খালেদা ইস্যুতে কূটনীতিকদের অবস্থান জানাল সরকার

player
খালেদা ইস্যুতে কূটনীতিকদের অবস্থান জানাল সরকার

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। তিনি একজন বন্দি তাই আইনানুযায়ী তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে। দেশের যে কোনো স্থানেই তিনি চিকিৎসা নিতে পারেন। বিদেশে থাকা কোনো চিকিৎসক যদি মনে করেন তবে তিনি চিকিৎসা দিতে দেশে আসতে পারেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান বিদেশি কূটনৈতিকদের কাছে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সোমবার অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রদূত ও তাদের প্রতিনিধিদের ব্রিফ করেন তিনি।

এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। তিনি একজন বন্দি তাই আইনানুযায়ী তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে। দেশের যে কোনো স্থানেই তিনি চিকিৎসা নিতে পারেন।

‘কিন্তু তিনি যদি বিদেশে যেতে চান তাহলে এরজন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এরজন্য আমরা আশা করি, তার ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে যে কোনো চিকিৎসককেই আনতে পারেন। তার সব মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো চিকিৎসক যদি মনে করেন তবে তিনি চিকিৎসা দিতে দেশে আসতে পারেন।’

এ সময় সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংতার বিষয়গুলোও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছি। সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই হাজার দুইশটিতে নির্বাচন শেষ হয়েছে। গতকাল এক হাজার ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে যেগুলোতে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি প্রার্থী ছিলেন।

‘আমরা খুবই আনন্দিত যে নির্বাচনগুলো খুবই অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। ভোটারদের অংশ গ্রহণও ছিল অনেক বেশি। তবে এর মধ্যেও কয়েকটি জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। আমরা কোনো পর্যায়ের নির্বাচনেই সহিংসতা চাই না, কিন্তু আমি জানি না এটা কীভাবে করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক নেতাদেরই বলেছি, সমর্থকদের উত্তেজিত করবেন না। তাদের সহিংসতা বন্ধ করা উচিত। তাদের মনোযোগ হওয়া উচিত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। ভোটাররা কখনই ভুল করেন না। লাখো মানুষ ভোট দিচ্ছে এবং অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ।

‘সরকার কোনটিতেই হস্তক্ষেপ করেনি। প্রধান বিরোধী দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয় নি কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের অনেক প্রার্থী ছিল যাদের অনেকেই বিজয়ী হয়েছেন।’

এ সময় দেশের কোভিড পরিস্থিতি সম্বন্ধেও বিদেশি কূটনীতিকদের ধারনা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে ঢাকায় থাকা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। আপনারা জানেন, কোভিড সংক্রমণের কারণে অনেক দিন ধরেই তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি। আজকে একটা সুযোগ পেয়েছি ঢাকার সব কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলার।

‘আমি তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবহিত করেছি যার মধ্যে একটি ছিল কোভিড পরিস্থিতি। এখন কোভিড পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আমরা এরই মধ্যে ১০ কোটিরও বেশি টিকা দিয়েছি। প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি টিকা দেয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও কোভিড আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে তারপরেও এর নতুন একটি ধরন যেটি সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছে এরজন্য আমাদের দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

‘আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়েও কথা বলেছি। এবারই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা নিয়ে একটি রেজুলেশন জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে। ১৯৩ দেশের কেউই এটির বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। এরজন্য সব দেশকেই ধন্যবাদ জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।

আদালত নতুন তারিখ দিয়েছে আগামী ৮ মার্চ।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি।

আর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ রয়েছে জানিয়ে শুনানি পেছানোর জন্য সময় চান তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৮ মার্চ শুনানির জন্য পরের তারিখ দিয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানান খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এর মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুদকের করা অন্য দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় যান।

পরে চিকিৎসার জন্য তাকে নেয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেই এখন তার চিকিৎসা চলছে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার উৎস কী: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার উৎস কী: তথ্যমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি

হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘এই অর্থের কোনো হিসাব তারা নির্বাচন কমিশনে দেয়নি। তারা কোথা থেকে এই টাকা পেল তা নির্বাচন কমিশন ও ট্যাক্স বিভাগ খুঁজে দেখতে পারে। প্রয়োজনে তাদের তলব করতে পারে।’

