অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গ্রেপ্তার

player
অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গ্রেপ্তার

র‍্যাব হেফাজতে অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রামপুরা বাজার এলাকায় সোমবার রাতে একরামুন্নেসা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাইনুদ্দিনকে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হলে এলাকার লোকজন অনাবিল পরিবহনের বাসটি আটক করে। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করলেও সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে যান।

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বাসটির সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সায়েদাবাদ এলাকা থেকে র‍্যাব-৩ তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক জানান, সোমবার রাতে রামপুরা বাজার এলাকায় একরামুন্নেসা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাইনুদ্দিনকে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হলে এলাকার লোকজন অনাবিল পরিবহনের বাসটি আটক করে।

বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করে। তবে বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, র‌্যাব-৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে অনাবিল বাসের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বীকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী দাবি করেছেন, বাসটির অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাস চাপায় একজনের মৃত্যুর বিষয় টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এরপর ঢাকার বাইরে আত্মগোপনে যেতে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে র‍্যাব তাকে ধরে ফেলে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন অনাবিল পরিবহনের হেলপার চান মিয়া। তিনিও স্বীকার করেন, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলেই স্কুলছাত্র মঈনুদ্দিন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলের নিহত হয় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন। এ ঘটনার পর আশপাশের উত্তেজিত লোকজন ধাওয়া করে বাসটির চালককে ধরে পিটুনি দেন।

ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারানোর পর পুলিশ বাসচালক সোহেল রানাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় রামপুরায় ১২টি বাসে আগুন-ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করা হয়। ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধের পর বেলা ৩টার পর সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘লও ঠেলা’ গ্যাংয়ের ৯ জন আটক

‘লও ঠেলা’ গ্যাংয়ের ৯ জন আটক

র‍্যাব হেফাজতে ‘লও ঠেলা’র ৯ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

২০১৭ সালে ‘লও ঠেলা’ নামে গ্রুপ খোলেন বাবু। আগে তিনি ছিলেন ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামে একটি কিশোর গ্রুপের সদস্য। এলাকায় দশের বাবু নামেই তিনি পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা আছে। তার গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আছে একাধিক মামলা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘লও ঠেলা’র ৯ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে কথিত ‘লও ঠেলা’ গ্রুপের প্রধান বাবু ওরফে দশের বাবু আছেন। অন্যরা হলেন- ফোরকান, পলাশ, সুমন, সাগর, রাজন, নাজিম, শাকিল ও মিলন।

তাদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, স্টিলের পাইপসহ ধারালো অস্ত্র জব্দ হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান, একদল সন্ত্রাসী গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিং এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এই গ্রুপটি এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়েও জড়িত। গত ১৬ রোববার সবশেষ ছিনতাই ও দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এসব অভিযোগের পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় ‘লও ঠেলা’ গ্রুপের সদস্যদের। তাদের মধ্যে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের আটকে অভিযান চলছে।

র‍্যাব জানায়, গ্রুপের প্রধান বাবু ওরফে দশের বাবু ২০০০ সালে মায়ের সঙ্গে নড়াইল থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি গাড়ির হেলপার, হোটেলে পরিচ্ছন্ন কর্মীর চাকরিসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। টাকার জন্য চুরি-ছিনতাই শুরু করেন তিনি।

এলাকায় প্রভাব বাড়াতে বাবু কিশোর বয়সী অনেককে দলে ভেড়ান। এরপর মোহাম্মদপুরসহ আশেপাশের এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ছাড়াও মাদক কারবার করতে থাকেন গ্রুপ সদস্যদের মাধ্যমে। এই গ্রুপের অনেকেই রিকশাচালক ও দোকান কর্মচারী। প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় তারা এলাকায় অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি মহড়া দিত।

২০১৭ সালে ‘লও ঠেলা’ নামে গ্রুপ খোলেন বাবু। আগে তিনি ছিলেন ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামে একটি কিশোর গ্রুপের সদস্য। এলাকায় দশের বাবু নামেই তিনি পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা আছে। তার গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আছে একাধিক মামলা।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

ভুয়া চীনা ডিগ্রি: ডাক্তার পরিচয় দেয়া সাত জন গ্রেপ্তার

ভুয়া চীনা ডিগ্রি: ডাক্তার পরিচয় দেয়া সাত জন গ্রেপ্তার

এমবিবিএস পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নেয়া সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। ছবি: নিউজবাংলা

দুদক সচিব জানান, তারা চীনের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাসের ভুয়া সনদ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। পরে রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, তাদের এমবিবিএস সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া।

