৪ মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ আগামী বছর: সেতুমন্ত্রী

player
৪ মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ আগামী বছর: সেতুমন্ত্রী

কার্পেটিং চলছে পদ্মা সেতুর সড়কে, যা চালু হওয়ার কথা আগামী বছর। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী বছর কয়েকটি মেগা প্রজেক্টের ওপেনিং হবে। দেশের চেহারা বদলে যাবে। চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ। আগামী বছর এটিও শেষ হয়ে উদ্বোধন হবে।’

আগামী বছরের মধ্যে দেশে চলমান অন্তত চারটি মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় মহাসড়ক বিল নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন উর রশিদ, রুমিন ফারহানা ও জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা যত কথা বলি, তত কাজ করি না। যা বিশ্বাস করি, তা পালন করি না। সরকারের কি কোনো ভালো কাজ নেই? সেগুলোর প্রশংসা যখন কেউ বক্তব্য দেন, কেউ কি করেন? ২০০৯ সালের আগে সড়কব্যবস্থা কী ছিল? কী সড়ক ছিল?

‘দুই দলের (বিএনপি ও জাতীয় পার্টি) প্রধানের বাড়িই উত্তরবঙ্গে। আর ছয় লেনের কাজ করতে হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে। কাজ যেহেতু শুরু হয়েছে, শেষ হয়ে যাবে। একটু ধৈর্য ধরুন। এই সড়কে এলেঙ্গা পর্যন্ত কাজ শেষ। এখন রংপুরের দিকে ৬ লেন যাচ্ছে। রংপুর থেকে একটি অংশ যাবে বুড়িমারী এবং পঞ্চগড় পর্যন্ত যাবে আরেকটি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা চট্টগ্রামে কী দুরাবস্থা ছিল! আজ কী সুন্দর ফোর লেন হয়েছে। পুরো পথজুড়ে ফুলের শোভা চোখ জুড়িয়ে যায়। রাস্তা দেখবেন? ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যান। দেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে। এটি দেখতেই মানুষ ছুটে আসে। পর্যায়ক্রমে দেশের যত রাস্তা আছে সবগুলোকে সার্ভিস লেনসহ ৪ লেনে উন্নীত করব।’

সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘যে সমালোচনা করলেন, বলুন, শেখ হাসিনার আগে কোথায় আন্ডারপাস ছিল? এখন ৩৫টি আন্ডারপাস সরকার নির্মাণ করেছে। আরও ৩৯টির কাজ চলছে। ঢাকার বাহিরে কোনো সরকারের আমলে কি ফ্লাইওভার ছিল? ১৫টি হয়েছে। আরও ২০টির কাজ প্রক্রিয়াধীন।

‘জাতীয় মহাসড়কে ১৫টি রেল ওভারপাস নির্মাণ পাস হয়েছে; আরও ১৩টির কাজ চলমান। কয়টা সেতু ছিল? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমি পাশের মুন্সিগঞ্জের কথা বলি, সেখানে কয়টা বেইলি ব্রিজ? ১২০টি। একটি সেতু কি কোনো সরকার করেছে? ৫৭টি শেষ করেছি; ৪৮টির কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা করেন, গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া উচিত। অবশ্যই শুদ্ধ করব। আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু কেউ তো একবারও বললেন না, যখন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যায়, সেটি নিজস্ব অর্থায়নে করার সাহস দেখিয়েছেন। আগামী বছর ফসল ঘরে তুলব। এটা কে করেছে?

‘আপনারা তো বলেছেন, জোড়াতালি দিয়ে কাজ হচ্ছে। কেউ উঠবেন না। এত নিষ্ঠুর সমালোচনাও এ দেশে হয়। কী সুন্দর ব্রিজ! হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসে। আগামী বছর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এটা কি কোনো সরকার করেছে?’

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বনানী পর্যন্ত কাজ হয়েছে, চট্টগ্রাম সড়ক পর্যন্ত যাবে। সমালোচনা করেন, প্রশংসা করেন না। কে করেছে মেট্রোরেল? আগামী বছর আমরা চালু করতে পারব।

‘আগামী বছর কয়েকটি মেগা প্রজেক্টের ওপেনিং হবে। দেশের চেহারা বদলে যাবে। চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ। আগামী বছর এটিও শেষ হয়ে উদ্বোধন হবে।’

গাজীপুরে নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট নিয়েও কথা বলেন সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, ‘দেখুন একটি প্রকল্প যখন করতে যাবেন সেখানে নির্মাণকাজের যন্ত্রণা থাকে। ভোগান্তি হয়ে গেছে বেশি। রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক খারাপ। কিন্তু এগুলো কি অতীতে ছিল?

