বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক

player
বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক

টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফাইল ছবি

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। যে পতন হয়েছে, সেটা প্রত্যাশিত ছিল না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। আমরা যে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের বলে থাকি, সেসব শেয়ারের দরও কমেছে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার বর্তমান দরে কিনলে ৬ থেকে ৭ পয়েন্ট ইল্ড পাওয়া যেত, সেগুলোতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লোকসান করছেন।’

আর্থিক ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা যথাক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যকার মতদ্বৈধতা নিয়ে বৈঠক ডাকার খবরেও পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না পুঁজিবাজার। টানা ষষ্ঠ দিনের দরপতনে সূচক নেমেছে সোয়া তিন মাসের আগের অবস্থানে, আর লেনদেন নেমেছে ৭ মাসের আগের অবস্থানে।

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতভিন্নতা, সেই সঙ্গে পৃথিবীতে করোনার নতুন ধরনজনিত কারণে নানা দেশে বিধেনিষেধ দেয়া হচ্ছে। দুইয়ে মিলে পুঁজিবাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বিনিয়োগকারীরা বের হতে পারছেন না।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পড়ল ৭৮ পয়েন্ট। দিন শেষে অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩ পয়েন্ট, যা গত ১৮ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৭১ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় সূচকের টানা পতন। এ নিয়ে ছয় দিনেই সূচক পড়ল ৩১৮ পয়েন্ট।

গত দুই বছরে এর চেয়ে বেশি পতন চলতি বছরের ১০ থেকে ১৯ অক্টোবর দেখা দিয়েছিল। সে সময় টানা সাত কর্মদিবস সূচক পড়ে ৩৪৭ পয়েন্ট।

এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন পতন হয় ৬ কর্মদিবস।

দরপতনের দিন লেনদেন কমে সাড়ে আট শ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এর চেয়ে কম লেনদেন ছিল গত ২৭ এপ্রিল। সেদিন হাতবদল হয় ৮২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

সপ্তাহের শুরুর এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আস্থায় আরও একটু পতন ঘটাবে সন্দেহ নেই। এর কারণ, পুরো সপ্তাহ পতন শেষে বৃহস্পতিবার খবর আসে পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি। সেই খবরে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে কিছুটা হলেও ধারণা জন্মে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি আর পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বহুজন জানাচ্ছেন, তারা সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ বাজারে অর্থপ্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রতিদিন জানানোর নির্দেশ দেয়া ছাড়াও শেয়ার মূল্য বেড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগসীমা এক দিনের জন্য অতিক্রম করে যাওয়ার পর বেশ কিছু ব্যাংককে জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক বন্ডে যে বিনিয়োগ করবে, তা তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে হবে।

এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লেনদেনের তথ্যও প্রতিদিন জানানোর আদেশ এসেছে, যে আদেশ আসার পর বিএসইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বলেছে, এটা তারা পারে না।

ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল আগে থেকেই। সেই সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্য নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে মতপার্থক্য প্রায় এক দশক ধরেই। বাজারমূল্য বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় পুঁজিবাজারে অযাচিত ক্রয়চাপ তৈরি হয় আর গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দুই পক্ষের বৈঠক শেষে বিএসইসি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রয়মূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণে রাজি হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। যে পতন হয়েছে, সেটা প্রত্যাশিত ছিল না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।

‘আমরা যে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের বলে থাকি, সেসব শেয়ারের দরও কমেছে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার বর্তমান দরে কিনলে ৬ থেকে ৭ পয়েন্ট ইল্ড পাওয়া যেত, সেগুলোতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লোকসান করছেন।’

আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে হয়তো বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে একটি পর্যায়ে যাবে। এখন সে পর্যায়টি কত নিচে নামবে দেখার বিষয়।’

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নতুন বিনিয়োগ করে এই বাজার ওঠানো সম্ভব না। গত এক সপ্তাহে যারাই যে শেয়ারে বিনিয়োগ করে, সেখানেই লোকসান করেছে। এ জন্য এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে সক্রিয় হতে হবে।’