এমবিবিএস পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নেয়া সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের উপপরিচালক সেলিনা আখতার মনির নেতৃত্বে একটি টিম তাদের রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব মাহবুব হোসেন।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন, কুমিল্লার ইমান আলী ও মাসুদ পারভেজ, সাতক্ষীরার সুদেব সেন, টাঙ্গাইলের তন্ময় আহমেদ, চাঁদপুরের মোক্তার হোসাইন, গাজীপুরের মো. কাউসার ও নারায়ণগঞ্জের রহমত আলী।

ভোলার মাহমুদুল হাসান, ঢাকার আসাদ উল্লাহ, বাগেরহাটের শেখ আতিয়ার রহমান, ফেনীর সাইফুল ইসলাম ও সিরাজগঞ্জের আসলাম হোসেনকেও ভুয়া সনদধারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদের সহযোগিতার দায়ে আসামি হয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার জাহিদুল হক বসুনিয়া ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান।

দুদক সচিব জানান, তারা চীনের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাসের ভুয়া সনদ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন।

এই ১২ ভুয়া চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক। তারও আগে এসব সনদ যাচাই-বাছাই করতে চীনে পাঠায় দুদক।

দুদক সচিব বলেন, ‘অভিযুক্তদের মধ্যে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাহমুদুল হক নামে একজন ভুয়া চিকিৎসক হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইতে গেলে তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

‘রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা যায় তাদের এমবিবিএস সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া। ১২ জন এমবিবিএস ডিগ্রিধারীর সনদ ভুয়া। এমবিবিএস সনদধারী ওই ব্যক্তিরা কখনও চীনের তাইশান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেননি।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, এমবিবিএস সনদের সত্যতা যাচাই করার জন্য সনদপত্রগুলোর অনুলিপি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। চীনের ওই ইউনিভিার্সিটি জানায় তাদের কাছে এই ছাত্রদের কোনো রেকর্ড নেই।

চিকিৎসায় ডিগ্রি না নিয়েও যারা ডাক্তারি সনদ ব্যবহার করছেন অথবা নামে-বেনামে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদের উপরও দুদকের নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব।

তিনি বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

সাংবাদিক হাবীবকে সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত বিদায়

সাংবাদিক হাবীবকে সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত বিদায়

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে হাবীব রহমানের জানাজায় অংশ নেন তার সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় হাবীবের মরদেহ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহকর্মীরা।

সময়ের আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবীব রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে হাবীবের সাংবাদিক সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। তাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানান তারা।

হাবীব মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় হাবীবের মরদেহ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহকর্মীরা।

জানাজা শুরুর আগে ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘হাবীব কতটা জনপ্রিয়, বিনয়ী, প্রফেশনাল তা আজকে তার জানাজায় উপস্থিতি বলে দেয়। আমরা সবাই শোকাহত। এই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। তার মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’

হাবীবের জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ডিআরইউ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ডিআরইউ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, এরপর তার সর্বশেষ কর্মস্থল সময়ের আলো অফিসে জানাজা শেষে হাবীবকে কুমিল্লায় দাফন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হাবীব রহমানের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম মোহাম্মদ পিয়ার মিয়া। পরিবারসহ হাবীব হাতিরঝিল এলাকায় বসবাস করতেন। তার একটি ছেলে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক কর্মকর্তার মামলা

পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক কর্মকর্তার মামলা

মারধর, মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এস এম সাকিব হোসেন। ফাইল ছবি

মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেন। মামলার বিষয়টি সাকিব হোসেন নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে জানান যে ‘আমি একজন কর্মকর্তা অথচ আমার সঙ্গেই এমনটি হয়েছে।’

অন্যায়ভাবে আটকে রেখে মারধর, মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক রুবেল মল্লিকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেন।

অপর আসামি হলেন- ভুয়া ডিবি পুলিশ খসরু রোমান।

ঢাকার মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলামের আদালতে মঙ্গলবার মামলাটি করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে।

বুধবার আদালত সূত্রে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ছাড়া বিষয়টি সাকিব হোসেন নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে জানান যে আমি একজন কর্মকর্তা অথচ আমার সঙ্গেই এমনটি হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছর ১৮ জানুয়ারি সাকিব হোসেন মালিবাগ সিআইডি পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিকেলে ভাটারায় নূরের চালা এলাকায় বোনের বাসায় যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে আমেরিকান অ্যাম্বাসির অপর পাশে দাঁড়ান। তখন পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুজন লোক নামেন। খসরু রোমান নিজেকে ডিবি এসি এবং রুবেল মল্লিক এসআই পরিচয় দেন। তখন তারা সাকিব হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যেতে চান।

