তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

player
তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও মেঘনা নদীতে বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের কারণে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘেরের কারণে গত এক বছরেই অন্তত আটটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ঘেরে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরায় জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীর মাঝখানে বাঁশ পুঁতে এবং গাছের ডালপালাসহ কচুরিপানা ও জাল দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঘের। এর মধ্যে দেয়া হয় প্রচুর পরিমাণে মাছের খাবার। খাবারের খোঁজে মাছ ভেতরে এলে চারদিকে জাল দিয়ে ঘের আটকানো হয়। তারপর সেই মাছ ধরা হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরছেন। অথচ নদীতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাছ ধরা অপরাধ।

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে এভাবে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল, সেই নৌ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে নদীর পানি কমতে শুরু করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর মূল কারণ নদীতে থাকা ঘের।

‘ঘেরের কারণে নদী ছোট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১০-১২ জন যাত্রীসহ আমাদের নৌকাটির সঙ্গে তিতাস নদীতে অন্য একটি নৌকার সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই নৌকাটি ডুবতে শুরু করে। পরে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকা আমাদের উদ্ধার করে।’

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস নদী দিয়ে প্রতিদিন অরুয়াই বাজারে যাত্রীদের আনা-নেয়া করেন বাছির মিয়া। তিনি বলেন, ‘নদীতে ভাই অনেক ঘের। এইডিরে না হরাইলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা হইব।

‘কতলা স্বার্থপর বেডাইত আছে, এইডি করে। আপনেরা মিললা এইডি সরান। বিশেষ করে রাতের বেলায় ও শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌকা ঘেরের মধ্যে উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’

ঘেরের কারণে সাধারণ জেলেরা নদীতে আর আগের মতো মাছ পান না বলেও অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জেলে হিরণ মিয়া বলেন, ‘আমরা যারা নৌকা দিয়া মাছ ধরি, তাগো অনেক সময় খালি হাতেই বাড়িত যাওন লাগে। ঘেরের কারণে নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

‘নদীতে ঠিকমতো নামতেও পারি না। যেখানে-সেখানে ঝোপ তৈরি করার ফলে নৌকাও চালানো যায় না। আবার ঘেরের আশপাশে মাছ ধরতেও দেয়া হয় না।’

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ঘেরগুলোর কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে। কর্মকর্তারা জানান, ঘেরে ছোট ছিদ্রযুক্ত জাল ব্যবহার করায় মা ও পোনাসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

আবার পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ক্রমে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদী দখল ও পলি জমে ভরাট হওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি এসব ঘের নদীর নাব্যতা সংকটের অন্যতম কারণ।

সরাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুন জাহান বলেন, ‘আমরা নদী থেকে ঘেরগুলো উঠানোর চেষ্টা করছি। কিছু ঘের উঠিয়েছি। যারা আমাদের কথা শুনবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নদীতে ঘের বা ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার নিষেধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে নদী নাব্যতা হারায় এবং মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাসচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত

বাসচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত

বগুড়ায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হয়েছেন।

মির্জাপুর ইউনিয়নের রানীরহাট মোড়ে বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরপুর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ বানীউল ইসলাম।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনোহাতির শাবক

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনোহাতির শাবক

মায়ের সঙ্গে ছয় দিন আগে জন্ম নেয়া হাতি। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুনোহাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছেন।’

শীতের ভোরে হালকা কুয়াশার মাঝে ছোট্ট শাবককে নিয়ে ঘুরছে মা হাতি। কদিন আগেই জন্ম নিয়েছে এই শাবক।

তবে জঙ্গলে নয়, এই শাবকের জন্ম হয়েছে লোকালয়ে। বন কর্মকর্তা বলছেন, লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে রাডার অফিসের সামনে এলাকায় গত বৃহস্পতিবার হাতিটির জন্ম। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে শনিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম জাহিদ জানান, মঙ্গলবার ভোরে মা হাতি তার শাবক নিয়ে রাডার অফিস ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঘুরছিল। দুজনের চলাফেরাই বেশ শান্ত ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি হাতি ছিল।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বনকর্মীরা হাতিকে বাচ্চা প্রসব করতে দেখেন। তবে স্থানীয়রা বিরক্ত করতে পারে ভেবে প্রকাশ করা হয়নি।