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় যেসব কোম্পানি

দিন শেষে দর হারিয়েছে ২৯১টি কোম্পানি। এর মধ্যে কেবল ১০টি কোম্পানি দর হারানোর কারণে সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ৩৯.৪৫ পয়েন্ট।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

সূচকের এই পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল গত দেড় বছরে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড। ৬ টাকা ৯০ পয়সা শেয়ার দর হারানোয় সূচক পড়েছে ১০.৬৮ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন কর্মদিবস পড়ল শেয়ারটির দর।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর ৩.৬৫ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে আরও ৬.১৫ পয়েন্ট।

রাষ্ট্রায়াত্ত আইসিবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার, গ্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, এনআরবিসি, রবি, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও স্কয়ার ফার্মার দরপতনও সূচকের বড় পতনে রেখেছে প্রধান ভূমিকা।

পতনের আরও একটি দিনে দর বেড়েছে ৬৬টি কোম্পানির। এর মধ্যে যে ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১২.৩৬ পয়েন্ট।

এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৬৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৩.৪৪ পয়েন্ট। এই কোম্পানিটির কারণেই সূচক বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া বিকন ফার্মা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ালটন, বাংলাদেশ সাবমেরিক কোম্পানি, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, একমি প্যাস্ট্রিসাইডস, সাইফ পাওয়ারটেক ও ইউনিক হোটেলের দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
এই ১০টি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ হয়েছে

দর বৃদ্ধির সেরা দশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পুরোনো কোনো কোম্পানি রোববার দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের প্রথম দুটিতে স্থান নিতে পারেনি। বরং সদ্য তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি, যাদের শেয়ার শেয়ারধারীরা বিক্রি করতে আগ্রহী নন সেগুলোই ছিল ওপরের দিকে।

এর মধ্যে বিমা খাতের সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স দর বেড়েছে ৯.৭৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৪০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে ১৫ হাজার ৩৯৮টি শেয়ার। লেনদেন হয়েছে ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

তারপরেই ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার দর বেড়েছে ৯.৭৬ শতাংশ। শেয়ার দর ২৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৬৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

দর বৃদ্ধিতে এদিন তৃতীয় স্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এমারেল্ড অয়েল। কোম্পানিটি উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেয়ার দর বেড়েছে ৮.১০ শতাংশ। হাতবদল হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৩টি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা আজিজ পাইপের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.০৫ শতাংশ। মোট ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া এই কোম্পানির হাতবদল হয়েছে ৮১ হাজার ৯৭০টি শেয়ার।

অলটেক্স ও আনোয়ার গ্যালভালাইজিংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে যথাক্রমে ৬.৬২ ও ৬.২৪ শতাংশ। অলটেক্সের ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ৮৫ হাজার ৮৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আনোয়ার গ্যালভালাইজিংয়ের ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৬২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
দরপতনের দিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ৬ খাত

৪.৩৪ শতাংশ দর বেড়েছে শীর্ষ দশের ৭ নম্বরে ছিল রহিম টেক্সটাইল। বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা। ৫ লাখ টাকায় লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৪৭টি শেয়ার।

বিবিধি খাতের কোম্পানি আমান ফিড ছিল দর বৃদ্ধির ৮ নম্বরে। কোম্পানিটির ৪.০৬ শতাংশ দর বেড়েছে। হাতবদল হয়েছে ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বস্ত্র খাতের শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৩.৭৫ শতাংশ, সমতা লেদারের দর ৩.৬৬ শতাংশ, জিলবাংলা সুগারের দর ৩.৬৩ শতাংশ এবং বিচ হ্যাচারির দর বেড়েছে ৩.৪৮ শতাংশ।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দর পতনের তালিকায় এগিয়ে ছিল তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৯.৮০ শতাংশ। শেয়ার দর ২০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৬ কোটি ৫ লাখ ১৪৯টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতের আরেক কোম্পানি কুইনসাউথের দর ৯.৭৩ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের দর ৯.৪৭ শতাংশ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিআইএফসির দর কমেছে ৯.৪৭ শতাংশ।

