নাটক জমিয়ে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

player
নাটক জমিয়ে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

ম্যাগডালেনা অ্যন্ডারসন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন ম্যাগডালেনা। তার এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে থতমত খেয়ে যায় বিশ্ব গণমাধ্যমও।

এক সপ্তাহের নাটক শেষে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডরসন।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি। তাই সুইডিশ রাজনীতিতে সম্প্রতি যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল তার আপাত সমাধান হয়েছে বলা যায়।

এর আগে গত বুধবার সুইডেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন ম্যাগডালেনা। তার এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে থতমত খেয়ে যায় বিশ্ব গণমাধ্যমও। কারণ তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খবর প্রকাশ করতে না করতেই সামনে এসেছিল তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

সুইডিশ আইন অনুযায়ী, সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ম্যাগডালেনার বিরুদ্ধে ভোট না দেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন জোটের নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার পর জোটের শরিক দল সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে এবং নিজের বাজেট প্রস্তাব পাস না হলে পদত্যাগ করেন তিনি।

সেসময় সংসদে বিরোধী দলের উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাব পাস হয়েছিল। বিরোধী জোটে অভিবাসন বিরোধী কট্টর ডানপন্থী দলও রয়েছে। তাই ম্যাগডালেনার নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক গ্রিনস পার্টি জানিয়ে দেয়, তারা কট্টর ডানপন্থীদের উত্থাপিত বাজেট মেনে নিতে পারছে না।

নিজের পদত্যাগ বিষয়ে ম্যাগডালেনা সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, ‘কোনো একটি দল জোট ছেড়ে বের হয়ে গেলে জোট সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সাংবিধানিক একটি চর্চা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিতে চাই না যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

সংসদের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন মিজ অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে ভোট দেযন। আর তার পক্ষে ভোট দেযন ১১৭ জন সাংসদ। তবে আরও ৫৭ জন ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকায় এক ভোটে বিজয়ী হন ম্যাগডালেনা।

সুইডেনের উপসালা শহরের সাবেক জুনিয়র সাঁতার চ্যাম্পিয়ন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৯৬ সালে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী গোরান পেরসনের উপদেষ্টা হিসেবে। গত সাত বছর সুইডেনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীনে তিন সন্তানের নীতিতেও বাড়ছে না জন্মহার

চীনে তিন সন্তানের নীতিতেও বাড়ছে না জন্মহার

নগর জীবন ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে চীনা দম্পতিরা বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী নন। ছবি: সংগৃহীত

জন্মহার বাড়াতে ২০১৬ সালে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ থেকে বের হয়ে আসে। দেশটির সরকার ঘোষণা করেছিল এখন থেকে পরিবারগুলো চাইলে দুটি সন্তান নিতে পারবে। গত বছরে চীন পরিবারগুলোকে ৩ সন্তান নেয়ারও অনুমতি দেয়।

চীনে বেশি জনসংখ্যাকে একসময় সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। এমনকি দেশটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১ সন্তান নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।

চীন এখন তার জনসংখ্যা বাড়াতে চায় কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, চীনে আশঙ্কাজনক হারে কমছে জন্মহার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে চীনের জন্মহার ১ হাজারে মাত্র ৭.৫২।

দেশটি ১৯৪৯ সাল থেকে জন্মহার পরিমাপ করে আসছে। এ বছরই এ হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশ করা বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গেছে।

অথচ ২০২০ সালেও ১ হাজারে চীনে জন্মহার ছিল ৮.৫২ জন।

সংখ্যার দিক থেকে চীনে ২০২১ সালে জন্মেছে ১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার শিশু। অথচ ২০২০ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ কোটি ২০ লাখ।

এ ছাড়া ২০২১-এ চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ০.০৩৪ শতাংশ। ১৯৬০-এর পর এ হার সর্বনিম্ন।

জন্মহার বাড়াতে ২০১৬ সালে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ থেকে বের হয়ে আসে। দেশটির সরকার ঘোষণা করেছিল এখন থেকে পরিবারগুলো চাইলে দুটি সন্তান নিতে পারবে। গত বছরে চীন পরিবারগুলোকে ৩ সন্তান নেয়ারও অনুমতি দেয়।

তবে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চীনের নেয়া পদক্ষেপগুলোতে জন্মহার বাড়ছে না।

এর প্রধান কারণ হলো চীনের নগর জীবনে উচ্চ ব্যয়। নগর জীবন ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে চীনা দম্পতিরা বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী নন।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

টেক্সাসে জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাজ্যে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক গ্রেপ্তার

টেক্সাসে জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাজ্যে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন।

