‘আগুন তুই সব নিলি, আমারে নিলি না ক্যান’

player
‘আগুন তুই সব নিলি, আমারে নিলি না ক্যান’

ধ্বংসস্তূপের সামনে বিলাপ করছেন ছুড়িয়া বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে কাঁদছিলেন জরিনা বেগম। দুই সন্তানের একজন পোশাক কারখানায় কাজ করেন, অন্যজন বেকার। আগুনে তার তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ঘরে ৬০ হাজার টাকা ছিল। আসবাবপত্রের সঙ্গে পুড়ে গেছে সেই সঞ্চয়। এখন কী হবে জানি না।’

গাজীপুরের টঙ্গীর হাজির মাজার বস্তিতে আগুনে সর্বস্বান্তদের একজন ছুড়িয়া বেগম। শনিবার ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে লাগা আগুনে পুড়ে যাওয়া পাঁচ শতাধিক ঘরের একটিতে থাকতেন দুই সন্তান নিয়ে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৫০ বছরের ছুড়িয়ার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তখন ধ্বংসস্তূপে কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন... করছেন বিলাপ।

ছুড়িয়া বলেন, ‘আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আসবাব, টাকা-পয়সা। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জাকির হোসেন বলেন, ‘আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা বস্তিতে। কোনো রকমে ঘর থেকে বেরিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি।’

ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে কাঁদছিলেন জরিনা বেগম। দুই সন্তানের একজন পোশাক কারখানায় কাজ করেন, অন্যজন বেকার। আগুনে তার তিনটি ঘর পুড়ে গেছে।

জরিনা বলেন, ‘ঘরে ৬০ হাজার টাকা ছিল। আসবাবপত্রের সঙ্গে পুড়ে গেছে সেই সঞ্চয়। এখন কী হবে জানি না।’

জরিনা যখন তার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন, তখন একটু দূরে আহাজারি করছিলেন দেলোয়ারা নামের আরেক নারী। চিৎকার করে বলছিলেন, আমার তো আর কিছুই রইল না। কী নিয়া বাঁচমু? আগুন তুই সব নিলি, আমারে নিলি না ক্যান।

‘আগুন তুই সব নিলি, আমারে নিলি না ক্যান’

ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত বস্তির পাশের একটি স্কুলে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ৫৭ নম্বর ওয়ার্ল্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার।

তিনি বলেন, ‘আগামী সাত দিন তিন বেলা করে তাদের খাবার সরবরাহ করব। এ ছাড়া তালিকা করে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিটের চেষ্টায় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

‘আগুন তুই সব নিলি, আমারে নিলি না ক্যান’

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক দিনমনি শর্মা বলেন, ‘মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছি। প্রায় প্রতি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলল, স্বামী আটক

নূরেজার মরদেহ উদ্ধারের পর। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় নুরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের নিজ আন্ধারিয়া গ্রাম থেকে এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হলেও শুরুতে এর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মরদেহটি ৪০ বছর বয়সী নূরেজা বেগমের। তিনি নকলা উপজেলার ইসিবপুর গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে এবং একই উপজেলার কায়দা গ্রামের আজহার আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

নূরেজা কিভাবে খুন হয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে স্বামী আজহার আলীকে আটক করে নকলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার নিজ আন্ধারিয়া গ্রামের জনৈক কৃষক ফরমান আলীর ক্ষেতের পাশে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় নুরেজার বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে রেখে যায় কেউ।

শনিবার সকালে কৃষক ফরমান আলী তার জমিতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পেয়ে শেরপুর সদর থানায় খবর দেন।

পরে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, সদর থানার ওসি বন্দে আলী পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি তারা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এরপর থেকেই পুলিশ, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নূরেজার পরিচয় বেরিয়ে আসলে তার স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

হত্যার কারণ বা অন্য কোনো তথ্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডে এখনও কোনো মামলাও হয়নি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টির তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আজহার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেজা। তার আরও দুই স্ত্রী আছেন।

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

প্রতীক বরাদ্দের আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার

দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার আগেই দেয়ালে নৌকার পোস্টার লাগিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট হতে যাওয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে এ নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে। ২৩ জানুয়ারি দেয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।

তবে প্রতীক বরাদ্দের এক দিন আগেই শনিবার ইউনিয়নটির শিংপাড়ায় দেয়ালে লাগানো হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহের নির্বাচনি পোস্টার। এ এলাকাতেই ওই প্রার্থীর গ্রামের বাড়ি।

ইউনিয়নটির ভোটার সালেহা বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল। তাদের সবচেয়ে বেশি নিয়মকানুন মানা উচিত। প্রতীক বরাদ্দের আগে এমনভাবে প্রতীকসহ পোস্টার লাগানো নিয়ম পরিপন্থি।’

এই নির্বাচনে চশমা প্রতীক চাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার প্রতীক তিনি দল থেকে পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তাকে এখনও পোস্টার লাগানোর অনুমতি দেয়নি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে দেয়ালে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি পোস্টার লাগানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ বলেন, ‘রোববার প্রতীকসহ পোস্টার লাগানোর অনুমতি পাব। আজ বাসায় পোস্টার আনা হয়েছে। বাসার কাজের লোকেরা ভোটের আমেজে উচ্ছ্বসিত হয়েই হয়তো এ ভুলটা করেছে। আমি পোস্টার তুলে ফেলতে বলেছি।’

সদর উপজেলার নির্বাচনি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘এখনও প্রতীক বরাদ্দ দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ পোস্টার লাগালে তা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে নিশ্চয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ আটক

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবা নাসরিন রুপা। ছবি: সংগৃহীত

নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আটক হয়েছেন।

ওই নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নাম মাহাবুবা নাসরিন রুপা। বাকিরা হলেন নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে মাহমুদুল সিজিএ অফিসের কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় পাঁচটি ব্যাংক চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র এবং তিন সেট প্রশ্নপত্রসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার শনিবার দুপুরে এসব জানান।

তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যে রাজধানীর কাকরাইলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তারা চাকরির জন্য অবৈধ উপায় বেছে নিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই চক্রের কয়েকজনের নাম জানান। সে তথ্যে কাফরুল থানার সেনপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিভাইস, প্রশ্ন, উত্তরপত্রের খসড়াসহ চারজনকে আটক করা হয়।

হাফিজ আক্তার আরও বলেন, ‘আমাদের আরেকটি দল তেজগাঁও বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চক্রের হোতা রুপাকে টাকা ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করা হয়। রুপার তথ্যে আরও পাঁচজনকে ধরা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চাচার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো মুরাদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রায় ৪০ দিন পর প্রকাশ্যে দেখা গেল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানকে।

চাচার জানাজায় অংশ নিতে শনিবার বেলা ২টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই বিচারপতি মাহমুদুল হাসান তালুকদার।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুরাদ হাসান। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এই প্রথম মুরাদ হাসান তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় এলেন।

গত ১ ডিসেম্বর এক ফেসবুক লাইভে মুরাদ হাসান খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশোভন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এমন পরিস্থিতিতে মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুরাদের পদত্যাগের পর তার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মুরাদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এ ছাড়া তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিব্রত ছিলেন। তাকে নির্বাচনি এলাকায় ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণাও দেন দলের কিছু নেতা-কর্মী।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেদিন সংবাদকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যান মুরাদ।

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি


এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। এর ৪০ দিন পর শনিবার তাকে নিজ সংসদীয় এলাকায় দেখা গেছে।

চাচার জানাজা শেষে মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি। এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই মাটি পবিত্র।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

চায়নিজ খাবার খেল ১০০ এতিম শিশু

চায়নিজ খাবার খেল ১০০ এতিম শিশু

গোপালগঞ্জের চায়নিজ রেস্তোরাঁয় এতিম শিশুদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম মাহাদী ও মো. শাওন বলে, ‘চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বসে এ ধরনের খাবার আগে কখনও খাইনি। এই প্রথম এ ধরনের খাবার খেলাম।’

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০০ এতিম শিশুকে চায়নিজ রেস্তোরাঁয় বসিয়ে উন্নত খাবার খাওয়াল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগার।

শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চাং পাং চায়নিজ রেস্টুরেন্টে ব্যতিক্রমী ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিশুদের খাবার মেন্যুতে ছিল ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন মাসালা, চায়নিজ সবজি, সালাদ ও কোমল পানীয়।

খাবার শেষে প্রত্যেক শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি করে কম্বলও দেয়া হয়।

এর আগে জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের সভাপতিত্বে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, হিরণ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন খান, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সুমন হোসেন বাচ্চু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী খসরু, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা ১০০ এতিম শিশুকে খাওয়ানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিই। এই পোস্টে সাড়া দিয়ে কিছু মানবিক মানুষ আমাদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। এই অর্থ দিয়েই আমরা এতিম শিশুদের চায়নিজ রেস্তোরাঁয় বসিয়ে উন্নত খাবার খাওয়ালাম।’

সুশান্ত জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য তাদের সংগঠনকে ৫০০ কম্বল দিয়েছেন। সেখান থেকে ১০০ কম্বল এতিম শিশুদের দেয়া হয়েছে।

কুরপালা মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম মাহাদী ও মো. শাওন বলে, ‘চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বসে এ ধরনের খাবার আগে কখনও খাইনি। এই প্রথম এ ধরনের খাবার খেলাম। খাবার শেষে তারা একটি কম্বলও দিয়েছেন। এখানে এসে খুব ভালো লাগল।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ‘এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য জ্ঞানের আলো পাঠাগারকে ধন্যবাদ। তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড করে আসছেন। আমি সমাজের বিত্তশালীদের জ্ঞানের আলো পাঠাগারের এসব কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছবি প্রদর্শনী ও প্রতীকী অনশন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছবি প্রদর্শনী ও পরে শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন হয়।

প্রদর্শনীতে ছাত্রীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের বৈষম্যের তীব্রতা তুলে ধরেন। পরে প্রতীকী অনশনে বসেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

এ ছাড়া আজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি মশাল মিছিল হবে।

শাবি উপাচার্য (ভিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শাবি উপাচার্যের কথিত অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি (ছাত্রী হলে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি) তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না।

‘কারণ সারা রাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এ রকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।’

শাবি উপাচার্যের এ ধরনের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষোভ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈঠকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন কথা বলেন।

তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

শেয়ার করুন

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে কাফন মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গায়ে ছিল কাফনের কাপড় আর সামনে খাটিয়ায় রাখা ছিল একটি প্রতীকী মরদেহ।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না।

এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছল করেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। প্রয়োজনে আমরা মারা যাব, তবু আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের ঢাকায় গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষু অবস্থায় সহযোদ্ধাদের ফেলে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীকে ভিডিওকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন অথবা শিক্ষামন্ত্রী শাবিতে এসে তাদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঢাকায় না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার ঢাকায় গেছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদেন ডিন ড. মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

শনিবারই তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারও আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে দাবি মেনে নেয়া হবে বলে উপাচার্যের এমন আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

শেয়ার করুন