আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

player
আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক সৈয়দ এ মুমেন নিউজবাংলাকে বলেন, সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এখন ডিসেম্বরজুড়ে করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

এর আগে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

রিটার্ন জমার সময় বারবার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৬ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্দিষ্ট করা হয়। এ নিয়ে সে বছরই সংসদে আইন পাস হয়।

এনবিআর বলেছে, দেশে কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগ পরিস্থিতি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৮৪ জি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা দিতে হয়। তবে জরিমানা এড়াতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

গত করবর্ষে মোট ২৪ লাখ ৩১ হাজার রিটার্ন জমা পড়ে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ২৯ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে। বর্তমানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ৭০ লাখের বেশি।

জমা পড়া রিটার্নের বড় অংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবী। গত বছর করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ায় রিটার্নের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে এবার ব্যবসায়ীদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দাখিল হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতীয় শুটিং কোচের বেতন-ভাতা দেবে পদ্মা ব্যাংক

জাতীয় শুটিং কোচের বেতন-ভাতা দেবে পদ্মা ব্যাংক

পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে শুটিং ফেডারেশনের চুক্তি সাক্ষার অনুষ্ঠানের মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

শনিবার গুলশানে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন কার্যালয়ে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংক ও ফেডারেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আগামী তিন বছরের জন্য নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হলো পদ্মা ব্যাংক ও বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাইফেলের নতুন কোচ মোহাম্মাদ জায়ের রেজাইয়ের দায়িত্ব নিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

নতুন ইরানি কোচের মাসিক সাড়ে ৬ হাজার ইউরো বেতন-সহ এই তিন বছর কোচের বিদেশ ভ্রমণের যাবতীয় খরচ বহন করবে পদ্মা ব্যাংক।

শনিবার গুলশানে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন কার্যালয়ে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংক ও ফেডারেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারোয়ার হাসান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ ফয়সাল আহসান উল্লাহ।

পদ্মা ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চিফ অপারেটিং অফিসার জাবেদ আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্রাঞ্চ সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার বাদল কুমার নাথ-সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে শুটিং ফেডারেশনের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের সম্পৃক্ততা নিয়ে চিফ অপারেটিং অফিসার জাবেদ আমিন বলেন, ‘আগামী ২৯ জানুয়ারি আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তার কয়েকদিন আগে শুটিং ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা পদ্মা ব্যাংক পরিবার গর্বিত। চাইব স্পোর্টসের সঙ্গে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। নতুন কোচের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়ে আনবে এই কামনা করি।’

পদ্মা ব্যাংককে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারোয়ার হাসান বলেন, ‘পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও ব্যাংক পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই পাশে থাকার জন্য। আশা করব এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে ব্যাংক।’

বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এর আমন্ত্রণে ইরান থেকে রাইফেল কোচ মোহাম্মাদ জায়ের-রেজাই বাংলাদেশে এসেছেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় রাইফেল দলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। মোহাম্মাদ জায়ের রেজাই আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন রাইফেল কোচ।

বাংলাদেশে আগমনের পূর্বে তিনি ইরান জাতীয় শুটিং দলের কোচিংয়ে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার কোচিং মেয়াদে ৩৯টি আন্তর্জাতিক পদক ও ২টি অলিম্পিক মেডেল অর্জন করে ইরান।

মোহাম্মাদ জায়ের-রেজাই প্যারিস অলিম্পিক গেমস-২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ শুটিং দলের প্রধান রাইফেল কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

দারাজের দুই কর্মকর্তার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলা

দারাজের দুই কর্মকর্তার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলা

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্তরা গত ১ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’ এ কথা বলার পর ‘একটু পরে ফোন দিচ্ছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।

অনলাইন মার্কেট প্লেস দারাজ বাংলাদেশ লিমিটিডের নেত্রকোণা হাব অফিসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা করেছেন।

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত দারাজের দুই কর্মকর্তা হলেন নেত্রকোণা হাব অফিসের ইনচার্জ আবু নাঈম মোহাম্মদ তানীম এবং স্টোর এজেন্ট আকম আজিম উস-শান।

