নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

player
নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

নিহত কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান। মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।

যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রুদ্রপুর বাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এরই মধ্যে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রোববার নির্বাচনী সহিংসতায় আরও চারজন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা কোন দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থক সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।

এর আগে শনিবার সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন আলাউদ্দীন, ইউনুস আলী, শাহাবুদ্দিন, আরশাদ আলী, ইখতিয়ার, আমিরুল, কাওসার ও রাব্বি নামের ৮ জন। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত যুবকের নাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ৪০ বছরের কুতুবউদ্দিনের বাড়ি রুদ্রপুর গ্রামেই।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ শাহরিয়ার সাব্বির বলেন, ‘আমি কুতুবউদ্দিনকে মৃত পেয়েছি। তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান।

ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। তবে মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবার যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য রুদ্রপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘গোলাগুলির’ পর জব্দ ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ

‘গোলাগুলির’ পর জব্দ ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে জব্দ হয় ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ। ছবি: নিউজবাংলা

বিজিবি জানায়, মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির পর ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করা হয়। তবে গোলাগুলির পর কারবারিরা পালিয়ে যায়।

কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কর্মকর্তারা জানান, গোলাগুলির পর ঘটনাস্থল থেকে ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

পালংখালী ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির।

তিনি জানান, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এই মাদকের একটি বড় চালান আসবে- এমন খবরে পালংখালী ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা।

তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় বিজিবিও গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাগে পাওয়া যায় ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ।

শেয়ার করুন

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।

থানায় বুধবার রাতে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর বাবার করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় ননী গোপাল হালদার নামের ওই শিক্ষককে।

ননী চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তুহিন মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বটতলা এলাকা থেকে ননীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

এ নিয়ে প্রতিবেদনও হয় নিউজবাংলায়

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার-পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বুধবার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন

মাকে হত্যার পর সন্তানকে ছুড়ে ফেলা হয় সড়কে

মাকে হত্যার পর সন্তানকে ছুড়ে ফেলা হয় সড়কে

তামিমকে তার বাড়ি গোপালগঞ্জের বেদ গ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘তামিম জানিয়েছেন, বুধবার রাশিদাকে নিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হোটেলে অবস্থান করেন তিনি। রাত ৮টার পরে সেখান থেকে বের হয়ে অপর লোকজনের সহায়তায় রাশিদাকে হত্যা করেন। ওই রাতে একটি ‌থ্রি হুইলার ভাড়া করে আগৈলঝাড়ার বাইপাস মহাসড়কের পাশে রাশিদার লাশ ও তার শিশুসন্তানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।’

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাকে হত্যা করে তার শিশুসন্তানকে রাস্তার ধারে ফেলে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

মরদেহ উদ্ধারের তিন ঘণ্টার মধ্যে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জ থেকে আটক করা হয় নিহতের স্বামীকে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের পাশে ঘেরের পাশ থেকে রাশিদা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ আটক করে তার স্বামী তামিম শেখকে।

রাশিদা আগৈলঝাড়ার নগড়বাড়ি গ্রামের মৃত করিম শাহের মেয়ে। তিনি উপজেলার ১ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় থাকতেন।

রাশিদা ও তামিম বিয়ে করেছিলেন দুই বছর আগে। তামিমের আগের স্ত্রীর দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। রাশিদার গর্ভে জন্ম নেয়া তার সন্তানের বয়স ১০ মাস।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের পাশে ঘেরের পাড় থেকে রাশিদার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কান্নার আওয়াজ পেয়ে রাশিদার ১০ মাস বয়সী শিশুপুত্র তানিমকে মায়ের মরদেহের পাঁচ শ গজ দূরে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে রাশিদার স্বামীর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।’

অভিযান পরিচালনাকারী পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, তামিমকে তার বাড়ি গোপালগঞ্জের বেদ গ্রাম থেকে রক্তমাখা জুতা ও জামা পরা অবস্থায় আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেন।

দুপুরে তামিমকে নিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল বেদগ্রাম পরিদর্শন এবং হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।

