সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

player
সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের বিভিন্ন অংশে এমন বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিটির কয়েকটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো ও টিএসসি এলাকায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে বিষয়টি হলের কর্মচারীদের নজরে এলে তারা বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি হলটির বিভিন্ন অংশে পাওয়া গেছে।

এতে প্রাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার ছবি জুড়ে দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘মিসিং’।

রোববার দুপুরের আগ পর্যন্ত হলটির টয়লেট, ক্যানটিন ও দোকানগুলোর দেয়ালে ‘মিসিং’ লেখা সংবলিত এ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়।

বিজ্ঞপ্তিটির কয়েকটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো ও টিএসসি এলাকায় পড়ে থাকতেও দেখা যায়, তবে বিষয়টি হলের কর্মচারীদের নজরে এলে তারা বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।

কী বলছেন শিক্ষার্থীরা

হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাধ্যক্ষ মকবুল হোসেনের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানালেও কর্ণপাত না করা, দায়িত্বে অমনোযোগিতা, নিয়মিত হলে না আসা, শিক্ষার্থীদের ফোন রিসিভ না করাসহ আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব কারণেই হয়তো শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিজ্ঞপ্তিটি লাগিয়েছে, তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলটির এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের হলের গেমস রুমে ভালো কোনো ক্যারম বা টেবিল টেনিসের বোর্ড নেই। অন্যান্য হলে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট বসানো হলেও আমাদের হলে এখনও এসবের কিছুই বসানো হয়নি।

‘হল সংসদের পক্ষ থেকে একাধিকবার এসব বিষয় জানানো হলেও প্রাধ্যক্ষ স্যার এসব দাবির প্রতি কর্ণপাতও করেনি।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের পানির ট্যাংকগুলো অনেক দিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। আমাদের মসজিদে কোনো ইমামই নেই। সম্প্রতি হলের একটি প্রোগ্রামে হল ছাত্রলীগের সাবেকদের ডাকা হলেও হল সংসদের কাউকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এ প্রাধ্যক্ষ মূলত দায়িত্ব সমন্বয় করতে পারেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ স্যার নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে আসলে কিছুই করেন না। হলে প্রাধ্যক্ষ থাকলেও নেই নেই অবস্থা। হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মোতালেবই (মো. আব্দুল মোতালেব) সব। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষ স্যারকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করা তো দূরের কথা, ব্যাকও করেন না।’

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “একবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মোনাজাত শেষে নাশতা দেয়া হয়নি। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ স্যারকে ফোন দিয়ে নাশতার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘কী বলো! অন্যান্য হলে খাবার দিচ্ছে নাকি?’ অর্থাৎ উনি এতই অমনোযোগী যে, বিভিন্ন উৎসবের দিন যে হলে খাবার দেয়া হয়, সেটিই তিনি জানেন না।”

সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

‘উনি মিটিংয়ে আছেন’

হল সংসদের সাবেক সহসভাপতি মারিয়াম জামান খান সোহান বলেন, ‘মিসিং বিজ্ঞপ্তিটা আমিও দেখেছি। দেখেই স্যারকে ফোন দিয়েছি। স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে।

‘উনি মিটিংয়ে আছেন; মিসিং হননি, তবে এই বিজ্ঞপ্তিটি কারা লাগিয়েছে আমার জানা নেই।’

হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আছে কি না জানতে চাইলে সোহান বলেন, ‘প্রতিটি হলে খেলার জন্য আলাদা জায়গা থাকলেও আমাদের হলে এসবের জন্য আলাদা কোনো জায়গাই নেই। ওয়াশরুম এবং পানির ফিল্টারে সমস্যা। খেলার জন্য ব্যাডমিন্টন কোর্ট বসানোর কথা থাকলেও এখনও বসানো হয়নি।

‘অডিটোরিয়ামে খেলাধুলার কোনো ব্যবস্থা না রাখা, মসজিদের মাইকে সমস্যাসহ আরও অনেক সমস্যা আছে। আমরা এসব দাবি অনেকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।’