মামলার পর থেকে তারা পলাতক বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নেত্রকোণা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুদা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত তানীম ও আজিম ২০২০ সাল থেকে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের নেত্রকোণা হাব অফিসে চাকরি করছেন। সম্প্রতি তারা নিজেরাই ক্রেতা সেজে দারাজ অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫০০ দামি মোবাইল সেটসহ বেশ কিছু দামি পণ্যের অর্ডার করেন।

পরে আবার ওই পণ্যগুলো নিজেরাই গ্রহণ করে ডেলিভারি দেখান। কিন্তু কোম্পানিতে কোনো টাকা পাঠাননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, হাব অফিসের ইনচার্জ তানীম এবং স্টোর এজেন্ট আজিম এসব পণ্য বিক্রি বাবদ প্রতারণার মাধ্যমে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া হাব অফিসে মজুত থাকা আরও ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকাও গায়েব করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশান) মো. রাশেদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা গত ১ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’

এ কথা বলার পর ‘একটু পরে ফোন দিচ্ছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মামলাটির তদন্ত করছি। পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

দুবাইয়ে বিশ্বখ্যাত গ্লোবাল ইকোনমিকসের পুরস্কার নিল ‘নগদ’

দুবাইয়ে বিশ্বখ্যাত গ্লোবাল ইকোনমিকসের পুরস্কার নিল ‘নগদ’

গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেডের বেস্ট ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পুরস্কার হাতে নগদের দুই কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের জুলাইয়ে ‘নগদ’কে বেস্ট ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (ডিএফএস) স্বীকৃতি দেয় গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেড। আর সে স্বীকৃতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘নগদ’ এই পুরস্কার গ্রহণ করল।

দেশের সেরা ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-২০২১ পুরস্কার পেয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত অর্ধবার্ষিক ফাইন্যান্সিয়াল বিজনেস ম্যাগাজিন গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেড এ পুরস্কার দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের পাঁচতারকা হোটেল সাংরিলায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করে গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেড। যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নগদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন নগদের পরিচালক ফয়সাল চৌধুরী এবং নগদের স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্সপ্রধান কে এম আইরীন আজিজ।

গত বছরের জুলাইয়ে নগদকে বেস্ট ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (ডিএফএস) স্বীকৃতি দেয় গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেড। আর সে স্বীকৃতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘নগদ’ এই পুরস্কার গ্রহণ করল।

মূলত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের জন্য নগদকে বেস্ট ডিএফএসের স্বীকৃতি দিয়েছে গ্লোবাল ইকোনমিকস লিমিটেড। প্রকাশনাটি বাজারের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই গ্লোবাল ইকোনমিকস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে থাকে।

২০১৯ সালের মার্চে যাত্রার পর থেকেই উদ্ভাবনী সেবার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে ‘নগদ’। এ ছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো ই-কেওয়াইসি (আপনার গ্রাহককে জানুন) সেবাটি চালু করে ‘নগদ’।

পাশাপাশি দেশের মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে মিলে কয়েক সেকেন্ডে এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াও প্রথমবারের মতো চালু করে সেবাটি। অসাধারণ উদ্ভাবনটি গ্রাহকদের *১৬৭# ডায়াল করে খুব সহজেই ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে।

এই অর্জনের বিষয়ে নগদের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘যাত্রার পর থেকেই আমরা উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছি। এই অর্জন নগদের জন্য একটি মাইলফলক। সামনের দিনে আরও উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে ‘নগদ’ আরও বেশি বেশি স্বীকৃতি পাবে, সেই প্রত্যাশা করছি।’

ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়নে এই তিন বছরের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ‘নগদ’, যার ফলে অসংখ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর মধ্যে ২০২০ সালের অক্টোবরে বেস্ট ফিনটেক স্টার্টআপের জন্য ইনক্লুসিভ ফিনটেক ফিফটি অ্যাওয়ার্ড, অর্থনৈতিক অন্তৰ্ভুক্তিতে অনন্য অবদানের জন্য প্রথম বাংলাদেশি এমএফএস প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স গ্লোবাল আইসিটি এক্সসিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২০, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরে অবদানের জন্য ২০২০ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘নগদ’।

‘নগদ’-এ বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি ৮০ লাখ এবং গড়ে লেনদেন হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

এলসিএল কনটেইনার ডেলিভারিতে নানা সংকট

এলসিএল কনটেইনার ডেলিভারিতে নানা সংকট

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে প্রচুর জাহাজ আসছে। কনটেইনারের সংখ্যাও বেড়েছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই কনটেইনার (এলসিএল) ডেলিভারিতে নানামুখী সংকট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক পণ্যের চেয়ে এসব পণ্য ডেলিভারি পেতে ৭-৮ দিন বেশি সময় লেগে যায়। এতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তৈরি পোশাক খাত।

সমস্যাগুলো সমাধানে চট্টগ্রাম বন্দরে ডেলিভারি শেড বৃদ্ধি ও শেডের আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনটির সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য নিয়ে দুই ধরনের কনটেইনার আসে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে শুধুমাত্র একজন আমদানিকারকের পণ্য বোঝাই কনটেইনারকে বলা হয় এফসিএল কনটেইনার। আর কয়েকজন আমদানিকারকের পণ্য বোঝাই কনটেইনারকে বলা হয় এলসিএল কনটেইনার।

বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলোর ভেতরে এলসিএল কনটেইনার থেকে পণ্য বের করে বিভিন্ন আমদানিকারককে বুঝিয়ে দেয়া হয় না। পুরো কনটেইনার নির্দিষ্ট একটি জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওখান থেকে আমদানিকারকেরা নিজেদের পণ্য খালাস করে নিয়ে যান।

চট্টগ্রাম বন্দরে এলসিএল কনটেইনারগুলো ইয়ার্ডের ভেতরে খোলা হয়। সব পণ্য বের করে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সরবরাহ দেয়া হয়। এতে বিশাল জায়গা ও সময় বেশি লাগে। যদি কোনো জাহাজে দেড়শ টিইইউএসের বেশি এলসিএল কনটেইনার আসে তাহলে সামাল দিতে বন্দরকে হিমশিম খেতে হয়।

একইভাবে এসব কনটেইনার বোঝাই করে পণ্য আনা ব্যবসায়ীদেরও সংকটে পড়তে হয়। এ ধরনের এক একটি কনটেইনার থেকে পণ্য খালাস করতে ৭-৮ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় লাগে। অনেক সময় এর প্রভাব পড়ে কারখানায়। কাঁচামাল সংকটে পড়ে কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।

বিজিএমইএর সদস্য খন্দকার বেলায়েত হোসেন জানান, শুধু আমদানি পণ্য খালাসে নয়, রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনারের ক্ষেত্রেও সংকট আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনারগুলোর শতভাগই আসে বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিডি) হয়ে। আইসিডি থেকে এসব কনটেইনার এনে জাহাজে বোঝাই করে দেয়া হয়।

অধিকাংশ সময়ই আইসিডি থেকে কনটেইনারগুলোকে সরাসরি জাহাজের হুক পয়েন্টে নিয়ে আসা হয়। কনটেইনারগুলো আগেভাগে এনে বন্দরের অভ্যন্তরে রাখার ব্যবস্থা করা হলে রপ্তানিপণ্য বোঝাই কনটেইনার জাহাজীকরণ বেশি গতিশীল হতো।

বিশেষ করে চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার রাখার মতো কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। অবশ্য নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ১ হাজার ও জেনারেল কার্গো বার্থ এলাকায় ১৪ শ টিইইউএস রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার রাখার স্লট রয়েছে। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) এই ধরনের একটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হলে রপ্তানিকারকদের সুবিধা হতো।

তিনি বলেন, ‘বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কনটেইনার খালাস করতে প্রথমে যেতে হয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে। ওখান থেকে কনটেইনারটির অবস্থান জানানো হয়। লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ওয়ান স্টপ সার্ভিস থেকে অধিকাংশ সময়ই কনটেইনারের অবস্থান জানা সম্ভব হয় না। কখনও কখনও অবস্থান বলা হলেও কনটেইনার খুঁজে পাওয়া যায় না।