এ ছাড়া এস আলম কোল্ডরোল স্টিলের শেয়ার দর কমেছে ৮.৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ২৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ৩৬৫টি শেয়ার।

হাওয়েল টেক্সটাইলের শেয়ার দর ৬.১১ শতাংশ। শেয়ার দর ৪৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৩ টাকা। লেনদেন হয়েছে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬ হাজার ৫০৫টি শেয়ার।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
এই ৬টি খাতের দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে

এপেক্স ট্যানারির শেয়ার দর কমেছে ৫.৯০ শতাংশ। হাতবদল হয়েছে ৫৭০টি শেয়ার।

দরপতনে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে গ্লোবাল হ্যাভি ক্যামিক্যাল, জুট স্পিনার্স, দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম।

এদিন ৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ২৯টি কোম্পানির। ২ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ৬০টি কোম্পানির। ১ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ৮৪টির।

লেনদেনে ১০ কোম্পানি

রোববার লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিবিধ খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪.০৪ শতাংশ কমলেও লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩২টি শেয়ার। শেয়ার দর ১৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের ওয়ান ব্যাংক গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে লেনদেনে এগিয়ে থাকা কোম্পানির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। রোববারও দ্বিতীয় স্থানে কোম্পানিটি। মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯টি শেয়ার।

ব্যাংক খাতের আরেক কোম্পানি আইএফআইসি ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৩টি শেয়ার।

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে ২.৭৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা ২০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১৬৮টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৫টি শেয়ার। ডেল্টা লাইফের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

আনোয়ার গ্যালভালাইজিং, ওরিয়ন ফার্মা, সাইফ পাওয়ার, এনআরবিসি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ফরচুন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ছিল লেনদেনের শীর্ষ তালিকায়।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

পুঁজিবাজারের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বস্ত্র খাতে ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির, প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

সপ্তাহের তৃতীয় দিনের লেনদেনে শেয়ার কেনা বেচায় অনেকটা বিভ্রান্তিতে ছিল বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের শুরুতে সূচকের যে উত্থান আর লেনদেনের যে গতি ছিল সেটি শেষের দুই ঘণ্টায় ছন্দ হারিয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টাকা ৫২ মিনিট পর্যন্ত সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছিল ৭ হাজার ৯৭ পয়েন্টে। তবে দিন শেষে বাড়তি সূচকের প্রায় পুরোটাই কমে আসে। আগের দিনের তুলনায় কেবল ০.৪৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

লেনদেনে ১৮৪ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৪৬টি কোম্পানির। দর পাল্টায়নি ৪৮টি কোম্পানির।

সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে।

বস্ত্র খাতে এদিন ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৯টির। বাকি কোম্পানিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২৩ শতাংশ বা ১০টি কোম্পানির। বাকিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৫৩ শতাংশ কোম্পানির, আর্থিক খাতের ৪৫ শতাংশ আর মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৩৯ শতাংশের দর বেড়েছে।

সূচকের উঠানামা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হতে শুরু করার লক্ষণ স্পষ্ট লেনদেনে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭১২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষ মাসে লেনদেন তলানিতে নেমে আসার পর চলতি বছর এ নিয়ে টানা ১২ ‍কর্মদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ বা নয় শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে সাতটি কোম্পানির। এরমধ্যে একমাত্র দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পানিটির ১৭১ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ১৮৮ টাকা ১০ পয়সায়। ৪ কোটি ৬ লাখ টাকার ২ লাখ ২৩ হাজার ২১১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ। তবে কেবল ৩৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া বিমা খাতের এই কোম্পানিটি গত বৃহস্পতিবার থেকে লেনদেন শুরু করেছে।

প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৮৫ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৬৬ শতাংশ, এসএস স্টিলের ৯.৬২ শতাংশ, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৪৭ শতাংশ, শমরিতা হসপিটালের দর বেড়েছে ৯.৪১ শতাংশ।

এদিন সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ছয়টি কোম্পানির। এর মধ্যে অগ্নি সিস্টেমসের দর ৭.৮৬ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর ৭.৬৬ শতাংশ আর ফার্মা এইডের দর বেড়েছে ৭.৪৯ শতাংশ।