‘বুনোহাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছেন।’

তিনি জানান, সম্প্রতি বন্য হাতির দল চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংরক্ষিত বন ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে বিলের ফসলসংলগ্ন এলাকায় তারা ঘোরাফেরা করছে। স্থানীয়দের বাধায় এরা অনেক সময় জনবসতিতেও হামলা করছে। পাল্টা আক্রমণে মারাও পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ও হাতি বিশেষজ্ঞ ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার বলেন, ‘লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা। সম্ভবত জঙ্গলে যাওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব হয়ে গেছে।’

বন বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় ও জঙ্গল কেটে বসতি নষ্ট করায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির খাবার জোগান দিতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। হাতি নিয়ন্ত্রণেও বন বিভাগ কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তবে নৌকার প্রার্থী বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথাই বলেননি।

নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে ২১ জানুয়ারি উঠান বৈঠক করেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার দেয়া বক্তব্য পর দিন ‘সত্যের সন্ধান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট হয়।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে জয় বাংলা বলবেন, আর কাজ করবেন নৌকার বিরুদ্ধে, আমি লালু, ভুলু ও শাকিলকে বলে দিতে চাই- আগামীকালের পর এলাকায় থাইকেন না।’

যাদেরকে এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের একজন শাকিল রেজা। তিনি নারান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক গত নির্বাচনে যখন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন তখন আমি, লালু আর কালু দিনরাত পরিশ্রম করে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অসহায়দের কাছ থেকে ঘর দেবেন বলে টাকা পয়সা নিয়েছেন।

‘আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ করেছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে আমরা তার সঙ্গে নাই। আর এজন্যই তিনি গ্রামে এসে আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুছলেহ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে ঘুরে নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তার কোনো জনসমর্থন নাই। নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের এমন হীন তৎপরতায় জড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শফিক প্রতিনিয়ত আমার কর্মী সমর্থকদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য আমি দেইনি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা এখনো নিজেদের এলাকায় অবস্থান করছেন। আমি বলেছি আপনারা আওয়ামী লীগ করবেন আবার দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটা ঠিক না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা আমার কাছে নয় দেবেন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএমে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

স্কুলের মাঠে চলছে নির্মাণ কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে। টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

বরগুনার বেতাগীতে টেন্ডারের শিডিউল বিক্রির আগেই কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার।

অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ওই কাজটি পছন্দের ঠিকাদারের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই ঠিকাদার কাজও শুরু করেছেন। গত ১৫ দিন ধরে চলছে এ সব কাজ।

দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা।

বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এলজিইডি বেগাতী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিবিচিনি ইউনিয়নের বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও স্কুলের ভেতরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইডি বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।

ওই দুইটি প্যাকেজের শিডিউল বিক্রির শেষ সময় উল্লেখ করা হয় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৫টা। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১টা।

ই-টেন্ডার পদ্ধতি হওয়ায় সারাদেশ থেকেই অনলাইনে টেন্ডার শিডিউল ক্রয় ও জমা দেয়ার কথা। সেই হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্ত দরপত্র বিক্রির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাকির হোসেন নামের একজন ঠিকাদার গত ১৯ জানুয়ারি ওই স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র আহবান করার পর এতে অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনৈতিকভাবে কাজটি বন্টন করা হয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্রে অংশণে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে কাজটির ঠিকাদার নির্বাচিত হলে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো বলে মনে করেন তারা।

মঙ্গলবার বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কুলের চারপাশে কলাম ঢালাই এবং মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখানে ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার জাকির এই কাজ করছেন।

নিউজবাংলাকে প্রতিষ্ঠানটির (ব্রিট সেন্টার) ইনচার্জ মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এরপর রাস্তার কাজ শুরু হবে।’

