বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

player
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা ভুল ছিল জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর মেয়র আব্বাস আলী।

ফেসবুকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি তার ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চান। লাইভে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে ছড়ানো অডিওটা একটি ঘরোয়া আড্ডার। সেখানে আমি গল্পে কিছু কথা বলেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ম্যুরালের বিরোধিতা করিনি... এটি আমি ভুল করে থাকতে পারি। মানুষই তো ভুল করে। এ জন্য আমি ক্ষমা চাই, কিন্তু আমাকে এ জন্য যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।’

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

এটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার দিনভর রাজশাহী নগরীতে চলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশ।

ওই অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে লাইভে আব্বাস বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে বলার আছে। কাটাখালীতে দুটি গেট করার জন্য আমি ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। সবার মতামত চেয়েছিলাম। এখানে যে বিচ্যুতিটা আমার ঘটেছে, যে জিনিসটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি একটা মানুষ, একটা দল করি, কিন্তু আমি মুসলমান। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে।

‘ম্যুরালের বক্তব্যটা নিয়ে যে কথা আসছে, ওই মাদ্রাসার যে বড় হুজুর, মাঝেমধ্যেই জানাজা বা অনুষ্ঠানের কারণে আমার যাওয়া হয়...মানুষটা বড় হুজুর, জামাল উদ্দিন মাহমুদ সন্দিপি... আমি মাদ্রাসায় বসেছি, কথা তুলতে তুলতে ভিডিওটা তো দেখলাম, ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো চেঞ্জ আনা যায় না? কী সমস্যা? উনি ব্যাখা দিলেন। বোঝালেন। আমি শুনেছি। আমি তো মানুষ, আমি তো একটা মুসলমান। আল্লার কথায় আসলে কে না দুর্বল হয়। আমিও একটু দুর্বল হলাম। আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। বলেছি, আমি ম্যুরালটা করলে ইসলামে ঠিক হবে না। এটা পাপ হবে। আড্ডার মধ্যে অনেক গল্পই তো করে। আমিও হয়তো করেছি। হয়তো ভুল করেছি, কত বড় ভুল করেছি?’

আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও ভাইরালের জেরে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে বাধ্য করা হয়। তার কাটাখালীর দোকানে হামলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন।

আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা ক ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

লাইভে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘... যদি আমি মনে করেন, বড় অন্যায় করেছি, আমার পাশে দাঁড়ানোর দরকার নাই। যদি অন্যায় না হয় আমার পাশে দাঁড়ান, অনেক সহযোগিতা চাই। আমার অসহায় মাকে দেখতে দিন। কয়দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। চার মাসের বাচ্চার কাছে যেতে চাই। আমার পাশে একটু দাঁড়ান প্লিজ। আল্লার ওয়াস্তে দাঁড়ান।

‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

ভাইরাল ওই অডিও রেকর্ডের জেরে মেয়র আব্বাসের নামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বুধবার দুপুরে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে না, জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে, প্রশ্ন চুন্নুর

লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে, প্রশ্ন চুন্নুর

বুধবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী অথবা বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকলে এর উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস জনগণকে জানাতে হবে। আর সরকারিভাবে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকলে সরকারকেই বলতে হবে কেন এবং কিভাবে টাকা দেয়া হলো।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘মানুষ জানতে চায় বিদেশে লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে।

বুধবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি সরকারিভাবে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে তাহলে সরকারকেই বলতে হবে কেন এবং কিভাবে টাকা দেয়া হলো। আর আওয়ামী লীগ যদি দলীয়ভাবে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে তা হলেও বলতে হবে এই টাকার উৎস কী এবং এই টাকা বৈধ না অবৈধ।

‘বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করলেও প্রকাশ করতে হবে কী উদ্দেশ্যে তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে এবং এতো টাকা তারা কোথায় পেয়েছে। দেশের মানুষ জানতে চায় বিদেশে লবিস্ট নিয়োগে কারা এবং কত টাকা পাচার করেছে।’

চুন্নু আরো বলেন, ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন আর কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অতি উৎসাহে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর বিরক্ত। আবার বিএনপির বক্তব্যেও এটা স্পষ্ট নয় যে তারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করবে। দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখছে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতে জাতীয় পার্টিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়। তাই জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন: কাদের

সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছেন। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন; আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করেন।’

সংবিধান মেনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছেন। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন; আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করেন।

‘একদিকে তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চালান। অন্যদিকে তাদের কেউ কেউ নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলার দরকার নেই এবং নির্বাচন কমিশন কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে মন্তব্য করে। আসলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।‘

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকারের অধীনে হবে তা সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে। আমরা বার বার বলে আসছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের উচ্চ আদালত কতৃক একটি মীমাংসিত ইস্যু।

‘আমরা মনে করি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনা সরকারের যে উদ্যোগ বিএনপি নেতৃবৃন্দ সে উদ্যোগে মূল্যবান মতামত দিতে পারেন।’

বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না। পাতানো রাজনৈতিক খেলা বিএনপির সংস্কৃতি।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যারা করেছিল, দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে যারা গোপনে বিচারপতিদের বয়সসীমা বাড়িয়েছিল- তারাই পাতানো খেলা আর গোপন ষড়যন্ত্রের কারিগর।’

বর্তমান সংসদ অবৈধ- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা কথায় কথায় ২০১৮ সালের নির্বাচন ও একদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

‘একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবাচন কমিশনে নিবন্ধিত স্থানীয় ১১৮টি সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা অনুমতিপ্রাপ্ত ছিল। সংসদে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও আছেন। তাহলে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কিভাবে নির্বাচিত হলেন? সংসদ অবৈধ হলে তাদের সংসদ সদস্যরা কিভাবে সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদিন সংসদে বক্তব্য রাখছেন?’

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

‘আওয়ামী লীগে জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে’

‘আওয়ামী লীগে জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে’

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘এ দেশের প্রতিটি নাগরিক শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুবিধাভোগী l উন্নয়নের কথা প্রচার করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি সমালোচকদের বলব, আপনারা গ্রামে গিয়ে দেখে আসেন, কেন আওয়ামী লীগ ভোট পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ মানুষের সমর্থন দিন দিন বাড়ছে।’

আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ মানুষের সমর্থন দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

মঙ্গলবার তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. সেলিম।

তিনি বলেন, ‘দেশকে একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যার সব অবদান সবাইকে জানাতে হবে। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা সাংগঠনিক সফরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যান, তাদের জন্য তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির পক্ষ থেকে আমরা শেখ হাসিনার নানা উন্নয়ন ও অবদানের তথ্যসংবলিত খসড়া প্রস্তুত করছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই প্রচার চালালে হবে না, এ দেশের প্রতিটি নাগরিক শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুবিধাভোগী l উন্নয়নের কথা প্রচার করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি সমালোচকদের বলব, আপনারা গ্রামে গিয়ে দেখে আসেন, কেন আওয়ামী লীগ ভোট পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ মানুষের সমর্থন দিন দিন বাড়ছে।

‘এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য, কৃষক-শ্রমিকের জন্য শেখ হাসিনা যা করেছেন, সে কথা আমরা সবাই জানি। যাদের জমি-ঘর কিছুই ছিল না, সরকার তাদের ঘর, ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ফ্যান সব দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আজ দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। সব অর্জন ষড়যন্ত্রকারীরা নস্যাৎ করতে চায়। দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্রের কথা মানুষকে জানাতে হবে।’

সভায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি ইতিমধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আরও নতুন নতুন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপকমিটির সদস্য ড. শামসুর রহমান, ড. জাহানারা আরজু, ব্যারিস্টার সৌমিত্র সর্দার, নাজমুল তুহিন, আরিফুল ইসলাম টিপু, মোয়াজ্জেম হোসেন কাওসার, নুরুল ইসলাম মজুমদার, মনিরুজ্জামান শেখ, আবুল ফজল রাজু, রুবাইয়াৎ রাকিব, সিতুল মুনা, আরিফুল ইসলাম টিপু, দিলরুবা ইয়াসমিন, আবু সায়ীদ খান, ড. শবনম জাহান, অ্যাডভোকেট শওকত আলী পাটোয়ারী ও ফাহিম শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

আ.লীগের লবিস্ট নিয়োগের ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আ.লীগের লবিস্ট নিয়োগের ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছিল যাতে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি না হয়। তখন আওয়ামী লীগ ভুল পারসেপশানটা (ধারণাটা) চেঞ্জ (পরিবর্তন) করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে। আমরা এটাকে বলি পিআর ফার্ম, নট লবিস্ট।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গুড গভর্নেন্স ও দেশের ইতিবাচক ইমেজ তুলে ধরতে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

অন্যদিকে বিএনপি দেশের ক্ষতি করার জন্য বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘মানবিক নীতি: এখানে এবং এখন প্রদর্শনীর’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মোমেন বলেন, ‘লবিস্ট নিয়োগ করা আইনবিরোধী না। কিন্তু দেখতে হবে কী কারণে লবিস্ট নিয়োগ, উদ্দেশ্য কী? যখন কেউ টাকা দেয় একটা লোককে কিডন্যাপ করার জন্য, তখন কিন্তু ওই অবজেকটিভটা ঠিক না। কিংবা যখন দেশের ক্ষতির জন্য অনেকে পয়সা দেয়, তদবির করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে, সেটা খুবই অন্যায়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা দেশকে কোনো ধরনের সাহায্য করবে না। আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য আছে বিএনপি যে কয়টা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্যটা দেশের ক্ষতি। আপনার-আমার মধ্যে ঝগড়া থাকতে পারে, কিন্তু আপনার ও আমার ঝগড়া দেশের স্বার্থ কিনা সেটা দেখতে হবে। যদি সেটা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে হয়, সেটা দুঃখজনক।’

আওয়ামী লীগ কেন বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে তার ব্যাখ্যা দেন মোমেন। তবে তার ভাষায়, এটাকে সরকার পিআর ফার্ম হিসেবে দেখে, লবিস্ট নয়।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গুড গভর্নেন্সের জন্য ও দেশের ইতিবাচক ইমেজ তুলে ধরার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছিল যাতে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি না হয়। তখন আওয়ামী লীগ ভুল পারসেপশানটা (ধারণাটা) চেঞ্জ (পরিবর্তন) করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে। আমরা এটাকে বলি পিআর ফার্ম, নট লবিস্ট।’

বাংলাদেশে লবিস্ট নিয়োগের প্রথা এরশাদের আমল থেকে চালু হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মোমেন বলেন, ‘এগুলো অনেকদিন ধরেই আছে, নতুন নয়। এরশাদের সময় থেকেই এগুলো প্রচলিত আছে। আপনি অন্য লোককে নিয়োগ করছেন দেশের ক্ষতি করার জন্য, কাউকে মেরে ফেলার জন্য, কিডন্যাপ করার জন্য। এগুলো দেশবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

আট বছর ধরে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ প্রমাণের কথা বলা হচ্ছে। তাহলে এতদিন সরকারের কাছে এমন তথ্য ছিল নাকি তথ্য না জানতে পারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা- এমন প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, ‘আপনারা আগে জানলেন না কেন, মিডিয়ার লোকের এটা জানার কথা, এটা আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সবই ওয়েবসাইটের মধ্যে আছে, কোনো কিছু লুকানো না।’

র‌্যাবকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাগুলোর চিঠির কারণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘ যখন লোক নেয় তারা যাচাই-বাছাই করে নেয়। সুতরাং এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি চিন্তিত নয়।’

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, বাংলাদেশে আইসিআরসি প্রতিনিধি দলের প্রধান কাটজা লরেঞ্জ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা জাকের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

বিএনপির লবিস্ট নেই, মিথ্যা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ফখরুল

বিএনপির লবিস্ট নেই, মিথ্যা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ফখরুল

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যকে মিথ্যা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশ এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি সব সময় কাজ করে। বিএনপি কোন দিন লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য মিথ্যা।’

