পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

player
পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

প্রতীকী ছবি

লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

দিন দিন পুরান ঢাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং ও এর সদস্যরা। তারা প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাই, মেয়েদের লাঞ্ছিত করা ও মাদকের আসর বসানোর মতো অপরাধ করছে।

শুধু তা-ই নয়, লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে এ চক্রের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

গত মার্চে পবিত্র শবেবরাতের রাতে সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ঘাট এলাকায় সিগারেট খাওয়া নিয়ে কিশোরদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে এক কিশোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় আরিফ হোসেন অনন্ত নামে আরেক কিশোর। হামলায় আহত হয় নিহতের বন্ধু সাজু আহমেদ ও সোহেল। হতাহতদের বয়স ১৪-১৫ বছরের মধ্যে।

গত ২১ জুন কিশোর গ্যাংয়ের হাতে বংশাল আগামসিহ লেনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইমন খুন হয়। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও গত মাসে দুই আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী ও পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয় পাচ্ছে তারা। ওই এলাকার বাংলাদেশ মাঠসংলগ্ন (পাকিস্তান মাঠ নামেও পরিচিত) আলাবাসুদ গ্রুপের সদস্য সাত রওজা এলাকার লিমন, আকাশ, সিহাব, বাচ্চা সিপাত ও দাঙ্গা রাও সোহাগ নামের কয়েক কিশোর এসব হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তারা একটি গ্যাংয়ের সদস্য।

গত মার্চে বাংলাদেশ মাঠের পাশে মাজেদ সরদার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আকিব হোসেন আলতাবকে কুপিয়ে ফেলে রাখে একদল কিশোর। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের কারণে তার শতাধিক সেলাই লেগেছে। দুই মাস বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ছিল আকিব।

ফুটবল খেলার আলোচনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ মাঠের পাশে আকিবকে কুপিয়েছে উঠতি বয়সী ১০-১২ কিশোর। বাবু নামের এক কিশোর আকিবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘তোর টিকটক বানানো ছুটাইয়া দিমু।’

এ সময় কালু নামের এক কিশোর পেছন থেকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বাবু নামের এক কিশোর চাকু দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ফুসফুস ফেটে যায়।

এ মামলার আসামিদের অনেককে জেলে পাঠানো হলেও পরে বের হয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সিফাত, শাহাদাত, জিহাদ ও বাবু প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তাকে। এ নিয়ে বংশাল থানায় ফের জিডি করেও কোনো প্রতিকার পায়নি আকিবের পরিবার।

গত ২৭ জুন পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাসার প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কবি নজরুল কলেজের পাশে উইনস্টন গলিতে প্রবেশ করলে একটি ছেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেই ছাত্রী প্রথমে সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। প্রভাবশালী কোনো নেতার ছত্রছায়ার কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে, দাবি করেন ওই এলাকায় থাকা তার সহপাঠীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির নাট্যকলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীকে দুই কিশোর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মী বাজারের অনার্সের এক ছাত্রী বলেন, কিছুদিন আগে সন্ধ্যার দিকে লালকুঠিতে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে যাই। হঠাৎ সে সময় আমাদের ঘিরে ধরে ১০-১২ জন উঠতি বয়সী ছেলে। সবার চুল ও পোশাক দেখে বখাটে মনে হয়েছে। পরে চিৎকার দিয়ে আমরা চলে আসি।

পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের কাঠের পুল লেনের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (ছদ্মনাম)। মেয়েসহ পরিবার নিয়ে যে নির্মাণাধীন ভবনে তারা থাকেন রাত হলেই সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিদিন ১০-১৫ জন কিশোর মাদক নিতে সেই ভবনে ওঠে। সবারই বয়স ১৫-২২ বছরের মধ্যে। মাদক গ্রহণসহ রাতে যেসব ফ্ল্যাটে মেয়ে আছে সেসব দরজায় তারা শব্দ করতে থাকেন অনবরত। তাদের অত্যাচারে ভবনের মালিক গেটে একাধিকবার তালা দিলেও সেটি ভেঙে ছাদে উঠে তারা। সারা রাত সেখানে মাদক সেবনসহ চিৎকার-চেঁচামেচি করে সকালে বের হয়।

তাদের বিপক্ষে কথা বললে উল্টো বিপদ আরও বাড়ে বলে জানান জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি। কিছু বলতে পারি না, কারণ আমার ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। ওরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে। পুলিশের কথা বললে তারা বলে, আমাদের বের হতে কয়েক মিনিটের ব্যাপার।’