‘জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি) প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে আমদানি পণ্য খালাসে অনাকাঙ্খিতভাবে বাড়তি সময় লাগছে। বাড়ছে খরচ। কারখানাগুলোকে নিয়মিত কাঁচামাল সংকটে পড়তে হচ্ছে।’

সংকটের কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে প্রচুর জাহাজ আসছে। কনটেইনারের সংখ্যাও বেড়েছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চালু হলে এ সমস্যা থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজেএমএ মহাসচিব এম বারিক খান বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে পাট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবছর উচ্চসাঁট পাটের প্রতি মণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নির্বাহী বোর্ডের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও পাট আইনে এভাবে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।

তবে পাট আইনে বলা আছে, ‘সরকার, আদেশ দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণির পাট বা পাটজাত পণ্যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে, এবং সব এলাকা বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। এবং এই আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কম বা সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে কোন ব্যক্তি পাট বা পাটজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব এম বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় পাটকলগুলো ব্যবহার করে। কিন্ত বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আর কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য এবছর উচ্চাসাঁট কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। আশা করি এ দামেই এ বছর পাট কেনা সম্ভব হবে।’

এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ খাতের অসাধু মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে। এতে উৎপাদিত পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চার থেকে পাঁচ কোটি কৃষক, শ্রমিকের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরও চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে অর্ধবিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই উল্লম্ফনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু ছিল পাট খাত।

২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ (১.১৬ বিলিয়ন) ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে রপ্তানি তালিকায় চামড়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল এই খাত।

সেই সুদিন ফুরিয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে। অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এদিকে, লোকসানের চাপে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয় সরকার। সে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো পাটকল এখন উৎপাদনে নেই; সরকারিভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য এখন আর রপ্তানি হয় না।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষণা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন

বড় ঋণের পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘না’

বড় ঋণের পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘না’

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় বৃহস্পতিবার নেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৫ সালে সমস্যায় থাকা বড় ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। সে সময় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ যৌক্তিক কারণে ১৫ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ রেখে নীতিমালা জারি করা হয়।

বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠিত বৃহৎ ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে তা আর পুর্নগঠন নয়- বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড বৃহস্পতিবার এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না। ওই সব ‘বড় ঋণ’ আবারও পুনঃতফসিল করতে আবেদন করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নাকচ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে পর্ষদ সভায় এ আবেদন নাকচ করা হয়। সভায় পর্ষদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৫ সালে বড় ঋণগ্রহীতাদের, বিশেষ করে যারা সমস্যায় ছিল তাদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। সে সময় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ যৌক্তিক কারণে ১৫ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ রেখে নীতিমালা জারি করা হয়।

তখন বলা হয়, পরপর দুটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। বিশেষ শর্তের আওতায় প্রকৃত সমস্যায় থাকা উদ্যোক্তার ঋণে নতুন করে সুদহার, ডাউন পেমেন্ট, কিস্তি ও গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত আসে।

ঋণগ্রহীতারা, যারা বিশেষ বৃহৎ ঋণ পুনর্গঠন নীতির শর্তাবলি মেনে নিয়মিত ঋণের কিস্তি শোধ করেছেন, তারা মেয়াদি ঋণ এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য এককালীন পুনর্নির্ধারণ সুবিধা উপভোগ করেন। কিন্তু অনেক ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা নেয়ার পরেও কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন। সম্প্রতি তারা ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আরেকটি প্রস্তাব দিলে, তা প্রত্যাখ্যান হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায়, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডকে দেয়া লেটার অব ইনটেন্ডের (এলওআই) সময় বাড়ানো, সিআইবি তথ্য গোপন করায় আরোপিত জরিমানা মওকুফ ও গ্রামে ফেরা জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের অনুমোদন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অন্যদিকে গ্রাহকের সিআইবি তথ্য গোপন করায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংককে জরিমানা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা জরিমানা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় সেটিও বাতিল হয়।

আরও পড়ুন:
করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী
আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

শেয়ার করুন