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে দুপুরে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেনের হল অফিস কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়ার পাশাপাশি খুদেবার্তা পাঠালেও উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ছাত্রকে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) দুই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বুধবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এই দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, সিনিয়র অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, অধ্যাপক ড. কবির হোসেন, অধ্যাপক আমেনা পারভীন, অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, অধ্যাপক ড. হিমাদ্রি শেখর রায়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের কাছে জানতে চান, তাদের দাবির সঙ্গে একমত কি না। এর উত্তর দেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক জোড় হাত করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন অনশন ছেড়ে যাওয়ার। জবাবে একই কায়দায় তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানানোর অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনড় দেখে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

জবি নীল দলের সভাপতি পরিমল, সম্পাদক আনোয়ার

জবি নীল দলের সভাপতি পরিমল, সম্পাদক আনোয়ার

সভাপতি পরিমল বালা, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল বালা ও সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ২০২২-২০২৩ কার্যনির্বাহী পর্ষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল বালা ও সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকারিয়া মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এই কমিটির সহ-সভাপতি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্-আল-মাসুদ ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. জহির উদ্দিন আরিফ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ ও দর্শন বিভাগের জি. এম. তারিকুল ইসলাম।

এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আইন বিভাগের খায়ের মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ড. মোবারক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজী ফারুক হোসেন।

কমিটির সদস্য রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ-উল-আলম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. আয়েশা সিদ্দিকা, মার্কেটিং বিভাগের ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মাহফুজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ড. দোলন রায়, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ড. জি এম আল আমিন, ফিন্যান্স বিভাগের ড. শেখ মাশরিক হাসান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের মো. কাজী নূর হোসেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ তাসফিক, অর্থনীতি বিভাগের রাজেশ কুমার দেব, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মিনহাজ উদ্দীন, নাট্যকলা বিভাগের আফরিন হুদা ও গণিত বিভাগের মো. আশরাফুল ইসলাম।

দায়িত্ব পাওয়ার পর নীল দলের সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে প্রগতিশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব। শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সবার জন্য শিক্ষা এসব দিকে আমরা খেয়াল রাখবো। পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবি, ন্যায্য অধিকার ও গবেষণার উপর জোর দিয়ে কাজ করব।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ভিসি ‘মর্মাহত’, দুঃখপ্রকাশ

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ভিসি ‘মর্মাহত’, দুঃখপ্রকাশ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

শাবি উপাচার্য বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছি। তারা যদি উপাচার্যের কোনো দোষ খুঁজে পায়, সরকারও তদন্ত কমিটি করতে পারে। এতেও যদি কোনো দোষ মিলে তখন তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে না মেনে নেব। এখানে রাখঢাকের কিছু নেই।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলায় মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে পুলিশের ওই অ্যাকশনের সঙ্গে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

নিজ বাসভবনে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ হামলা করেছে, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট মেরেছে, এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ অ্যাটাক করল, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে।’

‘এ ঘটনায় আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছি। তারা যদি উপাচার্যের কোনো দোষ খুঁজে পায়, সরকারও তদন্ত কমিটি করতে পারে। এতেও যদি কোনো দোষ মিলে তখন তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে না মেনে নেব। এখানে রাখঢাকের কিছু নেই।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘প্রতিদিন শিক্ষক প্রতিনিধিরা গালিগালাজ সহ্য করে আলোচনা করার প্রস্তাব করছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করছে। এ ছাড়া সমস্যা সমাধানের চূড়ান্ত সময়ে এসে কারা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করে পুলিশকে চড়াও হতে বাধ্য করেছিল, তা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’

তিনি জানান, সরকার তদন্ত কমিটি করে কোনো সুপারিশ করলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।

শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য জানান, সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সহায়তার আহ্বানও জানান তিনি।

উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে রোববার রাত থেকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একাংশ বুধবার দুপুর থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ভিসি ‘মর্মাহত’, দুঃখপ্রকাশ

