এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

player
এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা যেত। ছবি বিটিভির ভিডিও থেকে নেয়া

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে সংসদ নেতার বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার স্মরণ করেন জাতি পিতাকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে এ লক্ষ্য অর্জিত হতো।

নিজের বক্তব্যে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট প্রসঙ্গ আসতেই আবেগতাড়িত হতে দেখা যায় সরকারপ্রধানকে। কথা বলতে গিয়ে বাবরবারই কেঁপে উঠেছিল তার কণ্ঠ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছিলাম। আমার বাবা, আমার মা, ছোট তিনটি ভাই, ভ্রাতৃবধূ, একমাত্র চাচাসহ আত্মীয় স্বজনদের। সবকিছু হারিয়ে হারানোর বেদনা পাশে রেখে শুধু একটা লক্ষ্য সামনে রেখেছি।

‘এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। নিজের জীবনে তিনি কিছু চাননি। পাশে থেকেছিলেন আমার মা। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমার মায়ের ভূমিকা রয়েছে। পর্দার আড়ালে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! দুঃখের বিষয়, যে দেশের মানুষের জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, এত তাগ স্বীকার করলেন, সেই বাংলাদেশের মানুষের হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো। শুধু আমার বাবাকে না, পুরো পরিবারকে। রেহানা আর আমি বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন খুনিরা মুক্ত, যুদ্ধাপরাধীরা মুক্ত, তারাই দেশ চালাচ্ছে। যেখানে আমার ছোট ১০ বছরের ভাইকেও ছাড়েনি, সেখানে আমিও রেহাই পাব না। হয়তো যেকোনো সময় মৃত্যু আমার হতে পারে। এটা জেনেও শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নিয়ত নিয়ে দেশে এসেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে জয় আর ৮ বছরের মেয়েকে বোনের কাছে দিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, যে স্বপ্নটা অধরা রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নটা যেন পূরণ করতে পারি। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

‘বারবার আঘাত এসেছে, আমি জানি না, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাকে বাঁচিয়েছেন এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে মানবঢাল রচনা করে আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। আমাকে এটুকু সুযোগ দিয়েছেন আজকে একটি মর্যাদায় বাংলাদেশকে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।

‘তাদের সঙ্গে কিছু লোক, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দলে নিয়ে এলিট শ্রেণি তৈরি করা। দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে ছিল। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা একটি কথা সব সময় বলতেন আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে। এ দিয়েই আমরা দেশ গড়ব। এ কথা কিন্তু এখন কেউ বাস্তবায়নও করেনি, চিন্তাও করেনি। বরং বিদেশ থেকে আরও আমদানি হবে, সেখান থেকে কমিশন খাবে, দেশে উৎপাদন হবে না। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

‘সেই শস্যবীজ, ধানের বীজ সবকিছুতেই পরনির্ভরশীলতা। আর মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পাতা। এটাই ছিল তাদের নীতি। কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে, যে আদর্শ জাতির পিতা দিয়ে গেছেন, যে আদর্শের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, সেটি বাস্তবায়ন করা। সেভাবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে এটি বাস্তবায়নের ফলে অনেক সুবিধাও আমরা যেখানে পাব, সেদিক আমি মনে করি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে এবং সেই প্রস্তুতিও কিন্তু আমরা নিয়ে রেখেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের যে সুবিধাগুলো সেটি হয়তো পাব না সব, তবে আমরা একটি কাজ করেছি।

‘আমরা জাতিসংঘের কাছে একটি সময় চেয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণটা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরা সময় নিয়েছি ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সব কাজ করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করার একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উদীয়মান। বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারব।

‘যে যেটাই বলুক, যত সমালোচনাই করুক। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এ গতি যেন কেউ রোধ করতে না পারে। অনেক রকমের চক্রান্ত থাকবে। সেগুলোকে মাথায় নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের যে মার্যাদা পেয়েছি, এটি জনগণেরই অবদান। তাদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বনজ-মনিরুল

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বনজ-মনিরুল

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার (বাঁয়ে) ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত আইজিপিতে পদোন্নতি পাওয়াদের মধ্যে আছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) থেকে পদোন্নতি পেয়ে বাহিনীটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজিপি) হয়েছেন সাত কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার ও এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার দুপুরে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তরা ১২ ও ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