সাকিব হোসেন অপারগতা প্রকাশ করলে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে চোখ বেঁধে তাকে জোর করে গাড়িতে তোলেন। তারা ভিকটিমকে গাড়িতে তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন। এরপর ভিকটিমের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন খসরু।

এসআই রুবেল খসরুকে বলেন, ‘সরকারি অফিসারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিলে আমরা ফেঁসে যাব। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিতে হবে। একজন বলেন, ওকে বাসায় নিয়ে যাব। বাসায় স্বর্ণের বার আছে তা দিয়ে ডাকাতি মামলায় আটক দেখিয়ে চালান দেই। এসআই রুবেল বলেন ১১ জানুয়ারির একটি অজ্ঞাত মামলা আছে ওকে জড়িয়ে দেই। এরপর আসামিরা বাসার ঠিকানা জেনে সাকিবকে তার বোনের বাসায় নিয়ে আসেন।

আরও জানা যায়, আসামিরা সাকিবের বোনের বাসায় ঢোকে। এরপর খসরু সাকিবের ব্যাগের মধ্যে স্বর্ণের বার রেখে আসেন। পরবর্তীতে আসামিরা ভিকটিমকে মিথ্যা অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে আদালতে প্রেরণ করার সময় তাকে মারপিট করে জখম করেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

১৯ জানুয়ারি আসামিরা ভিকটিমের বোনের বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে নগদ তিন লাখ টাকা, আই ফোন ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

ঢাবির হল থেকে গ্রেপ্তার আল-আমিন রিমান্ডে

ঢাবির হল থেকে গ্রেপ্তার আল-আমিন রিমান্ডে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আল-আমিন নামের এক অছাত্রকে। ফাইল ছবি

আল-আমিন নিজেকে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী বলে পরিচয় দিতেন। আসন্ন ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে তিনি সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী বলেও দাবি করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সূর্যসেন হল থেকে গ্রেপ্তার আল-আমিন খান রিজনকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

চাঁদাবাজি মামলার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদ বুধবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

এর আগে শাহবাগ থানা পুলিশ আল-আমিনকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আল-আমিনকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

আদালতে শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন ফকির নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে আল-আমিনকে আটক করা হয়।

আল-আমিনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার মহাস্থানগড়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ সেশনে ফাইন্যান্স বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৫-১৬ সেশনে পুনঃভর্তি হন।

২০১৬-১৭ সেশনে পুনঃভর্তির আবেদন করলেও আর ভর্তি হতে পারেননি আল-আমিন। তিনি অছাত্র হিসেবেই সূর্যসেন হলের ১০২ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

হল সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন নিজেকে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী বলে পরিচয় দিতেন। আসন্ন ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে তিনি সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী বলেও দাবি করতেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার পিস্তল দেখিয়ে সূর্যসেন হলের সেলুনের মালিককে ভয় দেখানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর রাতে আল-আমিন খানের কক্ষে অভিযান চালায় হল প্রশাসন। হলের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।

আল-আমিনের কক্ষ থেকে পিস্তল, হকিস্টিক ও রড উদ্ধার করা হয়, কিন্তু থানায় নেয়ার পর জানা যায়, পিস্তলটি আসলে খেলনার।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

কার্ড জালিয়াতির ‘মাস্টার’ তুর্কি হাকান

কার্ড জালিয়াতির ‘মাস্টার’ তুর্কি হাকান

তুরস্কের নাগরিক হাকান জারবানকান পুলিশ হেফাজতে। ছবি: নিউজবাংলা

তুরস্কের নাগরিক হাকান জারবানকান সম্প্রতি ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে শতাধিকবার ক্লোন কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে জানায়। মঙ্গলবার রাতে গুলশান-১ এলাকা থেকে সহযোগীসহ হাকানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশ্বের অন্তত ৪০ দেশের নাগরিকের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নেন তুরস্কের নাগরিক হাকান জারবানকান। স্কেমিংয়ের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলায় সিদ্ধহস্ত তিনি।

পুলিশ দাবি করেছে, বাংলাদেশে ঢুকে স্কেমিংয়ের মাধ্যমে বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছেন হাকান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাকান স্বীকার করেন কার্ড জালিয়াতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য।

হাকানের সহযোগী হিসেবে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক মো. মফিউল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি ক্রেডিট কার্ড ও ১৫টি ক্লোন কার্ড জব্দ করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বিদেশি এ নাগরিকের অপরাধ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তুরস্কের নাগরিক হাকান জারবানকান গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা আসেন। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তিনি অবস্থান করেন। ২ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথে কার্ড ক্লোনিং স্কেমিংয়ের মাধ্যমে শতাধিকবার টাকা তোলার চেষ্টা করেন। এন্টি ফেমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করায় অ্যালার্ম সিস্টেমের মাধ্যমে তা জেনে যায় ইস্টার্ন ব্যাংক।