দর পতনের দশ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অনালিমা ইয়ার্ড ৬.০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসানের হিসাব প্রকাশের পর ৪১ টাকার শেয়ার নেমেছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সায়। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া আইটি কনসালটেন্টনের শেয়ার দর ৪.৩৮ শতাংশ, আজিজ পাইপের দর ৪.৩১ শতাংশ, তুং হাই নিটিংয়ের দর ৪.২২ শতাংশ ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.২২ শতাংশ কমেছে।

তিন শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর ৩.৮২ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৪১ শতাংশ ও তিতাস গ্যাসের দর ৩.০৭ শতাংশ কমেছে।

দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ১৫টি কোম্পানির। আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ২.৯৮ শতাংশ ও ডেসকোর ২.৯১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে মোট ৭০ লাখ ২০ হাজার ৩৯১টি শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের ৯৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৮টি শেয়ার।

সাইফ পাওয়ারটেকে লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৪৩৩টি।

জিপিএইচ ইস্পাতে ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, পাওয়ারগ্রিডে ৪৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্সের ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া ফরচুন সুজে ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আর এ কে সিরামিকসে ৪০ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলে ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

প্রতিদিনের লেনদেনে একটু একটু করে বাড়ছে সূচক। বছরের প্রথম কর্মদিবসে সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। সেখান থেকে ১২ কর্মদিবসে সূচকে ২০০ পয়েন্ট যোগ হয়ে সোমবার দেড় মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ফিরছে একসময় হু হু করে বাড়তে থাকা বিমা, স্বল্প মূলধনি, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানির শেয়ার। এসব খাতের শেয়ারের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায় উঠে আসে কোম্পানিগুলোর নাম।

ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের থাকা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে তাদের অর্থবছরের হিসাব সম্পূর্ণ করেছে। এখন অডিটের মাধ্যমে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে লভ্যাংশ আসতে শুরু করবে। পুঁজিবাজারে মূলত ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক খাত, বিমা, মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থবছর ডিসেম্বরকেন্দ্রিক। ফলে এসব কোম্পানির প্রতি এখনই আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

এদিন লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারের লেনদেন একবারও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেনি। তবে ৩ জানুয়ারি থেকে হাজার কোটি টাকার লেনদেনের যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে। এই যাত্রায় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ১১ জানুয়ারি, ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

সোমবার লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। যার ফলে সূচকের উত্থানে পতনের যে বড় ঢেউ দেখা যেত, সেটি ছিল না বললেই চলে।

খানিক সময়ের জন্য সূচকের পতন উত্থানের হার কমে এলেও পরবর্তী সময়ে আবার সেটি শেয়ার কেনার আগ্রহে উঠে এসেছে। দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৫ পয়েন্টে। এর আগে ২১ নভেম্বর সূচক ছিল ৭ হাজার ৮৫ পয়েন্টে।

সোমবার লেনদেনে সাধারণ বিমা খাতের ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। আর জীবন বিমা খাতের ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ দর বেড়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৬১ শতাংশ, নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের ৬৮ শতাংশ, ব্যাংকের ৫৯ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ৩৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

তৃতীয় দিনে লেনদেন থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের গ্রিন সুকুকের দাম আরও কমেছে। এদিন সুকুকটির দর কমে হয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যেই এই সুকুকের লেনদেন গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। সেদিন সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১১০ টাকা। লেনদেন শেষ হয় ১০১ টাকায়। দ্বিতীয় দিনের লেনদেনে দর আরও কমে হয় ৯৫ টাকা। সোমবার তৃতীয় দফায় প্রতিটি সুকুকের দর কমেছে সাড়ে ৩ টাকা।

সূচক উত্থানে ছিল যেসব কোম্পানি

সোমবার সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল টেলিকম খাতের রবির। শেয়ারদর ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ উত্থানে সূচক বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ২ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচক উত্থানে ভূমিকা রেখেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ফার্মার অবদান ছিল ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট। বিএসআরএমের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, এতে সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট।