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর প্রোপাগান্ডা চালাতে নিয়োগ করা লবিস্টদের পেছনে গত তিন বছরে যে অর্থ খরচ করেছে তার উৎস বের করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিদেশে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ এবং অর্থ প্রদানের বিষয়ে সব প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে ১২টি নবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গত ৩ বছর তাদের প্রতি মাসে ৫০ হাজার ডলার করে দেয়া হচ্ছে।

‘এই অর্থের কোনো হিসাব তারা নির্বাচন কমিশনে দেয়নি। তারা কোথা থেকে এই টাকা পেল তা নির্বাচন কমিশন ও ট্যাক্স বিভাগ খুঁজে দেখতে পারে। প্রয়োজনে তাদের তলব করতে পারে।’

বিদেশে লবিস্টের পেছনে বিএনপির টাকা ঢালার তথ্য সোমবার জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের ব্যাপারে আমার কাছে প্রথম যে ডকুমেন্ট আছে, সেটি হলো ২০১৫ সালে একিন কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে বিএনপির নয়াপল্টনের অফিসের ঠিকানা দিয়ে একটি চুক্তি হয়।

‘মাসিক ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওই চুক্তি তিন বছর অব্যাহত ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানকে বছরে ৬ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়। এ ধরনের ১০টি ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

দলীয় লোকদের বৈধতা দিতেই নির্বাচন কমিশন আইন: বিএনপি

দলীয় লোকদের বৈধতা দিতেই নির্বাচন কমিশন আইন: বিএনপি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

‌নজরুল ইসলাম ব‌লেন, ‘বিনা ভো‌টে অনির্বাচিত এক‌টি অবৈধ সরকারের কাছ থে‌কে জনগণ এর‌ চে‌য়ে বে‌শি কিছু প্রত্যাশা ক‌রে না। বিএন‌পি ম‌নে ক‌রে, এক‌টি নিরপেক্ষ, স্বাধীন, যোগ্য নির্বাচন ক‌মিশন গঠ‌নের নৈ‌তিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য শুধু এক‌টি নির্বা‌চিত সরকা‌রের আছে।’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের ‘অনুগত’ ও ‘অপদার্থ নির্বাচন ক‌মিশন’ গঠ‌নের চলমান প্র‌ক্রিয়া‌কে দলীয় স্বা‌র্থে আইনে রূপ দিতেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ‌বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের ‘সরকা‌রি অপপ্রয়াস’ জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের সংলাপ যেই লাউ, সেই কদু। এবার সম্ভবত হ‌তে যা‌চ্ছে পচা কদু।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়ার গুলশান কার্যাল‌য়ে মঙ্গলবার দুপু‌রে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

‌নজরুল ইসলাম ব‌লেন, ‘বিনা ভো‌টে অনির্বাচিত এক‌টি অবৈধ সরকারের কাছ থে‌কে জনগণ এর‌ চে‌য়ে বে‌শি কিছু প্রত্যাশা ক‌রে না। বিএন‌পি ম‌নে ক‌রে, এক‌টি নিরপেক্ষ, স্বাধীন, যোগ্য নির্বাচন ক‌মিশন গঠ‌নের নৈ‌তিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য শুধু এক‌টি নির্বা‌চিত সরকা‌রের আছে।’

আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয় দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলীয় অনুগত লোক‌দের দ্বারা নির্বাচন ক‌মিশন গঠ‌নে সরকার আইন কর‌ছে। তারা তো নির্বাচিত সরকারই নয়।’

রাষ্ট্রপ‌তির সংলাপ‌কে অর্থহীন দা‌বি ক‌রে তিনি ব‌লেন, ‘রাষ্ট্রপ‌তির স‌ঙ্গে যারা সংলা‌পে অংশ নি‌য়ে প্রস্তাব দি‌য়ে‌ছেন, তা‌দের যেমন ক্ষমতা নেই, ‌সেই অর্থে রাষ্ট্রপ‌তিরও ক্ষমতা নেই। সংলা‌পে কো‌নো কিছু অর্জিত হয়‌নি। কা‌জেই সংলা‌পের জায়গায় সংলাপ, সিদ্ধা‌ন্তের জায়গায় সিদ্ধান্ত।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সংলাপ আহ্বান করেন।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ বেশ কয়েকটি দলের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিএনপি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবি জানালেও তারা সংলাপে অংশ নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা গত রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন করেন বিএনপি নেতাকে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হেরে যান ‌বিএন‌পি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার‌।

