পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

player
পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

দুই হাতে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসা মোর্শেদা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

মোর্শেদা বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদা বেগমের বয়স যখন দেড় বছর তখন টাইফয়েডে দুই পা অচল হয়ে যায়। দুই হাতে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে চলতে হয় তাকে। তবুও ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের ভাশখোলা কেন্দ্রে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসেন মোর্শেদা।

ভোট দিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদার সঙ্গে এসেছেন ভাই মো. রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমডার (আমাদের) বাড়ি ভাশখোলা পূর্বপাড়া। আমার বইনডার বয়স যহন ১৮ মাস তহন টাইফড জ্বরে পাওডি অচল হইয়া গেছে। বিয়া দিছিলাম। জামাইডা চইল্লা গেছে।

‘আমার পাঁচ বছরের ভাগিনাডারে লইয়া বইনডা আমডার বাইত থাহে। টেইলারের কাম কইরা যা আয় হয় তা দিয়া পোলারে লইয়া চলে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ১ হাজার ইউনিয়নে চলছে ভোট।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ জন । নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অস্ত্রসহ ১৫ জলদস্যু গ্রেপ্তার

অস্ত্রসহ ১৫ জলদস্যু গ্রেপ্তার

জলদস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসূফ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জেলেদের গুম, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ১৫ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা।

শনিবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসূফ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নুরুল আফসার, নুরুল কাদের, মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ মামুন, নুরুল কবির, আব্দুল হামিদ, আবু বক্কর, মোহাম্মদ ইউসুফ, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ সফিউল আলম, আব্দুল খালেক, রুবেল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম জিকু, মোহাম্মদ সুলতান ও মোহাম্মদ মঞ্জুর।

এম এ ইউসূফ জানান, শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল আফসার, নুরুল কাদের, হাসান ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ওয়ান শুটারগান, চারটি কার্তুজ, পাঁচটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জেলেদের গুম, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

টিকা সনদ ছাড়া খাবার, ১২ রেস্তোরাঁকে জরিমানা

টিকা সনদ ছাড়া খাবার, ১২ রেস্তোরাঁকে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম।

এ ব্যাপারে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সবাইকে সচেতন করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

করোনার সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ ভঙ্গ এবং টিকা সনদ ছাড়া ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করায় চট্টগ্রামের ১২টি রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম।

চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বনেদী রেস্তোরাঁ, সিলভার স্পুন, দ্য কপার চিমনি, ওরিয়েন্ট ও কাচ্চি ডাইনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া ওয়াসা মোড়ের কুটুমবাড়ি ও গ্র্যান্ড মোগলকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার এবং দামপাড়া এলাকার হান্ডি রেস্তোরাঁকে ৫ হাজার ও দাবা রেস্তোরাঁকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি তিনটি রেস্তোরাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সবাইকে সচেতন করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানান মারুফা বেগম।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিতে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণ-অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উপাচার্য ইস্যুতে সময়ের সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি। এবার গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংকট সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধি দলের আলোচনা চলার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণাটি দেন বিক্ষুব্ধরা। জানান, শনিবার রাত থেকেই গণ-অনশন শুরু হবে।

ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণ-অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘আমাদের এখানে একটি কাগজ থাকবে। সেখানে নাম লিপিবদ্ধ করে যে কেউ অনশনে যোগ দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে তিনজন গণ-অনশনের জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন।’

ইয়াসির আরও বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে লাঠিচার্জ করে। রাবার বুলেট ও শব্দ বোমা ছোড়ে। এতে আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী যখন হাসপাতালে ও একজন আইসিইউতে, ঠিক সে সময়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। এসব ঘটনার জন্য উল্টো শিক্ষার্থীদের দায়ী করেন।

‘প্রতিবাদে আমরা তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করি। অনশন শুরু করি। কিন্তু অনশনে অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লেও উপাচার্য পদত্যাগ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগপত্র সচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে। এতে যদি কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, তার দায় ফরিদ উদ্দিনকেই নিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব প্রশ্নে ইয়াসির বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হলেও অনশনরতদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় আমন্ত্রণ রাখতে পারিনি। মন্ত্রীকে সিলেটে এসে আমাদের অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। তা না হলে ভার্চুয়ালি আলোচনা হতে পারে।’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে গত বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেবায় কিছুটা সুস্থ হয়ে তিন শিক্ষার্থী ফের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে যোগ দিয়েছেন। আর হাসপাতালে ভর্তিরা সেখান থেকেই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে থাকাদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে। তাদের বেশির ভাগেরই স্যালাইন চলছে।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