এ ছাড়া সাইফ পাওয়ারের ২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট, বার্জার পেইন্টের ২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট ও ডরিন পাওয়ারের ১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট অবদান ছিল সূচক বৃদ্ধিতে।

পাশাপাশি শেয়ারদর কমায় সূচক পতনে ত্বরান্বিত করেছে তিতাস গ্যাস, আরএকে সিরামিক, আইসিবি, পাওয়ার গ্রিড, ওয়ালটন, বিএটিবিসি, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফ।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

সোমবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সদ্য লেনদেনে আসা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের। দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া এদিন ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে আছে শমরিতা হসপিটাল, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেনে এদিন কোম্পানিটির ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। দর বৃদ্ধিতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪ টাকা ২০ পয়সা।

প্রাইম লাইফের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া ফুওয়াং ফুডের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

৮ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্রগতি লাইফের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও ডরিন পাওয়ারের ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

৭ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সাইফ পাওয়ারের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া এ তালিকায় আছে লিব্রা ইনফিউশন ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স।

দরপতনে ১০ কোম্পানি

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত দুই কর্মদিবস ধরে কমছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। সোমবার দরপতনে ৫০ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার নেমেছে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

আরএকে সিরামিকের শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। আরও দুটি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। একটি হচ্ছে তিতাস গ্যাস, যার শেয়ারদর ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যটি এএমসিএল (প্রাণ), যার শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৪ শতাংশের বেশি শেয়ারদর কমেছে আরও সাতটি কোম্পানির। এর মধ্যে রংপুর ফাউন্ডির ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, কাট্টলি টেক্সটাইলের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, সমতা লেদারের ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, এপেক্স স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

লেনদেনে ১০ কোম্পানি

সোমবার টাকার অঙ্কে লেনদেন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, যার ১৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

সাইফ পাওয়ারের লেনদেন হয়েছে ১০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২টি শেয়ার।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৫টি শেয়ার।

ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৯টি শেয়ার।

পাওয়ার গ্রিডের ৫৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিকের ৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতের ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফের ৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ১৭ লাখ ও ফরচুন সুজের ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দিলো ইউনিয়ন ব্যাংক। ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ৭৯২টি শেয়ার। প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ৫৩৭টি শেয়ার।

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, ডিএসইর সিআরও (ইনচার্জ) ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ডিএসইর ট্রেনিং অ্যাডেমির প্রধান ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে আইপিও আবেদনের নতুন নির্দেশনা কার্যকর করে বিএসইসি। যেখানে আবেদন করলেই শেয়ার পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য নূন্যতম ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে পুঁজিবাজারে।

সোনালী লাইফকে দিয়ে যখন আইপিওতে প্রথম সবার জন্য শেয়ারের ব্যবস্থা চালু হয়, সে সময় থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হয় একেকজন বিনিয়োগকারীকে। পরে কেবল ১০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন ব্যাংককে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই শর্তে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

শর্ত হিসেবে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

গত এক বছরের বেশি সময়ে ইউনিয়ন ব্যাংক সহ মোট তিনটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা।
উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কোন কোম্পানির আবেদনে কত শেয়ার মিলেছে

লটের বদলে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একেকজন সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৫৪টি শেয়ার পেয়েছেন বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ২৯ টাকা করে। এই হিসাবে প্রতিজনের লেগেছে ১ হাজার ৫৬৬ টাকা।

৬০টি করে শেয়ার পেয়েছেন সাউথবাংলা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য ১০ হাজার টাকা আবেদন করলেও বিনিয়োগকারীর সেই আবেদন থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০টি করে শেয়ার পাওয়া গেছে একটি পেস্ট্রিসাইডসের। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের বিপরীতে কেটে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার পাওয়া গেছে ১৯টি করে, বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ১৯০ টাকা আর একেকজন সোনালী লাইফের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭টি করে, একেকজনের কাছ থেকে কাটা হয়েছে ১৭০ টাকা।

