লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

player
লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ শূন্য হয়। এ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় শূন্য হওয়া ওই পদে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ায় মহানগর সভাপতির পদটি শূন্য হয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

বাগানে সাদকি কমলার গাছ ধরে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লেবু মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন নীলফামারীর লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

‘দেখতে যেমন সুন্দর ও ঝকঝকে, তেমনি খেতেও সুস্বাদু’, নীলফামারীর ‘সাদকি’ কমলার বাগানে ঘুরতে এসে এমন বর্ণনা দিচ্ছিলেন অতুল রায়।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার রানগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া এলাকা থেকে কচুকাটা বাজার এলাকার লেবু মিয়ার এই কমলার বাগান দেখতে এসেছিলেন তিনি।

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

নিউজবাংলাকে অতুল রায় বলেন, ‘ভাবতাম আমাদের দেশে এই ফল চাষ সম্ভব না। কিন্তু এ অসম্ভবও বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে।’

লেবু মিয়ার বাগানে বাগানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন তার ছেলে আশেকে রসুল মামুন ওরফে এ আর মামুন। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার এই কমলা দেশের মাটিতে চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন বাবা ও ছেলে।

শুধু সাদকি কমলাই নয়, চায়না কমলা, সাউথ আফ্রিকান মাল্টা, ভিয়েতনাম মাল্টা, বারি মাল্টা, লিচু, আম, বরই (কূল), কাজুবাদাম, বারোমাসি আমলকি, ত্বীনফল, চেরিফল, আপেল আবাদেও সফল তারা।

সম্প্রতি ১৬ শতাংশ জমিতে মামুনের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, পুষ্টিসমৃদ্ধ সাদকি কমলায় ভরে গেছে ৬০টি গাছ। তিন থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি গাছে কমলা ধরেছে অনন্ত ৪০কেজি। যা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাগানেই। এ ছাড়া ৬০০টি কমলার চারা রাখা হয়েছে চার বিঘা এলাকা জুড়ে।

মামুন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবাকে নিয়ে ভারতের দার্জিলিং যাই। সেখান থেকে দুটি সাদকি কমলার চারা নিয়ে এসে নার্সারিতে লাগাই। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু চারা তৈরি হয়। এখন ৬০টি পরিপূর্ণ গাছে কমলা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে কমলা হচ্ছে এ
কমলা বাগানে।’

তিনি জানান, ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে নার্সারি শুরু করেন তার বাবা লেবু মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪৫ বিঘা জমির নার্সারিতে চাষ করছেন নানা ফল। জমির ১৩ বিঘা নিজের আর বাকি ৩২ বিঘা ভাড়ায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় রমজান আলী বলেন, ‘মামুন ভাইয়ের বাগানে গেলে মনটা ভরে যায়। চেষ্টা করে সফল হইছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার বাগানের কমলা নিয়ে যাচ্ছেন। চারা নিয়ে যাচ্ছেন বাগান করতে। নীলফামারী এখন কমলার জেলায় পরিচিতি লাভ করছে।’

নার্সারি মালিক লেবু মিয়া জানান, তার বাগানে কমলার দুটি গাছ লাগানোর এক বছর পর ফল দেয়া শুরু করে। গাছের সংখ্যা পরে বাড়ানো হয়। আগে দুজন কাজ করলেও এখন ২৫ জন কাজ করছেন পুরো নার্সারিতে।

তিনি বলেন, ‘এখন ভারত নয় নীলফামারীর সমতল ভূমিতে কমলা আবাদ হচ্ছে। অনেক ভালো মানের কমলা উৎপাদন হচ্ছে। যারা বাগান করতে চান আমার বাগানে দেখে যেতে পারেন।’

ছেলে মামুন বলেন, ‘দেশের ৬৪ জেলায় সাদকি কমলার চারা যাচ্ছে আমাদের বাগান থেকে। বাস-ট্রেন এমনকি কুরিয়ারেও পাঠানো হচ্ছে চারা। বিভিন্ন সময়ে এ বাগান পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

‘সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাদকি কমলার খবর পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন। বাগান পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এ জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল থাকায় প্রচুর মাল্টা ও কমলার চাষ হচ্ছে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সম্ভবনাময় সাদকি কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে আমাদের কৃষকরা। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পুরণেও এ ফল ভূমিকা রাখবে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর চিলাহাটিতে আব্দুল্লাহ, সোনারায়ে রিয়াসাত, পঞ্চপুকুরে মনিরুজ্জামান বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির কমলা চাষ করছেন।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া আসামিদের নেয়া হচ্ছে কারাগারে। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ।

