খালেদা ইস্যু: নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি

player
খালেদা ইস্যু: নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি

বিএনপির সমাবেশের আগের দিন সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে গত ২০ নভেম্বর নয়াপল্টনে অনশন শেষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে অবশ্য মঙ্গলবারের এই সমাবেশের কথা ছিল না।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে এই সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। সমাবেশের আগের দিন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেয়ার দাবিতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি।

দণ্ড স্থগিত করে ২০২০ সালে বিএনপি নেত্রীকে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগ করে দেয়া হয় দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সে আদেশে শর্ত হিসেবে দেশের বাইরে না যাওয়ার কথা বলা ছিল।

তবে গত এপ্রিলে করোনা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে একদফা এবং সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরেক দফা আবেদন করা হয়।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা একবার প্রয়োগ করার পর দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

বিএনপি অবশ্য এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। তাদের নেত্রীর লিভার সিরোসিস হয়েছে- এই বিষয়টি জানিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির মতো দেশেই এর চিকিৎসা আছে। বিদেশে পাঠাতে দেরি হলে বিএনপি নেত্রীকে বাঁচানো যাবে না- এমন শঙ্কার কথাও বলছেন নেতারা।

বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে গত ২০ নভেম্বর নয়াপল্টনে অনশন শেষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে অবশ্য মঙ্গলবারের এই সমাবেশের কথা ছিল না।

সোমবার সকাল থেকেই বিএনপিতে আলোচনা ছিল একটি সমাবেশ ডাকা হবে। তবে পুলিশের অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয়ও ছিল। সেটি কেটে যাওয়ার পরেই মূলত গণমাধ্যমের সামনে আসেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, মুহাম্মদ মনির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফের করোনায় আক্রান্ত যুবলীগের নিখিল

ফের করোনায় আক্রান্ত যুবলীগের নিখিল

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথমার্ধেও আক্রান্ত হয়েছিলেন নিখিল। গত কয়েক দিন ধরে হালকা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি করোনা পরীক্ষা করান। তাতে ফলাফল ফের পজিটিভ আসে।

দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বুধবার তার করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী।

বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিখিল মিরপুরের বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিখিলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথমার্ধেও আক্রান্ত হয়েছিলেন নিখিল। গত কয়েক দিন ধরে হালকা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি করোনা পরীক্ষা করান। তাতে ফলাফল পজিটিভ আসে।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘ইসি আইন নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তার দাবি, আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন।

বুধবার দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইসি আইন নিয়ে যে খসড়া অনুমোদিত হয়েছে, সে সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারাসহ একটি চিহ্নিত মহল ইসি আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার করছে। দেশের বিশিষ্টজন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের নির্দেশনা মেনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সেখানে বিএনপি ও তাদের দোসর দেশবিরোধী অপশক্তি দূরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘সংসদীয় রীতি অনুযায়ী খসড়া আইনটি সংসদে উত্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে সংসদের বৈঠকে উঠবে।

‘সংসদীয় বিধান অনুযায়ী সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি চূড়ান্ত হবে। জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল ও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। অথচ গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার না মেনে আগে থেকেই বিএনপি নেতারা এই আইন নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।’

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান সব সময়ই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াবিরোধী বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারই হলো বিএনপির রাজনৈতিক গতিপথ। তাই বিএনপি নেতারা ইসি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত না জানিয়ে এটি নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই আইন প্রণয়ন নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি করা হয়নি। রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি ও প্রক্রিয়াকে ভয় পায় বলেই বিএনপি সংলাপে অংশ নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে ইসি আইনের দাবি জানিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ২০১২ ও ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ওই দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দল ইসি আইন প্রণয়নের দাবি জানায়। বিএনপিও তখন একই দাবি জানিয়েছিল।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংলাপে আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সংলাপে অংশ নিয়ে এই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খাবার বিতরণ জবি ছাত্রদলের

জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খাবার বিতরণ জবি ছাত্রদলের

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বুধবার জবি এলাকায় খাবার বিতরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে বুধবার দুপুরে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে খাবার বিতরণ করা হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতারা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে বুধবার দুপুর ১টার দিকে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে খাবার বিতরণ করা হয়।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নেতা কাওছার হামিদ খান, মিহির বিশ্বাস, মো. নাহিদ চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, নাছিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ, জামাল সাগর, মাহবুব, জাহিদ হাসান, আজিজুর রহমান, তৌহিদ চৌধুরী, রাকিব হাসান, সুমন রাজাসহ অনেকেই।