গত ১ এপ্রিল থেকে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দের পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে স্থিরমূল্যে আইপিওতে আসা বিনিয়োগকারীরা ৫০০টি শেয়ার বরাদ্দের জন্য আবেদন করতেন ৫ হাজার টাকায়। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যেসব কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করেছে, সেগুলোর আইপিওতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হতো।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের আবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৩০টি শেয়ার। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছিলেন ২২টি শেয়ার।

ইউনিয়ন ব্যাংকের আগে সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয় বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকায় আবেদনের বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬টি, প্রবাসীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০টি।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার কারখানা। ছবি: ওয়েসবাইট থেকে নেয়া

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরু করা গ্রিন সুকুক আল-ইসতিসনার দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। ৩ হাজার কোটি টাকার এই সুকুক পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা।

তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

রোববার সুকুকের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন ৯৫ টাকায় নামলেও পরবর্তী সময়ে লেনদেন শেষে ৯৮ টাকা ৫০ পয়সায় থেমেছে। ফলে আগের দিনের তুলনায় সুকুকটির দর কমেছে আড়াই টাকা। আর লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনা নতুন প্রডাক্ট এই সুকুক।

পুঁজিবাজারে বন্ড খাতের ১৫টি বন্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে দুটি বন্ডের দর বেড়েছে। কমেছে তিনটির। বাকি বন্ডগুলোর লেনদেন হয়নি।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, বিভিন্ন ফিচার নিয়ে এ ধরনের কনভার্টাবল বন্ড পুঁজিবাজারে একেবারেই নতুন। এ বন্ডের বিপরীতে শেয়ার নেয়া যাবে, শেয়ার নিতে না চাইলে মুনাফা নেয়ার নানা সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে আগে বন্ডে এমন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কোনো কিছু তালিকাভুক্ত হয়নি। ধারণা না থাকায় এ বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।

তিনি বলেন, আর এই বন্ডটি পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ। তাদের একটি বেক্সিমকো সিনথেটিক নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনও ভোগান্তিতে। জিএমজি এয়ারলাইনসের প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করে এখনও অনেকের টাকা ফেরত দেয়নি এই গ্রুপ। ফলে এই গ্রুপের পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট সুকুক বন্ডে তারা কতটা বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেবে, সেটি নিয়েও সন্দেহ আছে বিনিয়োগকারীদের। যার ফলে আগ্রহ কম।

লেনদেনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সুকুকের মোট ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড হাতবদল হয়েছিল।

সুকুকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানও স্বীকার করেছিলেন, পুঁজিবাজারে এ ধরনের বন্ড নতুন হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।

পরবর্তী সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানান।

সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।

এসব প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ আছে।

সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ১৬ আগস্ট সুকুকের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের কাছ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে আইপিও আবেদন চাওয়া হয়। আবেদনের মেয়াদ ২৩ আগস্ট শেষ হলে দেখা যায় মাত্র ৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার জন্য আবেদন জমা পড়ে।

এরপর ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়। এই সময়ে কেবল একজন নতুন করে আবেদন করেছিলেন। এ অবস্থায় তৃতীয় দফায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ। সে সময় বিএসইসি বলেছিল, এই সময়ের মধ্যে সুকুকে আইপিও কোটা পূরণ না হলে তা বাতিল হবে।

এ অবস্থায় একই বছরের ২১ ডিসেম্বর সুকুকের লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন শেষ করে বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ২৩ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেক্সিমকো লিমিটেডকে সুকুকের বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করে।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

স্বল্প মূলধনি আবার চাঙা

স্বল্প মূলধনি আবার চাঙা

স্বল্প ‍মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বেড়েছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রোববার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে ছয়টির। আর ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে চারটি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের আগের পুঁজিবাজারে স্বল্প ‍মূলধনি কোম্পানিগুলোর যে চাঙ্গাবস্থা ছিল সেটি চার মাসের ব্যবধানে আবারও হাতছানি দিচ্ছে।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে ছয়টি। আর ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে চারটি।