তাকে আবার দলে ফি‌রি‌য়ে নেয়া হ‌বে কি না প্র‌শ্নে নজরুল ইসলাম খান ব‌লেন, ‘এ ব্যাপা‌রে বিএন‌পি‌তে এখ‌নো কো‌নো চিন্তাভাবনা হয়নি।’

নারায়ণগঞ্জ সি‌টি নির্বাচন‌কে কীভা‌বে মূল্যায়ন কর‌ছে বিএন‌পি- এই প্র‌শ্নের উত্তরে তি‌নি ব‌লেন, ‘নির্বাচন এক‌টি দরকা‌রি জি‌নিস। ‌কিন্তু নির্বাচ‌নের না‌মে য‌দি নির্বাচনি প্রহসন চ‌লে তাহ‌লে সমা‌লোচনা থাক‌বেই।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৭ হাজার ভোটে হেরে যান বিএনপি নেতা তৈমূর আলম। ফল ঘোষণার পর কিছু অভিযোগ তুললেও পরে নির্বাচনের ফল মেনে নেন তৈমূর আলম।

সোমবার তিনি মেয়র আইভীকে কাজে সহায়তা করার কথাও জানান সংবাদমাধ্যমকে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

যে কারণে আইভী বারবার

যে কারণে আইভী বারবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিন বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই কেন বারবার বেছে নেয় নারায়ণগঞ্জবাসী? সেটা কী মেয়র হিসেবে তার পারফরম্যান্স, নাকি শামীম ওসমান বিরোধিতা?

উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততা—এই তিন গুণ দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জবাসীর মন জয়ের পাশাপাশি আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন বলে মনে করেন নগরের বিশিষ্টজনরা।

তারই ধারাবাহিকতায় এই হ্যাটট্রিক জয় এসেছে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আইভী ভোটযুদ্ধে পাস করলেও এই জয় নৌকার নয় বলে অভিমত তাদের।

রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট। সেই ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে উড়িয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেন আইভী। ব্যবধান ছিল ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোট। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট না হলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত বলেও বিজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন মেয়র আইভী।

আইভীর পথটি অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। তার কারণ নারায়ণগঞ্জের ভোটের সমীকরণ। এখানকার হিসাব-নিকাশ দেশের আর ১০টি এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এই জেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আর সেই বিরোধ হয়ে ওঠে নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয়।

২০১৬ সালে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি এলে আওয়ামী লীগ আস্থা রাখেন আইভীর ওপর। সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আইভী।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দেয়ার পর প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও দলের সমর্থন বঞ্চিত হন আইভী। কিন্তু তৎকালীন পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মাঠে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠে প্রকাশ্য। নির্বাচনে কী হবে না হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাখো ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাস্ত করে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আইভী।

এমনকি তার আগে যে পৌরসভা ছিল, তারও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়নি আইভীকে। ওই সময়ের জেলা বিএনপির সহসভাপতি নূর ইসলামকে হারিয়ে পৌরসভার নেতৃত্ব নেন তিনি।

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘সব কটি নির্বাচন ছিল চ্যালেঞ্জিং। এটিও তার চেয়ে কম নয়। একেকটার ধরন একেক রকম। আমি এত চ্যালেঞ্জের কথা বলতে চাই না। নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা।’

কোন জাদুমন্ত্রে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছেন, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্নটি রাখা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

মৃদু হেসে নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, ‘আমার যত কিছু হয়েছে বা অতীতেও যে বিজয় হয়েছে, সব কিছুর মূলে কিন্তু আমার জনশক্তি, জনস্রোত এবং জনসমর্থন। জনসমর্থন যদি না থাকত, তাহলে আমি নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’

কেন এই জনসমর্থন তার ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন নৌকা প্রতীকের এই বিজয়ী।