‘একটি কোম্পানি নিয়েছে খুব কম দামে। তারা ঘাটে ঘাটে আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশটির সাথে কথা বলেছেন। ফান্ডিংয়ের সমস্যা ছিল; গতি পেয়েছে। এই বর্ষাই শেষ বর্ষা। আগামী বর্ষার পরেই আমরা এটি শেষ করতে পারব। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর চারটি মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।’

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে রমিজউদ্দিন স্কুলের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে বলে জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এটি যেকোনো সময় উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে কাদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে সত্য কথা বলতে চাই। সমস্যা আছে, যখন চেয়ারে বসবেন, অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হয়। রুমিন যা বলেছেন, ঠিক নয়। সংশোধিত রূপ এখনও দেখেননি। আইন শাখা ভেটিং করেছে, ওয়েবসাইটে মতামত নিচ্ছি।

‘এ আইনে সাজার কঠোরতা শিথিল করা হয়নি। আইনের কঠোরতা কমানো হয়নি। যা ছিল সেটাই আছে, থাকবে। কিছু ভাষাগত ও প্রতিবেশী দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী করা হয়েছে। কাটছাঁট করে প্রতারণা আমরা করি না।’

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

জাতীয় নির্বাচনও চমৎকার হবে, আশা তথ্যমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রোববার ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ‘চমৎকার’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা সেখানে হয়নি। সারাদেশে যে পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে সব জায়গায় সুন্দর, ভালো নির্বাচন হয়েছে।

‘পাঁচটির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গতকাল যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আশা করি আগামী সংসদ নির্বাচনও এমন চমৎকার হবে।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।

‘অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলেও, দৃশ্যত অংশ না নিলেও ভিন্ন অবয়বে সব জায়গাতে তারা নির্বাচনে ছিল। তারাও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তাদের জনপ্রিয়তা কোন জায়গায় আছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আমি আশা করবো সবকিছু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবেন।’

বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা যে আজ এতো এগিয়ে গেল, আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেল, সেটা নিয়ে তো দেশে যেভাবে মাতামাতি হওয়ার কথা ছিলো, তা হয়নি।

‘এই করোনার মধ্যে পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তিন। সেটি নিয়ে আমাদের দেশে পত্রপত্রিকায় মাতামাতি হয়নি। জাতির এগিয়ে যাওয়ার গল্পটাও তো জাতিকে শোনাতে হবে, সেটি আমাদের গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি। প্রথমবার তারা ছিলেন ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী। পরের দুই নির্বাচনে শামীম অনুসারীরা আইভীর পক্ষে ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে। এবার ভোটের প্রচার চলাকালে শামীম অনুসারী ছাত্রলীগের কমিটি, ভোটের ফলাফলের দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি এবং সব শেষ বিলুপ্ত করা হয় শ্রমিক লীগের মহানগর কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন শামীম অনুসারীরা।

ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পর এবার শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত নেতা এ কে এম শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন, যারা সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিক ছিলেন না বলে অভিযোগ আছে।

আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমেই ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে সোমবার নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু।

এর কারণ কী- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সাংবাদিক, বোঝেন তো কী কারণে বিলুপ্ত হতে পারে। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর কবির বকুল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। তাকে আইভীর পক্ষে সক্রিয় দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ করলেই কেবল তাদের দেখা গেছে সেখানে।

সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না নিজে ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী। ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করে তিনি ভোটে জিতেছেন। তবে তিনিও নিজের প্রচার নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। আইভীর পক্ষে সেভাবে ভোট চাননি বলে অভিযোগ আছে।

মুন্নাকে কল করা হলে তিনি তিনবার ফোন রিসিভ করে প্রশ্ন শুনে কেটে দেন।

আগের দিন বন্দরনগরীতে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের দিন আওয়ামী লীগের আরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর, থানা ও সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এক আদেশে ২৭টি কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

শামীম ওসমানকে ‘আরেকটু দুর্বল করল’ আওয়ামী লীগ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা ছিলেন শামীম ওসমানের অনুসারী। তবে জেলা কমিটির সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর খালু হলেও সেই কমিটিতে শামীম ওসমানের অনুসারীও কম ছিলেন না। এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও সেভাবে ভোটের প্রচারে দেখা যায়নি।

ভোটের প্রচার চলাকালে ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুর নেতৃত্বে কমিটি বিলুপ্ত করার আদেশ আসে। এই দুই নেতাও শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন।