খাবার বিতরণ নিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গরিব, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে। আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বর্তমান বগুড়ায় জন্ম হয় জিয়াউর রহমানের।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: মোশাররফ

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: মোশাররফ

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের যে গণতন্ত্র হত্যা করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, চুরি-ডাকাতি করে এ দেশের অর্থনীতি লুণ্ঠন করছে- এগুলো যাতে ধামাচাপা দেয়া যায় সে জন্য তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে ১৪ বছর ধরে। এটা যখন পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে, আজকে এই সরকার এ ধরনের একটি মিথ্যা-বানোয়াট কতগুলো ডকুমেন্ট দিয়ে তার শুধু জবাব দেয়ার জন্য বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে। এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।'

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি টাকা পাঠাতে বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করেছে কি না- বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়ার পরদিন দলটির পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো।

বুধবার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা বলতে চাই- এই যে অভিযোগ (বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ), এটা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যখন আমেরিকা থেকে দেশের একটি সংস্থা এবং এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, যখন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সামিটে দাওয়াত পায় না, তখন কিন্তু আজকে এই কথাগুলো উঠছে। আমাদের প্রশ্ন আগে কেন এগুলো ওঠেনি?’

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার পর মঙ্গলবারও একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে তিনটি ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। যার মূল ঠিকানায় বিএনপির পুরানা পল্টনের অফিসের নাম দেয়া হয়েছে।’

‘বিএনপির হয়ে যিনি চুক্তি করেছেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার এবং একটি লবিস্ট কোম্পানির নাম ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক এলএমসি। ২০১৮ সালে করা এ চুক্তিতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সব মিলিয়ে দলটি তিনটি চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’

বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, ‘নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে আওয়ামী লীগ সরকারই ৪ বছর ধরে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের যে গণতন্ত্র হত্যা করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, চুরি-ডাকাতি করে এ দেশের অর্থনীতি লুণ্ঠন করছে- এগুলো যাতে ধামাচাপা দেয়া যায় সে জন্য তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে ১৪ বছর ধরে। এটা যখন পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে, আজকে এই সরকার এ ধরনের একটি মিথ্যা-বানোয়াট কতগুলো ডকুমেন্ট দিয়ে তার শুধু জবাব দেয়ার জন্য বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে। এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।'

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শিগগিরই সংবাদ ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান বিএনপি নেতা।

বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, ফরহাদ হালিম ডোনার, যুবদল নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, এস এম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

বহিষ্কৃত হলেও বিএনপির পাশে থাকব: তৈমূর

বহিষ্কৃত হলেও বিএনপির পাশে থাকব: তৈমূর

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি একজন সমর্থক ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে যাব।’

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও দলটির সমর্থক হিসেবে রাজনীতি করে যাবেন বলে জানিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরের দিন বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তৈমূর বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি একজন সমর্থক ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে যাব।’

বহিষ্কৃত হলেও দলের প্রতি খেদ নেই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের। জানালেন, দলের প্রতি তার আনুগত্যও অটুট আছে। তিনি বলেন, ‘দল আমার ব্যাপারে যে সিধান্ত নিছে, আমি সে ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করব না। কারণ আমি দলের প্রতি অনুগত।

‘এখন আমার দায়িত্ব হলো, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জনমত গড়ে তোলা এবং ডাকাতির বাক্স ইভিএম এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। আমি সকল রাজনৈক দলকে অনুরোধ করব, এই ইভিএমের মাধ্যমে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে।’

তৈমূরের মতে, দেশের বর্তমান আমলাতন্ত্রের কাছ থেকে একটা সুষ্ঠু ভূমিকা আশা করা যায় না। ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনে গেলে কোনো লাভ হবে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দল বিএনপি। তারা সিটিতে প্রার্থী দেয়নি। তবে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করার কথা জানালে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় দলটি।

১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৭ হাজার ভোটে হেরে যান তৈমুর আলম। পরে অভিযোগ তোলেন ইভিএম মেশিনে কারসাজি করে তাকে হারানো হয়েছে। অবশ্য নির্বাচনের পরের দিনই তিনি ফল মেনে নিয়ে মেয়র আইভীর সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার কথা জানান।

