৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

player
৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। ফাইল ছবি

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা মঙ্গলবারের অফিস আদেশে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এই বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

প্রিলিমিনারির নম্বর বণ্টন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

প্রিলিমিনারির বিষয় ও নম্বর বণ্টন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০, ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০, সাধারণ বিজ্ঞান ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ১৫, গাণিতিক যুক্তি ১৫, মানসিক দক্ষতা ১৫, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন ১০ নম্বরের ওপর পরীক্ষা হবে।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৮ জন, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ৬ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ২ জন (তথ্য) ও ৫ জন সহকারী বন সংরক্ষক নেয়া হবে।

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২৯, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৭, বিসিএস মৎস্যে ১৫, পশুসম্পদে ২১০, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে ৪২ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ২ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া সহকারী সার্জন ১০০ জন, সহকারী সার্জন (ডেন্টাল) ২৫ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২২ জন ও সহকারী প্রকৌশলী ৬ জনকে এ বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিতে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণ-অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উপাচার্য ইস্যুতে সময়ের সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি। এবার গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংকট সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধি দলের আলোচনা চলার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণাটি দেন বিক্ষুব্ধরা। জানান, শনিবার রাত থেকেই গণ-অনশন শুরু হবে।

ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণ-অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘আমাদের এখানে একটি কাগজ থাকবে। সেখানে নাম লিপিবদ্ধ করে যে কেউ অনশনে যোগ দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে তিনজন গণ-অনশনের জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন।’

ইয়াসির আরও বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে লাঠিচার্জ করে। রাবার বুলেট ও শব্দ বোমা ছোড়ে। এতে আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী যখন হাসপাতালে ও একজন আইসিইউতে, ঠিক সে সময়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। এসব ঘটনার জন্য উল্টো শিক্ষার্থীদের দায়ী করেন।

‘প্রতিবাদে আমরা তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করি। অনশন শুরু করি। কিন্তু অনশনে অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লেও উপাচার্য পদত্যাগ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগপত্র সচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে। এতে যদি কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, তার দায় ফরিদ উদ্দিনকেই নিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব প্রশ্নে ইয়াসির বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হলেও অনশনরতদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় আমন্ত্রণ রাখতে পারিনি। মন্ত্রীকে সিলেটে এসে আমাদের অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। তা না হলে ভার্চুয়ালি আলোচনা হতে পারে।’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে গত বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেবায় কিছুটা সুস্থ হয়ে তিন শিক্ষার্থী ফের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে যোগ দিয়েছেন। আর হাসপাতালে ভর্তিরা সেখান থেকেই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে থাকাদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে। তাদের বেশির ভাগেরই স্যালাইন চলছে।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শাবি শিক্ষকদের বৈঠক

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শাবি শিক্ষকদের বৈঠক

শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নিজের বাসায় শনিবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর হেয়ার রোডে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মন্ত্রীর বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়, রাত ৮টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দীপু মনি।

ক্যাম্পাসে চলমান সংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল।

রাজধানীর হেয়ার রোডে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মন্ত্রীর বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়, রাত ৮টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দীপু মনি।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলটি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে ঢাকায় পৌঁছায়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শাবির বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে উপাচার্যের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সব বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, পানি ও গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিতেও বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধান প্রতিষ্ঠানের জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বে রাখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে।

অধিদপ্তরের অধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর টিকা সনদ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছবি প্রদর্শনী ও প্রতীকী অনশন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছবি প্রদর্শনী ও পরে শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন হয়।

প্রদর্শনীতে ছাত্রীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের বৈষম্যের তীব্রতা তুলে ধরেন। পরে প্রতীকী অনশনে বসেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

এ ছাড়া আজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি মশাল মিছিল হবে।

শাবি উপাচার্য (ভিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শাবি উপাচার্যের কথিত অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি (ছাত্রী হলে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি) তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না।

‘কারণ সারা রাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এ রকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।’

শাবি উপাচার্যের এ ধরনের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষোভ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈঠকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন কথা বলেন।

তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে কাফন মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গায়ে ছিল কাফনের কাপড় আর সামনে খাটিয়ায় রাখা ছিল একটি প্রতীকী মরদেহ।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না।

এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছল করেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। প্রয়োজনে আমরা মারা যাব, তবু আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের ঢাকায় গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষু অবস্থায় সহযোদ্ধাদের ফেলে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীকে ভিডিওকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন অথবা শিক্ষামন্ত্রী শাবিতে এসে তাদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঢাকায় না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার ঢাকায় গেছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদেন ডিন ড. মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

শনিবারই তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারও আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে দাবি মেনে নেয়া হবে বলে উপাচার্যের এমন আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থী আবারও ক্যাম্পাসে এসে অনশনে যোগ দিয়েছেন।

হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১২ শিক্ষার্থী। তারা সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একটি দল। এই দলের সদস্য নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতেই বেশি কাতর হয়েছেন অনশনকারীরা। তাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জ্বরও আসছে। এ ছাড়া পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার তাদের কাছে যান শিক্ষকদের একাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় থাকেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজি হলেও পরে ঢাকায় যেতে সম্মত হননি। শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে আসার অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। তবে আলোচনা করতে ঢাকায় গেছেন শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


শুক্রবার রাতে তারা ঢাকায় যান। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস। তিনি শনিবার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় যেতে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমরাই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উনার (শিক্ষামন্ত্রীর) সঙ্গে কথা বলব।’

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ফিজিক্যাল সায়েন্সের অনুষদ ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়েরুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেনি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।

‘আমরা মনে করি, উপাচার্যের যদি ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকে তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। আর তিনি যদি নিজ থেকে পদত্যাগ না করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে আহ্বান করব, অবিলম্বে যেন তাকে অপসারণ করা হয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেভাবে পুলিশ ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য কখনো এটি করতে পারেন না। এই কাজের মধ্য দিয়ে এই উপাচার্য প্রমাণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

‘সুতরাং তার পদত্যাগ দাবি করা একটি নায্য দাবি। তাই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরা এখানে অবস্থান করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বলেন, ‘শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং পুলিশ যেভাবে হামলা করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সংগঠিত হয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শাবির উপাচার্য বর্বর উপাচার্য। উপাচার্য পদে থাকার তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই।’

আরও পড়ুন:
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন
৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর
৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু
আসছে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি
৪১তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি ৫ নির্দেশনা

শেয়ার করুন