আইভী বলেন, ‘এটা সত্যি যে, জনগণের যে আস্থা আমার প্রতি, তার কারণ মানুষকে কখনও মিথ্যে বলিনি, কখনও অযথা আশ্বাস দিইনি। আমি গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে যে আপনাদের সঙ্গে মিশেছি, কাজ করেছি, যেটা পেরেছি সেটা করেছি, যেটা পারিনি সেটা বলিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবেসেছি, মানুষ প্রতিবারই আমাকে প্রতিদান দিয়েছে।’

আইভীর এই সাফল্যকে উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততার মেলবন্ধন মনে করে নারায়ণগঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস। প্রথমত তার কাজ, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে তিনি মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। এটি উন্নয়ন বলি বা অন্য যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করি। এটা নগরবাসীর কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাফল্যের দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ধীমান সাহা বলছেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীর সততার কথা।

তিনি বলেন, ‘এসব কাজের পেছনে তার সততা ছিল। একটা মানুষ শতভাগ সৎ হয় না। তিনি ৯৯ পার্সেন্ট সৎ ছিলেন। এটা নগরবাসী দেখেছে। তার কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ছিল, সততা ছিল। সততার পাশাপাশি জবাবদিহিও ছিল।

‘আমরা দেখেছি, মেয়র আইভীর পেছনে প্রতিপক্ষের অন্তত ১০০টা ক্যামেরা লাগানো ছিল। এখানে আমি আক্ষরিক ক্যামেরার কথা বলছি না, দৃষ্টিকে বুঝিয়েছি। এত কিছুর পরও তিনি তার কাজটি করে গেছেন। তাই সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আমার কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না।’

আইভীর ‘সাহস’ তাকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়েছে বলেও মত তার।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘কোনো একটি কাজ করতে গিয়ে যদি একটা বিল্ডিং ভাঙতে হয় বা কারও একটু ক্ষতি হয়ে যায়, তারপরও দশজনের কল্যাণের জন্য কাজটা তিনি করেছেন। এই সাহসটা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির মধ্যে দেখা যায় না।’

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে ধীমান সাহা বলেন, ‘সাহস দুই ধরনের। একটি হচ্ছে কাজ করার সাহস। আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের একটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সাহস। সৎ থেকে, কাজ করে, শুভ শক্তির সঙ্গে থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা। অশুভ শক্তি প্রতিটা জেলায়ই আছে। প্রতিটা জেলায়ই একাধিক অশুভ শক্তি থাকে। পাশাপাশি শুভ শক্তিও থাকে। শুভ শক্তিদের যে সম্মিলন, অশুভ শক্তিকে পরাভূত করার যে সাহস, লড়াই করার যে সাহস, তা আইভীর মধ্যে আছে।’

আর তাই আইভী জনমানুষের হৃদয়ে আছে জানিয়ে ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘গতকাল এর প্রতিফলন আমরা দেখেছি, মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে।’

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম দীপু মনে করেন উন্নয়ন, সন্ত্রাস বিরোধিতা আর তরুণদের কাছে টানতে পারার ক্ষমতার দিক বিবেচনায় নিলে, অন্য যে কোনো প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে মানুষ উন্নয়ন চায়। এখানে উন্নয়নের জয় হয়েছে। উনি দৃশ্যমান উন্নয়ন অনেক করেছেন, আমরা দেখেছি।’

দীপু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতায় সন্ত্রাসবিরোধী যে অবস্থান, সেটা একটা ব্যাপার। তিনি একজন ভিশনারি মেয়র। ছোট করে হলেও ভবিষ্যতে কী কী করবেন তার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে ছিল সবুজবান্ধব নগরী গড়া, যেটাকে আমরা বলছি গ্রিন কনসেপ্ট।’

গ্রিন কনসেপ্টই তরুণদের কাছে টানার কৌশল বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বয়স্ক ভোটার, তারা এতটা বুঝি না। আমরা হয়তো গ্রিন কনসেপ্ট মানে গাছ লাগানো বুঝি। কিন্তু যারা তরুণ ভোটার, তাদের জন্য বিষয়টা জরুরি। তারা এই বিষয়গুলো আমলে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।’