মঙ্গলবার দিনই বিএনপি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নতুন কোনো দলে নাম লেখাবেন কি না, এমন প্রশ্ন রাখা হয় তৈমূরের কাছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তো দল পরিবর্তন করব না। তবে আমি মানুষের জন্য কাজ করব। বিএনপি যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে। দল যেহেতু আমাকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিছে, তাই আমার হাতের সামনে যে দুইটা কাজ সে দুইটা করব। আর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য রাজনীতি করব।

‘আমি বিএনপির সমৃদ্ধি কামনা করি। তারেক জিয়ার বাংলাদেশে আগমন কামনা করি; তার সুস্বাস্থ কামরা করি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব, আপনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমুতি দেন, ইতিহাসে আপনার নামটা লেখান।’

দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কেন নির্বাচন করেছেন তারও ব্যাখ্যা করলেন তৈমূর আলম খন্দকার। বলেন, ‘দল না চাইলেও নারায়ণগঞ্জের খেটে খাওয়ার মানুষের চাপে আমি নির্বাচন করেছি। সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থপনা এবং খেটে খাওয়া মানুষের পুর্নবাসন না করে উচ্ছেদসহ নানা কারণে আমি প্রার্থী হয়ে ছিলাম।

‘আমি আমার স্ত্রী ও মেয়েকে প্রস্তাবকারী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেই। দলের অনেকে আমাকে নির্বাচনে থাকতে ফোন করেছে, এসএসএস করে উৎসাহ দিয়েছে। দল থেকে কোনো বাধা আসেনি।’

তৈমূর আরও বলেন, ‘দল থেকে আমাকে কখনও বলা হয় নাই, নির্বাচনে যাবা না। দলের পল্টন অফিস থেকে কোনো কোনো নেতা বলেছেন নেতা-কর্মীদের আমার পক্ষে না যেতে। আমার পক্ষে না গেলে কার পক্ষ যাবে বিএনপির লোকজন। সেক্ষেত্রে ভোটটা তো নৌকার পক্ষেই যায়।’

নির্বাচনে তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমার সঙ্গে যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি এ টি এম কামালের সঙ্গে যা হইছে তা ঠিক হয়নি। কারণ, এমন একটা ত্যাগী কামাল তৈরি হবে না।

‘আমার কোনো চিন্তা নাই। আমার এখন একটাই চিন্তা, নির্বাচনের সময় আমার যেসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ছাড়ানো। তারা ছাড়া পেলে আমার চিন্তা শেষ।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হেরে যাওয়ার বেদনার মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় তৈমূরকে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

রুহুল কবীর রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে আগেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচন প্রশ্নে দল যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা না মেনে তিনি নির্বাচনে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাকে দুটি পদ অব্যাহতি দেয়ার পর এবার বিচার-বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে যদি বহিষ্কার করে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। দুইটা বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মহামারি লাগছে। দুইটা রাজনৈতিক দলেই বহিষ্কার-অব্যাহতির হুমকি চলছে। এই দুইটা দলের যারা ত্যাগী নেতাকর্মী, তাদের আল্লাহর কাছে পানা চাওয়া উচিত, জালালি খতম পড়াইয়া।’

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে কথা কথা বলছেন তৈমূর।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার বেদনার মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন।

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে কথা বলছেন তৈমূর।

মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হারের পর ‘তৈমূরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী’ শিরোনামে নিউজবাংলায় খবর প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন তৈমূর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

রুহুল কবীর রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে আগেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচন প্রশ্নে দল যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা না মেনে তিনি নির্বাচনে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাকে দুটি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এবার বিচার-বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে তৈমূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে যদি বহিষ্কার করে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। দুইটা বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মহামারি লাগছে। দুইটা রাজনৈতিক দলেই বহিষ্কার-অব্যাহতির হুমকি চলছে। এই দুইটা দলের যারা ত্যাগী নেতাকর্মী, তাদের আল্লাহর কাছে পানা চাওয়া উচিত, জালালি খতম পড়াইয়া।’

তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৈমূরের ছোট ভাই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে উড়িয়ে দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট। যারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন, তার অর্ধেক ভোটার কেবল রায় দিয়েছেন তৈমূরের পক্ষে। তিনি মেয়র পদে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৫৪টি। বিজয়ী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জিতেছেন এই এলাকাতেও। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার তার নিজ এলাকা ১৩ নং ওয়ার্ডেও জিততে পারেননি। তবে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তৈমূরের মার্কা হাতিতে যত ভোট পড়েছে, তার ভোট ছাই খোরশেদের ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট পড়েছে তার দ্বিগুণ।

