× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In Barguna and Chuadanga 25 candidates lost their bail
google_news print-icon

বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গায় জামানত খোয়ালেন ২৫ প্রার্থী

বরগুনা-ও-চুয়াডাঙ্গায়-জামানত-খোয়ালেন-২৫-প্রার্থী
ভোট দিতে ভোটারদের লম্বর লাইন। ফাইল ছবি
পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী জাবির হোসেন জানান, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে কারনেই এ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় ২৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

এর মধ্যে পাথারঘাটা উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে জামানত হারিয়েছেন ৯ জন প্রার্থী। আর আলমডাঙ্গার ১৩টি ইউনিয়নে হারিয়েছেন ১৬ জন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

আইন অনুসারে, নির্বাচনে পোলকৃত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়া প্রার্থীদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়।

বরগুনা

পাথরঘাটা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে পরপর দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় জামানত হারিয়েছেন। একই ইউনিয়নে জামানত হারিয়েছেন পরপর দুইবার নির্বাচিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম মতিউর রহমান মোল্লা। এ ইউনিয়নের জামানত হারিয়েছেন আরও তিনজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রধান রিটার্নিং অফিসার আইয়ুব আলী হাওলাদার।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আলমগীর হোসেন ১৩ হাজার ৩ শো ৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ৬৮৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান মোল্লা।

এদিকে আসাদুজ্জামান আসাদ ৬৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান। আর হাফিজুর রহমান হাতপাখা ৪ শো ৭৮ ভোট, রাশেদুল ইসলাম ৩০ ভোট ও সুমন ২৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এদিকে নাচনাপাড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে ফরিদ মিয়া ৫ হাজার ৩ শো ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ শো ৬০ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে আতিকুর রহমান সালু। অপরদিকে সতন্ত্রপ্রার্থী জহিরুল হক ৪ শো ৯৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

রায়হান পুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে মাইনুল ইসলাম ৭৮৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৯ শো ৫৮ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে হাতপাখা মার্কার শহিদুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন। এই ইউনিয়নে আবদুল মোতালেব ২১ ভোট ও নয়ন ২১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

চরদুয়ানী ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আব্দুর রহমান জুয়েল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৮ নভেম্বর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম কাঁকন জানান, উপজেলার চার ইউনিয়নে জনপ্রিয় ব্যাক্তিরাই নির্বাচিত হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী জাবির হোসেন জানান, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে কারনেই এ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা

জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজয়াপ্ত হয়েছে।

এর মধ্যে দুই জন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, ৭ জন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও ৭ জন স্বতন্ত্রপ্রার্থী রয়েছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, বেলগাছি ইউনিয়নে মোট ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৫টি। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে সমীর কুমার দে পেয়েছেন ১০২টি ভোট ও আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮২৭ ভোট।

হাতপাখা প্রতীকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইমদাদুল হক পেয়েছেন ৬৬৪ ভাট। অটোরিকশা প্রতীকের স্বতন্তপ্রার্থী উজির আলী পেয়েছেন ৪২ ভোট। তারা সবাই কম ভোট পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।

কালিদাসপুর ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আহসান উল্লাহ পেয়েছেন ৬৮০ ভোট। খাসকররা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদশর প্রার্থী আবাস উদ্দিন পেয়েছেন ৪১৩ ভোট।

ডাউকি ইউনিয়নে আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী কাউসার আহমদ পেয়েছেন ৫৯১ ভোট। হাতপাখা প্রতীকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ৭৫ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহানুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৪ ভোট।

হারদী ইউনিয়নে ৪২৮ ভোট পেয়েছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিনুল হক। ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মাত্র ৭৪ ভোট পেয়েছেন।

বাড়াদী ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আশিকুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৫৭০ ভোট। জেহালা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ৩৯০ ভোট এবং আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট।

গাংনী ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাজিম উদ্দীন ৩১৯ ভোট পেয়েছেন। একই ইউনিয়ন আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইসলাম মামুন পেয়েছেন মাত্র ২৭ ভোট।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, বাজেয়াপ্ত জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Effect of rain and flood on Moulvibazar tourism

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব টানা বৃষ্টি ও সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবার মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ফাঁকা। ছবি: নিউজবাংলা
কমলগঞ্জ অরণ্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমনিতেই পর্যটন অনেক কম। আমাদের রিসোর্টসহ বেশিরভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার ওপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন তারা।

