সংসদে আইনমন্ত্রী

বিচারক-নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইনের খসড়া হচ্ছে

player
বিচারক-নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইনের খসড়া হচ্ছে

জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন নিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা (চলতি সংসদের) পরের সংসদ বা তার পরের সংসদে আমরা এটা আলাপ করব, কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়ো করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি।’

উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে দুটি আইনের খসড়া হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০২২ সালে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে আইন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেছেন, সংসদের আগামী বা তার পরের অধিবেশনে এ আইন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাতীয় সংসদে রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিলের আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আনিসুল বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা (চলতি সংসদের) পরের সংসদ বা তার পরের সংসদে আমরা এটা আলাপ করব, কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়ো করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল স্পিকিং অ্যান্ড স্পিকিং দ্য ট্রুথ ইজ দ্য রাইট থিং। সেই জন্য আমি আশ্বস্ত করিনি, তবে দুটোই আমরা করার চেষ্টা করছি।’

এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগে আইন হয়নি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইসির মেয়াদ শেষ হবে। এখনও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন হয়নি।

তিনি এ সময় প্রশ্ন রাখেন সরকার ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চাইছে কি না। তার মতে, এ ধরনের নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।

ওই সময় তিনি ইসি নিয়োগে আইন করার দাবি জানান। একই দাবি জানান জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক।

‘বিএনপির বক্তব্য সঠিক নয়’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন বলে বিএনপি সংসদ সদস্যরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) সরকারের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলেই তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন, মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন।’

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই।’

এর আগে সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব-জেল বানিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা কেবল বলেন, সাব-জেল বানিয়ে রাখা হয়েছে। উনার বাসাটাকে কোনো জেলই বানানো হয়নি। উনাদের (বিএনপির) তথ্যে কেন এত বিভ্রাট, তা বুঝতে পারি না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে, তাহলে তো তথ্যটি জেনে এখানে কথা বলতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত সুপারফিসিয়ালি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৬ মাস করে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।

‘সেখানে দুটো শর্ত যুক্ত ছিল। সেটা এখনও আছে। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন।’

৪০১ ধারার ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘৪০১ ধারায় যাকে মুক্তি দেয়া হবে, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন কোনও কথা নেই, কিন্তু কথা আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তমুক্ত। আমরা সেখানে বলেছি, উনি বিদেশ যেতে পারবেন না, বাংলাদেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। উনি অবশ্যই মুক্ত। অবশ্যই মুক্ত।

‘উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই। উনি সরকারের কাস্টডিতে নেই। উনি এখানকার (দেশে) যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই চিকিৎসা নিতে পারেন এবং সেটা তিনি নিচ্ছেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলছেন, উনাদের নেত্রী কাস্টডিতে। উনি কাস্টডিতে নেই। শি ইজ ফ্রি অ্যান্ড শি ইজ টেকিং ট্রিটমেন্ট অ্যাকর্ডিং টু হার উইল।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না উল্লেখ করে আনিসুল বলেন, ‘আমি বলেছি একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে অরিজিনাল পজিশনে যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত হয়তো নেয়া যাবে।

‘৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার দ্বিমত আছে। আমি আমার অবস্থান থেকে নড়ব না।’

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যাবজ্জীবন দণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চান এসআই হায়াতুল

যাবজ্জীবন দণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চান এসআই হায়াতুল

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রায় দুই যুগ আগের আলোচিত এই মামলায় পুলিশের প্রয়াত এসি আকরামসহ ১৩ আসামি হাইকোর্টে খালাস পান। একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাহীন রেজা রুবেল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেছেন পুলিশ থেকে বহিষ্কৃত উপ পরিদর্শক (এসআই) হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

রিভিউ আবেদনটি বৃহস্পতিবার বিচারক মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে বেঞ্চে উঠলে শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আসামি পক্ষে আবেদন করেছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

