৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’

player
৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’

নেত্রকোণার ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন মাত্র একজন। ছবি: নিউজবাংলা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা হাসপাতালে কাগজে-কলমে পাঁচজন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলে মাত্র একজনের। কর্মরত চিকিৎসকরা সেখানে সপ্তাহভিত্তিক পালা করে থাকেন। সেই একজন চিকিৎসক দিয়েই চলে গোটা উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দার চিকিৎসা।

নেত্রকোণার বানিয়াহাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু দেব রায় কিছুদিন আগে প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে সকাল ৭টার দিকে গিয়েছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে দেখেন, পুরো হাসপাতালেই নেই কোনো চিকিৎসক। ওয়ার্ডবয় আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা চালাচ্ছেন জরুরি বিভাগ।

অমলেন্দু রায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে কর্মচারীরা হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকা এক চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি কিছু ওষুধের কথা বলে দেন। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অমলেন্দু নিজেই পরে ফোন করেন চিকিৎসককে। এর ঘণ্টাখানেক পর ওই চিকিৎসক হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করেন।

ঘটনাটি নেত্রকোণার হাওরদ্বীপ খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। লক্ষাধিক জনসংখ্যার দুর্গম উপজেলাটিতে এটিই একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাব এবং অবহেলা ও নানা অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি থেকে স্থানীয়রা ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছেন না।

সাধারণ চিকিৎসার জন্যও তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে জেলা সদর বা কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের হাসপাতালগুলোর ওপর। অথচ অবকাঠামোর দিক দিয়ে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্য অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়ে উন্নত।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেন, কিন্তু নেই কোনো চালক

৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এটির নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় প্রায় দুই যুগ আগে। এ হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকের ১০টি পদ থাকলেও আছেন পাঁচজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে কাগজে-কলমে পাঁচজন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলে মাত্র একজনের। কর্মরত চিকিৎসকরা সেখানে সপ্তাহভিত্তিক পালা করে থাকেন। সেই একজন চিকিৎসক দিয়েই চলে গোটা উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দার চিকিৎসা।

আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ না থাকায় চিকিৎসক-কর্মচারীদের কেউই সেখানে থাকতে চান না। কাউকে সেখানে নিয়োগ দেয়া হলেও তদবির করে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য স্থানে বদলি হয়ে যান।

এ ছাড়া পাঁচটি ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের জন্য পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেই পদগুলোও খালি পড়ে আছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসকের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদও এক-তৃতীয়াংশ খালি। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৮৬টি পদের বিপরীতে আছেন ৩২ জন। গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি।

সবশেষ হাসপাতালটিতে নার্সের ১৪ পদের বিপরীতে ছিলেন ৯ জন। মাসখানেক আগে তাদের সবাইকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজন চলে গেছেন। নতুন কেউ না আসায় বাকিরা যেতে পারছেন না।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
নৌকায় অথবা কাদাপানি মাড়িয়ে প্রসূতিরা সেবা নিতে গেলেও পড়েন নানা বিড়ম্বনায়। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া চারজন মিডওয়াইফের জায়গায় আছেন দুজন। উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসারের দুটি পদে একজনও নেই। দুজন ফার্মাসিস্টের জায়গায় আছেন একজন। রেডিওগ্রাফারের পদ মাত্র একটি, সেটিও শূন্য।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের (ল্যাবরেটরি) দুটি পদেও কেউ নেই। কাগজপত্রে একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) কাজ করলেও তিনি প্রায় এক যুগ ধরে প্রেষণে অন্য হাসপাতালে দায়িত্বে আছেন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদে আছেন একজন। আয়া ও বাবুর্চির দুটি করে পদ থাকলেও বাস্তবে একজনও নেই।

ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচ পদের সবই শূন্য। অফিস সহায়কের পাঁচটি পদেও কেউ নেই।

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা কিছু জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কিছু দায়িত্ব। তবে নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের চিকিৎসা যন্ত্রগুলোও ব্যবহার হয় না ঠিকমতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, শুরু থেকেই হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি অকেজো। রেডিওগ্রাফার না থাকায় তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয় না। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মেশিনটি সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় সেটি বাক্সবন্দি।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) না থাকায় প্যাথলজি বিভাগটিও কবে থেকে বন্ধ কেউ বলতে পারেননি।

সড়কের দুরবস্থার কারণে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। তবে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেন, কিন্তু চালকের কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
বছরের প্রায় ছয় মাস ক্লিনিকগুলোর চারপাশ অথৈ পানিতে নিমজ্জিত থাকে

