করোনায় সাত বিভাগে মৃত্যু শূন্য

player
করোনায় সাত বিভাগে মৃত্যু শূন্য

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

করোনাভাইরাসের সাউথ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর বিস্তার রোধে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবিষয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করবে। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নতুন নির্দেশনা দিবেন।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে কেবল দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি অন্য সাত বিভাগে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২২৭ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সোমবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১১ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৬টি ল্যাবে ১৬ হাজার ৮৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩৪।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত দুইজনই পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৮০ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৫৭৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই মাস নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরে নেয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

তবে করোনাভাইরাসের সাউথ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসটি আগে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিস্তার রোধে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবিষয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করবে। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নতুন নির্দেশনা দিবেন।

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলেও বিধিনিষেধ মানছে না মানুষ। ফাইল ছবি

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে। একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে।’

এখনই সতর্ক না হলে করোনা পরিস্থিতি বিপর্যয় নিয়ে আসবে বলে সতর্ক করেছে সরকার। সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের নির্দেশনা মানতে জনগণের মধ্যে অনীহার কারণে এবার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

পাঁচ দিন ধরে বিধিনিষেধে জীবনযাত্রায় দৃশ্যত কোনো পরিবর্তন না আসার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আর দু-এক দিন দেখে সরকার অ্যাকশনে যাবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আগে দু-এক দিন অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করব, তারপর আমরা একটু অ্যাকশনে যাব। কারণ প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আমরা দেখতে চাচ্ছি ওনারা (জনগণ) মানেন কি না।’

সচিব বলেন, ‘অলরেডি আমরা প্রশাসনকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ওয়াচ করতে বলেছি। তারপর ইনশাল্লাহ আমরা কাল-পরশুর মধ্যে কিছু একটা চেষ্টা করব।’

দেশে করোনার দুটি ঢেউয়ে মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এবার দরজায় কড়া নাড়ছে তৃতীয় ঢেউ। দেশে যে তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, সেই লক্ষণ স্পষ্ট। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে নীতিমালা, সেটি অনুসারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসতে আর দু-এক দিন সময় লাগবে।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথমবারের মতো তা ৫ শতাংশ ছাড়ায় গত ৭ জানুয়ারি। সেদিন থেকে টানা বাড়তে বাড়তে সংক্রমণের হার সোমবার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর তিন দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই তৃতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। কারণ নীতিমালা অনুযায়ী টানা দুই সপ্তাহ ৫-এর বেশি সংক্রমণের হার হলে করোনার ঢেউ ধরা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ দেয়। তবে এগুলো পালন হচ্ছে না বললেই চলে। আবার এ নিয়ে সরকারের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে।

অফিস চলছে পূর্ণ লোকবল দিয়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চালু স্বাভাবিক নিয়মে। এর মধ্যে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী তোলার নির্দেশনা আসার পর ভোগান্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে জানানো হয়, বাসে প্রতি আসনেই যাত্রী উঠবে। তবে ট্রেনে আবার প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী তোলা হচ্ছে।

জানানো হয়েছে, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো সমাবেশ করা যাবে না। এর মধ্যে ভোট হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বেশ কয়েকটি পৌরসভায়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপের প্রচারও চলছে।

বাণিজ্য মেলাতেও প্রতিদিন ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। করোনার টিকার সদন ছাড়া রেস্টুরেস্টে যাওয়া যাবে না- এই নির্দেশনা কাগুজে বাঘ হয়ে আছে। টিকা ছাড়া স্কুল নয়, এমন সিদ্ধান্তও রাখা যাচ্ছে না। কারণ সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাচ্ছে না।

মাস্ক পরায় মানুষের মধ্যে যে অনীহা আগেও দেখা গেছে, সেখান থেকে কোনো উত্তরণ দেখা যায়নি। সরকার এ বিষয়ে কঠোর হবে ঘোষণা দিলেও প্রশাসনের তৎপরতাও কম। বাসে আসনপ্রতি যাত্রীর বদলে অফিস সময়ে উপচে পড়ছে যাত্রী।

এই অবস্থায় বিধিনিষেধে জনজীবনে আদৌ কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, এ নিয়ে কথা উঠেছে।

করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় মৃত্যু এবার কম। আর এখন ছড়াচ্ছে ওমিক্রন নামে নতুন একটি ধরন, যার প্রভাবে সারা বিশ্বেই মৃত্যু কম। তবে এখনও দেশে করোনার প্রধান ধরন প্রাণঘাতী ডেল্টা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে। আমরা ওমিক্রনকে (করোনার নতুন ধরন) সে রকম বিপজ্জনক মনে করছি না। আমাদের কিন্তু কম বেশি ৮০ শতাংশ কিন্তু ডেল্টা ভেরিয়েন্ট।