ওসি গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘তামিম জানিয়েছেন, বুধবার রাশিদাকে নিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হোটেলে অবস্থান করেন তিনি। রাত ৮টার পরে সেখান থেকে বের হয়ে অপর লোকজনের সহায়তায় রাশিদাকে হত্যা করেন।

‘ওই রাতে একটি ‌থ্রি হুইলার ভাড়া করে আগৈলঝাড়ার বাইপাস মহাসড়কের পাশে রাশিদার মরদেহ ও তার শিশুসন্তানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।’

মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তামিম শেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেছেন রাশিদার ভাই আলামিন শাহ। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তামিমকে বরিশাল আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।

শেয়ার করুন

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

চট্টগ্রামে রানিং স্টাফদের জরুরি সভা। ছবি: নিউজবাংলা

রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

মাইলেজ জটিলতা নিরসনে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

রানিং স্টাফদের জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব।

তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), গার্ড ও টিকিট চেকার (টিটি), গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিটিইদের (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) বলা হয় রানিং স্টাফ।

রেলওয়ে রানিং স্টাফদের যে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে তা মাইলেজ নামে পরিচিত। এই সুবিধায় প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন তারা।

রেলওয়ের ১৮৬২ সালের আইন অনুযায়ী ট্রেনচালক, সহচালক, পরিচালক ও টিকিট চেকাররা বিশেষ এই আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু এতে বিপত্তি বাধে গত বছরের ৩ নভেম্বর।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না।

এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন লোকোমাস্টাররা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে যোগ দেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, “মাইলেজ হলো ‘পার্ট অফ পে’। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। এ জটিলতা নিরসনে আমরা মন্ত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। তাই আন্দোলনে যাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি হওয়ায় তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে পাশের কারখানায় আগুন লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে ওই কারখানার লোকজন। ওই কারখানার পরিচালক বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আগুন লাগায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার লোকজন সুরুজকে মারধর করে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে পাশের কারখানার ব্যবস্থাপককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিসিক এলাকার আরবাগ ওয়্যার হাউজ সলিউশন লিমিটেড নামের কারখানার ব্যবস্থাপক সুরুজ মিয়া।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গীর বিসিক পানির ট্যাংকি এলাকার কারখানায় নিয়ে তাকে মারধর করেন ব্লু ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার পরিচালক মো. মহিউদ্দিন এবং তার ছেলে মেহেদী হাসান।

মহিউদ্দিন টঙ্গী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তিনি অবশ্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে আগুন লাগার ঘটনায় তিনি সুরুজের নামে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন থানায়।

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি কারখানা হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে গিয়ে পড়ে ব্লু ফ্যাশনের কারখানায়। এতে আগুন লেগে যায়। তখনই ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে নেয়। তবে ওই কারখানার কয়েকজন আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

সুরুজ বলেন, ‘আমাকে তাদের কারখানার ভেতরে আটকে রেখে মারধর করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও আশপাশের লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।’

এ বিষয়ে ব্লু ফ্যাশনের পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুই কারখানার মাঝখানে চার ফিট করে আট ফিট জায়গা খালি রাখা হয়েছিল। আরবাগ ওয়্যার হাউজ কর্তৃপক্ষ সেই জায়গায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে আমার কারখানার বেশ কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘ওই কারখানার ব্যবস্থাপক নিজেদের ভুল স্বীকার না করে মিথ্যে কথা বলায় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। পরে তাকে আমি একটি থাপ্পড় দিলে আমার কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি দেয়। এ ঘটনায় আমরাও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলম জানান, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জামিউল হায়দার বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ।

দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন জসিম উদ্দিন।

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের মেয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত জসিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে নমুনা পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব মেলে। ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

সিভাসুর মাইক্রো বায়োলজি ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ ল্যাবের টিম লিড ড. ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, ‘বিশেষ কিটে ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ৭ ব্যক্তিই মৃদু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে এসেছিলেন।

‘তাদের হালকা সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা ৯৯-১০০ ডিগ্রির মতো ছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব আছে কি না।’

এদিকে সিভাসুতে ওমিক্রন শনাক্তে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ ধরনের ১০০টি কিট। যার মাধ্যমে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিতি জানা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন