ইউনিডোর সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

player
এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করছে বাংলাদেশ। আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুতগতি লাভ করেছে।”

স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) ১৯তম সাধারণ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত এক দশক ধরে প্রতি বছর প্রায় ৭ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে (বাংলাদেশ)। এমনকি বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কঠিন সময়ও বাংলাদেশ ২০২০ সালে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির ৩০ শতাংশেরও অধিক আসছে শিল্প খাত থেকে।’

ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি শিল্পমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগ দেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনিডোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ১৭০টি সদস্য দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন সম্মেলনে। ওই সময় ইউনিডোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তিউনিসিয়ার মোহামেদ মাজঘানিকে অভিনন্দন জানান শিল্পমন্ত্রী।

অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নে ইউনিডোর কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের গতিশীলতা কমে গেছে। এ বিষয়গুলো থেকে উত্তরণে ইউনিডোর সহযোগিতা বেশি করে প্রয়োজন।’

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

মন্ত্রী আরও বলেন, “বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করছে বাংলাদেশ। আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুতগতি লাভ করেছে।

“জাতি হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

এই উন্নয়নে মন্ত্রী ডি-২০সহ ইউনিডোর সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষনা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

বড় ঋণের পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘না’

বড় ঋণের পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘না’

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় বৃহস্পতিবার নেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৫ সালে সমস্যায় থাকা বড় ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। সে সময় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ যৌক্তিক কারণে ১৫ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ রেখে নীতিমালা জারি করা হয়।

বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠিত বৃহৎ ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে তা আর পুর্নগঠন নয়- বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড বৃহস্পতিবার এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না। ওই সব ‘বড় ঋণ’ আবারও পুনঃতফসিল করতে আবেদন করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নাকচ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে পর্ষদ সভায় এ আবেদন নাকচ করা হয়। সভায় পর্ষদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৫ সালে বড় ঋণগ্রহীতাদের, বিশেষ করে যারা সমস্যায় ছিল তাদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। সে সময় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ যৌক্তিক কারণে ১৫ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ রেখে নীতিমালা জারি করা হয়।

তখন বলা হয়, পরপর দুটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। বিশেষ শর্তের আওতায় প্রকৃত সমস্যায় থাকা উদ্যোক্তার ঋণে নতুন করে সুদহার, ডাউন পেমেন্ট, কিস্তি ও গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত আসে।

ঋণগ্রহীতারা, যারা বিশেষ বৃহৎ ঋণ পুনর্গঠন নীতির শর্তাবলি মেনে নিয়মিত ঋণের কিস্তি শোধ করেছেন, তারা মেয়াদি ঋণ এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য এককালীন পুনর্নির্ধারণ সুবিধা উপভোগ করেন। কিন্তু অনেক ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা নেয়ার পরেও কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন। সম্প্রতি তারা ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আরেকটি প্রস্তাব দিলে, তা প্রত্যাখ্যান হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায়, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডকে দেয়া লেটার অব ইনটেন্ডের (এলওআই) সময় বাড়ানো, সিআইবি তথ্য গোপন করায় আরোপিত জরিমানা মওকুফ ও গ্রামে ফেরা জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের অনুমোদন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অন্যদিকে গ্রাহকের সিআইবি তথ্য গোপন করায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংককে জরিমানা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা জরিমানা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় সেটিও বাতিল হয়।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

ব্যাংক উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না সাকিবের

ব্যাংক উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না সাকিবের

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে তাদের আবার নতুন করে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। এই ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ব্যাংক উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আপাতত অধরাই থাকছে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের।

প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বৃহস্পতিবার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের অনুকূলে আগে ইস্যু করা লেটার অব ইনটেন্টের (এলওআই) শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদন বা‌তিল করে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে তাদের আবার নতুন করে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রস্তাবিত ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তার।