আইভীর পারিবারিক পরিচয়কেও বড় করে দেখছেন দীপু। তিনি বলেন, ‘তার পরিবারের ভক্ত যারা আছেন, তারা সংখ্যায় বিশাল, যারা ওনার বাইরে যাবে না।’

বন্দরকে মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু তৈরি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। অন্তত নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার গুরুত্ব বোঝা গেছে।

জাহিদুল করিম দীপু বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা দাবি ছিল কদম রসুল ব্রিজ। তিনি এর ব্যাপারে বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্রিজটির কাজের উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন।’

এ ছাড়া সামাজিক বাস্তবতায় নারীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার পাস করাকে নৌকার বিজয় বলতে নারাজ তিনি। বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জোট একটা লিফলেট করেছে, যেখানে কোনো মার্কা নেই। বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে বিভিন্ন কারণে মানুষের নৌকা প্রতীকের প্রতি অনীহা আছে। কিন্তু আইভী এর ঊর্ধ্বে। লিফলেটেও বলা হয়েছে, আইভীকে সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিবে এবং সেভাবেই আইভীর জয় হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আইভীকে ভোট দিয়েছে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তার সাহসিকতা ও গত ১০ বছরে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সে জন্য।’

সব গুণ বাদ রেখে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করাকে এগিয়ে রাখলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘যেটা দৃশ্যমান দেখি, যেটা অনুভব করি, সেটা হলো কাজ। নিজের কর্মক্ষেত্র দিয়েই তো মানুষের পরিচয়। কাজই তাকে আর সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। সিটি করপোরেশন বলি, ইউনিয়ন পরিষদ সবখানেই তো পাবলিক ফাংশন। মানুষ আসলে কাজ দিয়েই মূল্যায়ন করে।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রোববার ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ‘চমৎকার’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা সেখানে হয়নি। সারাদেশে যে পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে সব জায়গায় সুন্দর, ভালো নির্বাচন হয়েছে।

‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।

‘অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলেও, দৃশ্যত অংশ না নিলেও ভিন্ন অবয়বে সব জায়গাতে তারা নির্বাচনে ছিল। তারাও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তাদের জনপ্রিয়তা কোন জায়গায় আছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আমি আশা করবো সবকিছু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবেন।’

বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা যে আজ এতো এগিয়ে গেল, আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেল, সেটা নিয়ে তো দেশে যেভাবে মাতামাতি হওয়ার কথা ছিলো, তা হয়নি।

‘এই করোনার মধ্যে পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তিন। সেটি নিয়ে আমাদের দেশে পত্রপত্রিকায় মাতামাতি হয়নি। জাতির এগিয়ে যাওয়ার গল্পটাও তো জাতিকে শোনাতে হবে, সেটি আমাদের গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি। প্রথমবার তারা ছিলেন ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী। পরের দুই নির্বাচনে শামীম অনুসারীরা আইভীর পক্ষে ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে। এবার ভোটের প্রচার চলাকালে শামীম অনুসারী ছাত্রলীগের কমিটি, ভোটের ফলাফলের দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি এবং সব শেষ বিলুপ্ত করা হয় শ্রমিক লীগের মহানগর কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন শামীম অনুসারীরা।

ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পর এবার শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত নেতা এ কে এম শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন, যারা সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিক ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে।

আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমেই ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে সোমবার নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু।

এর কারণ কী- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সাংবাদিক, বোঝেন তো কী কারণে বিলুপ্ত হতে পারে। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর কবির বকুল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। তাকে আইভীর পক্ষে সক্রিয় দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ করলেই কেবল তাদের দেখা গেছে সেখানে।

সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না নিজে ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী। ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করে তিনি ভোটে জিতেছেন। তবে তিনিও নিজের প্রচার নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। আইভীর পক্ষে সেভাবে ভোট চাননি বলে অভিযোগ আছে।

মুন্নাকে কল করা হলে তিনি তিনবার ফোন রিসিভ করে প্রশ্ন শুনে কেটে দেন।

আগের দিন বন্দরনগরীতে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের দিন আওয়ামী লীগের আরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর, থানা ও সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এক আদেশে ২৭টি কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা ছিলেন শামীম ওসমানের অনুসারী। তবে জেলা কমিটির সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর খালু হলেও সেই কমিটিতে শামীম ওসমানের অনুসারীও কম ছিলেন না। এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও সেভাবে ভোটের প্রচারে দেখা যায়নি।