শিক্ষকরা রাতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখান করেন।

অনশনে অংশ নেয়া জাহিদুল ইসলাম দুপুরে বলেন, ‘উপাচার্য রীতিমতো আমাদের সঙ্গে হাসি-তামাশা করছেন। আমাদের প্রতি তার কোনো সংবেদনশীলতা নেই। আমরা ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। তিনি তাতে গুরুত্ব না দিয়ে বরং মিডিয়ায় আমাদের নামে মিথ্যাচার করছেন।

‘ফলে তিনি উপাচার্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এখন আমরা তার পদত্যাগ চাই। উপচার্য পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা অনশনে থাকব।’

যেভাবে আন্দোলন শুরু

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন গত রোববার থেকে রূপ নিয়েছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। ওই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত (১৩ জানুয়ারি) থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে গেলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। রোববার সকাল থেকে আবারও ক্যাম্পাসে শুরু হয় বিক্ষোভ।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ভিসি ‘মর্মাহত’, দুঃখপ্রকাশ

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এর মধ্যেই পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন।

সে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

ওই সভা শেষে জানানো হয়, প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ভিসি ‘মর্মাহত’, দুঃখপ্রকাশ

এরপর পুলিশ ডেকে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সেই রাত থেকে ফের বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা হল ছেড়ে যাবেন না বলেও জানান।

মঙ্গলবার রাতে তারা ঘোষণা দেন, বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে বসবেন।

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২৪ শিক্ষার্থী বুধবার বেলা ৩টা থেকে অনশন শুরু করেন। তাদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন দেন আন্দোলনে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরাও।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

শাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

শাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষক যোগ নেন। অন্যদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলন বানচাল করতে কোনো গোষ্ঠীর দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে এই কর্মসূচি।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের সপ্তমদিনে মুখোমুখি অবস্থানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বুধবার দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করেন। এতে পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষক যোগ নেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকরা পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা শিক্ষক সমিতি বা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই।

তারা বলছেন, উপাচার্যের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাপ্রত্যাশী কয়েকজন এই কর্মসূচি করেছেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়া বেশিরভাগই কুমিল্লার বাসিন্দা।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়িও কুমিল্লায়। তার বিরুদ্ধে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কুমিল্লার লোকজনকে নিয়োগ ও ওই এলাকার শিক্ষকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আর বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলন বানচাল করতে কোনো গোষ্ঠীর দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে এই কর্মসূচি।

পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্য ও কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এর ছাপ মিলেছে বুধবার রাতেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্তত ২০ শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থানস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে রাতে কথা বলতে চান। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের সুযোগ দেননি। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, একাত্মতা না জানানো পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়।

এর আগে সকালে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের দায়ী করে বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিবৃতি এসেছে আন্দোলনের সূত্রপাত সেই বেগম সিরাজুন্নেছা হলের প্রভোস্ট কমিটির পক্ষ থেকেও।

প্রভোস্ট কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা হলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব অভিযোগ করেছে, তা অনেকাংশেই সত্য নয়। হল প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমদ লিজা করোনা আক্রান্ত থাকা অবস্থায় তাকে ফোন করে রাতের মধ্যেই ছাত্রাবাসে আসতে বলেন ছাত্রীরা। প্রাধ্যক্ষ প্রভোস্ট কমিটির অন্য সদস্যদের পাঠাতে চাইলে ছাত্রীরা রাজী হননি। পরে প্রভোস্ট কমিটির সদস্যরা হলে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ছাত্রীরা।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার দুপুর থেকে আন্দোলনকারী ২৪ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন। চলমান আন্দোলনের সপ্তম দিনে এসে অনশনে বসলেন তারা।

শাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

আন্দোলনে শিক্ষকরা

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ এনে বুধবার বিক্ষোভ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবস্থান নেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে তাদের হাতে।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিমাদ্রি শেখর রায় বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করতেই পারে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত এসবের একটি সমাধান হবে। কিন্তু আন্দোলনের নামে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কাম্য নয়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থী ও সন্তানদের এমন শিক্ষা কখনই দেইনি।’

শিক্ষক ফাহমিদা রহমান খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ রকম ভাষা কখনই কাম্য হতে পারে না। তারা যে ভাষা ব্যবহার করছে, তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। শিক্ষকদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহারের পর আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই প্রতিবাদে নেমেছি।’

সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন তার সঙ্গে আমাদের দ্বিমত নেই। তাদের দাবিগুলো কতটুকু যৌক্তিক, তা প্রশাসন বিবেচনা করবে। তবে ক্ষোভের ভাষা ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের আরও পরিশীলিত হওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ এনে শিক্ষকদের কর্মসূচিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে শিক্ষক- শিক্ষার্থী মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। যা তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম এক প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। আমাদের ওপর হামলার পর উপাচার্য ও প্রক্টোরিয়াল কমিটির পদত্যাগ দাবি করছি। আর কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান নেই। উনারা আমাদের কাছে সম্মানিত ব্যক্তি।’

দেলোয়ার হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকরা যে অভিযোগ করছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো শিক্ষককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়নি। এই অভিযোগের কোনো প্রমাণও তারা দেখাতে পারবেন না।

‘ভিসির অশালীন একটি বক্তব্যের অডিও মঙ্গলবার ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে তারা কিছু বলছেন না। উল্টো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আন্দোলনে নেমেছেন।’

দেলোয়ার আরও বলেন, ‘এই শিক্ষকরা কারও দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে কিংবা সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে আজকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কোনো অপতৎপরতা আন্দোলন দাবিয়ে রাখতে পারবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

অন্যদিকে শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক লায়লা আশরাফুনের একটি বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

অধ্যাপক লায়লা বলেন, ‘সম্মানের জন্যই শিক্ষকতা পেশায় এসেছি। আমরা কোনো চাষাভুষা নই যে আমাদের যা খুশি তাই বলবে।’

শিক্ষকের ওই বক্তব্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও উগড়ে দেয়। বুধবার দিনভর তাদের আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হয়ে ওঠে - ‘চাষাভুষার সন্তান, আমরা সবাই সাস্টিয়ান।’

আন্দোলন যেভাবে শুরু

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন গত রোববার থেকে রূপ নিয়েছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। ওই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত (১৩ জানুয়ারি) থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে গেলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

শাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। রোববার সকাল থেকে আবারও ক্যাম্পাসে শুরু হয় বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এর মধ্যেই পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন।

সে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

ওই সভা শেষে জানানো হয়, প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগ করেছেন।

শাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

এরপর পুলিশ ডেকে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সেই রাত থেকে ফের বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা হল ছেড়ে যাবেন না বলেও জানান।

মঙ্গলবার রাতে তারা ঘোষণা দেন, বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে বসবেন।

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২৪ শিক্ষার্থী বুধবার বেলা ৩টা থেকে অনশন শুরু করেন। তাদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন দেন আন্দোলনে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরাও।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

আমরা চাষাভুষা নই: শাবি শিক্ষক

আমরা চাষাভুষা নই: শাবি শিক্ষক

বাম থেকে তৃতীয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শারমিন সিদ্দিকা মিলা বলেন, ‘এমন বক্তব্যের মাধ্যমে ওই শিক্ষক শ্রেণিবিভাজন তৈরি করেছেন। চাষাভুষারা নিচু শ্রেণির মানুষ এটা বলতে চেয়েছেন। আমরাও চাষার সন্তান।’

শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ এনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কিছু শিক্ষক।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে এই কর্মসূচিতে এক শিক্ষকের দেয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন বলেন, ‘আমরা সম্মানটুকুর জন্য কাজ করি এবং সম্মানের জন্যই শিক্ষকতা পেশায় এসেছি। আমরা বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ধারণ (Belong) করি। আমরা কোনো চাষাভুষা নই যে আমাদের যা খুশি তাই বলবে।’

লায়লা আশরাফুনের এই বক্তব্যে কৃষক ও চাষিদের অপমান করা হয়েছে বলেও ফেসবুকে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

শিক্ষকের ওই বক্তব্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে পৌঁছলে তাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন- ‘চাষাভুষার সন্তান, আমরা সবাই সাস্টিয়ান।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শারমিন সিদ্দিকা মিলা বলেন, ‘এমন বক্তব্যের মাধ্যমে ওই শিক্ষক শ্রেণিবিভাজন তৈরি করেছেন। চাষাভুষারা নিচু শ্রেণির মানুষ এটা বলতে চেয়েছেন। আমরাও চাষার সন্তান।’