‘চায়ের রাজধানী’ খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ঈদের দিন থেকে টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যার কারণে গত কয়েকদিন ধরে চা বাগানসহ পর্যটন স্থানগুলো একপ্রকার ফাঁকাই রয়েছে। প্রতিবার ঈদে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড় লেগে থাকে যেসব স্থানে, সেকানে এবারের চিত্র পুরোপুরি উল্টো

টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে রয়েছে এসব দর্শনীয় স্থানগুলো। এমনিতেই এবার পর্যটক কম এসেছে। তার ওপরে সারা দিন বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা হোটেল রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারছেন না।

সোমবার (ঈদের দিন) সকাল থেকে বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা অবধি টানা বৃষ্টি হচ্ছে চায়ের রাজ্যে।

এদিকে, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে সিলেটের বন্যার প্রভাব পড়েছে। আগাম বুকিং দেয়া অনেকেই সিলেটের বন্যার সঙ্গে শ্রীমঙ্গলকে মিলিয়ে সেসব বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গলের কোথাও বন্যা নেই বলে জানিয়েছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা। তবে কমলগঞ্জে বন্যা দেখা দিলেও হোটেল-রিসোর্টে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

চারদিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের। চা বাগান ছাড়াও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, বধ্যভূমি ৭১, চা-কন্যা ভাস্কর্যসহ নানা স্থান ঘুরে দেখেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। শহর থেকে একটু দূরে লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লী, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ ও হরিণছড়া গলফ মাঠ ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন তারা।

এ ছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মা লেক, পাত্রখলা লেক, ক্যামেলীয়া লেক, বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির টানে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজ্যে। তবে এবার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এলেও এসব পর্যটন স্থানগুলোতে যেতে পারেননি বেশিরভাগ পর্যটকরা।

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন আকাশ জামান। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, একবারও থামেনি। রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারলাম না। রিসোর্টেই কাটতে হচ্ছে সময়। বৃষ্টি উপভোগ করলেও ভালো করে ঘুরতে পারিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবার নিয়ে চলে যাব। আবার ছুটি পেলে ঘুরতে আসব।’

শারমিন আনাম তান্নী নামের এক পর্যটক বলেন, ‘বুধবার সকালে সাতক্ষীরা থেকে কমলগঞ্জে এসেছি। নিজস্ব গাড়ি থাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে গাড়ি থেকেই নামতে পারিনি। গাড়ি থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখলাম। প্রায় দুই ঘণ্টার মতো গাড়ি নিয়ে ঘুরে আবার রিসোর্টের দিকে এখন যাচ্ছি। এমন বৃষ্টি জানলে আসতাম না। হোটেল দুই দিন বুকিং দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে চলে যাব।’

কমলগঞ্জ অরণ্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমনিতেই পর্যটন অনেক কম। আমাদের রিসোর্টসহ বেশিরভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার ওপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন তারা।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেস্ট হাউজের মালিক এস কে দাশ সুমন বলেন, ‌‘দিন দিন পর্যটকরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ট্যুর কোম্পানিগুলো ঈদ কিংবা অন্যান্য ছুটির সময় ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার অফার দেয়। এখন বেশিরভাগ পর্যটকই বিদেশমুখি হয়ে যাচ্ছেন।

‘এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমরা হোটেল রিসোর্ট মালিকরা খুব কম আগাম বুকিং পাচ্ছি। মুলত যারা শ্রীমঙ্গলে রাত্রিযাপন করেন, তাদের ৮০ ভাগই আগাম বুকিং দিয়ে আসেন।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটে বৃষ্টির কারণে এবার বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারণা করছেন, শ্রীমঙ্গলেও বন্যা, কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনোই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সঙ্গে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন। এখন শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজে ভরে আছে সবকিছু।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত ঈদের আগের দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী পর্যটক শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলায় ঘুরে বেড়ান। তাদের জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টকে নতুন সাজে সজ্জিত করে রাখা হয়। পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিবার। বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্ট হাউসফুল থাকে, কিন্তু এ বছর ঈদের আগের দিন থেকে আজ অবধি খুবই কম বুকিং হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পর্যটকরা এখানে এসেও ঘুরতে পারছেন না। এ কারণে এবার পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

মৌলভীবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, ‘পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পর্যটন স্পটগুলোতে আমাদের পুলিশ ছিল। পর্যটকরা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
ঈদে আগাম বুকিং কম শ্রীমঙ্গলে, বললেন রিসোর্ট মালিকরা
পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা
ঈদ উপলক্ষে চাঙা সিলেটের পর্যটন খাত
ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Water is rising in Howar and the flood situation is worsening in Sunamganj

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পানি বাড়তে শুরু করায় মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরসহ বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ ৮৮ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নদীর পানি কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

সুনামগঞ্জে নদীর পানি কমলেও হাওর অঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে। বুধবার সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার বা ১ দশমিক ৪১ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবে ভোর থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিবাগ, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, নবীনগর, কাজীর পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একতালা বা কাঁচা ঘরে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সকলের চোখেমুখে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক।

এসময় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঝাওয়ার হাওরের পাশে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের ঘরের চাল ছুঁইছুঁই পানি। পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পাহাড়ি ঢল নেমে আগে থেকেই প্লাবিত ছিল সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ উপজেলা। এরপর হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলা।

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ছাতক উপজেলার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবতী নীজগাঁও, রতনপুর, বাগানবাড়ি, নোয়াকোট, ধনীটিলা, ছনবাড়ী, দারোগাখালী সড়কসহ ৮-১০টি কাঁচা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে।

উপজেলার ইছামতি-ছনবাড়ীবাজার, শিমুলতলা-মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের বিভিন্ন নিচু অংশও পানিতে তলিয়ে গেছে।

ছাতক পৌরসভারসহ নোয়ারাই, ছাতক সদর, কালারুকা, উত্তর খুরমা, চরমহল্লা, জাউয়া, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ, দক্ষিণ খুরমা, ভাতগাঁও, দোলারবাজার ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছাতক- গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি প্লাবিত হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের তিনটি স্থানে পানি ওঠায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এসব স্থান দিয়ে সুরমা নদীর পানি দেখার হাওরে প্রবেশ করছে।

এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন প্লাবিত হচ্ছে।

অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় শাল্লায় নিম্বাঞ্চলের মানুষের বসতঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের পানি সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মধ্যনগরেও বাড়তে শুরু করেছে নদী ও হাওরের পানি। নদী ও হাওরের পানি বাড়ার কারণে উপজেলার মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরসহ বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে জেলার ৮৮ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার বা ১ দশমিক ৪১ ফুট ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার বা ৪ দশমিক ৭৬ ফুট ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও দিরাই উপজেলায় ২৯ সেন্টিমিটার বা ১১ দশমিক ৪২ ইঞ্চি ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৪ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘নদীর পানি কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Sonaimuri haze surrounds the dead body of the madrasa student

সোনাইমুড়িতে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ ঘিরে ধোঁয়াশা

সোনাইমুড়িতে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ ঘিরে ধোঁয়াশা নিহত মাদ্রাসাছাত্র মান্নান মেহেরাজ। ছবি: সংগৃহীত
নিহত শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা গেছে- সিসি টিভি ফুটেজে এমনই দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পানি থেকে তোলার সময় মরদেহের মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বস্তাবন্দি ছিল।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র খুনের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। নিহত ১৪ বছরের মান্নান মেহেরাজের মরদেহের সর্বাংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকলেও খুনি কে, তা এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে মামলা প্রত্যাহার করতে অব্যাহত হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে নাটেশ্বর ইউনিয়নের দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার পুকুর থেকে নাজেরা বিভাগের ছাত্র মেহেরাজের মরদেহ ভেসে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহের মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বস্তাবন্দি ছিল। পঁচা-গলা মরদেহটি মাদ্রাসার মোহতামিমের নির্দেশে পুকুর থেকে তুলে আনে ছাত্ররা।

এ ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্রের পরিবার গত শুক্রবার (১৪ জুন) হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে। অপরদিকে, মাদ্রাসা রোববার (১৬ জুন) এই ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে কর্তৃপক্ষ।

নিহতের বাবা মো. কামাল বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে শিক্ষক আহসান হাবিবকে আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। আগামী বুধবার (২৬ জুন) এ মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত মান্নান মেহেরাজ তার নাজেরা বিভাগের শিক্ষক আহসান হাবিবকে আরেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করার ঘটনা দেখে ফেলে। ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আব্দুল মান্নানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, মাদ্রাসার পুকুর থেকে মেহেরাজের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মোহতামিম মহিন উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে তার দাবি ছিল, এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। ছেলেটি পানিতে পড়ে মারা গেছে।