দেশের ক্ষতি করার জন্যই বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের এ বক্তব্যকে মিথ্যা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

দেশের ক্ষতি করতে বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশ এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি সব সময় কাজ করে। বিএনপি কোন দিন লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য মিথ্যা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় সরকারের নৈতিক এখতিয়ার নেই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আইন প্রনয়ণ করার। সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা একমাত্র পথ। গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গোপনীয়তার সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে এই আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতারণা করে আর একটি পাতানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার নীল নকশা মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনও নির্বাচন কমিশনেই অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফল হবে না, যদি না নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের এক তরফা সাজানো ভোটারবিহীন ও মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘বিএনপি মনে করে বর্তমান আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর, সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণ মূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ, এর কোন বিকল্প নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই লক্ষে সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও জনগণের ঐক্য গড়ে তুলে দূর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনয়ন করতে হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের অপসারণ দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রথমে ছাত্রলীগের হামলা ও পরে পুলিশের হামলা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও গুলি বর্ষণের ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং প্রায় ১০ দিনেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। সভায় অবিলম্বে ভাইস চ্যান্সেলরসহ দায়ী সকল সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ছাত্রলীগ ও পুলিশের দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবী করছি।’

সভায় বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

গতকাল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি: কৃষিমন্ত্রী

দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি: কৃষিমন্ত্রী

সচিবালয়ে মঙ্গলবার ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি। জঙ্গিবাদ দমন করতে আহমেদের কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেনের সঙ্গে সাক্ষাতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতকে আমি বলেছি, বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি। জঙ্গিবাদ দমন করতে আহমেদের কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

‘সেখানেও যা কিছু করা হয়েছে তা নিয়মের মধ্যে থেকেই করা হয়েছে। এখানেও মানবাধিকার লংঘনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

গত ডিসেম্বরে র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ওই প্রসঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিশ্বাস করি। এটাই আওয়ামী লীগের মূলনীতি। এর সঙ্গে আমরা কখনোই আপস করিনি। সব সময় আমরা মানবাধিকারে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারে না।

‘জঙ্গিবাদ কঠোরভাবে দমন না করলে আমাদের অনেক চড়া মূল্য দিতে হতো। আমাদের যে অর্থনৈতিক উন্নতি সেটি বাধাগ্রস্থ হতো।’

ডেনিশ রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এ বিষয়টি নিজেদের কমিউনিটিতে জানাবেন। আমাদের সম্বন্ধে একটি ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি শব্দদূষণ: কাদের

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি শব্দদূষণ: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

বিএনপি নেতাদের গণঅভ্যুত্থানের ডাক প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। জনগণ এখন হতাশাগ্রস্ত বিএনপির আন্দোলনের ডাককে শব্দদূষণ মনে করে।’

বিএনপি নেতাদের আন্দোলনের হুমকিকে শব্দদূষণ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে নয়, দলটি এখন নিজেদের রাজনীতিতেই দুর্দিন অতিক্রম করছে।

রাজধানীতে সরকারি বাসভবনে মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় এই শীর্ষ নেতা। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কূটচাল ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির হতাশা আরও ঘনীভুত হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের গণঅভ্যুত্থানের ডাক প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। জনগণ এখন হতাশাগ্রস্ত বিএনপির আন্দোলনের ডাককে শব্দদূষণ মনে করে।

‘বিএনপি ৬৯ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, তা বিএনপি দেখেও দেখে না, বুঝেও বোঝে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতে, বিএনপি এখনও অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা দখল করে জনগণের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো সওয়ার হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগে আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এ বিষয়েও বিএনপি স্বভাবগত সমালোচনা করছে বলে জানালেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘তাদের শাসনামলে তারা কেন এই আইন করতে পারলেন না?

করোনা সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়লে একটি মহল গুজব এবং অপপ্রচার শুরু করে। জনমনে ভীতি সঞ্চার করতে চায়।

আরও পড়ুন:
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শেয়ার করুন