ উল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ২২ ভোট।

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তৈমূর ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার তিনি নির্বাচন শেষে ছোটোখাটো অভিযোগ দিলেও পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

ঝিকরগাছায় ২১ বছর পর ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। ছবি: নিউজবাংলা

যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

২১ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন হলেও মেয়র পদে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

উচ্চ আদালতের রায়ে একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছে আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ কম্পিউটার প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১২ ভোট। ফলাফলে মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ১২০১ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্থগিত খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্রে মোট ভোট এক হাজার ৪৫৯টি।

যশোর জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, স্থগিত কেন্দ্রসহ ১৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়র আনোয়ার পাশার মোট ভোট ৭ হাজার ৩৭৫। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৬ ভোট। কিন্তু ফলাফল প্রস্তুত করার মুহূর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটগ্রহণের তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র পরিবর্তন করে খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে।

কেন্দ্রটি কাউন্সিলর প্রার্থী একরামুল হক খোকনের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান। তাই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ করায় উচ্চ আদালতে রিট করায় ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এর আগে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘসময় পর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেন।

কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিপুলসংখ্যক বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঝিকরগাছার নির্বাচনি ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

নির্বাচন ঘিরে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নে মাঠে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নামে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষের চিত্র ছিল দেশের অন্যান্য জেলার মতোই। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়নি এমন ইউপিগুলোতে ছিল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কয়েকটি জেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখায় সংঘাত-সংঘর্ষ কম হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি এমন অনেক জেলায়ও নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। তৃণমূলে দলের নামে সংঘাতে কয়েকটি ইউনিয়নে প্রাণহানিও ঘটেছে। হামলা-মামলার মুখে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের সার্বিক বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তৃণমূলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চান না অধিকাংশ দলীয় নেতা-কর্মীই। তবে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিলে দল শক্তিশালী হবে- এমন দাবিও রয়েছে।

মাদারীপুরের তিনটি আসনেই দুই যুগের বেশি সময় ধরে একক আধিপত্য আওয়ামী লীগের। তারপরও এবার স্থানীয় নির্বাচনে সদর, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এর বাইরে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১২ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৯টি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা।

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, প্রথম দফা ইউপি নির্বাচনে শিবচর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে কাউকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। সেখানে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন হয়। উন্মুক্ত প্রার্থিতা থাকায় আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে বিশ্বাসীরাই মূলত এসব ইউনিয়নে জয়ী হন। আর নৌকা প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে তেমন সংঘাত-সংঘর্ষও ঘটেনি।

দ্বিতীয় ধাপে কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়। ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে’ অযোগ্য লোককে নৌকার মাঝি করায় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কালকিনির চর দৌলতখান (সিডিখান) ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. চান মিয়া সিকদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ভুরঘাটা-মোল্লারহাট সড়কের বটতলা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টির ঘটনাও ঘটে।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষে মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় শিকারমঙ্গল, সিডিখান, আলীনগর, ডাসার, কয়ারিয়াসহ প্রায় সব কটি ইউনিয়নে। গত ২৮ অক্টোবর আলীনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সর্দারের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ১০টি মোটরবাইক, একটি প্রাইভেট কারসহ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে।

তবে সাহিদ পারভেজের দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনই বরং নৌকা প্রতীক ভেঙেছেন। এর আগে শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল হক মৃধার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল আলম মালের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুরসহ অন্তত ২০ জনকে আহত করেন।

ডাসার উপজেলায় গত ২ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ কাজী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম ভাসাই শিকদার ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর চার সমর্থকসহ এক নারী সাংবাদিক আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

৬ নভেম্বর কালকিনির কয়ারিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন জমাদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাসান নুর মোহাম্মদ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণসহ ৫০ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ১২ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

এ ছাড়া ১০ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে সিডিখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী চান মিয়া শিকদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন মিয়ার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আটজন। তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেন প্যাদা নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় মামলা ও আটকের সংখ্যাও কম না। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া একই উপজেলার কয়ারিয়া, শিকারমঙ্গল, লক্ষ্মীপুর, ডাসার উপজেলার গোপালপুর, বালীগ্রাম, ডাসারসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় কালকিনি ও ডাসার থানায় ২০টির বেশি মামলা হয়।

তবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে সদর, রাজৈর, শিবচর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় তেমন সংঘাত হয়নি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়নি। পরাজয় হয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্যের। যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে নৌকা কিনে এনেছেন। এ কারণে জনগণ মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের রায় দিয়েছেন। আর মনোনয়ন উন্মুক্ত থাকা ইউপিগুলোতে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরাও সবাই আওয়ামী লীগ করেন। এসব ইউপিতে হামলা-মামলার ঘটনাও কম ঘটেছে।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে নৌকার পরাজয় হতো না। যেখানে অযোগ্য প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষের ঘটনাও বেশি ঘটেছে। আমি মনে করি দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এখানে অধিকাংশ মানুষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে মাদারীপুরের কয়েকটি উপজেলায় নৌকা প্রতীক না দেয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তাই এসব স্থানে নৌকা না দেয়ায় বিনা রক্তপাতে নির্বাচন হয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করব।’

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচনে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের পাশের জেলা শরীয়তপুরেও ৬৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচন হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হয়েছে শরীয়তপুর সদরের ৯ ইউপিতে। এ নয়টি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত হন। তবে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলা-মামলার ঘটনা বেশি ঘটে। এর মধ্যে চিতলিয়া ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। দলীয় প্রার্থীর কর্মীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয় এসব ইউনিয়ন। পরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে আ‌ওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নবিহীন নির্বাচন হয়।

শরীয়তপুর নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, তৃতীয় ধাপে গোসাইরহাট উপজেলার ৭, চতুর্থ ধাপে ডামুড্যা উপজেলার ৭ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১২ এবং পঞ্চম ধাপে নড়িয়ার ১৫ ও জাজিরার একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ছাড়া নির্বাচন শেষ হয়। এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটলেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেনি।

আওয়ামী লীগের বাতিঘর খ্যাত গোপালগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর উপজেলার ১৫টিতে উন্মুক্তভাবে নির্বাচন হয়েছে। অন্যগুলোর মধ্যে কোটালীপাড়ায় ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। বাকি ৫০টিতে দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব এলাকা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা কম ঘটেছে।

তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়নি এমন ইউনিয়নগুলোর চেয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট হওয়া ইউপিগুলোতে নির্বাচনি উত্তাপ বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন

মির্জাপুর ফের আ.লীগের দখলে

মির্জাপুর ফের আ.লীগের দখলে

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ।

ভোটে নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫৯ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৭৩ ভোট।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি প্রায় ৮৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রার্থী জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহিরকে পরাজিত করেন।

রোববার রাতে রিটার্নিং অফিসার ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।

ভোটে নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫৯ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৭৩ ভোট।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৪৫ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী ৪৩৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৬ ভোট।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই হিসাবে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। প্রথমবারের মতো উপনির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলো।

ভোট চলাকালে জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহির ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন। অপর দিকে ভোট শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী গোলাম নওজব চৌধুরী অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন। কিন্তু তাকে নির্বাচনের মাঠে তেমন দেখা যায়নি।

নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনি এলাকায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৮১০ জন পুলিশ সদস্য ও ১০টি র‌্যাবের মোবাইল টিম এবং প্রায় সাড়ে ১৮০০ আনসার সদস্যসহ পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেন।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা যান। এরপরই নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন:
খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল
ঢাকা অচলের হুমকি বিএনপির সমাবেশে
খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল
বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

শেয়ার করুন