কুষ্টিয়ায় ১৩ বছর আগের এক হত্যা মামলার রায়ে এক আসামির আমৃত্যু ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন কুমারখালী উপজেলার কালিতলা এলাকার সালাম মোল্লা এবং যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন কুমারখালীর শানপুকুরিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম ও কালিতলা এলাকার রেজাউল জোয়ার্দার কালু।

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ। এ ঘটনায় শহিদুলের বাবা মুনছের আলীর করা মামলায় গ্রেপ্তার হন আসামিরা।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

করোনা টিকার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা আদায়

করোনা টিকার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা আদায়

আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সারি। ছবি: নিউজবাংলা

রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সনদ প্রিন্ট করতে কিছু খরচ হয়। সেই খরচের কিছু টাকা শিক্ষার্থীদের দিতে বলা হয়েছে।’

নওগাঁর রাণীনগরে করোনাভাইরাসের টিকার রেজিস্ট্রেশন ও সনদের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করেছে।

আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলার ২১টি স্কুলের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে নিজ স্কুলের ৬৫৪ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সনদ দেয়ার খরচ হিসেবে তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা নেয়ার বিষয়টি গোপন রাখতেও বলা হয়েছে।

এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সনদ প্রিন্ট করতে কিছু খরচ হয়। সেই খরচের কিছু টাকা শিক্ষার্থীদের দিতে বলা হয়েছে।’

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, প্রিন্টের জন্য কাগজের ব্যবস্থা তারাই করেছেন।

রুহুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার জন্য কারো কাছ থেকে এক পয়সাও নেয়ার কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি। ওই কেন্দ্রে টিকা দেয়ার জন্য যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। তবে প্রধান শিক্ষক কার নির্দেশে এমন জঘন্য কাজ করলেন সে বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের টাকাও ফেরত দেয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খাঁন অংকুর বলেন, ‘টিকা ও টিকা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম স্বাস্থ্য বিভাগ সরবরাহ করছে। আর কেন্দ্র নির্ধারণ ও কেন্দ্রের যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করছে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, তদন্ত করে যারা টাকা নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পাবনার একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও করোনাভাইরাসের টিকার জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

গাড়ির চাপায় নারী নিহত

গাড়ির চাপায় নারী নিহত

অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় ওই নারী নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আলী হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার জন্য হেঁটে রওনা দেন রিতা। ভরাডোবা এতিমখানা মাদ্রাসার সামনে আসলে ময়মনসিংহগামী একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

ময়মনসিংহের ভালুকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভরাডোবা এতিমখানা মাদ্রাসার সামনে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ৪৫ বছরের রিতা আক্তারের বাড়ি ভরাডোবা গ্রামের ক্লাবের বাজার এলাকায়। ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ডের একটি হোটেলে তিনি কাজ করতেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আলী হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার জন্য হেটে রওনা দেন রিতা। ভরাডোবা এতিমখানা মাদ্রাসার সামনে আসলে ময়মনসিংহগামী একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘সড়কের পাশে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত গাড়িটি সনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া হরিশপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন ও মোহনপুর লাহিড়ীপাড়া গ্রামের রমজান আলী।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, আছিয়া খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রমজান আলীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলে আসছিল। এর জেরে রমজান আলী আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আছিয়া খাতুন তার স্বামী জীবিত আছে এমন কারণ দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে প্রেমের বাধা দূর করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ২০১৬ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা আছিয়ার স্বামী আবু বক্কার মন্ডলকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু হানিফ উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

‘দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই’

‘দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এটা দেখে যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বিবেক ঘুমিয়ে রয়েছে। আজকে তাদের ওপর হামলা, কালকে আমাদের ওপর- এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বেড়ে চলছে। আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‌‌‌‌‌‌‌‌হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারাও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চান।

মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু বড়ুয়া বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উল্টো হামলা চালিয়েছে। এমন অযোগ্য ব্যক্তি ভিসি থাকতে পারেন না, তার অপসারণ চাই।’

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এটা দেখে যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বিবেক ঘুমিয়ে রয়েছে।

‘আজকে তাদের ওপর হামলা, কালকে আমাদের ওপর- এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বেড়ে চলছে। আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

সোমবার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে এসেও নিজেদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের নিজ নিজ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

মঙ্গলবারও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাসভবনের ভেতরেই রয়েছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ দাবি করেন, এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে বহিরাগতরা।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখসহ ১০ পুলিশ আহত হন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দিন পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, ‘রোববারের যে ঘটনা তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’

তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

পুলিশের গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কোনো গুলি ছোড়েনি। ওই দিন ক্যাম্পাসে গুলি আনেনি পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের ‘পিঠের চামড়া তুলে নেবেন’ এমপি অপুর সমর্থকরা
কুমিল্লার আ.লীগ নেতা আফজল খান আর নেই
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: আ.লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার
‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

শেয়ার করুন