মুরগি চুরির অপরাধে আটক, পরে মুক্তি

মুরগি চুরির অপরাধে আটক, পরে মুক্তি

মুরগি চুরির অপরাধে আটক বনবিড়াল শাবক। ছবি: নিউজবাংলা

দল বেঁধে গ্রামবাসী খুঁজতে থাকে চোরকে। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের অদূরে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুতের পিলারের মধ্যে বনবিড়ালের বাসা খুঁজে পায় তারা। সেখানে তখন দুটি শাবক ছিল। বাবা-মা হয়তো খাবারের সন্ধানে। শাবক দুটিকেই ধরে আনা হলো গ্রামে।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বামইল গ্রামের বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে ভীষণ চিন্তিত। তাদের পোষা মুরগির বাচ্চা চুরি যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। গ্রামে শিয়ালের উৎপাত নেই, আছে বনবিড়াল।

দল বেঁধে গ্রামবাসী খুঁজতে থাকে চোরকে। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের অদূরে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুতের পিলারের মধ্যে বনবিড়ালের বাসা খুঁজে পায় তারা। সেখানে তখন দুটি শাবক ছিল। বাবা-মা হয়তো খাবারের সন্ধানে। শাবক দুটিকেই ধরে আনা হলো গ্রামে।

পরে নগরীর চর্থা এলাকার এক যুবক শাবক দুটিকে পোষার জন্য তার বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন তিনি। আর তা দেখেই ওই বাড়িতে উপস্থিত হন এক প্রাণিপ্রেমী।

মোশারফ হোসেন নামে ওই প্রাণিপ্রেমী বলেন, ‘শাবক দুটি ক্ষুধার্থ ছিল। খাবার খাইয়ে খবর দিই বন বিভাগে।’

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় শাবক দুটিকে যেখান থেকে ধরে আনা হয়েছিল, সেখানে রেখে এসেছি। তারা সেখানেই নিরাপদ।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

নূরেজার মরদেহ উদ্ধারের পর। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় নূরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের নিজ আন্ধারিয়া গ্রাম থেকে এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হলেও শুরুতে এর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মরদেহটি ৪০ বছর বয়সী নূরেজা বেগমের। তিনি নকলা উপজেলার ইসিবপুর গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে এবং একই উপজেলার কায়দা গ্রামের আজহার আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

নূরেজা কীভাবে খুন হয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে স্বামী আজহার আলীকে আটক করে নকলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় নুরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শনিবার সকালে কৃষক ফরমান আলী তার জমিতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পেয়ে শেরপুর সদর থানায় খবর দেন।

পরে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া ও সদর থানার ওসি বন্দে আলী পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি তারা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

এর পর থেকেই পুলিশ, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নূরেজার পরিচয় বেরিয়ে এলে তার স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

হত্যার কারণ বা অন্য কোনো তথ্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডে এখনও কোনো মামলাও হয়নি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টির তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আজহার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেজা। তার আরও দুই স্ত্রী আছেন।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার লাগিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট হতে যাওয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে এ নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে। ২৩ জানুয়ারি দেয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।

তবে প্রতীক বরাদ্দের এক দিন আগেই শনিবার ইউনিয়নটির শিংপাড়ায় দেয়ালে লাগানো হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহের নির্বাচনি পোস্টার। এ এলাকাতেই ওই প্রার্থীর গ্রামের বাড়ি।

ইউনিয়নটির ভোটার সালেহা বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল। তাদের সবচেয়ে বেশি নিয়মকানুন মানা উচিত। প্রতীক বরাদ্দের আগে এমনভাবে প্রতীকসহ পোস্টার লাগানো নিয়ম পরিপন্থি।’

এই নির্বাচনে চশমা প্রতীক চাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার প্রতীক তিনি দল থেকে পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তাকে এখনও পোস্টার লাগানোর অনুমতি দেয়নি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে দেয়ালে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি পোস্টার লাগানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

সদর উপজেলার নির্বাচনি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘এখনও প্রতীক বরাদ্দ দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ পোস্টার লাগালে তা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে নিশ্চয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবা নাসরিন রুপা। ছবি: সংগৃহীত

নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আটক হয়েছেন।

ওই নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় পাঁচটি ব্যাংক চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র এবং তিন সেট প্রশ্নপত্রসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার শনিবার দুপুরে এসব জানান।

তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যে রাজধানীর কাকরাইলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তারা চাকরির জন্য অবৈধ উপায় বেছে নিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই চক্রের কয়েকজনের নাম জানান। সে তথ্যে কাফরুল থানার সেনপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিভাইস, প্রশ্ন, উত্তরপত্রের খসড়াসহ চারজনকে আটক করা হয়।

হাফিজ আক্তার আরও বলেন, ‘আমাদের আরেকটি দল তেজগাঁও বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চক্রের হোতা রুপাকে টাকা ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করা হয়। রুপার তথ্যে আরও পাঁচজনকে ধরা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা
নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট
ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০
হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

শেয়ার করুন