সভার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত ব্যাংক‌টির এলওআইয়ের মেয়াদ ২০২১ সা‌লের ডি‌সেম্বর পর্যন্ত ছিল। নির্ধারিত সম‌য়ে যে‌হেতু তারা শর্ত পূরণ কর‌তে পা‌রেননি তাই তা‌দের সময় বাড়া‌নোর আবেদন বা‌তিল করা হয়েছে।’

তাহলে কি এই ব্যাংকটি আর কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই নামেই যে ব্যাংক হবে না, বিষয়টি তেমন নয়। তবে তাদের আবেদনের সময় আর বাড়ানো হয়নি। সাকিব আল হাসানসহ যে ২২/২৩ জন যুক্ত হয়েছেন তাদের আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে।’

আগের ১২ জন উদ্যোক্তা প‌রিচাল‌কের ম‌ধ্যে এখন শুধু প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান আবুল কা‌শেম ও তার স্ত্রী আছেন। নতুন ক‌রে আ‌রও ২১ জন প‌রিচাল‌কসহ মোট ২৩ জ‌ন আবেদন ক‌রে‌ছেন। এর ম‌ধ্যে সাকিব আল হাসানও আ‌ছেন।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং ব্যবসার লাইসেন্স নিতে চেষ্টা করছে। তবে এলওআইর শর্ত পূরণ না হওয়ায় এ লাইসেন্স পাচ্ছিল না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কয়েক দফা এলওআইর মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ এলওআইর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর।

তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চুড়ান্ত লাইসেন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি।

দেশের সব ব্যাংকের প্রতি পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সে হিসেবে বর্তমানে দেশে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে হলে সমপরিমাণ অর্থই মূলধন হিসেবে জমা রাখতে হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে হলে প্রয়োজন হয় সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের। সে হিসেবে পিপলস ব্যাংকের প্রতিটি পরিচালক পদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেয়ার কথা ছিল সাকিব আল হাসানের। তবে ব্যাংকটির মালিকানায় আসতে তিনি ২৫ কোটি টাকারও বেশি মূলধন জোগান দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে তথ্য প্রকাশিত হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের সভায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল, সিটিজেনস ও পিপলস নামে নতুন তিনটি ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নতুন ব্যাংকের জন্য জুড়ে দেয়া হয় ৫০০ কোটি টাকা মূলধনের শর্ত, যা আগে ছিল ৪০০ কোটি।

এর মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক গত বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটিজেনস ব্যাংক।

পিপলস ব্যাংক উদ্যোক্তাদের কয়েকজনের অর্থের উৎসে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিকে দেয়া এলওআই স্থগিত করা হয়। এরপর বিতর্কিত উদ্যোক্তাদের বাদ দিলে পিপলস ব্যাংকের এলওআইয়ের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধনের অর্থ জমা দিতে পারেনি ব্যাংকটি।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

সিআইপি কার্ড পেলেন ১৭৬ ব্যবসায়ী

সিআইপি কার্ড পেলেন ১৭৬ ব্যবসায়ী

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৭৬ জন ব্যবসায়ীকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার।

সিআইপি মনোনীতরা বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাস ও গাড়ির স্টিকার পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন তারা।

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৭৬ জন ব্যবসায়ীকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের মোট ২২টি খাতের ১৮টি পণ্য এবং সেবা খাত থেকে ২০১৮ সালের জন্য রপ্তানি খাতে ১৩৮ জন এবং ট্রেডে ৩৮ জনসহ মোট ১৭৬ জনকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি-সিআইপি সম্মানে ভূষিত করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সিআইপি মনোনীতরা বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাস ও গাড়ির স্টিকার পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন তারা।

এ ছাড়া ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে তাদের আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ এসডিজি অর্জন করবে।’

দেশের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের অবদান অনেক মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের বিকল্প নেই।’

দেশের উন্নয়নে সরকারপ্রধানের অবদানের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। সবগুলোই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই।

মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের পর উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক মর্যদা পাবে বাংলাদেশ। এরপর আমাদের উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অল্পসংখ্যক পণ্য নিয়ে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ভালো করা যাবে না। এ জন্য রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের প্রচুর চাহিদা আছে। সেখানে আমাদের রপ্তানি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে আমাদের সামনে সমস্যা অনেক, বাধা অনেক। দক্ষতার সঙ্গে এগুলোকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘প্রবাসীদের আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।’

বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নগদ সহায়তায় আওতা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি সংস্থায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধার অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।

‘রেমিট্যান্সের অর্থের আয়ের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং আহরণের সঙ্গে সঙ্গে আবশ্যিকভাবে তা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।’

নির্দেশনাটি সার্কুলার জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা সংক্রান্ত আগের ইস্যু করা নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ২৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল এক হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেলে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতা হতে হবে ২৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

শিক্ষানবিসকাল শেষ হলে প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম মোট বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে, অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন হতে হবে ২৪ হাজার টাকা। অদক্ষতার অজুহাতে বা লক্ষ্যপূরণ না করলে চাকরিচ্যুত করা যাবে না কোনো ব্যাংকারকে। সিইও এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতার পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

‘এ প্রেক্ষিতে, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে আরও উজ্জীবিত হয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন সে উদ্দেশ্যে এবং ব্যাংকের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা প্রদান করেছে।’

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা (জেনারেল ও ক্যাশ), সহকারী কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের (নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মেসেঞ্জার) সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি যেসব ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সেবা নেয়, তাদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে অফিস সহায়কদের বেতনকে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এই নির্দেশনা এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইওর সঙ্গে সর্বনিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতার পার্থক্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা কমানো যাবে না। পাশাপাশি চাকরি স্থায়ী ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা প্রদান আবশ্যক। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা গেছে, কিছু ব্যাংক এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করছে। একই ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার তুলনায় যা খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার মধ্যে এত অস্বাভাবিক ব্যবধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, কোনো কোনো ব্যাংকে একই পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হচ্ছেন। আবার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংকে বেতন-ভাতার ভিন্নতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজ প্রতিষ্ঠান মনে করে একনিষ্ঠ ও অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে ব্যাংকের কাজে মনোযোগী হওয়ার মনোভাব গড়ে ওঠে না। ফলে অদক্ষতা, অসম প্রতিযোগিতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ জন্য ভবিষ্যতে মেধাবী ব্যক্তিরা যাতে ব্যাংকিংকে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী হন, সে লক্ষ্যে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেসব ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়

ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন আউটলেটে নিযুক্ত ব্যাংকের এজেন্টরা বা এজেন্টের মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা বা পারিশ্রমিক চুক্তি বা স্ব স্ব এজেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ায় এ নির্দেশনা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতনস্কেলের হওয়ায় ওইসব ব্যাংকগুলোর জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (ঘ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।’

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের উন্নয়নে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ই-ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে- এই চার উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এসএমই ফাউন্ডেশন বলেছে, এই ডাটাবেজে নিবন্ধিত হলে সহজে সেবা পাবেন এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা। এতে অনিয়মের পথ বন্ধ হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।

‘এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে, এসএমই ই-ডাটাবেজ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দেশের সব এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া গেলে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’

এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘অর্থনীতিতে অবদান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডাটাবেজ না থাকায় প্রায়ই এ খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হচ্ছে।

‘তাই আমি মনে করি, ডাটাবেজ গঠনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। দেশের সব ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতকে কীভাবে এই ডাটাবেজের আওতায় আনা যায়, তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, তহবিলের জোগান এবং বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে এসএমই ই-ডাটাবেজ সরকারের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ই-ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের মোট ৭৮ লাখের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ ভাগের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের। এই খাতের বিকাশ ধরে রাখতে হলে ডাটাবেজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি করোনা-পূর্ব অবস্থায় নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণে গতি বাড়ছে
প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও: আইএমএফ
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছর পিছিয়েছে দেশ

শেয়ার করুন