ছাত্রলীগের কমিটির নেতারা ভোটের প্রচার চলাকালে আইভীর পক্ষে নামেননি বলে অভিযোগ ছিল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জে গিয়ে সেখানেই মহানগর কমিটি বিলোপের কথা জানানো হয়। পরদিন রিয়াদের বাসায় যায় ‍পুলিশ। এরপর রিয়াদ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ভোটের প্রচারে নামেন। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ মাঠে না নামলেও মহানগর কমিটির আগের নেতাদেরকেও মাঠে দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তিনটি নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আইভী- শামীমের দ্বন্দ্ব। এই দুই নেতার বাবা যথাক্রমে আলী আহম্মেদ চুনকা ও আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার মধ্যকার বিরোধ তারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

২০১১ সালে আইভী ও শামীম পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শামীমকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে আইভী দলের ভেতর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান অনেকটাই দুর্বল করে দেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি আসলে আইভীর পরাজয় চান- এমন কথা ওঠার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আইভীকে ‘বোন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি তার বোনের জয় ছাড়া কিছু চান না।

এবারও একই ধরনের কথা ওঠার পর শামীম ওসমান আগের মতোই সংবাদ সম্মেলনে এসে নৌকার প্রতি তার সমর্থন ঘোষণা করেন। তবে প্রার্থী নিয়ে যে আপত্তি আছে, সেটি তার কথাতেই প্রকাশ পায়।

তার বক্তব্যটা ছিল এমন: ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আইভী এবার ভোটে জয় পাওয়ার পর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় মিষ্টি ও ফুল নিয়ে গেলেও শামীম ওসমানের বাসায় যাননি। শামীম ভোট দিয়ে বলেন, নৌকার পরাজয় হতে পারে না। তবে ফলাফল প্রকাশের পর তার আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

আ.লীগ-বিএনপির কমলেও ভোট বেড়েছে ইসলামী আন্দোলনের

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহর ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা তৃতীয় জয় পাওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভোট কমেছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীও পাঁচ বছর আগের দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীর তুলনায় ভোট পেয়েছেন কম। তবে তৃতীয় হওয়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ দেখিয়েছেন চমক।

রোববারের ভোটে পাঁচ বছরের আগের চেয়ে কম হারে ভোট পড়লেও হাত পাখা মার্কা নিয়ে চরমোনাইয়ের দলের প্রার্থী আগের নির্বাচনের চেয়ে ৭২ শতাংশ ভোট বাড়াতে পেরেছেন।

মাছুমের হাত পাখা মার্কায় ভোট পড়েছে ২৩ হাজার ৯৮৭টি। ২০১৬ সালের দ্বিতীয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৯১৪টি। অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি।

তবে এই নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী গতবারের তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৪টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আগেরবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভোট কম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৮টি।

সেই সঙ্গে কমেছে ভোটের হার। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটারের ৬২ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট দেন, এবার তা কমে হয়েছে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

২০১৬ সালে আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান। এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, যিনি স্বতন্ত্র প্রতীকে ভোটে দাঁড়ান তার দল ভোট বর্জন করায়। তবে এই নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াইয়েই পরিণত হয়।

আওয়ামী লীগ ও ‘বিএনপির’ কমলেও তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের বাক্সে ভোট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পরও দলটি এই নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি খুশি নয়। তাদের দাবি, তারা যে ভোট পেয়েছে, তার দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভোট পেতে পারতেন।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত নির্বাচনের চেয়ে আমাদের ভোট বেড়েছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে আমাদের হিসাব মতে আমরা দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়ার কথা। আমরা যেভাবে কাজ করেছি, যেভাবে আমাদের সমর্থক রয়েছে তাতে আমরা ৬০-৭০ হাজার ভোট পেতে পারতাম।’

তাহলে কেন পেলেন না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেনি। অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে, তাদের আঙুলের ছাপ দেয়ার পর অন্যজন ভোট দিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনও পর্যাপ্ত প্রভাব খাটিয়েছে। না হলে আমাদের ভোট আরও বাড়ত।’

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

সোমবার বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগামী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এর আগে সংলাপ করতে বেলা ৩টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। বিকেল ৪টা থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সংলাপ শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে আইন মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। খসড়াটি আজ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর তা নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

‘আইনের খসড়াটি যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (আইন মন্ত্রণালয়) জাতীয় সংসদে পাঠাবে। জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইন বিধিবিধান অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে সার্চ কমিটির জন্য কারও নাম প্রস্তাব করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি শুরু হলো। এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়ায় এক দিনেই তো সব হয় না। এই প্রস্তাবের পর আইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