গত ১৫ দিন আগে এই কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজের টেন্ডার এখনও সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মো. জাকির বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজ করতে বলেছে, তাই আমি কাজ করছি। আমি নিজেও দরপত্র ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে যে কাজ পাবে তার সাথে সমন্বয় করে নিব।’

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না।’

ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

নিউজবাংলাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এসকে আরিফুল ইসলাম বলেন ‘এই কাজটি আমার দপ্তরের না। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক রিনা ও আরজিনা। ছবি: নিউজবাংলা

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বরিশাল নগরীতে সাবেক এক নারী কাউন্সিলরের ব্যাগ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারী ছিনতাইকারীকে আটক করেছে সাধারণ মানুষ। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার দুপুরে নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় ওই ছিনতাই ও আটকের ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে ছিনতাই করা ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক হওয়া রিনা ও আরজিনা বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় রহমতপুর রামপট্টি এলাকার বেদেপল্লিতে বাস করেন বলে জানিয়েছেন।

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক হলে তিনি তাদের পিছু নেয়ার কারণ জানতে চান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দেখেন তার বহন করা ব্যাগের চেইন খোলা এবং সেখানে রাখা ৫০ হাজার টাকাও নেই।

এ অবস্থায় সন্দেহজনক ওই দুই নারী রিনা ও আরজিনাকে ধরে ফেলেন পলি। পরে তাদের একজনের ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ রিনা ও আরজিনাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার সাবেক নারী কাউন্সিলর বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুল করিম জানান, দুই নারীকে থানায় রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নৌপুলিশের এসআই ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পাশাপাশি ভাসমান নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

সদর উপজেলার নবীগঞ্জ গুদারাঘাটের পশ্চিম পাশ থেকে বুধবার দুপুরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যায় এক নারী ও যুবকের মরদেহ পাশাপাশি ভাসতে দেখে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নৌপুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর। দুজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

হাসপাতালে গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

‘অটোত করি টেনের (ট্রেন) লাইন পার হবার ধরছিল। টেন হুসেল দেয় নাই, আর শীতোত কিছু দেখা যায় নাই, তখন মারি দিচে। দৌড়ি যায়া দেখি তিন জন পড়ি আছে। ও আল্লাহ এ্যালা হামার কী হইবে...’

নীলফামারীতে বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলাম আপনসহ তিনজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে গুরুতর আহত আপনের স্ত্রী পারুল বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন।

নিউজবাংলাকে পারুল আরও বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গুরুতর আহত অটোর যাত্রী নাজনীন আক্তার ও কুলছুমা বেগম ১৮ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। আর অহিদুল ইসলাম ভর্তি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এর মধ্যে নাজনীনের অবস্থা গুরুতর। আর অহিদুলের ডান পা প্রায় বিচ্ছিন্ন।

কুলছুমার বাবা সায়েদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমরা অটোত করি দৈনিক নীলফামারীর ইপিজেটোত কাজোত যাইত। আইজো সকালে খায়া দায়া বের হইচে, একনা পড়ে শুনে এই ঘটনা।’

নাজনীনের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই গেটোত ঘুণ্টি নাই, ঘরো নাই। শুনচি আগোত আচলো, অন্তপক্ষ ৫০ বচর ধরি দেখি ঘুণ্টি নাই। ঘুণ্টি থাকলে কী এত বড় ঘটনো ঘটে। এইলা দায় কাই নিবে, হামাকে পোহা নাগবে।

‘আর টেন যে আসিল তো হুসেল দিবের নয়, তা তো দেয় নাই, যত শীত থাক, হুসেল কী শীতোত আটকে? হুসেল দিলে সবাই দাঁড়াইলে হয়।’

সৈয়দপুর-চিলাহাটী রেলপথের দারোয়ানিতে বুধবার সকালে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নারীর মারা যান।

নিউজবাংলাকে রংপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা ভালো আছেন।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী
নদী দখলদার ৬৫ হাজার, উচ্ছেদে ডিসিদের অনুরোধ
তীর রক্ষার ব্লকে মরছে বলেশ্বর
জাহাজের ঢেউয়ে গ্রাম বিলীনের শঙ্কা
৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

শেয়ার করুন