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে।’

‘একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে’-সতর্ক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সচিব বলেন, ‘দেখেন,অলরেডি ১৭ শতাংশের বেশি হয়ে গিয়েছে। আগের বার কিন্তু এক মাসেই ৩০ শতাংশ হয়েছে। এখন ১৫ দিনেই ১৮ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।

‘সুতরাং এটা কোনোভাবেই যদি আমরা কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস, কমিউনিটি সেফটি মেজার যদি আমরা না কভার করি,মাস্ক না পড়লে কোনোভাবেই এটা ঠেকানো সম্ভব না। এটা মানুষকে বুঝতে হবে।’

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

গাঁজা প্রতিরোধ করে করোনা সংক্রমণ, দাবি গবেষকদের

গাঁজা প্রতিরোধ করে করোনা সংক্রমণ, দাবি গবেষকদের

গাঁজা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করবে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। সংগৃহীত ছবি

গবেষকদের দাবি, গাঁজার দুটি যৌগ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের বিভিন্ন অংশকে দ্রুত বেঁধে ফেলতে সক্ষম। মানবকোষের ভেতর করোনাভাইরাস আর ঢুকতে পারবে না। ফলে সংক্রমণও হবে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। করোনাকে রুখতে বিজ্ঞানীরা করে চলেছেন নানা গবেষণা। নতুন নতুন তথ্য তারা মানবজাতির সামনে আনছেন। এবার তারা দাবি করেছেন, গাঁজার ভেতরে থাকা দুটি রাসায়নিক যৌগ করোনা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এমন দাবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘জার্নাল অফ ন্যাচারাল প্রডাক্টস’-এ এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভাইস ডটকম।

গাঁজায় থাকা ওই দুটি রাসায়নিক যৌগ প্রকৃতপক্ষে দুটি অ্যাসিড। একটির নাম ক্যানাবিগেরোলিক অ্যাসিড (সিবিজিএ) ও অন্যটি ক্যানাবিডায়োলিক অ্যাসিড (সিবিডিএ)।

গবেষকদের দাবি, গাঁজার এ দুটি যৌগকে ব্যবহার করে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নতুন ওষুধ আবিষ্কার করা যেতে পারে। এতে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা অনেক দিন থেকে এমন কিছু আবিষ্কারের কথা ভাবছিলেন, যা করোনাভাইরাসের বাইরের দিকে থাকা স্পাইক প্রোটিনকে মানবকোষে ঢুকে যাওয়ার আগেই অকার্যকর করে ফেলবে।

গবেষকদের দাবি, গাঁজার ওই দুটি যৌগ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের বিভিন্ন অংশকে দ্রুত বেঁধে ফেলতে সক্ষম। মানবকোষের ভেতর করোনাভাইরাস আর ঢুকতে পারবে না। ফলে সংক্রমণও হবে না।

গাঁজা অনেক সেবন করলেই যে করোনার সংক্রমণ রুখে দেয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। গবেষকরা বলছেন, করোনার টিকার সঙ্গে সিবিজিএ ও সিবিডিএ যৌগ দুটি মিলিয়ে চিকিৎসা করা গেলে এটি বেশি কার্যকর হবে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওই দলের গবেষক রিচার্ড ব্রিমেন বলেছেন, ‘গাঁজায় যে দুটি যৌগকে আমরা করোনা সংক্রমণ রুখে দিতে দেখেছি, দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো অন্য চিকিৎসায় কাজে লাগে। তবে এই দুটি যৌগ যে করোনার সংক্রমণও দ্রুত রুখে দিতে পারে, তা এই প্রথম জানা গেল।’

রিচার্ড ব্রিমেনের দাবি, করোনাভাইরাসের আলফা ও বিটা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে গাঁজার যৌগ দুটি সমানভাবে কার্যকর।

এই দুটি অ্যাসিডের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে নতুন ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব বলে জানান রিচার্ড ব্রিমেন। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও গাঁজায় থাকা দুটি অ্যাসিড কার্যকর হবে বলে আশাবাদী এই গবেষক।

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

হলি ফ্যামিলিতে বিনা মূল্যে হাঁটু প্রতিস্থাপন শুরু

হলি ফ্যামিলিতে বিনা মূল্যে হাঁটু প্রতিস্থাপন শুরু

রাজধানীর হলি ফ্যামিলিতে শুরু হয়েছে হাঁটু প্রতিস্থাপন। ছবি: নিউজবাংলা

হলি ফ্যামিলির সহকারী অধ্যাপক ও অর্থোপেডিক সার্জন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, ‘যেসব মানুষের হাঁটু বা কোমরের জয়েন্ট নষ্ট হয়ে গেছে ও চলাফেরা করতে পারছেন না, অপারেশনের মাধ্যমে তাদের হাঁটু বা কোমরের জয়েন্ট কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপন করে দেয়া হবে।’

রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনা মূল্যে কৃত্রিম হাঁটু ও কোমরের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ জন দুস্থ ও অসহায় রোগীকে বিনা মূল্যে হাঁটু ও কোমরের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করে দেয়া হবে।

হলি ফ্যামিলির সহকারী অধ্যাপক ও অর্থোপেডিক সার্জন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সাইফুল ইসলাম সাইফের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ নিয়ে সাইফুল বলেন, ‘যেসব মানুষের হাঁটু বা কোমরের জয়েন্ট নষ্ট হয়ে গেছে ও চলাফেরা করতে পারছেন না, অপারেশনের মাধ্যমে তাদের হাঁটু বা কোমরের জয়েন্ট কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপন করে দেয়া হবে।’

চিকিৎসক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দেশ অনেক কিছু দিয়েছে জানিয়ে ডা. সাইফুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, যখন দেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে যেসব দুস্থ, অসহায় ও গরিব মানুষের হাঁটু বা কোমরের জয়েন্ট নষ্ট হয়ে গেছে, তারা পরিবার, সমাজ তথা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো স্থবির এই সমস্ত মানুষকে এই দুঃসহ অবস্থা থেকে সারিয়ে তোলে তাদের গতিশীল করা।’

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আবদুল ওয়াহহাবের উদ্যোগে আগে আসলে আগে অস্ত্রোপচারের ভিত্তিতে বিনা মূল্যে কৃত্রিম হাঁটু ও কোমরের হাড় প্রতিস্থাপন এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত ডা. সাবরিনা আহমেদ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে সবকিছু মিলে এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় সাড়ে তিন লাখ টাকার উপরে দরকার হয়, যার মধ্যে কৃত্রিম হাঁটু বা কোমর জয়েন্টের মূল্য দেড় লাখ টাকা ও সার্জনের অপারেশন ফি এক লাখ টাকা আর বাকিটা হাসপাতালের খরচ।’

ডা. সাইফুল জানান, সহযোগিতা পেলে তিনি শুধু ১০০ মানুষকে নয়, ভবিষ্যতে ১ হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে ও বিনা পারিশ্রমিকে এই সেবা দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে সহায়তা করতে চান।

তিনি এ উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

এখনও লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসেনি: মীরজাদী

এখনও লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসেনি: মীরজাদী

করোনা পরিস্থিতি বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। ছবি: নিউজবাংলা

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। এখন পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

করোনা সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের বেশি হলেও এখনও লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ কথা জানান।

করোনা শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি হওয়ায় গত বছর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। আজ করোনা শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে লকডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। এখন পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।

‘সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুধু করোনা শনাক্তের হার বা সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। জীবিকা ও অর্থনীতির বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়।’

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লকডাউন দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এমন পরিস্থিতি আমরা তৈরি করব না যাতে লকডাউন দিতেই হয়।’

সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এতে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংক্রমণ রোধে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শুধু পরীক্ষা ও শনাক্ত করলেই চলবে না। ’

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্ত ২ বিভাগীয় কমিশনার ও ৫ ডিসি

করোনা আক্রান্ত ২ বিভাগীয় কমিশনার ও ৫ ডিসি

প্রতীকী ছবি

যে ডিসিরা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কক্সবাজার, রাজশাহী, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে আছেন। আর কমিশনার দুজন হলেন রাজশাহী ও বরিশালের।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরুর আগের দিন দুজন বিভাগীয় কমিশনার ও পাঁচজন জেলা প্রশাসকের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সচিবালয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ সম্মেলন ডিসি সম্মেলন। এতে অংশ নেবেন বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা। করোনার কারণে গত দুই বছর এই সম্মেলন আয়োজন করা যায়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ডিসিদের আমরা নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি ডিসি, তার গানম্যান ও ড্রাইভার এবং সঙ্গে যারা আসবেন তাদের অবশ্যই আরটি-পিসিআর টেস্ট করে আসতে হবে। এরই মধ্যে পাঁচজন ডিসি ও দুজন বিভাগীয় কমিশনার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