শিক্ষকের মন্তব্যের সমালোচনা করে সিলেটের নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একজন চাষাভুষা শব্দ ব্যবহার করে যা বলেছেন তাতে ওনার উচ্চতা পরিমাপ হয়ে গেছে। ওনার দাম্ভিক মন্তব্যের জন্য এই দেশের কৃষক-মজুরদের পক্ষ থেকে এখন মাঠে নামতে হবে। আর ভিসি সাহেবের পুরোনো অডিও ক্লিপ জানান দিল বিশ্বমানের বিদ্যালয়ে আমরা কাদের উপাচার্য করেছি।’

লায়লা আশরাফুনের বক্তব্যের সমালোচনা করে শাবির সাবেক শিক্ষার্থী প্রদীপ চন্দ্র দাস ফেসবুকে লেখেন, ‘কথাবার্তা কীভাবে বলতে হয়, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়া, কীভাবে মানুষকে কনভিন্স করা যায় এসব মৌলিক বিষয়ের ওপর কর্মজীবনের শুরুতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

দুপুরে শিক্ষকদের ওই বিক্ষোভে অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন আরও বলেন, ‘আমরা কেমন শিক্ষার্থী তৈরি করছি, যে নারী শিক্ষকদের নিয়ে যা খুশি তাই বলবে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা জানি না। এই হামলা কে বা কারা করেছে এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্র এই তদন্তের কাজ করতে পারে।’

দেশের সব শিক্ষকের তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে এদিন সকালে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষক। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগসংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে তাদের হাতে।

তারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নামে শিক্ষকদের নিয়ে যে মন্তব্য করছে তা অশালীন। এতে শিক্ষকরা আহত হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু শিক্ষক এসব কথা বলছেন। অথচ তারা ভিসির কুরুচিপূর্ণ অডিও ক্লিপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

‘দুর্ভোগ লাঘবে’ দোকান বন্ধ, জবি ক্যাফেটরিয়ায় খাবার সংকট

‘দুর্ভোগ লাঘবে’ দোকান বন্ধ, জবি ক্যাফেটরিয়ায় খাবার সংকট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী খাবার দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়ায় ক্যাফেটেরিয়াতে প্রায় প্রতিদিনই খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য তিনটি ক্যাফেটরিয়া থাকলেও বর্তমানে চালু একটি। প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী খাবার দোকানগুলো থাকলেও তা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তাদের দাবি ‘চাঁদাবাজি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি লাঘবের জন্য।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী খাবার দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়ায় ক্যাফেটরিয়াতে প্রায় প্রতিদিনই খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। করোনার সময় জমায়েতের বিধিনিষেধের মধ্যে সেখানে বড় জটলা তৈরি হয়। বিশেষ করে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে হয়।

খাবার সংগ্রহের জন্য সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও মিলছে না। এখন বিভিন্ন বিভাগে সকালে ক্লাস পরীক্ষা চলছে। ক্যাফেতে ভোগান্তির কারণে নাশতা না করেই ক্লাস পরীক্ষায় যেতে হচ্ছে তাদের।

গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সকালে পরীক্ষা। বাসা থেকে নাশতা করে আসিনি। ভেবেছিলাম ক্যাফেতে খেয়ে নেব। কিন্তু এসে দেখি খাবারের জন্য বিশাল সিরিয়াল। উপায় না দেখে আমি ও আরও অনেকে নাশতা না করেই পরীক্ষার হলে ঢুকি।’

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাসা ঢাকার বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসা-যাওয়া করে ক্লাস করি৷ খুব সকালে বাস ধরতে হয়৷ তাই নাশতা করে বের হতে পারি না। ক্যাম্পাসে এসেই খাবার খেতে হয়। কিন্তু এসে যখন দেখি নাশতা থাকে না, থাকলেও আবার লম্বা লাইন। তখন দাঁড়িয়ে খাবার নিতে অনেক কষ্ট হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য তিনটি ক্যাফেটরিয়া থাকলেও বর্তমানে চালু একটি। প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী খাবার দোকানগুলো থাকলেও তা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তাদের দাবি ‘চাঁদাবাজি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি লাঘবের জন্য।’