আইন প্রণয়নে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। আইনটির খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি প্রথমে বিবেচনা এবং পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হওয়ার পর সেটি চলে যাবে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। পরে খসড়াটি আরও আলোচনার জন্য চলে যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সেখানে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, অন্যান্য দলও রয়েছে। এই কমিটিতে আলাপ-আলোচনা শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি চলে যাবে সংসদে।’

অল্প সময়ের মধ্যেই আইনটি করা সম্ভব কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই আইনটি করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিক তাস নেই। আইন আইনের গতিতেই হবে। আইনের বিকল্প কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় আইন পাস হয়, এ ক্ষেত্রেও তাতে বিন্দু পরিমাণ ব্যত্যয় ঘটার কারণ নেই। বিকল্প ভাবার অবকাশই নেই।’

সংসদের চলমান অধিবেশনে আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেহেতু এটা জন দাবি, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্বার্থে একটা আইন পাস হওয়া দরকার ছিল, আগে হওয়ার কথা ছিল। কেন হবে না, প্রক্রিয়া তো আছে। ৫০ বছরে হয়নি। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়বার পারিনি। তৃতীয়বারের আগেও হয়ে যেতে পারে। আইনটি হলে এবারই হবে।’

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না: রিজভী

উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না: রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

‘বর্তমান সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন ফ্লাইওভার, সেতু দেখছে আর বন্দিশালায় ছটফট করছে।… তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না। এখন পিছু হটার সুযোগ নেই। পিছু হটলে জাতি শত বছর পিছিয়ে পড়বে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয়ের পরদিন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষ ছটফট করছে। তার দাবি, উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না।

অবশ্য তিনি আগের দিনের আলোচিত এই নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলেননি। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে প্রার্থীও দেয়নি। তবে দলের নেতা তৈমূর আলম খন্দকার সেখানে মেয়র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর মোকাবিলা করায় কার্যত আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এই লড়াইয়ে ২০১৬ সালের মতোই বিএনপিকে বিপুল ভোটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছেন আইভী, যে নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষ বিশ্বাসযোগ্য কোনো অভিযোগ তুলতে পারেনি।

সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন রিজভী।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়া করতে এই আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন ফ্লাইওভার, সেতু দেখছে আর বন্দিশালায় ছটফট করছে।… তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে ভোলানো যাবে না। এখন পিছু হটার সুযোগ নেই। পিছু হটলে জাতি শত বছর পিছিয়ে পড়বে।’

বিএনপি নেতার অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চান। ক্ষমতার ক্ষুধার জন্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের দিয়ে মিথ্যা বলানো হচ্ছে। গোটা দেশ আজ বন্দিশালা। …কখন কাকে গুম করবে সেই ভয়ে সব সময় শঙ্কিত থাকে মানুষ।

দেশবাসী দুঃসময়ের মধ্যে দিন যাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র মুক্তির জন্য লড়াই করছে তারা কেউ ভালো নেই। আজ বিশ্ব মহামারির চেয়ে জাতীয় মহামারিতে বেশি আক্রান্ত দেশ। পুরো দেশ আজ অত্যাচার অনাচারে আক্রান্ত।

‘বিরোধী দল আজ প্রতিবাদ করলে, কর্মসূচি দিলে গুম হতে হয়, বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। রেহাই পায় না মিডিয়াকর্মীরাও। তাদেরকেও বন্দি করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে লাশ।’

মনে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাথমিক পাস করেননি

যুক্তরাষ্ট্রে গুম, পুলিশের গুলিতে হত্যার সংখ্যা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের কথা শুনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর মনে হয়, মন্ত্রী বুঝি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পাস করেননি।

বিএনপির মুখপাত্র বলেছেন, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রীরা একের পর এক অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি বললেন, আমেরিকায় প্রতি বছর ছয় লাখ লোক গুম হয়। আপনার তথ্য দেখলে মনে হয় আপনি প্রাইমারিও পাস করেননি। দুদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বললেন আমেরিকায় প্রতি বছর এক লাখ মানুষ গুম হয়।

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রীরা একের পর মিথ্যা বলে যাচ্ছেন, ভিত্তিহীন তথ্য দিচ্ছেন।’

সম্প্রতি র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, তাদের নেতা-কর্মীদের গুম-খুনে জড়িত এই বাহিনী।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ তুলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। গত ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীতে এক আলোচনায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতেই প্রতি বছর সে দেশে ছয় লাখ মানুষ মিসিং হয়। পুলিশ ইন দ্য লাইন অব ডিউটি হাজারখানেক লোক মেরে ফেলে। আর আমাদের এখানে কালেভদ্রে কেউ মারা গেলেই বলবে যে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং। আপনারাই (সাংবাদিক) এসবের আসল মাতব্বর। আপনারাই বলেন বিনা বিচারে হত্যা, আর ওরা বলে ইন দ্য লাইন অব ডিউটি। সবাইকে আরও একটু সচেতন হতে হবে।’