এ এলাকা ছাড়াও পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, কলতাবাজার, পানিটোলা, লালকুঠি, শ্যামবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজারসহ সদরঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফেরদৌস গ্রুপ, সাজু গ্রুপ, সিনিয়র গ্রুপ, জুনিয়র গ্রুপ, টাইগার গ্রুপ, চিতা গ্রুপ, বড় বাপের পোলাসহ অংসখ্য কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের বেশি কিশোর রয়েছে।

এদের কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে। কেউ এখনও পড়ছে। কেউ মাদকের মামলার আসামি। সন্ধ্যা হলেই পুরান ঢাকার গলিগুলো ভীতিকর অবস্থায় পরিণত হয়। গলিতে গলিতে জড়ো হয়ে চালায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল।

এ ছাড়া আড্ডার সময় কোনো পথচারী, মেয়ে বা বৃদ্ধ রিকশাচালক সামনে পড়লে রেহাই নেই। কেউ হারায় কাছে থাকা অর্থ-সম্পদ সর্বস্ব। নারীরা হারায় সম্মান। হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহার করে ছুরি, চায়নিজ চাকু ও ব্লেড। বীরত্ব দেখাতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে রাস্তায় খুনোখুনি করতেও তাদের হাত কাঁপে না।

গত শবেবরাতের রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত হয় অন্তর নামের এক কিশোর। প্রথম তারাবির দিনেও একজন জখম হয়। এ ছাড়া তাদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীবাজারের অনেক ভবনের ছাদে ছাদে চলে মাদকের আসর। বাংলাবাজার ও সদরঘাটে কর্মরত কম বয়সী কিশোর-যুবকরা স্থানীয়দের নিয়ে ছাদে মদ, গাঁজা ও জুয়ার আসর বসায় বলে অভিযোগ।

এতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মাদকাসক্ত এসব কিশোর-যুবক সুযোগ পেলেই বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ে চুরির মতো অপরাধে জড়ায়। তারা মাদকের টাকার জন্য ছিনতাইও করে।

পুরান ঢাকায় ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। গলির ভেতরে কাউকে একা পেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করা হয়। স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী বা নামধারী কোনো না কোনো ‘বড় ভাই’-এর শেল্টারে থাকায় ছিনতাইয়ের ভাগ এসব বড় ভাই ও নেতাদের দিতে হয়।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে উঠতি বয়সী ছেলেদের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাইরে তাদের আড্ডা দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বয়সন্ধিকালের এ সময়ে তারা কখন কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। আবেগ ও অনুভূতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব কিশোর পরিবারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও থাকে না।

‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, দারিদ্র্য, পরিবারে ভাঙন ও প্রযুক্তির প্রভাবে তারা ছোট ছোট অপরাধ করতে করতে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, হতাশা ও সমাজের নানা পারিপার্শ্বিকতায় তারা অপরাধী হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন প্রয়োগের অভাবেও এসব অপরাধ বাড়ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কিশোরদের তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চলছে। এতে অনেককে আটক করা হয়েছে। বড় ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে ধরেছি। তাদের একেকজনের অপরাধ একেক রকম। যারা আড্ডার সময় মুরুব্বিদের ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে তাদের ধরে তাদের পরিবারের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া যারা বড় ধরনের অপরাধ করছে, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারো কোনো অভিযোগ আমাদের জানালে আমরা অভিযান চালাব।’

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত: বাসের চালক-সহকারী গ্রেপ্তার

অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত: বাসের চালক-সহকারী গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

র‌্যাব-১০-এর কর্মকর্তা এনায়েত কবীর সোয়েব শনিবার বিকেলে বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান, তবে গ্রেপ্তার দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১০-এর অপারেশন অফিসার, এএসপি এনায়েত কবীর সোয়েব শনিবার বিকেলে বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে এ দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০ বছর বয়সী আব্দুর রহমান, ৪০ বছরের রিয়াজুল ইসলাম ও ৩৫ বছর বয়সী মোছাম্মৎ শারমিন। তারা বরিশাল থেকে লঞ্চে ঢাকায় এসে অটোরিকশায় করে মাতুয়াইলের বাসায় যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত হন অটোরিকশার চালক ৩৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম ও ছয় বছরের বৃষ্টি। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনায় হতাহত চারজনেরই গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে৷ মাতুয়াইলে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