প্রায় দুই যুগ আগের আলোচিত এই মামলায় পুলিশের প্রয়াত এসি আকরামসহ ১৩ আসামি হাইকোর্টে খালাস পান। একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেলকে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই ডিবির এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি দল আটক করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় করা মামলার রায়ে বিচারিক আদালত ২০০২ সালের ১৭ জুন এসি আকরামসহ ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মুকুলি বেগম নামে এক আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিপক্ষ।

আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ে এসি আকরাম, মুকুলি বেগমসহ ১৩ আসামিকে খালাস দেয়। আর আসামি হায়াতুল ইসলামের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর ২০১১ সালের ৯ মে রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পান এসি আকরাম।

খালাসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন আমিনুল ইসলাম, আমীর আহমেদ তারেক, নুরুল আলম, আবদুল করিম, নুরুজ্জামান, রাতুল পারভেজ, মীর ফারুক, মংশেওয়েন, আবুল কালাম আজাদ, কামরুল হাসান, জাকির হোসেন ও মুকুলি বেগম।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এসি আকরামের খালাসের বিরুদ্ধে এবং হায়াতুল ঠাকুর তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট এসি আকরামকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ তৎকালীন ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আকরাম হোসেনসহ ১৩ আসামির খালাসের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এর মধ্যে গত বছরের ১৬ জুলাই এসি আকরামের মৃত্যু হয়েছে।

তবে আপিল খারিজ করে এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগের সেই রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন করেছেন হায়াতুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

পশুখাদ্যে ভেজাল রোধে সতর্ক হোন: ডিসিদের মন্ত্রী

পশুখাদ্যে ভেজাল রোধে সতর্ক হোন: ডিসিদের মন্ত্রী

পশুখাদ্যে ভেজাল রোধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ডিসিদের। ছবি: সংগৃহীত

ডিসিদের দেয়া নির্দেশনার বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘কারেন্ট জাল বা অন্যান্য জাল দিয়ে মাছ ধরা অথবা পশুখাদ্যে ভেজাল যাতে কেউ দিতে না পারে, মৎস্য উৎপাদন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের যে সকল পরিকল্পনা আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন যাতে সহায়তা করে, সে বিষয়গুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

পশুখাদ্যে ভেজাল রোধে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি কারেন্ট জাল বা অন্যান্য জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করতেও ডিসিদের নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর, সংস্থাসমূহে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রান্তিক সীমা থেকে শুরু করে ক্যাপিটাল পর্যন্ত আমাদের মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদন, বিপণন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যত কর্মকাণ্ড আছে, সেই কর্মকাণ্ডে তাদের দেখভাল করা, তদারকি করা এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যাতে যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, কোনো প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার না হয়, সে জন্য তাদের অনুরোধ করেছি।

‘কারেন্ট জাল বা অন্যান্য জাল দিয়ে মাছ ধরা অথবা পশুখাদ্যে ভেজাল যাতে কেউ দিতে না পারে, মৎস্য উৎপাদন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের যে সকল পরিকল্পনা আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন যাতে সহায়তা করে, সে বিষয়গুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য অব্যাহত রাখতে ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদনে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এই ধারাবাহিকতা যাতে অব্যাহত রাখা যায়, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সকল প্রকার সহযোগিতার জন্য আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছি। আমাদের মৌলিক জায়গা হচ্ছে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মিঠাপানির মাছে তৃতীয় স্থানে, ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের বিস্ময় সৃস্টি করে সর্বোচ্চ উৎপাদনে। যে সকল মাছগুলো হারিয়ে গিয়েছিল, আমরা কৃত্রিম প্রজননের প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে সেই মাছগুলোকে ফিরিয়ে এনেছি।

‘এই বিস্ময়কর সাফল্যের জায়গাটা যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি, সে ক্ষেত্রে প্রশাসন যাতে সহায়তা করে, সে বিষয়গুলো আমরা তাদের দৃষ্টিতে এনেছি।’