যুক্তরাজ্যের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) জিম্মি ঘটনায় নিহত হয়েছেন জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার সেই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে আটক হলো দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক মালিক ফয়সাল আকরাম পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক আটকের ঘটনা জানাল।

তবে ম্যানচেস্টারে আটক হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নাকি মেয়ে এবং তাদের বয়সও প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ম্যানচেস্টারের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, জিম্মি ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিক মৃত্যুর পর তাদের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন।

পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর আগে আকরাম টেক্সাসের একটি সিনাগগে ৪ জনকে জিম্মি করেন। এর মাঝে একজন ইহুদি ধর্মগুরুও (রাবাই) ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গাতে সুনামি আঘাত হেনেছে। এমনকি জাপানের শিকোকু দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কোচি প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৃদু সুনামি, কিন্তু ঠিক কী কারণে সাগরতলের হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাতে সুনামির সৃষ্টি হলো?

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির ১৫ তারিখে হওয়া হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাত ঠিক কী কারণে সুনামির জন্ম দিল তা স্পষ্ট নয়।

আগ্নেয়গিরি বিশারদ ও বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক রবিন জর্জ এন্ড্রুসের মতে, এটি কি অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে নাকি আগ্নেয়গিরির কোনো ধসে পানির স্থানচ্যুতি হয়েছে অথবা দুটির কারণেই হয়েছে। তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে এন্ড্রুর মতে, হা’আপায়ে এ ধরনের বিস্ফোরণ হাজার বছরে একবারই হয়।

আসলে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের মতো সাগরতলে প্রায় ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি আছে।

এসব আগ্নেয়গিরি শুধু লাভাই উদগিরণ করে না, ব্যাপক পরিমাণে আগ্নেয়গিরির ছাইও তৈরি করে।

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

পানির নিচের আগ্নেয়গিরির কারণে সমুদ্র পর্বতও তৈরি হয়।

এদিকে হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকা থেকে জনগণকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

তবে বড় আকারের সুনামি শুধু টোঙ্গাতেই আঘাত হেনেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

নারীদের সমাবেশে মরিচ পানি ছুড়ল তালেবান

নারীদের সমাবেশে মরিচ পানি ছুড়ল তালেবান

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে আফগান নারীদের আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনা ও কাজের অধিকারের দাবিতে প্রায় ২০ জন নারী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশ করলে তালেবান বাহিনী এ ঘটনা ঘটায়।

গতবছর আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে বেকায়দায় পড়েছে নারীরা। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মজীবী নারীর চাকরি চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না নারী শিক্ষার্থীরা। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণেও দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নারীদের বোরকা পরতে বলছে দেশটির পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়। এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করে প্রায়ই রাস্তায় আন্দোলন করছেন নারীরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনরত একদল নারীকে লক্ষ্য করে এবার পিপার (গোল মরিচ) স্প্রে ছুড়েছে তালেবান।

পড়াশোনা ও কাজের অধিকারের দাবিতে প্রায় ২০ জন নারী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশ করলে তালেবান বাহিনী এ ঘটনা ঘটায়। এ সময় নারীরা ‘সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার’ এবং ‘নারী অধিকার, মানবাধিকার’ লেখা ব্যানার নিয়ে আসে।

তিনজন নারী আন্দোলনকারী এএফপিকে বলেন, ‘আন্দোলন ভেস্তে যায় যখন কয়েকটি গাড়িতে তালেবান যোদ্ধারা ঘটনাস্থলে আসে এবং আমাদের লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে ছুড়ে।’

একজন নারী জানান, পিপার স্প্রে লাগায় তার ডান চোখ যেন পুড়ছিল।

এ সময় তিনি একজন তালেবান যোদ্ধাকে বলেন, ‘তোমার লজ্জা হওয়া উচিত।’ তখন যোদ্ধাটি তার দিকে বন্দুক তাক করে।

এ ছাড়া পিপার স্প্রের পর একজন নারীর এলার্জির সমস্যা হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

তালেবানরা দেশটির দায়িত্ব গ্রহণের পর নারীরা চাকরি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অধিকাংশ মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে নারীরা এখনও ফিরতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে বারবার রাস্তায় নেমে আসছে।

যদিও তালেবান সরকারের দাবি, নারীদের অধিকার প্রদানে আন্তরিক তালেবান। ধীরে ধীরে তাদের নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার ইসলামি শরিয়াহর আলোকে নারীদের সব অধিকার প্রদান করবে।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

ইহুদি উপাসনালয় ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।   

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে চারজনকে জিম্মি করা ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।