ভাষানটেকে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

ভাষানটেকে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ভাষানটেক থেকে একজন নির্মাণ শ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যালে আনার পর দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তির নাম বাদল মিয়া। বয়স ৪৫ বছর। শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের সঙ্গে কাজ করা আরেক শ্রমিক গুলজার হোসেন বুলু বলেন, ‘মাটিকাটা দেওয়ানপাড়া এলাকায় বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত দ্বিতীয় তলার ছাদে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা এলাকায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ভাষানটেক থেকে একজন নির্মাণশ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যালে আনার পর দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

অডিটর নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁস, গ্রেপ্তার ১০

অডিটর নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁস, গ্রেপ্তার ১০

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০ জন অডিটর পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেলে এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকে অভিযোগ তোলেন, এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। যার সত্যতা পেল ডিবি পুলিশও।

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে অডিটর পদসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তর সরবরাহের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বরখাস্তকৃত সরকারি কর্মকর্তা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানও।

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০ জন অডিটর পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ পর্যন্ত ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকে অভিযোগ তোলেন, এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশও এর সত্যতা পেয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ও আগেই উত্তর সরবরাহ করার অভিযোগে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কাকরাইল এলাকা থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা এবং মাহবুবা নাসরীন রুপা বগুড়ার ধ্রুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ইয়ার ডিভাইস ৬টি, মাস্টার কার্ড মোবাইল সিম হোল্ডার ৬টি, ব্যাংকের চেক ৫টি, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৭টি, স্মার্ট ফোন ১০টি, বাটন মোবাইল ৬টি, প্রবেশপত্র ১৮টি ও অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র তিন সেট জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কাকরাইলের নিউ শাহিন হোটেল থেকে অসাধু উপায় অবলম্বনকারী দুজন পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাফরুল সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডিভাইস, প্রশ্নপত্র ও উত্তর পত্রের খসড়াসহ আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের আরও একটি দল বিজিপ্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অন্যতম পরিকল্পনাকারী মাহবুবা নাসরীন রূপাকে টাকা, ডিজিটাল ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে অপর আসামিদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মাহমুদুল হাসন আজাদ, নাহিদ হাসান, অল আমিন সিদ্দিকী আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আসামিরা অন্যান্য আসামিদের যোগসাজশে বিভিন্ন অ্যাপ, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা হল থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে দেয়া, বাইরের রুমে ওয়ানস্টপ সমাধান কেন্দ্র বসিয়ে স্মার্ট ওয়াচ, এয়ার ডিভাইস, মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তর সরবরাহ করার কাজ করতেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, এর আগে গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন ব্যাংক, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়, জ্বালানি অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, সাধারণ বিমা করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তরপত্র সরবরাহ করে বিপুল অঙ্কের টাকা বিভিন্ন ব্যাংক, বিকাশের মাধ্যমে এবং নগদে হাতিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাতে মোহাম্মদ আমির হোসেন আকন্দ নিহত হন। তার বয়স ২৮ বছর।

নিহতের ভগ্নিপতি রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমার শ্যালক আমির দোকানে দোকানে পানি সাপ্লাইয়ের কাজ করত। রাতে আমার বাসা থেকে সালাম নামের একজন ডেকে নিয়ে যায়, পরে রাস্তায় তাকে ছুরিকাঘাত করে বালাম, কবীর ও হুমায়ুন।

‘রক্তাক্ত অবস্থায় আমিরের বন্ধু মিলন ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে ডাক্তার রাত পৌনে ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

রুবেলের দাবি, ‘৫ থেকে ৬ মাস আগে কবীর ও হুমায়ুনের একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরেই আজকে তাকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় সালামকে আমরা আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় দিয়েছি।’

নিহত আমিরের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ছোট কৃষ্ণনগর গ্রামে। বর্তমানে লালবাগের শহীদ নগর ৫ নম্বর গলি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পাঁচ ভাই, তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন আমির।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা

শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় ভুক্তভোগীর করা মামলায় এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় ট্রান্সজেন্ডার এক নারীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নারী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় ভুক্তভোগীর করা মামলায় এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ওসি সাজেদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি আজই (শুক্রবার) হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মামলার আসামিদের দুজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন রিশু ও সাইমা নিরা। অন্যজন অজ্ঞাত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ট্রান্সজেন্ডার নারী একজন মেকআপ আর্টিস্ট। সে সূত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ১০ জানুয়ারি বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি-সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে তার দেখা হয়। ওই যুবক কথার একপর্যায়ে জানান, তার স্ত্রী ওই ট্রান্সজেন্ডার নারীর ভক্ত। স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য তাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এজাহারে ভুক্তভোগী জানান, তিনি ওই যুবকের কথা বিশ্বাস করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে ৫ নম্বর সড়কের এক বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি এক নারী ও আরেকজন পুরুষকে দেখতে পান।