তুর্কি হাকানকে কার্ড ‘জাতিয়াতির মাস্টার’ অভিহিত করে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঢাকা এসেছেন হাকান। তিনি ব্যবহার করেন একাধিক পাসপোর্ট। ঢাকায় তার সহযোগী মফিউল ইসলাম। কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে মফিউলের ভাই গ্রেপ্তারের পর এখন ভারতের কারাগারে আছেন।

হাকান জারবানকান সম্প্রতি ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে শতাধিকবার ক্লোন কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে জানায়। তারই সূত্রে মঙ্গলবার রাতে গুলশান-১ এলাকা থেকে সহযোগীসহ হাকানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পল্টন থানায় মামলার পর তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাকান জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী, কানাডা ও স্পেনসহ প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে স্কেমিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলেছেন। ঢাকায় একটি ব্যাংকের বিভিন্ন বুথ থেকে তিন দিনে ৮৪ বার টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরই এক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এটিএম জালিয়াতির এক মামলায় হাকানকে ২০১৯ সালে ভারতের আসাম রাজ্যের পাল্টন বাজারে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার সঙ্গে ধরা পড়েন দুজন বাংলাদেশি নাগরিক। তারা কার্ড ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ রুপি তোলার পর ধরা পড়েন। ২০ মাস জেলে থাকার পর নিজেকে অসুস্থ দাবি করলে হাকানকে আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ প্যান্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান এ তুর্কি নাগরিক।

ভারতীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় দুই লাখ রুপি খরচ করে হাকান পালিয়ে সিকিম হয়ে নেপালে চলে যান। নতুন করে ট্রাভেল ডকুমেন্ট তৈরি করে দেশে ফিরে যান। নতুন পাসপোর্ট তৈরি করে ফের কার্ড জালিয়াতির জন্য তিনি ঘুরতে থাকেন একাধিক দেশে। এটিএম কার্ড জালিয়াতির আন্তর্জাতিক এ চক্রের সদস্য রয়েছে বিভিন্ন দেশে। তাদের পরিচয়সহ কিছু তথ্য দিয়েছেন হাকান।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন

এটিএম কার্ড জালিয়াতি: তুর্কি নাগরিকসহ ২ জন রিমান্ডে

এটিএম কার্ড জালিয়াতি: তুর্কি নাগরিকসহ ২ জন রিমান্ডে

এটিএম বুথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বলছে, তুর্কি নাগরিক হাকান জানবুরকান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, সৌদি আরব ও স্পেনে গিয়ে সেসব দেশের নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেন বুথ থেকে। এভাবে প্রায় ৪০টি দেশের বুথ থেকে টাকা তোলার পর বাংলাদেশে আসেন তিনি।

ঢাকায় একটি ব্যাংকের বিভিন্ন বুথ থেকে তিন দিনে ৮৪ বার টাকা তোলার চেষ্টার পর গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

১৯ জানুয়ারি বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হাসিবুল হক এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন তুরস্কের নাগরিক হাকান জানবুরকান এবং বাংলাদেশের নাগরিক মফিউল ইসলাম। এদের এটিএম কার্ড জালিয়াতির আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য বলছে পুলিশ।

পল্টন থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

১৮ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর গুলশান-১ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিভিন্ন মডেলের ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১৫টি ক্লোন কার্ডসহ মোট ১৭টি কার্ড জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় সিটিটিসির উপপরিদর্শক পিটার বিশ্বাস পল্টন থানার মামলাটি করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার, পলাতক, অজ্ঞাতনামা আসামিসহ তিন-চারজন আসামি ১৩টি ক্লোন এটিএম কার্ড ব্যবহার করে।

পুলিশ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, সৌদি আরব ও স্পেনে গিয়ে সেসব দেশের নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে হাকান জানবুরকান টাকা তুলে নেন বুথ থেকে। এভাবে প্রায় ৪০টি দেশের বুথ থেকে টাকা তোলার পর বাংলাদেশে আসেন তিনি।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন হাকান জানবুরকান। এরপর গত ২-৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে গিয়ে শতাধিকবার টাকা তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন।

ইস্টার্ন ব্যাংক তার অ্যান্টি ফেমিং টেকনোলজি ব্যবহার করায় অ্যালার্ম সিস্টেমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে। ফলে তারা হ্যাকারদের হাত থেকে স্কেমিং রোধ করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন:
মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার
৫ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
রামপুরায় বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

শেয়ার করুন