হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

player
হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অলকা রানি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের খালবলা গ্রামের অলকা রানি। বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র বানানোর কাজ করেন তিনি৷

তার স্বামী কুমার স্বপন চন্দ্র পালসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন নারী এ কাজ করেই সংসার চালান। তবে কয়েক বছর ধরে মৃৎশিল্পের কাজ করে তিন বেলা খাবার জোগাতে পারছেন না তারা।

মাটির তৈজসপত্রের বাজার এখন অনেকটাই দখলে কাঁচ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের সামগ্রীতে। টেকসই, দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারা মাটির তৈজসপণ্যের বদলে ওই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

এতে মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানানোর সময় কথা হয় অলকা রানির সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় আমাদের তৈরি মাটির তৈজসপত্র কিনতে বাড়িতে ভিড় জমাতেন লোকজন। কোথাও মেলা হলে এসব তৈজসপত্র বাড়ি থেকে কিনে বিক্রি করা হতো। ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এসব মাটির জিনিস কিনে ব্যবহার করতেন।

‘তবে বর্তমানে মাটির জিনিস কেনার ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই আমরাও এ পেশা ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

কুমার স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল, ডাবর-মটকি থেকে শুরু করে মাটির ব্যাংক, শো-পিস, গয়না, কলস, ফুলের টব, ফুলদানি, ঢাকনা, পিঠা তৈরির ছাঁচ এবং নানা রকম খেলনা তৈরি করছি নিয়মিত।

‘শহরবাসীর দালান-কোঠা সাজাতে মাটির তৈরি নানা পট-পটারি, ফুলদানি ও বাহারি মাটির হাঁড়ির কদর রয়েছে এখনও। সেগুলো বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। এগুলোতেও প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যবহার হলে অন্য পেশায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবার বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র তৈরি করছে। আগ্রহ আর মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতেই অন্য পেশায় যাইনি।

‘তবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ কাজে আগ্রহী না। তারা পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করতে ইচ্ছুক। এতে বোঝা যায়, মাটির তৈজসপত্র বানানো ধীরে ধীরে এক দিন বন্ধ হয়ে যাবে।’

আঠারোবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একটা সময় মাটির তৈরি বাসন ছাড়া বাঙালি পরিবারগুলোর দিন চলত না।

‘মেজবান অনুষ্ঠানেও খাবার পরিবেশন হতো মাটির তৈরি বাসনে। এখন আর এমন চাহিদা না থাকায় এই মৃৎশিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শুধু আমাদের ইউনিয়নেই মাটির তৈজসপত্র বানানো হয়। আগে এই পেশার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকলেও এখন কয়েকজন জড়িত। এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করব৷ তবে উপজেলা প্রশাসনেরও উচিত মৃৎশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা করা।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও লোকজন কাঁধে করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করতেন। এখন আর সচরাচর তা চোখে পড়ে না।

‘মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এই শিল্পটা বাঁচিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

রংপুর থেকে আগাম জাতের গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুরে মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন কৃষকরা। এ হিসেবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় দশ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুরে। আগাম জাতের এই গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানিও শুরু হয়েছে। এরপরও লোকসানের মুখে ওই অঞ্চলের কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠে না আসার শঙ্কায় তারা।

চাষিরা জানান, গ্রানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করে বিগত বছরগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন তারা।

এই হিসেবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় দশ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের সূত্র মতে, ওই অঞ্চলে এবার আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। সেই আলু আরও ২০ দিন আগ থেকেই তুলছেন চাষিরা। ঢাকা, চট্রগ্রামের রপ্তানীকারকরাও আলু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

মুন্সিগঞ্জের ওয়াদুদ ট্রেডার্সের কর্ণধার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই অঞ্চলের আলুর মান ভালো। আমরা আশাবাদি এই আলু নিয়ে। রংপুরের আগাম আলু তাই চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলু ক্রয় করে তা মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবো।’

ওয়াদুদ ট্রেডার্সের পক্ষে রংপুরের ভুড়ারঘাট এলাকায় আলু কিনছেন হাসান আলী। তিনি জানান, ১৪ টনের ২০০টি ট্রাক চট্রগ্রাম বন্দরে পাঠাতে হবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে।