ওই তিনজন ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এতে বাধা দিলে তিনজন তাকে মারধর শুরু করেন এবং বলতে থাকেন এই ভিডিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। এ সময় তিনজন নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দেন। তাদের কাছে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ছিল বলে জানান তিনি।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগীর কাছে থাকা মোবাইল ফোন, সোনার চেইন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে বলা হয়, না দিলে মেরে পূর্বাচলে ফেলে দেয়া হবে।

পরবর্তী সময়ে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাবে বলে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে রাত ৮টার দিকে রামপুরা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে ফেলে যায়।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার ওই ব্যক্তির অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অভিযুক্ত নারী। একটি রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কখনও দেখা হয়নি। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।’

কোনো পরিচয় না থাকলে কেন তাকে ফাঁসানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ওই নারী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য এমনটি করতে পারে। আর ওই ট্রান্সজেন্ডার যে মিথ্যাচার করছে, তার সব প্রমাণসহ আমার ফেসবুকে পোস্ট দেব। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও জানাব।’

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

দুই বাসের চাপায় মৃত্যু: মামলার প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি

দুই বাসের চাপায় মৃত্যু: মামলার প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি

দুর্ঘটনায় পড়া বাসটিকে রেকারে করে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বিকেলে মগবাজার মোড়ে এসে প্রতিযোগিতা করতে থাকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দু’টি বাস। এই রেষারেষির পাল্লায় বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে কিশোর রাকিব।

রাজধানী মগবাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে চাকায় পিষ্ট হয়ে কিশোর মো. রাকিবের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখ ঠিক করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী শুক্রবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে রমনা থানার উপ-পরিদর্শক আবুল খায়েরকে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মগবাজার মোড়ে এসে প্রতিযোগিতা করতে থাকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দু’টি বাস। এই রেষারেষির পাল্লায় বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে কিশোর রাকিব। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে সে মারা গেছে।

এ ঘটনায় রাকিবের বাবা নুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে রমনা থানায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন

শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামীর জবানবন্দি

শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামীর জবানবন্দি

স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। ছবি: সংগৃহীত

আদালত পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘রিমান্ড চলাকালেই বৃহস্পতিবার আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর শেষ বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন।’

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২১ শুক্রবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের আদালত পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রিমান্ড চলাকালেই গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর শেষ বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন।

‘সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের হাকিম সাইফুল ইসলাম নোবেলের এবং আরেক জ্যেষ্ঠ হাকিম মিশকাত শুকরানা আব্দুল্লাহ ফরহাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

গত ১৮ জানুয়ারি এ দুই আসামিকে মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

শিমুকে খুনের বিষয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে কলাতিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলীপুর ব্রিজ থেকে ৩০০ গজ উত্তর পাশে পাকা রাস্তাসংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ৩২ বছর বয়সী এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

‘মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। পোস্টমর্টেমের জন্য মৃতদেহটি মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে মৃতদেহের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তকালে জানা যায়, মৃতদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর।’

তিনি বলেন, ‘খুনিরা যদিও খুবই পরিকল্পিতভাবে লাশটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুরে ফেলে যায়। তবে তারা কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসি। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ফলে শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

‘বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। দাম্পত্য কলহের জেরে ১৬ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭-৮টার মধ্যে যেকোনো সময় খুন হন শিমু। তার লাশ গুম করতে সহায়তা করেন আব্দুল্লাহ ফরহাদ।’

তারা খুন করার পর শিমুর বস্তাবন্দি লাশ গাড়িতে নিয়ে গুম করা ও আলামত নষ্ট করার জন্য ২ ঘণ্টা ধরে ঘোরাঘুরির পর উল্লিখিত স্থানে ঝোপের মধ্য লাশ ফেলে আসেন।

এরপর লাশ শনাক্ত হলে শিমুকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই হারুনুর রশীদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর
অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অভিভাবকের দায়
কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের ‘প্রমাণ পায়নি’ পিবিআই
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

শেয়ার করুন