স্থানীয় উপজেলা পরিষদ অস্থায়ীভাবে একজন চালক নিয়োগ করলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং ওঠা-নামায় সমস্যার কারণে এটি সচরাচর ব্যবহার করেন না কেউ। এ ছাড়া কম পানির রাস্তায়ও এটি চলে না।

তারা আরও জানান, হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক থেকে দেড় শ রোগী চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসেন। কখনও চিকিৎসক, আবার কখনও নার্স বা অন্য কর্মচারীরা তাদের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ভর্তি করা রোগীর সংখ্যা থাকে সব সময়ই অনেক কম। গড়ে আট-দশজন। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক আবার বিভিন্ন মামলার আসামি। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিতে তারা ভর্তি থাকেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বেশি জটিল বা সংকটাপন্ন রোগীরা কখনই ভর্তি হতে আসেন না। চলে যান জেলা সদরে অথবা ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে।

উপজেলার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও করুণ। ছয় ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও মেন্দিপুর ইউনিয়ন ছাড়া আর কোথায়ও তা নেই। একমাত্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতেও নেই কোনো চিকিৎসক।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা থেকেও বঞ্চিত খালিয়াজুরীর হাওরের বাসিন্দারা। ছয় ইউনিয়নে ১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১০টি। এসব ক্লিনিকে ১৮ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র সাতজন।

অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণেও এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পান না রোগীরা। দাউদপুর, পাঁচহাট, আদমপুর ও নাজিরপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর চারপাশে কোনো রাস্তাই নেই। প্রায় ছয় মাস ক্লিনিকগুলোর চারপাশ অথৈ পানিতে নিমজ্জিত থাকে। নৌকায় অথবা কাদাপানি মাড়িয়ে প্রসূতিরা সেবা নিতে গেলেও পড়েন নানা বিড়ম্বনায়।

খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী স্বাগত সরকার শুভ বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এ উপজেলার বাসিন্দাদের জরুরি ও জটিল চিকিৎসার একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে আর কোনো বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। এমনকি একটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারও নেই গোটা উপজেলায়।

‘তাই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে এখানকার প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে বিভাগটি চালুর পাশাপাশি চিকিৎসকদের শূন্য পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।’

উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মহসিন মিয়া বলেন, ‘দিনের বেলায় ডেকেডুকে হলেও অন্তত একজন চিকিৎসক পাওয়া যায়, কিন্তু রাতে নার্স-কর্মচারীরা ছাড়া আর কোনো ভরসা মিলে না। এ কারণে রাতে কেউ অসুস্থ হলে তার স্বজনদের মারাত্মক দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগে পড়তে হয়।

‘গভীর রাতে হাওরের অথৈ জলরাশি বা দুর্গম পথ মাড়িয়ে ছুটতে হয় জেলা সদর বা আশপাশের উপজেলায়, যা দুঃখজনক। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের নিয়ে প্রায়ই এমন বিপাকে পড়তে হয়।’

খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আতাউল গণি উসমানী বলেন, ‘জনবলের অভাবই এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সংকট।’

এ ছাড়া কর্মরত চিকিৎসকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দুর্গম এই জনপদে থাকা-খাওয়ার কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় একেকজনকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই তারা সপ্তাহে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।’

জেলা সিভিল সার্জন সেলিম মিঞা বলেন, ‘খালিয়াজুরীসহ হাওরাঞ্চলের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই জনবল সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এ ছাড়া এই দুর্গম জনপদে কেউ থাকতে চায় না। কাউকে এখানে নিয়োগ দেয়া হলে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই বদলির জন্য তদবির শুরু করেন।

‘অনেকে রাজনৈতিক তদবিরে বদলি হয়ে চলে যান। তবে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কিছু জনবল নিয়ে আমরা সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তা ছাড়া শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ঘোষণা

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিতে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণঅনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উপাচার্য ইস্যুতে সময়ের সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি। এবার গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়েছে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংকট সমাধানে শিক্ষমন্ত্রী দিপু মনির সঙ্গে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের আলোচনা চলার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘোষণাটি দেন বিক্ষুব্ধরা। জানায়, শনিবার রাত থেকেই গণ-অনশন শুরু হবে।

বক্তব্যে ইয়াসির সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অসুস্থতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও গণঅনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘আমাদের এখানে একটি কাগজ থাকবে। সেখানে নাম লিপিবদ্ধ করে যে কেউ অনশনে যোগ দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৩ জন গণশনের জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন।’

ইয়াসির আরও বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে লাঠিচার্জ করে। রাবার বুলেট ও শব্দ বোমা ছোড়ে। এতে আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী যখন হাসপাতালে, একজন আইসিইউতে ঠিক সেসময়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। এসব ঘটনার জন্য উল্টো শিক্ষার্থীদের দায়ী করেন।