ডালাসের কোলিভিলের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় এক ব্যক্তি চারজনকে জিম্মি করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপসনালয়ের ধর্মগুরুও (রাবাই)।

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে এক ব্যক্তির উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পর পরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

এদিকে আফিয়ার আইনজীবী সিএনএন জানান, ওই ব্রিটিশ জিম্মিকারী আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে জঘন্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

টেক্সাসের বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া ফ্রান্সিস বন্ধ হওয়ায় আগ পর্যন্ত লাইভ স্ট্রিমিং দেখেছিলেন। অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমেরিকাকে নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। তার কাছে বোমা আছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

৩১ জানুয়ারি ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে ভারতের কৃষকরা

৩১ জানুয়ারি ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে ভারতের কৃষকরা

বিভিন্ন দাবিতে ভারতের কৃষকদের আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার এক চিঠিতে কৃষকদের দাবি পূরণে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর ভিত্তিতে কৃষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

ভারত সরকার বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি সংবলিত চিঠি দিয়ে চলমান কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিল। সংযুক্ত কিষান মোর্চাকে গত ৯ ডিসেম্বর ওই চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির ভিত্তিতেই ১৩ মাসের কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহার করে কিষান মোর্চা। কিন্তু চিঠিতে দেয়া প্রতিশ্রুতির একটিও পালন করেনি সরকার। হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা আগামী ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে।

দিল্লি-হরিয়ানার সিংঘু সীমান্তের কাছে কাজারিয়া গ্রামে শনিবার অনুষ্ঠিত কিষান মোর্চার বৈঠকে উপস্থিত ছিল শতাধিক কৃষক সংগঠন। গত ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহারের পর এটাই ছিল সংগঠনটির প্রথম বৈঠক। ওই বৈঠক থেকে চলমান ‘মিশন উত্তরপ্রদেশ’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কিষান মোর্চা এক বিবৃতিতে বলেছে, লখিমপুর খেরি হত্যাকাণ্ডে সরকার ও বিজেপির নির্লজ্জ মনোভাব থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা জনগণের মর্যাদাকে পাত্তা দেয় না। বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টে ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করা সত্ত্বেও এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী অজয় মিশ্র টেনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থেকে কৃষকদের ক্ষতে লবণ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই ঘটনায় কৃষকদের জড়িত করতে ও গ্রেপ্তার করতে তৎপর। এর বিরোধিতা করতে লখিমপুর খেরিতে স্থায়ী অবস্থান বিক্ষোভের ঘোষণা করবে সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা। সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘মিশন উত্তরপ্রদেশ’ চলবে। এর মাধ্যমে এই কৃষকবিরোধী রাজনীতিকে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে।

কাজারিয়া গ্রামের ওই বৈঠকে কৃষক নেতারা পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে মোর্চার অংশগ্রহণ সম্পর্কে চলতে থাকা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সংযুক্ত কিষান মোর্চা প্রথম থেকেই একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল যে কোনো রাজনৈতিক দল মোর্চার নাম, ব্যানার বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচনেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার সঙ্গে যুক্ত যে কোনো কৃষক সংগঠন বা নেতা, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বা নির্বাচনে যে কোনো দলের হয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন, তারা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চায় থাকবেন না। প্রয়োজনে এই বিধানসভা নির্বাচনের পর এপ্রিল মাসে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি চারটি শ্রমবিরোধী কোড প্রত্যাহারের পাশাপাশি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবিতে এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। কিষান মোর্চা গ্রামীণ ধর্মঘটের আকারে এই আহ্বানকে সমর্থন ও সফল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন

ট্যাবলো বাদ, মোদিকে চিঠি মমতার

ট্যাবলো বাদ, মোদিকে চিঠি মমতার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লিখেছেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমি ব্যথিত। শুধু আমি নই, রাজ্যের সব বাসিন্দা মর্মাহত।’

ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এবারও পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার মমতা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমি ব্যথিত। শুধু আমি নই, রাজ্যের সব বাসিন্দা মর্মাহত।’

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের অবদান চিরস্মরণীয়। রাজ্যের ট্যাবলো এভাবে বাতিল করায় সবাই শোকাহত।’

ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন উদযাপন করছে কেন্দ্র সরকার। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন্দ্রের থিম ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’। অন্যদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের থিমের নাম দেয়া হয়েছে ‘নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনী’।

নেতাজি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ট্যাবলোতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, শ্রী অরবিন্দ, মাতঙ্গিনী ও অন্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তুলে ধরার কথা ছিল।

এই প্রথমবার নয়। গত বছরও দিল্লির কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

শেয়ার করুন