ডিসিদের প্রস্তাবের বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের কিছু প্রস্তাব ছিল। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় যেসব ভেসেলে লাইসেন্স জরুরি না, সেগুলোকে কীভাবে ডিমার্ক করা যায়, আমরা সেখানে বলেছি, বাংলাদেশি সিম্বল দিয়ে আমরা তাদের ডিমার্ক করব। কোনো কোনো এলাকায় আধুনিক শুঁটকিপল্লি করা যায় কি না, সে প্রস্তাব ছিল। আমরা বলেছি অবশ্যই করা যাবে।

‘কোনো কোনো এলাকায় নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেয়া যায় কি না বা যে সকল এলাকায় কোনো কাজ চলছে, তার ধরন পরিবর্তন করা যায় কি না, প্রশাসনকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়গুলোতে আমরা বলেছি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোঅপারেশন থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ডিসি) যেটা এক্সপেক্ট করেছে, তার অধিকাংশগুলো আমাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে কিছু কিছু বিষয় আছে যেটা আইনে নেই। একটা প্রস্তাব ছিল সকল নৌযানকে লাইসেন্স দেয়া যায় কি না। এখন সকল নৌযান বলতে কিন্তু ছোট ছোট নৌযান আছে, তাদের লাইসেন্স দেয়ার বিধান নাই। আমাদের মৎস্য আইন রয়েছে, সমুদ্র আইন রয়েছে। আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করব না, তবে আইন না থাকলেও নীতিগতভাবে, প্রশাসনিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো প্রয়োজনীয়, সে বিষয়গুলো তারা যাতে গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি।’

জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের সময় সহায়তার ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য হয়। সে ক্ষেত্রে ডিসিদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকাকালীন যে সকল মৎস্য আহরণকারীরা অসুবিধায় পড়তে পারে, তাদের জন্য ভিজিএফের ব্যবস্থা করা হয়েছে; টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতীতে গতানুগতিক অবস্থা ছিল। আমি মন্ত্রণালয়ে আসার পর সকল কার্ড আপডেট করেছি।

‘এখন থেকে ২০ বছর আগে যিনি মৎস্যজীবী ছিলেন তার মধ্যে অনেকে গার্মেন্টসের মালিক হয়ে গেছে। আবার অনেক অসহায় মৎস্যজীবীর নামটাই তালিকাভুক্ত হয়নি। কন্টিনিউয়াস একটা প্রসেস করেছি এবং সে ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রধান যারা, তারা এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়।’

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

নদী রক্ষায় ডিসিদের জোরাল ভূমিকা চায় সরকার

নদী রক্ষায় ডিসিদের জোরাল ভূমিকা চায় সরকার

নদী দূষণ রোধে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ডিসি সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীগুলোতে যেন নাব্যতা থাকে, নদী দূষণ এবং দখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ আমাদের নদী রক্ষার যে জেলা কমিটি, সেটার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তারা ইতোমধ্যে অনেক ভূমিকা রাখছেন এবং এগুলো আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।’

দেশের নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা, দূষণ ও দখল রোধেও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জোরাল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সেই সঙ্গে দেশের স্থলবন্দরগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোতেও ডিসিদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নদীগুলোতে যেন নাব্যতা থাকে, নদী দূষণ এবং দখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ আমাদের নদী রক্ষার যে জেলা কমিটি, সেটার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তারা ইতোমধ্যে অনেক ভূমিকা রাখছেন এবং এগুলো আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।’

‘অবৈধ বালু উত্তোলনের মধ্য দিয়ে নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে যায় এবং আমাদের নৌপথগুলোতে বিঘ্নতা তৈরি হয়। এগুলো সঠিকভাবে মনিটরিং করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।’