‘প্রতিবাদে আমরা তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করি। অনশন শুরু করি। কিন্তু অনশনে অনেকের জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়লেও, উপাচার্য পদত্যাগ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগপত্র সচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে। এতে যদি কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, তার দায় ফরিদ উদ্দিন আহমদকেই নিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব প্রশ্নে ইয়াসির বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হলেও, অনশনরতদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় আমন্ত্রণ রাখতে পারিনি। মন্ত্রীকে সিলেটে এসে আমাদের অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। তা না হলে, ভার্চুয়ালি আলোচনা হতে পারে।’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে গত বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেবায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ৩ শিক্ষার্থী ফের উপাচার্যের বাসবভনের সামনে অনশনে যোগ দিয়েছেন। আর হাসপাতালে ভর্তিরা সেখান থেকেই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে থাকাদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে। তাদের বেশিরভাগেরই স্যালাইন চলছে।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

মুরগি চুরির অপরাধে আটক, বন বিভাগের হস্তক্ষেপে মুক্তি

মুরগি চুরির অপরাধে আটক, বন বিভাগের হস্তক্ষেপে মুক্তি

মুরগি চুরির অপরাধে আটক বনবিড়াল শাবক। ছবি: নিউজবাংলা

দল বেঁধে গ্রামবাসী খুঁজতে থাকে চোরকে। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের অদূরে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুতের পিলারের মধ্যে বনবিড়ালের বাসা খুঁজে পায় তারা। সেখানে তখন দুটি শাবক ছিল। বাবা-মা হয়তো খাবারের সন্ধানে। শাবক দুটিকেই ধরে আনা হলো গ্রামে।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বামইল গ্রামের বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে ভীষণ চিন্তিত। তাদের পোষা মুরগির বাচ্চা চুরি যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। গ্রামে শিয়ালের উৎপাত নেই, আছে বনবিড়াল।

দল বেঁধে গ্রামবাসী খুঁজতে থাকে চোরকে। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের অদূরে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুতের পিলারের মধ্যে বনবিড়ালের বাসা খুঁজে পায় তারা। সেখানে তখন দুটি শাবক ছিল। বাবা-মা হয়তো খাবারের সন্ধানে। শাবক দুটিকেই ধরে আনা হলো গ্রামে।

পরে নগরীর চর্থা এলাকার এক যুবক শাবক দুটিকে পোষার জন্য তার বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন তিনি। আর তা দেখেই ওই বাড়িতে উপস্থিত হন এক প্রাণিপ্রেমী।

মোশারফ হোসেন নামে ওই প্রাণিপ্রেমী বলেন, ‘শাবক দুটি ক্ষুধার্থ ছিল। খাবার খাইয়ে খবর দিই বন বিভাগে।’

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় শাবক দুটিকে যেখান থেকে ধরে আনা হয়েছিল, সেখানে রেখে এসেছি। তারা সেখানেই নিরাপদ।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

নূরেজার মরদেহ উদ্ধারের পর। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় নূরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের নিজ আন্ধারিয়া গ্রাম থেকে এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হলেও শুরুতে এর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মরদেহটি ৪০ বছর বয়সী নূরেজা বেগমের। তিনি নকলা উপজেলার ইসিবপুর গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে এবং একই উপজেলার কায়দা গ্রামের আজহার আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

নূরেজা কীভাবে খুন হয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে স্বামী আজহার আলীকে আটক করে নকলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় নুরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শনিবার সকালে কৃষক ফরমান আলী তার জমিতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পেয়ে শেরপুর সদর থানায় খবর দেন।

পরে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া ও সদর থানার ওসি বন্দে আলী পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি তারা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

এর পর থেকেই পুলিশ, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নূরেজার পরিচয় বেরিয়ে এলে তার স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

হত্যার কারণ বা অন্য কোনো তথ্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডে এখনও কোনো মামলাও হয়নি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টির তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আজহার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেজা। তার আরও দুই স্ত্রী আছেন।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার লাগিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট হতে যাওয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে এ নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে। ২৩ জানুয়ারি দেয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।

তবে প্রতীক বরাদ্দের এক দিন আগেই শনিবার ইউনিয়নটির শিংপাড়ায় দেয়ালে লাগানো হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহের নির্বাচনি পোস্টার। এ এলাকাতেই ওই প্রার্থীর গ্রামের বাড়ি।

ইউনিয়নটির ভোটার সালেহা বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল। তাদের সবচেয়ে বেশি নিয়মকানুন মানা উচিত। প্রতীক বরাদ্দের আগে এমনভাবে প্রতীকসহ পোস্টার লাগানো নিয়ম পরিপন্থি।’