বনজ কুমার ও মনিরুল ছাড়াও এআইজিপিতে পদোন্নতি পাওয়া অন্য পাঁচজন হলেন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ তারিক, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের প্রধান ডিআইজি হাসান উল হায়দার, বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, শিল্প পুলিশের ডিআইজি মাহবুবুর রহমান ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি হারুন অর রশিদ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের অবস্থা এখন ‘কিছুটা’ ভালো বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মাহবুব শফিক।

শফিক আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাবা ডা. বরেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধায়নে আছেন। মাঝে কেবিনে নেয়া হয়েছিল। পরে আবার তার পরামর্শে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তবে বাবা অনেকটা ভালো আছেন। যদিও উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে গত মঙ্গলবার চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তার কিছু সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়। পরে আবার আইসিইউতে নেয়া হয় তাকে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে আইনমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেনি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।

‘আমরা মনে করি, উপাচার্যের যদি ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকে তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। আর তিনি যদি নিজ থেকে পদত্যাগ না করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে আহ্বান করব, অবিলম্বে যেন তাকে অপসারণ করা হয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেভাবে পুলিশ ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য কখনো এটি করতে পারেন না। এই কাজের মধ্য দিয়ে এই উপাচার্য প্রমাণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

‘সুতরাং তার পদত্যাগ দাবি করা একটি নায্য দাবি। তাই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরা এখানে অবস্থান করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বলেন, ‘শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং পুলিশ যেভাবে হামলা করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সংগঠিত হয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শাবির উপাচার্য বর্বর উপাচার্য। উপাচার্য পদে থাকার তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে শুধু নির্মাণ খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম-অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এই তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণ খাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণকাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত-পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজেএমএ মহাসচিব এম বারিক খান বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে পাট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবছর উচ্চসাঁট পাটের প্রতি মণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নির্বাহী বোর্ডের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও পাট আইনে এভাবে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।

তবে পাট আইনে বলা আছে, ‘সরকার, আদেশ দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণির পাট বা পাটজাত পণ্যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে, এবং সব এলাকা বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। এবং এই আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কম বা সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে কোন ব্যক্তি পাট বা পাটজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব এম বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় পাটকলগুলো ব্যবহার করে। কিন্ত বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আর কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য এবছর উচ্চাসাঁট কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। আশা করি এ দামেই এ বছর পাট কেনা সম্ভব হবে।’

এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ খাতের অসাধু মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে। এতে উৎপাদিত পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চার থেকে পাঁচ কোটি কৃষক, শ্রমিকের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরও চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে অর্ধবিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই উল্লম্ফনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু ছিল পাট খাত।

২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ (১.১৬ বিলিয়ন) ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে রপ্তানি তালিকায় চামড়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল এই খাত।

সেই সুদিন ফুরিয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে। অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এদিকে, লোকসানের চাপে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয় সরকার। সে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো পাটকল এখন উৎপাদনে নেই; সরকারিভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য এখন আর রপ্তানি হয় না।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার বলেন, এই মহান দেশের এত মানুষের উষ্ণতা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং উদারতা অনুভব করতে পেরে নিজেকে একজন অনন্য বাংলাদেশি বলে মনে হচ্ছে। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস

শুক্রবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশের পথে উড়াল দেয়া রবার্ট আর্ল মিলারের এক আবেগী কথন প্রকাশ করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। যার পরতে পরতে রয়েছে গত তিন বছর বাংলাদেশে তার অবস্থানের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা।

তিন বছরের কূটনৈতিক মিশন শেষে নিজ দেশে ফেরত গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। ৩৫ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে এটা ছিল তার শেষ সরকারি মিশন। এরপর অবসর জীবন কাটাবেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশের পথে উড়াল দেয়া মিলারের এক আবেগী কথন প্রকাশ করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। যার পরতে পরতে রয়েছে গত তিন বছর বাংলাদেশে তার অবস্থানের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা।

নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমাকে যদি বাংলাদেশে আমার তিন বছরের প্রিয় স্মৃতি জানতে চাওয়া হয়, তাহলে তার সব বর্ণনা করা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু আমি জানি এখানকার রিকশার রং আর চালকদের মুখের অবয়ব, কথা আমার মনে পড়ে যাবে। পুরান ঢাকার ছাদ আর রংবেরঙের ঘুড়ি, বিদ্যুতের তারে পাখির নাচানাচি আর সন্ধ্যার আকাশে উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক আমাকে স্মৃতিকাতর করবে।

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

আমার চোখে ভাসবে স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুরা গ্রামের রাস্তায় হেঁটে বাড়ি যাচ্ছে। জাহাজভর্তি চট্টগ্রামের নদী। কক্সবাজারের সাম্পান বা চাঁদের নৌকা, যা আমার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নৌকা।

সিলেটের গাঢ় সবুজ পাহাড় আর বরিশালের উদ্দাম সবুজ আমি কোনো দিন ভুলব না। বান্দরবানের পাহাড় ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভে সকালের কুয়াশা দেখার স্মৃতি আমার জীবনের অনন্য অর্জন।

গত তিন বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের একটি বড় সম্মান এবং আনন্দ।

আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং আরও মজবুত হবে। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি যেমন ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, আমেরিকার আসল পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে নাগরিক থেকে নাগরিক, বন্ধু থেকে বন্ধু, মানুষ থেকে মানুষ। আমি আশা করি আমি আমাদের বন্ধু-থেকে-বন্ধু আর বন্ধনকে শক্তিশালী করতে কিছুটা হলেও অবদান রেখেছি।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আমার প্রথম আট মাসে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগ ঘুরে দেখব। আমি তা করার মতো ভাগ্যবান ছিলাম। এই মহান দেশের এত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারা, উষ্ণতা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং উদারতা অনুভব করতে পেরে আমিও নিজেকে একজন অনন্য বাংলাদেশি বলে মনে করি।

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা ও অনুগ্রহের স্মৃতি আমি আমৃত্যু হৃদয়ে ধারণ করব। এই অসাধারণ দেশে এমন একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অতিথি হওয়ার সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

যখন রাষ্ট্রদূত হাস আসবেন, অনুগ্রহ করে তাকেও একই উষ্ণতা দেখান এবং আমাকে এবং আমার পরিবারের প্রতি অনুগ্রহ করে সদয় থাকবেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর ভিড় কম। ফাইল ছবি

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোয় মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে দেশ। গত তিন সপ্তাহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার জনের। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্ত অনুপাতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় নেই। বাড়েনি অক্সিজেনের চাহিদাও।

করোনা সেবায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আর অক্সিজেন সরবরাহ।

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোযয মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৭৭৮টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৬৩৩টি। তিন সপ্তাহ আগে ১৩৮টি আইসিইউ বেডে রোগী ছিল। কিছুটা বেড়ে বর্তমানে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন।

ঢাকায় করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষায় ৭০ শতাংশের মধ্যেই ওমিক্রন ধরন পাওয়া গেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানায়। ওমিক্রন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এ কারণে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কিছুটা বেশি।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৪৩৬টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৫১৬টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৮১টি শয্যাই খালি পড়ে আছে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি, যার মধ্যে ১ হাজার ১২টি খালি। তিন সপ্তাহ আগে আইসিইউর শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ২১৩টি।

ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরিসংখ্যান অনেক কম। একই সঙ্গে আইসিইউ এবং অক্সিজেনও তুলনামূলক অনেক কম লাগছে।

দেশে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টন। এখনও চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ফের হাসপাতালগুলোকে পুনরায় প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও চিকিৎসদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে হাসপাতালে রোগীর জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওমিক্রন রোগীদের চিকিৎসা অধিকাংশই হচ্ছে বাসাবাড়িতে। হাসাপাতালে রোগী আসছে কম। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে এই চিত্র পাল্টে যাবে। কারণ দেশে করোনা চিকিৎসা সরকার বিনা মূল্যে দিচ্ছে।

‘দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংখ্যাটা মূলত ধরা যায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। এর ৩ থেকে ৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়।’

ডা. সায়েদুর রহমান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার আগে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে। তা ছাড়া আগের করোনা ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা কম থাকবে।

‘তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ। এখনও ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার বাইরে। সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শঙ্কাটা অবশ্যই ঠিক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শেয়ার করুন