বিদেশিদের মুখ বন্ধ করবেন কীভাবে

বিদেশিরাও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে বলে মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আপনারা (সরকার) অত্যাচার, ভয় দেখিয়ে বিরোধী দল ও মতকে বন্ধ করতে পারেন। কিন্তু আমেরিকা, জার্মান, ব্রিটেনের মুখ বন্ধ করবেন কীভাবে? তারা কি দেখে না? তারা সবই দেখছে।’

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অযৌক্তিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, জনি, সুমনসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কালো মাইক্রোবাস দিয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এগুলো কি আশপাশের মানুষ দেখে না? দেশের মানুষকে রক্তচক্ষু দেখাতে পারেন, কিন্তু বিদেশিদের পারবেন না।’

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

সংঘর্ষের ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী

সংঘর্ষের ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী

দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা দেয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আগামীতে কেউ সংঘাতে জড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের সদরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের মন্টারপোল এলাকায় রোববার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ধ্যায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আটক করে থানায় নেয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পরে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের উপস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মনির দর্জি, মোহাম্মদ ব্যাপারী, হায়দার খান, সরোয়ার শেখ, রুবেল মাতুব্বর, আবু ছালে, মো. ইসমাইল, সোবাহান মোল্লা, আব্দুর রহমান ও পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম সালাউদ্দিন ও সদস্য অভিজিৎ দে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি ঘটমাঝি ইউনিয়নে ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনের কথা রয়েছে। ভোটে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল হাওলাদার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন খলিলুর রহমান দর্জি।

দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা রোববার বিকেলে মন্টারপোল বাজারে প্রচারে নামেন। এ সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি প্রচারকে কেন্দ্র করে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া উভয় পক্ষের নির্বাচনি ক্যাম্প, ১০টি মোটরসাইকেল, বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্যসহ আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশসহ ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে সাতজনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।’

তবে সংঘর্ষের বিষয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী কথা বলতে রাজি হননি। তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে নিউজবাংলাকে অনুরোধ করেন।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রচারে নেমে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।’

‘এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে লিখিত দেয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আগামীতে কেউ সংঘাতে জড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন

ইসি গঠনে আইনের প্রস্তাব আ. লীগেরও

ইসি গঠনে আইনের প্রস্তাব আ. লীগেরও

বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গভবনে সোমবার সংলাপ থেকে বেরিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তাবের কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে সংলাপে দলটি লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের ডাকা সংলাপে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে একাধিক দল। একই প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও।

বঙ্গভবনে সোমবার সংলাপ থেকে বেরিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘এই আইন যে প্রক্রিয়ায়, সেই প্রক্রিয়া মেনেই হবে।’

জাতীয় সংসদের এ অধিবেশনে আইনটি পাস হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংসদে আইন পাস হয়, (সে বিষয়ে) সর্বাত্মক প্রয়াস থাকবে। যেহেতু এটা জনদাবি, সর্বাত্মক চেষ্টা হবে। চেষ্টা করতে তো সমস্যা নাই।’

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২ এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা আর্টিকেল ১৮(১) এর একটি বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইন নিয়ে আসা হয়েছে। এটা খুব বেশি বড় আইন না। এ ধরনের আইন আমরা আগেও হ্যান্ডেল করে এসেছি। সেই ধারা অনুযায়ীই এটা করা হয়েছে।’

লিখিত প্রস্তাব

সংলাপে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত কিছু প্রস্তাব দেয় আওয়ামী লীগ। সেগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো।

(ক) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

(খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান করবেন।

(গ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান সাপেক্ষে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের কোনো আইন না থাকায় সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ব্যতিরেকে অন্য কোন আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে যেকোনো আইন হবে সাংবিধানিক বিধান মতে একটি বিশেষ ধরনের আইন। এই বিশেষ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক অনুশীলন প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সাংবিধানিক রীতিটি হলো ‘সার্চ কমিটি/অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সকলের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন।

এই ব্যবস্থাটি এখন পর্যন্ত দুইবার (২০১২ এবং ২০১৭) অনুশীলন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুইবারই দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ এই অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় এই রীতিটির আলোকে এবং এই প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

(ঘ) সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সকল নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পের কারণে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

শেয়ার করুন