এই নির্বাচনে চশমা প্রতীক চাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার প্রতীক তিনি দল থেকে পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তাকে এখনও পোস্টার লাগানোর অনুমতি দেয়নি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে দেয়ালে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি পোস্টার লাগানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

সদর উপজেলার নির্বাচনি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘এখনও প্রতীক বরাদ্দ দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ পোস্টার লাগালে তা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে নিশ্চয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবা নাসরিন রুপা। ছবি: সংগৃহীত

নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আটক হয়েছেন।

ওই নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় পাঁচটি ব্যাংক চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র এবং তিন সেট প্রশ্নপত্রসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার শনিবার দুপুরে এসব জানান।

তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যে রাজধানীর কাকরাইলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তারা চাকরির জন্য অবৈধ উপায় বেছে নিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই চক্রের কয়েকজনের নাম জানান। সে তথ্যে কাফরুল থানার সেনপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিভাইস, প্রশ্ন, উত্তরপত্রের খসড়াসহ চারজনকে আটক করা হয়।

হাফিজ আক্তার আরও বলেন, ‘আমাদের আরেকটি দল তেজগাঁও বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চক্রের হোতা রুপাকে টাকা ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করা হয়। রুপার তথ্যে আরও পাঁচজনকে ধরা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চাচার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো মুরাদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রায় ৪০ দিন পর প্রকাশ্যে দেখা গেল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানকে।

চাচার জানাজায় অংশ নিতে শনিবার বেলা ২টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই বিচারপতি মাহমুদুল হাসান তালুকদার।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুরাদ হাসান। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এই প্রথম মুরাদ হাসান তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় এলেন।

গত ১ ডিসেম্বর এক ফেসবুক লাইভে মুরাদ হাসান খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশোভন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এমন পরিস্থিতিতে মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুরাদের পদত্যাগের পর তার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মুরাদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এ ছাড়া তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিব্রত ছিলেন। তাকে নির্বাচনি এলাকায় ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণাও দেন দলের কিছু নেতা-কর্মী।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেদিন সংবাদকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যান মুরাদ।

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি


এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। এর ৪০ দিন পর শনিবার তাকে নিজ সংসদীয় এলাকায় দেখা গেছে।

চাচার জানাজা শেষে মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি। এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই মাটি পবিত্র।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন

চায়নিজ খাবার খেল ১০০ এতিম শিশু

চায়নিজ খাবার খেল ১০০ এতিম শিশু

গোপালগঞ্জের চায়নিজ রেস্তোরাঁয় এতিম শিশুদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম মাহাদী ও মো. শাওন বলে, ‘চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বসে এ ধরনের খাবার আগে কখনও খাইনি। এই প্রথম এ ধরনের খাবার খেলাম।’

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০০ এতিম শিশুকে চায়নিজ রেস্তোরাঁয় বসিয়ে উন্নত খাবার খাওয়াল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগার।

শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চাং পাং চায়নিজ রেস্টুরেন্টে ব্যতিক্রমী ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিশুদের খাবার মেন্যুতে ছিল ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন মাসালা, চায়নিজ সবজি, সালাদ ও কোমল পানীয়।

খাবার শেষে প্রত্যেক শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি করে কম্বলও দেয়া হয়।

এর আগে জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের সভাপতিত্বে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, হিরণ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন খান, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সুমন হোসেন বাচ্চু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী খসরু, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা ১০০ এতিম শিশুকে খাওয়ানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিই। এই পোস্টে সাড়া দিয়ে কিছু মানবিক মানুষ আমাদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। এই অর্থ দিয়েই আমরা এতিম শিশুদের চায়নিজ রেস্তোরাঁয় বসিয়ে উন্নত খাবার খাওয়ালাম।’

সুশান্ত জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য তাদের সংগঠনকে ৫০০ কম্বল দিয়েছেন। সেখান থেকে ১০০ কম্বল এতিম শিশুদের দেয়া হয়েছে।

কুরপালা মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম মাহাদী ও মো. শাওন বলে, ‘চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বসে এ ধরনের খাবার আগে কখনও খাইনি। এই প্রথম এ ধরনের খাবার খেলাম। খাবার শেষে তারা একটি কম্বলও দিয়েছেন। এখানে এসে খুব ভালো লাগল।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ‘এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য জ্ঞানের আলো পাঠাগারকে ধন্যবাদ। তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড করে আসছেন। আমি সমাজের বিত্তশালীদের জ্ঞানের আলো পাঠাগারের এসব কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া
বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে গ্যারেজ, আসবাবের স্তূপ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হুইলচেয়ার আটকে রাখা নারী কে?
সরকারি হাসপাতালে ৯৭ শতাংশ রোগী ওষুধ পায় না

শেয়ার করুন