স্থলবন্দরগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করার জন্যও ডিসিদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থলবন্দর যেগুলো আছে, যেহেতু সেখানে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, সে জায়গায় কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসনের নজরদারি আছে, তারা রাখছেন। তারপরেও এটা জোরদার করার জন্য আমরা বলেছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে, এগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব ছিল কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় যে মানুষগুলো আছে, যেমন হাতিয়া, ভোলা, এসব নদী বন্দরগুলোর আরও উন্নয়ন করা এবং যাত্রীবান্ধব করা। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌ সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে একটা অচলায়তন, অনিয়ম হয়ে আসছে। এটা এত বড় একটা সেক্টর, একবারেই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

‘যেমন আমরা যে লঞ্চে যাতায়াত করি, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এটির নকশায় পরিবর্তন করা দরকার। শুধু কোভিড পরিস্থিতির কারণে নয়, বর্তমান এ আধুনিক যুগে এটি চলে না। এ জায়গাটায় আমরা নজর দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এ সেক্টরকে নিরাপদ করা।’

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

সন্ধ্যা ৬টার পর বালু উত্তোলন নয়

সন্ধ্যা ৬টার পর বালু উত্তোলন নয়

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ডিসিদের। ফাইল ছবি

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক চলছে। দেশে এর মহাসমারোহ শুরু হয়েছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে আমরা যদি নদীর একটি বাঁধ লোহা দিয়েও নির্মাণ করি, সেটিও একসময় ঢলে পড়বে।’

দেশের কোনো এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না বলে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

যেখান-সেখানে বালু উত্তোলন বন্ধ, উঁচু স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা এবং নদীর তীরবর্তী বাঁধগুলোতে যাতে ঘরবাড়ি মতো অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রস্তাবে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের করা ব্রিফিংয়ে জাহিদ ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষা মৌসুমে অধিক পানি প্রবাহ হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি একদমই কমে যায়। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষার। ‘যেকোনোভাবে নদীতে পানি সচল রাখতে হবে। নাব্যতা রক্ষা করতে হবে, যাতে নৌযান খুব সহজে চলাচল করতে পারে।’

অধিবেশনের আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের যেটা অনুরোধ করা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নদী রক্ষা করছি, তবে একই সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, সারা দেশে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক চলছে। দেশে এর মহাসমারোহ শুরু হয়েছে।

‘এটা বন্ধ করতে না পারলে আমরা যদি নদীর একটি বাঁধ লোহা দিয়েও নির্মাণ করি, সেটিও একসময় ঢলে পড়বে। তখন আমরা নদীকে রক্ষা করতে পারব না। নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে পড়বে।’

বালু উত্তোলন নিয়ে জাহিদ ফারুক বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকদের জানিয়েছি, ড্রেজিং ম্যাটেরিয়ালস একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেটি খুব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। সেখানে বালি উত্তোলনের সময়টা সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হবে।

‘বালি উত্তোলন কোনোভাবেই সন্ধ্যা ৬টার পরে করা যাবে না। এটা ছাড়া সরকারের যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প রয়েছে, তা চলমান রাখার জন্য বালির প্রয়োজন হবে, কিন্তু তার জন্য যত্রতত্র বালি উত্তোলন করলে চলবে না। তা উত্তোলন করতে হবে নির্দিষ্ট বালুমহাল থেকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীদের নিয়ে বালুমহাল চিহ্নিত করুন।’

বাঁধে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বাঁধের ওপর কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। সাধারণভাবে আপনারা দেখেছেন নদীর ওপর যে বাঁধ থাকে, সেখানে কিছু ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে। বাঁধের ওপর এভাবে ঘরবাড়ি করলে এবং রান্নাবান্না করলে সেখানে ইঁদুরের বাসা হয়। এতে বাঁধের মাটির তল দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু ওপর থেকে জানাই যাবে না যে, বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