নিয়মিত ক্যাফেটরিয়ায় খাবার খাওয়া প্রাণরসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ক্যাফেতে খাবারের কোনো অভাব থাকত না। দুপুরেও পর্যাপ্ত খাবার থাকত। কিন্তু ইদানীং ক্যাম্পাসের সামনের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে চাপটা বেশি পড়ছে।’

ক্যাফেটরিয়ার দায়িত্বে থাকা মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আগের থেকে এখন খাবারের চাপ একটু বেশি। প্রথম দিকে একটু কষ্ট হলেও এখন সামলে নিচ্ছি।’

খাবারের দোকানগুলো বন্ধ হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজী বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানির কথা ভেবেই দোকানগুলো বন্ধ করেছি৷ তাছাড়া এখানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এখন এটা সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের বসার উপযুক্ত জায়গায় পরিণত করব। যেখানে শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেবে।’

সার্বিক বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ‘এখন শীতের সময় থাকায় গ্যাস থাকে না ঠিকঠাকমতো৷ তাই ক্যাফেটরিয়ার খাবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার ওপর আবার টিএসসি বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে একটু ভিড় থাকে, এটা আমরাও লক্ষ করেছি৷ তবে, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন

আইসিইউ থেকে আন্দোলনে

আইসিইউ থেকে আন্দোলনে

শরীরে ৬৩টি স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডু। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন উপাচার্য বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করলে সেখানে হুইলচেয়ারে করে উপস্থিত হন সজল। আন্দোলনের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করেন তিনি। কিছুক্ষণ সেখানে থেকে আবার তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে স্প্লিন্টারের আঘাতে শরীর ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল সজল কুণ্ডুর। গায়ে লেগেছিল ৬৩টি স্প্লিন্টার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজলকে সেদিনই সজ্ঞাহীন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন দুদিন। আইসিউ থেকে বের হয়েছেন মঙ্গলবার। এরপর আজই চলে এসেছেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে।

বুধবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন উপাচার্য বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করলে সেখানে হুইলচেয়ারে করে উপস্থিত হন সজল। আন্দোলনের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করেন তিনি। কিছুক্ষণ সেখানে থেকে আবার তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এ সময় পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ বাধে। ওই দিন ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ার কথা জানায় পুলিশ। যে ভবনে সেদিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, সেই ড. এয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ক্যান্টিন ইজারা নিয়ে পরিচালনা করেন সজল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি এ ব্যবসা করেন তিনি।

সংঘর্ষের সময়ও নিজের ক্যান্টিনে ছিলেন সজল। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলনে ছিলাম না। ক্যান্টিনে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখতে পাই পুলিশ শিক্ষার্থীদের মারধর করছে। আমার দুই বন্ধুকেও মারছিল। তখন আমি তাদের বাঁচাতে এগিয়ে যাই।’

আইসিইউ থেকে আন্দোলনে

সজল বলেন, ‘এ সময় পুলিশ আমাকে বেদম পেটায়। আমি মাটিতে পড়ে যাই। পুলিশ আমার ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এরপর আমি জ্ঞান হরাই।

চিকিৎসকদের বরাতে সজল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ আমাকে দেখতেও যায়নি।’

সজলের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাবি প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবীর বলেন, ‘আমরা আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করব। তবে এখনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেককে দেখতে যেতে পারিনি। তবে সবারই খোঁজখবর নিচ্ছি।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার দুপুর থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন আন্দোলনকারী ২৪ শিক্ষার্থী। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। উপাচার্যের বাসভবনের পাশে অনশন চলাকালেই অন্য আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল জানবেন যেভাবে
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল ৭৮.২৫ শতাংশ
নিখোঁজ নন, টাঙ্গাইল কারাগারে ঢাবি ছাত্র হিমেল

শেয়ার করুন