অর্থাৎ খোরশেদকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী আইভীকে।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রে মেয়র পদে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২৫৪ টি ভোট পেয়েছেন তৈমূর। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী খোরশেদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট, যা তৈমূরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই ওয়ার্ডে তৈমূরের চেয়ে কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার নৌকায় সমর্থন জানিয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১ জন।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে বেশি ভোট পেয়েছেন তৈমূর, ৬টিতে বেশি পেয়েছেন আইভী। আর ১২টি কেন্দ্রেই তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তার ভাই খোরশেদ।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গো হারা হেরেছেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহ। তিনি ১ হাজার ২২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমূরের ছোট ভাই ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ ভোট দেয়। করোনার সময় মানুষ আমাকে পাশে পেয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ স্থানীয়রা জনগণ দলমত-নির্বিশেষে আমাকে ভোট দিয়েছে।’

মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষ একই নীতিমালায় ভোট দিয়েছে বলে মনে করেন খোরশেদ। তিনি বলেন, ‘আগে যিনি মেয়র ছিলেন তার কাজগুলো দেখে তাকে স্থানীয়রা ভোট দিয়েছেন।’

নিজ এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী ছোট ভাইয়ের চেয়েও কম ভোট পাওয়ার বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। খোরশেদও জানিয়েছেন তিনি বাড়িতে বিশ্রাম করছেন।

ভোটের পরে এক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর তার পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইভিএমকে দেখিয়েছিলেন। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না দেখিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ইভিএম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে হেরেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত রোববার ১৯২টি কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৬৭ হাজার।

এ নিয়ে আইভী টানা চারবার ভোটে জিতলেন। এর মধ্যে ২০০৩ সালে পৌরসভার মেয়র এবং ২০১১, ২০১৬ সালের ধারাবাহিকতায় এবার সিটি করপোরেশনের মেয়র হলেন।

চারবারই আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার ধারেকাছেও আসতে পারেননি। তবে সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে তৈমূরই সবচেয়ে কম ভোটে হেরেছেন।

কোন কেন্দ্রে কত ভোট

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯৭৬টি। অন্যদিকে এখানে খোরশেদ ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬৮১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৮১৪ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম ভোট পেয়েছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর ভোট পেয়েছেন ৭৭৪টি। খোরশেদ এখানে পেয়েছেন এক হাজার ২৫২ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫০৬ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

আদর্শ স্কুল ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৬৭টি। এখানে কাউন্সিলর পদে খোরশেদের ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৫৯৬ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর পেয়েছেন ৩৫২ ভোট, খোরশেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪৯২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-৩ এ তৈমূর পেয়েছেন ৬৮০ ভোট, অন্যদিকে খোরশেদ পেয়েছেন ১০৩৮ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৬২টি, অর্থাৎ আইভী এখানে তৈমূরের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল এম এ মাদ্রসা ঈদগাহ ভোটকেন্দ্রে তৈমূরের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৯৮২ জন ভোটার। তবে তার ভাইয়ের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫২৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-১ কেন্দ্রে তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৬৪৪ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদ পছন্দের ছিলেন ১ হাজার ৭৯ জনের কাছে।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫৯০টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-২ এ তৈমূর রায় পেয়েছেন ৪৯১ জন ভোটারের। খোরশেদ রায় পেয়েছেন ৭৮৯ জনের।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪১২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম।

৩৯ নং আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় খোরশেদ ভোট পেয়েছেন তিন গুণ।

এই কেন্দ্রে মেয়র পদে হাতি মার্কার পাশে ছিলেন ৪৯৩ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদের পাশের ছিলেন ১ হাজার ৪১৯ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের দ্বিগুণের বেশি।

নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় তিন গুণ ভোটার পছন্দ করেছেন খোরশেদকে। এই কেন্দ্রে হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৮৯টি। অন্যদিকে ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৯৬১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৭৪৪টি, অর্থাৎ তৈমূরের আড়াই গুণের বেশি।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোট কেন্দ্র-১ এ তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৭৭৭ জন ভোটার। খোরশেদকে বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৯০৬টি। এখানেও তিনি তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূরের পক্ষে ইভিএমে বাটন টিপেছেন ৫২৯ জন। খোরশেদের পক্ষে টিপেছেন তার দ্বিগুণ সংখ্যক ভোটার। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৭০ জন।

এই কেন্দ্রেও তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার পক্ষে রায় দিয়েছেন ৬১৪ জন।

আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
রাজপথে শিক্ষার্থী: সমাধান সহজ  
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

শেয়ার করুন