হাসান বলেন, ‘সরাসরি জমি থেকে আমরা আলু কিনছি। আলুর সাইজ সর্বনিম্ম ৭০ গ্রাম। সাড়ে চার টাকা কেজি দরে কিনে দুই কেজির প্যাকেট করে পাঁচটি প্যাকেট একসঙ্গে করা হচ্ছে। এজন্য ১৭ নারী আর ১২ জন পুরুষ শ্রমিক মোকামে কাজ করছেন।’

রংপুর সদরের ভুরাড়ঘাট এলাকার আলু চাষি হাশেম আলী জানান, স্থানীয় হিসেবে ২৫ শতকে এক দোন জমি। এই পরিমাণ জমি ভাড়া নিয়ে আলু আবাদ করতে কম হলেও ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমানে তাদেরকে এক দোন জমির আলু মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই। ইম্পোর্টাররা এসে বড় আলুটা নিয়ে যাচ্ছে। তাই ছোট আলুগুলোকে আরও কম দামে আলাদা বিক্রি করতে হবে।’

একই এলাকার জাহাঙ্গির আলম বিটুল বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছি। এটা পোষানোর জন্য হয়তো জমি বন্ধক রাখতে হবে। নয়তো গরু ছাগল বিক্রি করা লাগবে। না হলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধার শোধ করা লাগবে। ঋণ করে আলু চাষ করছি। আবার ঋণ করেই শোধ করতে হবে।’

রংপুরের দর্শনা মাঞ্জাই এলাকার আহাম্মদ আলী জানান, এক দোন জমিতে রোপনের সময় আলু লাগে ১৬০ কেজি। আর তিন প্রকারের ৬ বস্তা সার ছাড়াও কিটনাশক লাগে ৫/৬ ধরনের।

তিনি বলেন, ‘এবার তো সব জিনসের দাম বেশি। আমরা খুব কষ্ট করে আলু চাষ করছি। আলু ভালো হইছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমরা পথে বসতে চাই না। বিদেশোত আলু বেশি করে পাঠাক, দাম যেন বেশি হয়। তাহলে কিছু লাভবান হতে পারবো।’

রংপুরের মাহিগঞ্জ সরেয়ারতল এলাকার আলু চাষি রোস্তম আলী জানান, গত বছর ৩ একর জমিতে আলু চাষ করে তার ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তারপরও এবার আলু চাষ করেছেন তিনি।

রোস্তম বলেন, ‘গত বছর এই সময়- যে আলুর দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা কেজি। সেই আলু এখন সাড়ে চার থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউই পুঁজি উঠিয়ে আনতে পারবে না।’

দাম কম কেন

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা, রপ্তানিযোগ্য ও শিল্পনির্ভর জাত উদ্ভাবন না করা, গুনগত মান পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকা, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে রপ্তানি না হওয়ার জন্যই আলুর দাম কম।

এ ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাষিদের পরিকল্পনাহীনভাবে আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব থাকায়ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।

রংপুর কৃষি বিপণন অফিস এবং কৃষি অফিসে ওই অঞ্চলের পাঁচ জেলায় (রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নলিফামারী) আলুর চাহিদা কত মেট্রিকটন তার সঠিক হিসেব নেই।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহবুবার রহমান বলেন, ‘গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সব ঠিকঠাক থাকলে এবারও উৎপাদনে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে- গত বছরে আলু এখনও বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এর মাঝেই নতুন আলু আসায় এর দাম কম। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দিনে দিনে কদর এবং এর দাম কমে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়ায় আলু রপ্তানি হলেও করোনার সময় তা সম্ভব হয়নি। এবার এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করতে রংপুরের আলু কেনা হচ্ছে।

বিপণন বিভাগের বক্তব্য

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুর আঞ্চলে। অথচ আলুর বিক্রি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ছক নেই এই অঞ্চলের বিপণন কেন্দ্রের।

কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট আমাদের এখানে না থাকায় বিদেশে কী পরিমাণ আলু রপ্তানি হবে সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। আছে কেন্দ্রের কাছে। তবে, আলু সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণের জন্য কাজ করছি।’