পুঁজিাবজারে মূলত ৩০ কোটি টাকার নীচে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সেসব কোম্পানিকে স্বল্পমূলধনি কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত বছরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মূলত পুঁজিবাজারে স্বল্প পরিশোধিত মূলধন ও লোকসানি কোম্পানিগুলোকে মূল ব্যবসায় ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড ভেঙে দেয়াসহ বোর্ডে নতুন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করে।

এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ আগে স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর প্রতি। এসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় বিএসইসির উদ্যোগের খবরে শেয়ার বিক্রেতা কম যায় এবং শেয়ার কেনার আগ্রহ বাড়ায় হু হু করে বাড়তে থাকে দর।

যদিও সেপ্টেম্বরের পর স্বল্প মূলধনি এসব কোম্পানির উত্থান খুব বেশি নজরে আসেনি। তবে রোববার দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির স্বল্পমূলধনি হওয়ায় আগ্রহের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে এসব কোম্পানিকে।

রোববার লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার আগ্রহ যে মাত্রায় ছিল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে। বিশেষ করে বেলা ১টা ২৫ মিনিটের পর শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান যেভাবে হয়েছিল শেষ দিকে সে গতি কমে আসে।

দিনে শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ পয়েন্টে। নতুন বছরের এখন পর্যন্ত ১১ দিন লেনদেন হয়েছে। বছরের শুরু হয়েছিল ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্ট দিয়ে। সেখান থেকে অল্প অল্প করে সূচক বেড়ে ১১ জানুয়ারি ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে।

১২ জানুয়ারি আবারও সূচক ৬ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে নেমে আসে। সবশেষ বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭ হাজার ১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। রোবাবর এই সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

এ ছাড়া শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস দশমিক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০২ পয়েন্টে। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।

রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লেনদেন শেষে সূচক ৭ হাজারে শেষ হয়েছে। এর আগের ১৬ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর টানা সাত হাজারে ছিল সূচক। এরপর ছয় হাজারে ছিল সূচক। এদিন লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

লেনদেনে ১৮২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। কমেছে ১৫১টির। দর পাল্টায়নি ৪৫টির।

সূচক বাড়িয়েছে যেসব কোম্পানি

রোরবার সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সিরামিক খাতের আরএকে সিরামিকের ৯১০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া, দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান ছিল জিপিএইচ ইস্পাতের ৫৫৩.৯৬ পয়েন্ট।

ইউনিক হোটেলের অবদান ছিল ৪৮১.৭৫ পয়েন্ট। স্কয়ার টেক্সটাইলের শেয়ার দর এদিন বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। এতে সূচক বাড়তে সহায়ক ছিল ৪৫১.৮৯ পয়েন্ট।

এ ছাড়া, এদিন সূচকে ওয়ালটন হাইকেট ইন্ডাস্ট্রিস, ফরচুন, লিন্ডা বিডি, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও এনভয় টেক্সটাইলের অবদান ছিল মোট ১৯১৪.৫২ পয়েন্ট।

রবি, বেক্সিমকো, বেক্সিমকোফার্মা, স্কয়ালফার্মা, লাফার্জ হোলসিম, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, বার্জার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার দর কমায় সূচক পতনে ত্বরান্বিত করেছিল।

দর বৃ্দ্ধিতে ১০ কোম্পানি

রোববার দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১৫টি কোম্পানির। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি আছে যাদের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ।

এর মধ্যে স্বল্প মূলধনি কোম্পানি আজিজ পাইপ ও বিমা খাতের ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স রয়েছে। এদিন উভয় কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এ ছাড়া, বিডি অটোসের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৯ শতাংশ, যা পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনি একটি কোম্পানি। ৯.৯৭ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের।

৯.৯৫ শতাংশ দর বেড়েছে এপেক্স ফুডের। এটিও পুঁজিবাজার স্বল্পমূলধনি একটি কোম্পানি। এ ছাড়া, ৯.৯৪ শতাংশ দর বেড়েছে মতিন স্পিনিংয়ের। ৩০ কোটি টাকার নিচে পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি শমরিতা হসপিটাল, রোববার যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ।