‘ফলে বন্যার সময় যখন পানির প্রবল স্রোতের ধাক্কা লাগে, তখন এই বাঁধগুলো ভেঙে যায়। তখন কিন্তু অনেকেই বলে এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড তৈরি করেছে এবং এর নির্মাণকাজ ভালো হয়নি।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আপনারা দেখবেন আশ্রয়ণ প্রকল্প কিন্তু সাধারণভাবে নদীর কিনারাতে করা হয়। ফলে যখনই বন্যা হয়, তখনই কিন্তু পানি এসে আশ্রয়ণ প্রকল্প ডুবে যায়। এতে সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

‘আমরা জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছি, আপনারা যখন এই আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করবেন, প্রকল্পস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নেবেন, অথবা স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটু উঁচু জায়গা বেছে নেবেন। তাহলে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি পানিতে ডুবে যায় না। সে ক্ষেত্রেও নিচু স্থান হলে বালি ফেলে তা উঁচু করে নেয়া যায়। তাহলে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো টেকসই হবে।’

উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ রক্ষার বিষয়ে ডিসি সম্মেলনের অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ রক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উপকূলীয় বাঁধগুলো ভেঙে যাচ্ছে। এগুলো ষাটের দশকের প্রকল্প। এখনই প্রকল্পগুলোর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এখানে বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কাজ হচ্ছে। এখানে ১৩৯টা ফোল্ডার আছে। ১০টি ফোল্ডারের কাজ সমাপ্তির পথে। আরও ২০টি ফোল্ডারের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

‘এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে আরও সাতটি প্রকল্প চলমান। উপকূলীয় প্রকল্পের এসব কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে আগামী সাত থেকে আট বছর পরে উপকূলীয় অঞ্চল একটি সহনীয় পর্যায়ে আসবে। তখন উপকূলবাসীকে জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে আমরা রক্ষা করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

সৌদি শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট

সৌদি শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট

নানা সমস্যার কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস। সৌদি গেজেটকে উদ্বৃত করে দেশটিতে প্রবাসী শ্রমিকদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

সৌদি শ্রমবাজারে প্রতিনিয়ত তাদের নিজস্ব কর্মী বাড়ছে। বাড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা। বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। সৌদি শ্রমবাজার নিয়ে এসব উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণায়লকে চিঠি লিখেছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস।

জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে পাঠানো চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায় বুধবার। এতে জেদ্দাভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটকে উদ্বৃত করে প্রবাসী শ্রমিকদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ইকামা খরচ বাড়ানো, প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করা এবং কর্মস্থলে সৌদিদের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

কনস্যুলেট জানায়, ২০১৮ সালের শুরু থেকে ২০২১ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের শেষ পর্যন্ত ৪৫ মাসের মধ্যে মোট ১০ লাখ ৫ হাজার পুরুষ ও মহিলা বিদেশি শ্রমিক সৌদি কর্মসংস্থানের বাজার ছেড়েছে। এই সংখ্যাটি দেশটিতে মোট বিদেশি কর্মীর ১০ দশমিক ১২ শতাংশ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের ওপর বাড়তি ইকামা ফি আরোপকে সৌদি আরব থেকে তাদের ব্যাপক প্রস্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রবাসী ফির মাসিক পরিমাণ ছিল প্রতি কর্মী ৪০০ সৌদি রিয়াল। এই ফি ২০১৯ সালে ৬০০ এবং ২০২০ সাল থেকে ৮০০ সৌদি রিয়াল করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণায়লকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসী ফি আরোপের আগে ২০১৭ সালের শেষে অ-সৌদি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১০.৪২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছিল। এই সংখ্যা প্রতি বছর কমতে থাকে, যা ২০২১ শেষে ৯.৩৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে সৌদি পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের শ্রমবাজারে প্রবেশের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার (পুরুষ ও মহিলা) বেড়েছে, যা আগের চেয়ে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এতে বর্তমানে সৌদি কর্মীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৩৪ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ১৬ মিলিয়ন।