তিনি জানান, সংরক্ষণের জন্য হাতে নেয়া একটি প্রকল্প এখন চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। এটি চালু হলে আলু চাষিরা ভরা মৌসুমে মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে ভরা মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি করতে হবে না। সময় নিয়ে দাম দেখে কৃষকরা বিক্রি করবেন।

চেম্বারের প্রস্তাব

রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডস্ট্রিজের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার টিটু বলেন, ‘ধানের পরই আলুর আবাদ হচ্ছে রংপুরে। ৯৫টি হিমাগার রয়েছে বিভাগে। এরপরও জায়গা সংকুলান হয় না। এজন্য আলু উৎপাদন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তাদের ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে।’

এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানির জন্য দ্রুত পরীক্ষণ ল্যাবও দরকার বলে মনে করেন তিনি। কারণ গুনগত মান ঠিক থাকলে বিদেশে আরও বেশি আলু রপ্তানি হবে। দাম পাবেন চাষিরাও।

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক ঘর

আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক ঘর

পুড়ছে এক গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন। তবে আগুনের সূত্রপাত জানাতে পারেননি এই ফায়ার কর্মকর্তা। নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি গ্রামে আগুনে পুড়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১০-১২টি বসতবাড়ি।

সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পটুয়া পাইকপাড়া গ্রামে বুধবার রাত ১১টার দিকে আগুন লাগে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন। তবে আগুনের সূত্রপাত জানাতে পারেননি এই ফায়ার কর্মকর্তা। নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবেশী শাহাদাতের ঘরে বৈদ্যুতিক তারে আগুন লাগে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরগুলোতে। আমরা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর আগেই পুড়ে যায় ১৩ পরিবারের অন্তত ৫০টি ঘর।’

প্রত্যক্ষদর্শী শামসুল বলেন, ‘আগুনে যাদের ঘর পুড়েছে, সবাই দিনমজুর। কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। সব ছাই হয়ে গেছে। কয়েকটা গবাদী পশু দগ্ধ হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মোহম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। সেখানে রাতেই ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব। আগুনের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: পিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ   

মিতু হত্যা: পিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ   

চট্টগ্রাম আদালতে মিতু হত্যার প্রধান আসামি সাবেক এসপি বাবুল আকতার। ফাইল ছবি

বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবুলের করা মামলা তদন্তের দায়িত্বে পিবিআইকেই রেখেছে আদালত। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সিআইডিকে তদন্তভার দেয়ার আবেদন করেছিলাম। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেয়।’

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার তদন্তে থাকছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্য সংস্থাকে মামলাটি তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবদুল হালিম বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবুলের করা মামলা তদন্তের দায়িত্বে পিবিআইকে রেখেছে আদালত। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সিআইডিকে তদন্তভার দেয়ার আবেদন করেছিলাম। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেয়।’

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

তবে কিছু দিনের মধ্যে বদলে যেতে থাকে এই চিত্র। মিতু হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ২০১৬ সালের ২৪ জুন খিলগাঁওয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আকতারকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরেই ছড়িয়ে পড়ে, বাবুলকে পুলিশ বাহিনী থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

এর দেড় মাস পর বাবুল আকতার ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর মিতুর বাবা-মাও তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ ছিল প্রায় নিশ্চুপ। এরপর আদালতের নির্দেশনায় গত বছর এ মামলার দায়িত্ব ডিবির কাছ থেকে বুঝে নেয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রায় দেড় বছরের চেষ্টায় নতুন ক্লু পেয়ে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় পিবিআই। ২০২১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাবুলকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করেন তিনি। এই মামলাতেই গত ১১ মে বাবুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পিকআপ ভ্যানচাপায় মোটরসাইকেলে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরেক আরোহী।

উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা হয়।

নিহতরা হলেন ১৯ বছরের অন্তর মিয়া ও ২০ বছরের রবিউল ইসলাম। তাদের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নে। আহত ২০ বছরের আনন্দর বাড়িও সেখানে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে অন্তর, রবিউল ও আনন্দ হবিগঞ্চের মাধবপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই অন্তর ও রবিউল নিহত হন। আনন্দকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বুধবার দুপুরে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ জন।