‘একদিকে এটা ভালো হয়েছে। টেস্ট করানোর ফলে তারা ডিটেক্ট হয়েছেন, না হলে কিন্তু ডিটেক্ট হতেন না। যে ডিসিরা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কক্সবাজার, রাজশাহী, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে আছেন। আর কমিশনার দুজন হলেন রাজশাহী ও বরিশালের।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বলে দেয়া হয়েছে, এখানে যাতে এক-দুজনের বেশি না বসেন। সবাইকে টেস্ট করতে হবে। যারা পজিটিভ হবেন সব বাসায়।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মঙ্গলবার সকাল ১০টায়। সন্ধ্যার পর রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছো বক্তব্য দেবেন। ১৯ জানুয়ারি বক্তব্য দেবেন স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি।’

তিনি বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে আমরা আয়োজনটা ওসমানী মিলনায়তনে নিয়ে গিয়েছি, যাতে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও কাউকে দাওয়াত দেয়া হয়নি।

‘১৫ জন মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়কে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। অন্যান্য যে অধিবেশনগুলো হবে সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা থাকবেন। তারা স্টেজে থাকবেন আর জেলা প্রশাসকরা থাকবেন নিচে বসার জায়গায়।

‘এটা প্রায় ছয়-সাত শ মানুষের বসার জায়গা, সেখানে তারা বসবেন। যেখানে সাতশ মানুষ বসেন সেখানে আমরা ৬৪ জনকে বসাচ্ছি।’

করোনার মধ্যেও কেন ডিসি সম্মেলন- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন যেহুতু, আমরা সব কিছু প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দিতে চাই না। আমরা যখন ভিডিও কনফারেন্সিং করি তখন অফলাইনে ডেডিকেটেড ফ্রিকোয়েন্সিতে করি। সম্মেলন কিন্তু আমরা সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছি। পাঁচ দিনের জায়গায় তিনদিন।’

এবারের সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, করোনা মোকাবিলা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন ও দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

করোনায় মৃতদের ৮০ শতাংশ টিকা নেননি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনায় মৃতদের ৮০ শতাংশ টিকা নেননি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সসীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘আজ বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ বিষয়ে বলেছেন। যাদের বয়স ৫০ বছরের মধ্যে তাদের সবাইকে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করা শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনা হবে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি যারা মারা যাচ্ছেন তাদের ৮০ শতাংশই টিকা নেননি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশে সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের ৮০ শতাংশই টিকা নেননি। আমাদের টিকার কোনো অভাব নেই। আপনারা টিকা নিন, সুস্থ থাকুন।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্তের হার ঢাকায় বেশি বলে জানান স্বাস্থ্যের ডিজি। বলেন, ‘ঢাকা শহরে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত বাড়ছে। তবে অন্য শহর বা গ্রামে এ ধরনে শনাক্ত এখনও অনেক কম।’

দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা শনাক্তের হার প্রতিদিন বাড়ছে। আজও করোনা শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর হারও। আজ করোনা শনাক্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন।’

করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সসীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ বিষয়ে বলেছেন। যাদের বয়স ৫০ বছরের মধ্যে তাদের সবাইকে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করা শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন

২০ পেরোল শনাক্ত হার, মৃত্যু ১০

২০ পেরোল শনাক্ত হার, মৃত্যু ১০

গত এক দিনে দেশের ৮৫৫ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৮০টি। শনাক্ত হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৬৭৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা ১৮ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। আক্রান্তদের মধ্যে এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। বেড়েছে শনাক্ত হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৫৪ জনের।

গত এক দিনে দেশের ৮৫৫ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৮০টি। শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ চার, নারী ছয় জন। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ২ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১, ষাটোর্ধ্ব ৩ এবং ৭০ বছরের বেশি ৪ জন।

মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে ৭ জন মারা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ জন ও বরিশাল বিভাগে ১ জনের মৃত্যু সংবাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে শনাক্ত-মৃত্যু

করোনা সংক্রমণ এক সপ্তাহ ব্যবধানে (১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি) মৃত্যু বেড়েছে ৬৮ শতাংশ ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহ (৩ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছিল ৭ হাজার ২৩৪ জন।

সবশেষ এক সপ্তাহে সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১১ জন। এ সময়ে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৫ জনের মৃত্যু সংবাদ আসলেও এই সপ্তাহে তা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।

দেশে প্রতিদিন যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টার এই বিভাগে ২০ হাজার ৯৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭৮৯ জনের দেহে।

গত ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ৭ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর প্রতিদিনই শনাক্তের হার বেড়েছে। একদিন ছাড়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে প্রতিদিন। চলতি বছরের প্রথম ১৭ দিনে করোনা শনাক্তের হার ৭ গুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২০৫
যুক্তরাজ্য ইতালি জার্মানিতে ওমিক্রনের হানা
‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল
যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ২

শেয়ার করুন