জেনারেল অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের পর সামাজিক বিমার নিয়ম ও প্রবিধানের অধীন সৌদি পুরুষ ও মহিলাদের সংখ্যা বেড়েছে বলেও জানায় জেদ্দা কনস্যুলেট।

একই সময়ের মধ্যে আরও ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি পুরুষ ও মহিলা সৌদি কর্মচারী বিমা ডাটাবেসে অ্যাক্সেস পেয়েছে। এতে এই সিস্টেমের অধীনে থাকা মোট কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ১৪ মিলিয়নে নিয়ে এসেছে।

সৌদি গেজেটের বরাতে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে আরও জানানো হয়, সিভিল সার্ভিস আইনের অধীন দেশটির কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার বেড়েছে, যা প্রায় ২ শতাংশের সামান্য বেশি।

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল কোর্টে লাগবে না গাউন

ভার্চুয়াল কোর্টে লাগবে না গাউন

ভার্চুয়াল কোর্টে আইনজীবীদের এ ধরনের গাউন পরতে হবে না। ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ভার্চুয়ালি শুনানির সময় গাউন পরার বিষয়ে শিথিলতা আনতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। তার এ আবেদনে সাড়া দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে শুনানিকালে আইনজীবীদের কালো কোটের ওপর কালো গাউন পরতে হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলা শুনানিকালে ক্ষেত্রমতো টার্নড আপ সাদা কলার ও সাদা ব্যাংসহ সাদা শার্ট ও প্যান্ট/শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ ও জাজেস কোট পরিধান করবেন।’

আইনজীবীদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীগণ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলা শুনানিকালীন ক্ষেত্রমতো টার্নড আপ সাদা কলার ও সাদা ব্যান্ডসহ সাদা শার্ট ও প্যান্ট/শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ ও কালো কোট/শেরওয়ানি পরিধান করবেন।’

উভয় ক্ষেত্রে গাউন পরার বাধ্যবাধকতা নেই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফের ভার্চুয়ালি কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বুধবার থেকে ভার্চুয়াল কোর্টে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ শুরু হয়।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ভার্চুয়ালি শুনানির সময় গাউন পরার বিষয়ে শিথিলতা আনতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন।

তিনি বলেন, ‘ভার্চুয়ালি শুনানিতে আমরা যেকোনো জায়গা থেকে অংশ নিতে পারি। এ সময় গাউন পরে অংশ নিতে আমাদের বেশ সমস্যা হয়।’

ওই সময় ব্যারিস্টার কাজলের সঙ্গে একমত পোষণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেলও।

তখন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘ঠিক আছে আমরা দেখছি কী করা যায়।’

পরে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গাউন পরার ওপর শিথিলতা জারি করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনা আক্রান্ত প্রধান বিচারপতি, হাসপাতালে ভর্তি

স্ত্রীসহ করোনা আক্রান্ত প্রধান বিচারপতি, হাসপাতালে ভর্তি

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ফাইল ছবি

তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওনারা (প্রধান বিচারপতি এবং তার স্ত্রী) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সুস্থ আছেন।’

সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রধান বিচারপতির স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর প্রধান বিচারপতিরও করোনার পজেটিভ ফল আসে। পরে বুধবার রাতে প্রধান বিচারপতিও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর বুধবার রাতে প্রধান বিচারপতিও হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ভিআইপি ডিলাক্স কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারক মিলে আপিল বেঞ্চ পরিচালনা করছেন।

প্রধান বিচারপতি ছাড়াও হাইকোর্ট বিভাগের ১৩ জন বিচারকের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসকে মোরশেদও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন।

দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত ৩০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। নতুন বছর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ইসি গঠনে আইন দরকার, তবে এই মেয়াদে নয়
কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শাতে বলা হবে: আইনমন্ত্রী
মামলার পর্যবেক্ষণ: বিচারকের বিরুদ্ধে চিঠি দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী
‘দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রী একজন আর্কিটেক্ট’
মামলার জট কমাতে এডিআর পদ্ধতি

শেয়ার করুন