বাউশিয়া শান্তিনগর এলাকায় দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের দলনায়ক আনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, ভবেরচর থেকে বাউশিয়া পাখির মোর এলাকায় যাচ্ছিল মিনিবাসটি। সে সময় আনোয়ার সিমেন্টবোঝাই লরি ধাক্কা দিলে এটি খাদে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা গিয়ে সেখান থেকে জিন্নাহার আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

আহত ১১ জনকে পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

এর আগে সকালে নীলফামারীর ডোমারে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেছে ৫ বছরের শিশু সায়মা আক্তারের।

উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা চৌপতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটি বাবার সঙ্গে বাড়ির কাছেই একটি দোকানে যায়। সে সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সায়মা ছিটকে পড়ে যায়।

তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে দুই দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সকালে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি বাজার থেকে ডিজেল কিনে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বিজয়নগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম। সে সময় ঝিনাইদহ থেকে আসা ট্রাক তাকে চাপা দেয়। সদর হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

একই সড়কের সাতমাইল বাজারে বাস ও গরুবোঝোই নসিমনের সংঘর্ষে মেহেরপুর জেলার সদর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার নিহত হয়েছে।

এছাড়া বুধবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় খাগড়ছড়িতে বাবা-ছেলে ও হবিগঞ্জে ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

প্রধান শিক্ষকের ‘যৌন হয়রানি’তে স্কুলে যাওয়া বন্ধ

প্রধান শিক্ষকের ‘যৌন হয়রানি’তে স্কুলে যাওয়া বন্ধ

প্রধান শিক্ষক ননী গোপালের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে স্কুলে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী দু-তিন দিন ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। মা তাকে মেরেও স্কুলে পাঠাতে পারেননি। পরে জানতে পারেন না যাওয়ার কারণ।

ওই মেয়েটির মা নিউজবাংলাকে বলেন, “আমার মাইয়া ইশকুলে যায় না। দু-তিন দিন ধইরা যায় না। না যাওনে আমি হেরে (তাকে) মারছি। তাও স্বীকার যায় না। আমার ভাগ্নি আইসা কইছে, ‘কী যাইবে? এরম এরম চলতে আছে। ওই আপনারে লজ্জায় কয় না।’ আমরা তার বিচার চাই।”

এমন অভিযোগ শুধু একজন ছাত্রীর নয়। ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

লিখিত অভিযোগের পর চেয়ারম্যান বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন ও স্কুলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এমন অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশাকে ফোন দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কল কেটে দেন। আর ধরেননি।

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার থেকে পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

একজন অভিযোগে জানান, এর আগে ওই শিক্ষক যে স্কুলে ছিলেন সেখানে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয়দের কাছে মার খেয়েছেন। ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তিনি এখানে বদলি হয়ে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষক ননী গোপালকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ছাত্রকে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) দুই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বুধবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এই দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, সিনিয়র অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, অধ্যাপক ড. কবির হোসেন, অধ্যাপক আমেনা পারভীন, অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, অধ্যাপক ড. হিমাদ্রি শেখর রায়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের কাছে জানতে চান, তাদের দাবির সঙ্গে একমত কি না। এর উত্তর দেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক জোড় হাত করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন অনশন ছেড়ে যাওয়ার। জবাবে একই কায়দায় তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানানোর অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনড় দেখে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন

স্টেশন উদ্বোধনে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে আগুন

স্টেশন উদ্বোধনে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে আগুন

নতুন স্টেশনের নিচে ফায়ার সার্ভিসের পুড়ে যাওয়া গাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার।

বরগুনার তালতলীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি পুড়ে গেছে।

উপজেলার নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবনের নিচে বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস তালতলী স্টেশন জানায়, গত মাসের শেষ দিকে তালতলীর ওই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

সেটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিতে বিকেলে আমতলী থেকে পানিবাহী তিনটি গাড়ি নিয়ে সেখানে যান ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। ওই স্টেশনে গাড়িটি ঢোকামাত্রই এতে আগুন লেগে যায়।

অল্প সময়েই সেটি নিভিয়ে ফেলা হয়। তবে পুড়ে যায় গাড়ির পেছনের অংশ ও সেখানে রাখা সরঞ্জাম।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন বরগুনার উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, ‘ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন:
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

শেয়ার করুন