এসময় ছাত্র নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

গত শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার উত্তর মির্জানগর মন্ত্রীর মসজিদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন করে।

এসময় তারা উল্লেখ করেন, নাজেরা বিভাগের শিক্ষক আহসান হাবিব আরেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করার ঘটনা দেখে ফেলায় খুন করা হয় মান্নান মেহেরাজকে। এছাড়া গত সোমবার (১০ জুন) থেকে মেহরাজ নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি, থানা থেকে মামলা নেয়া হয়নি। আদালতে মামলা করায় তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহটি মাদ্রাসার পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছেলেটি পানিতে ডুবে মারা গেছে।

নিহতের বড়ভাই মো. হানিফ বলেন, ‘পানি থেকে উদ্ধার করার পর দেখতে পাই, মেহরাজের মরদেহের ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল ক্ষতবিক্ষত। দুই পায়ের উরুতে হাতের ছাপ ও গলায় আঙুলের ছাপ রয়েছে।

তিনি জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে পানিতে ডুবে গেছে মান্নান। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা বক্তব্য দিয়েছে, এ ঘটনার একদিন আগে থেকেই মান্নান নিখোঁজ। আর নিখোঁজের ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তা তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি।

এছাড়া, সিসি টিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে পানিতে ডুবে পরদিন বিকেলে মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ দেখতে পেয়েও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে কিংবা নিহতের পরিবারকে কিছুই জানায়নি। পরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

অন্যদিকে, পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ‘হার্ডডিস্ক মাইজদিতে রয়েছে’ জানায়। এর দুই ঘণ্টা পর মাইজদি থেকে হার্ডডিস্ক এলে সিসি টিভি ফুটেজ দেখানো হয় পুলিশকে।

এদিকে, নিহত মাদ্রাসা ছাত্র মান্নান মেহেরাজ সাঁতার জানত বলে জানিয়েছেন তার ভাই মো. হানিফ।

আরও পড়ুন:
পরিচালকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম
‘ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
ছাত্রলীগ নেতা হত্যা: মানববন্ধনে নিস্তব্ধতা, গ্রেপ্তার ১
কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10000 people are trapped in water in 20 villages of Teknaf

টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ

টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ মুষলধারে বৃষ্টিতে টেকনাফ উপজেলার প্রায় দশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
পৌরসভার বাসিন্দা আনছার উল্লাহ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব! একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে পরিবারের কেউ খাবার মুখে দিতে পারেনি।’

মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়িঘর পাহাড় ধসে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে প্রায় দশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, মধুর ছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। পাশপাশি কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

টেকনাফে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার দেয়া হবে। এছাড়া বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের অনেক জায়গায় রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এদের তালিকা করা হচ্ছে।’

পৌরসভার বাসিন্দা আনছার উল্লাহ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব! একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে পরিবারের কেউ খাবার মুখে দিতে পারেনি।’

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের বরজ, বীজতলাসহ ব্রিজ, কালভার্ট ও ২০ কিলোমিটারেরও বেশি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির কারণে আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সাহায্য করা হবে।

এসময় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhalai river embankment has eroded 40 grams at two places

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ছবি: নিউজবাংলা
পানির প্রবল চাপে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুরে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে গেছে। বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আরও দশটি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুরে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে গেছে। বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের ছয়কুট এলাকায় এবং আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি-আধাকানি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী।

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবছে কমলগঞ্জ সদর। ছবি: নিউজবাংলা

ভারতের ত্রিপুরার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রিপুরা ও আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আর বৃষ্টির সেই পানি ভাটিতে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খুয়াই নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ধলাই নদীতে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে সোমবার ২ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ১৩৬ মিলিমিটার ও বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও রহিমপুর ইউনিয়নের খুশালপুর গ্রামে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দিয়েছে। ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে নারায়ণপুর, চৈতন্যগঞ্জ, উবাহাটা, খুশালপুর ছয়কুট, আধকানী, কাঁঠালকান্দিসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ও বাড়িঘরে পানি ঢুকছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিব আহমেদ বলেন, ‘ধলাই নদীর পানি বুধবার সকাল ৯টায় ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধলাই নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।’

এদিকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধলাই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌর এলাকার তিনটি ওয়ার্ডের পানিশালা, চন্ডীপুর ও নছরতপুর এলাকায় বসতবাড়ি, ডাকবাংলো, কমলগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা বাজারে পানি প্রবেশ করেছে।