ভোটের প্রচার চলাকালে ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুর নেতৃত্বে কমিটি বিলুপ্ত করার আদেশ আসে। এই দুই নেতাও শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন।

ছাত্রলীগের কমিটির নেতারা ভোটের প্রচার চলাকালে আইভীর পক্ষে নামেননি বলে অভিযোগ ছিল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জে গিয়ে সেখানেই মহানগর কমিটি বিলোপের কথা জানানো হয়। পরদিন রিয়াদের বাসায় যায় ‍পুলিশ। এরপর রিয়াদ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ভোটের প্রচারে নামেন। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ মাঠে না নামলেও মহানগর কমিটির আগের নেতাদেরকেও মাঠে দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আইভী- শামীমের দ্বন্দ্ব। এই দুই নেতার বাবা যথাক্রমে আলী আহম্মেদ চুনকা ও আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার মধ্যকার বিরোধ তারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

২০১১ সালে আইভী ও শামীম পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শামীমকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে আইভী দলের ভেতর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান অনেকটাই দুর্বল করে দেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি আসলে আইভীর পরাজয় চান- এমন কথা ওঠার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আইভীকে ‘বোন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি তার বোনের জয় ছাড়া কিছু চান না।

এবারও একই ধরনের কথা ওঠার পর শামীম ওসমান আগের মতোই সংবাদ সম্মেলনে এসে নৌকার প্রতি তার সমর্থন ঘোষণা করেন। তবে প্রার্থী নিয়ে যে আপত্তি আছে, সেটি তার কথাতেই প্রকাশ পায়।

তার বক্তব্যটা ছিল এমন: ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আইভী এবার ভোটে জয় পাওয়ার পর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় মিষ্টি ও ফুল নিয়ে গেলেও শামীম ওসমানের বাসায় যাননি। শামীম ভোট দিয়ে বলেন, নৌকার পরাজয় হতে পারে না। তবে ফলাফল প্রকাশের পর তার আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহর ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভোট কমেছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীও পাঁচ বছর আগের দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীর তুলনায় ভোট পেয়েছেন কম। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ দেখিয়েছেন চমক।

রোববারের ভোটে পাঁচ বছরের আগের চেয়ে কম হারে ভোট পড়লেও হাত পাখা মার্কা নিয়ে চরমোনাইয়ের দলের প্রার্থী আগের নির্বাচনের চেয়ে ৭২ শতাংশ ভোট বাড়াতে পেরেছেন।

মাছুমের হাত পাখা মার্কায় ভোট পড়েছে ২৩ হাজার ৯৮৭টি। ২০১৬ সালের দ্বিতীয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৯১৪টি। অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

তবে এই নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি।

সেই সঙ্গে কমেছে ভোটের হার। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটারের ৬২ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট দেন, এবার তা কমে হয়েছে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

২০১৬ সালে আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান। এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, যিনি স্বতন্ত্র প্রতীকে ভোটে দাঁড়ান তার দল ভোট বর্জন করায়। তবে এই নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াইয়েই পরিণত হয়।

আওয়ামী লীগ ও ‘বিএনপির’ কমলেও তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের বাক্সে ভোট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পরও দলটি এই নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি খুশি নয়। তাদের দাবি, তারা যে ভোট পেয়েছে, তার দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভোট পেতে পারতেন।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত নির্বাচনের চেয়ে আমাদের ভোট বেড়েছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে আমাদের হিসাব মতে আমরা দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়ার কথা। আমরা যেভাবে কাজ করেছি, যেভাবে আমাদের সমর্থক রয়েছে তাতে আমরা ৬০-৭০ হাজার ভোট পেতে পারতাম।’

তাহলে কেন পেলেন না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেনি। অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে, তাদের আঙুলের ছাপ দেয়ার পর অন্যজন ভোট দিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনও পর্যাপ্ত প্রভাব খাটিয়েছে। না হলে আমাদের ভোট আরও বাড়ত।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের বক্তব্য বিএনপির শেখানো: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো: চিকিৎসক
খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

শেয়ার করুন