এ ছাড়া ফাইন ফুড, স্কয়ার ফার্মা, ফু ওয়াং ফুড, ফারইস্ট লাইফ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স, তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। এরমধ্যে ফাইনফুড স্বল্পমূলধনি কোম্পানি।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

রোববার সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর কমেছে ডেফোডিল কম্পিউটারের ৫.৯৭ শতাংশ। এদিন আরও একটি কোম্পানির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। বসুন্ধরা পেপার কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৫.১৭ শতাংশ।

টেলিকম খাতের রবির শেয়ার দর রোববার কমেছে ৩.৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া, ইস্টার্ন ক্যাবল, রানার অটোমোবাইল, বিচ হ্যাচারি, লাভেলো, ফনিক্স ফিন্যান্সের শেয়ার দর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি। প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ডেসকোও ছিল এই তালিকায়।

২ শতাংশের বেশি দর পতন হয়েছে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের। এদিন কোম্পানির ২.৯৭ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে। এ ছাড়া, মীর আক্তার হোসাইনের শেয়ার দর কমেছে ২.৮৯ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। শেয়ার দর পতনে এদিন কোম্পানির শেয়ার প্রতি হারিয়েছে ৪ টাকা। ফলে ১৪৯ টাকার শেয়ার নেমে এসেছে ১৪৫ টাকায়। রোববার কোম্পানির ৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৫৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৯টি শেয়ার।

এ ছাড়া, ফরচুন সুজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৯৯টি।

আরএকে সিরামিকের ৭১ কোটি ৮০ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিডের ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফের ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া জিপিএইচ ইস্পাতের ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬১ লাখ ৩২ হাজার ৩২টি শেয়ার।

পেনিনসোলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার, লাভেলোর ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার, তিতাস গ্যাসের ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

স্থগিত থাকছে ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণার রায়

স্থগিত থাকছে ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণার রায়

রাজধানীতে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে দেন। আজকে আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছেন। ফলে প্রশাসক পদে থাকতে আপাতত কোনো বাধা নেই।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিতই থাকছে।

রোববার প্রধান বিচারপতিসহ ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালত আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রায় স্থগিত রাখার কথা বলেছে।

১০ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। আপিল বিভাগ আজ শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখে। ফলে বর্তমান প্রশাসক তার পদে থাকতে আপাতত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে দেন। আজকে আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছেন। ফলে প্রশাসক পদে থাকতে আপাতত কোনো বাধা নেই।’

আদালতে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে গত ৬ জানুয়ারি রায় দেয় বিচারপতি খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত করে চার মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনার কয়েক দিন পর ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সাসপেন্ড করে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আইডিআরএর ওই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে ডেল্টা লাইফের বরখাস্ত হওয়া পর্ষদ হাইকোর্টে রিট করেছিল। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায় দিল।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন

এনডিডির স্বাস্থ্য বিমাকে বঙ্গবন্ধুর নামে চায় আইডিআরএ

এনডিডির স্বাস্থ্য বিমাকে বঙ্গবন্ধুর নামে চায় আইডিআরএ

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফাইল ছবি

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত বিমা খাতের উন্নয়নে অনবদ্য অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মুজিববর্ষে আইডিআরএ গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনডিডির স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী’র (এনডিডি) স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণ করতে চায় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট ও সব বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১ মার্চ ২০২২ জাতীয় বিমা দিবসের অনুষ্ঠানে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘এ অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিমা খাতের উন্নয়নে অনবদ্য অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এবং মুজিববর্ষের আইডিআরএ গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীর (এনডিডি) স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পটিকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ নামকরণের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

আইডিআরএ সিদ্ধান্তের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবগতির জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার ওই সনদে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতার ধরন ও মাত্রা অনুসারে সেবা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে স্নায়ুবিকাশ জনিত প্রতিবন্ধীদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ প্রণয়নের মাধ্যমে ট্রাস্ট স্থাপনের পর ২০১৪ সালে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টি বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করে।

নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে ট্রাস্ট বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। বর্তমানে এই ট্রাস্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী।

আরও পড়ুন:
দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি
পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও

শেয়ার করুন