এছাড়া উপজেলার পৌর এলাকার খুশালপুর, নিম্নাঞ্চল পতনউষার, মুন্সিবাজার, আদমপুর, ইসলামপুর ও আলীনগর এলাকার পানি লাঘাটা ও খিন্নিছড়ায় উপচে পড়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশ। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের রামপাশা, শিমুলতলাসহ প্রায় ১০ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বাঁধের এসব জায়গা ভেঙে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেঙে যাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ।

ইউএনও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বাঁধে নতুন করে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ মজুদ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death toll rises to 10 in separate mountain collapse in Rohingya camp

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে মৃত বেড়ে ১০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে মৃত বেড়ে ১০ কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় ধসে চাপা পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা। ছবি: নিউজবাংলা
টানা বৃষ্টির প্রভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র সংলগ্ন পাহাড়ে পৃথক পাঁচটি ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ‌১০ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আটজন রোহিঙ্গা।

পাহাড় ও সাগরসমৃদ্ধ জেলা কক্সবাজারে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি ঝরছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।

এর মধ্যে ১, ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে একজন করে; ৯ নম্বর ক্যাম্পে তিনজন এবং ১০ নম্বর ক্যাম্পে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

১০ নম্বর ক্যাম্পে মৃতরা হলেন- ব্লক ১০ এর আবুল কালামের ছেলে আবু মেহের, লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, মতিউর রহমানের মেয়ে সলিমা খাতুন ও শরিফ হোসেনের মেয়ে জয়নব বিবি।

৯ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার আলী জহুরের ছেলে মো. হোসেন আহমেদ, ওই ক্যাম্পের আই ৪ ব্লকের আলী জোহারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম ও আই ৯ ব্লকের মো. জামালের ছেলে মো. সালমান।

৮ নম্বর ক্যাম্পে মারা যায় হারেজ নামে চার বয়সী এক শিশু।

১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যায় উখিয়ার থাইংখালী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আব্দুল করিম। ১২ বছর বয়সী শিশুটি থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

১ নম্বর ক্যাম্পে মারা যান এফ/৫ ব্লকের সুলতান আহমদের মেয়ে পুতনী বেগম।

আরআরআরসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় ১০ নম্বর ক্যাম্পের বক্ল সি ৩ তে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার রাত ৩টায় ৯ নম্বর ক্যাম্পের আই ৪-এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওখানে উদ্ধার করা হয় তিনজনের মরদেহ।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যায় আরও দুজন।

প্রায় একই সময়ে ১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যান একজন।

পাহাড় ধসের পৃথক এসব ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

আরআরআরসি জানান, মারা যাওয়া দশজনের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ৯ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার হোসেন আহমেদ নানা কারণে ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। আর ১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া আব্দুল করিমদের বাড়ি ১৪ নম্বর ক্যাম্পের পাশেই।

ইতোমধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে জানিয়ে মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদেরও সরিয়ে নেয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আর টেকনাফে মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডেরে তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

আরও পড়ুন:
সিলেটে টিলা ধস: ছয় ঘণ্টা পর ৩ মরদেহ উদ্ধার
সিলেটে টিলা ধস: চাপা পড়েছেন একই পরিবারের তিনজন
কমলগঞ্জে টিলা ধসে নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৩
টেকনাফে ঝর্ণা দেখতে গিয়ে দুজন অপহৃত
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস, বাঘাইছড়ির সঙ্গে বন্ধ সড়ক যোগাযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The water of rivers and streams is increasing in Sherpur

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি আসতে শুরু করছে। ছবি: নিউজবাংলা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেরপুর জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে শেরপুরসহ আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পার।

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে মহারশী, সোমেশ্বরী, ভোগাই, চেল্লাখালী, মৃগী ও পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বাড়তে শুরু করেছে, তবে এখনও সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি আসতে শুরু করছে।

চলমান পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শেরপুর সদর উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর কাঁচা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় কলা চাষি ও মাছ চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে জমিতে উঠতে শুরু করেছে ঢলের পানি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেরপুর জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে শেরপুরসহ আশপাশের এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পার।

আরও পড়ুন:
পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে বাঁধ, সুনামগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত
ফুলপুরে পানিতে ডুবে এক পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু
শেরপুরে ট্রাকচাপায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার নিহত 
তাড়াশে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
নকলায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুজনের মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে