টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

player
টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

বরগুনায় টিকা নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

বরগুনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা জিলা স্কুলের কেন্দ্রে টিকা নেয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রিমু, লিজা, কারিমা, কলিলা, মীম, জুই, মারিয়া, ইলমাসহ ১২ জন পাথরঘাটা সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী। বাকি চারজন একই উপজেলার মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুর ১২টার দিকে টিকা দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

তবে কেউ পদক্ষেপ না নেয়ায় বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে জানান। পরে তার পরামর্শে শিক্ষার্থীদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, টিকা নেয়ার পরপরই তাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীর অসুস্থ বোধ করার পর আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

বেলা আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইজারের টিকা ক্যাম্প চলছে গত দুই দিন ধরে। এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের এ টিকা দেয়ার কার্যক্রম চলছে।

‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ১৪, বিএনপির ৯ কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ১৪, বিএনপির ৯ কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে রোববার। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রোববার দিনভর ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। রাতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জয়ী ২৭ জন সাধারণ ও ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪ প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন না দিলেও সিটি করপোরেশনটির ৯ ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা-সমর্থকরা।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) দুজন, বাসদের একজন ও স্বতন্ত্র একজন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষেরই তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিপুল ব্যবধানে। বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আইভীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ১১ এবং বিএনপির ১২ জন প্রার্থী সিটি করপোরেশনটিতে কাউন্সিলর পদে জয় পেয়েছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ জনই নতুন মুখ।

জয়ীদের তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজা।

রোববার দিনভর ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। রাতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জয়ী ২৭ জন সাধারণ ও ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের নয়টি পদের মধ্যে আটটিতেই বর্তমান কাউন্সিলররা জয়ী হয়েছেন। একটিতে এসেছে নতুন মুখ।

যারা কাউন্সিলর হয়েছেন

নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনোয়ার হোসেন, ২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, ৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের শাহজালাল বাদল নির্বাচিত হয়েছেন। শাহজালাল বাদল বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন নূর হোসেনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা নূর উদ্দিন। তিনি এবার ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর হিসেবে নতুন মুখ।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক সাংসদ জি এম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল ও ৬ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের মতিউর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের রুহুল আমিন মোল্লা, ৯ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ইস্রাফিল প্রধান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের ইফতেখার আলম, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থক অহিদুল ইসলাম, ১২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা শওকত হাসেম, ১৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নির্বাচিত হয়েছেন। খোরশেদ নির্বাচনে পরাজিত তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই।

১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান, ১৫ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বাসদ নেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের রিয়াদ হাসান বিজয়ী হয়েছেন।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের মো. আবদুল করিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিকলীগ নেতা কামরুল হাসান, ১৯ নম্বরে জাপার মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির মোহাম্মদ শাহেনশাহ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র শাহিন মিয়া, ২২ নম্বরে বিএনপির সুলতান আহমেদ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাউসার বিজয়ী হয়েছেন। আবুল কাউসার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালামের ছেলে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর জাপার আফজাল হোসেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির এনায়েত হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মো. সামসুজ্জোহা, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সিরাজুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জয়ী যারা

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাকসুদা মোজাফফর, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ারা বেগম, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোসাম্মৎ আয়শা আক্তার জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মিনোয়ারা বেগম, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে শারমীন হাবিব, ১৬, ১৬ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আফসানা আফরোজ, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শিউলি নওশাদ, ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাওন অংকন এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সানিয়া আক্তার বিজয়ী হয়েছেন।

এবার সানিয়া আক্তার নারী কাউন্সিলর হিসেবে সেখানে নতুন মুখ।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

বন্দরে ট্রাকের ভেতর ভারতীয় নাগরিকের মরদহে

বন্দরে ট্রাকের ভেতর ভারতীয় নাগরিকের মরদহে

ওসি মামুন খান বলেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

বেনাপোল বন্দরে একটি ট্রাকের ভেতরে এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ মিলেছে।

সোমবার সকালে তাকে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় দেখা যায়।

মৃত ওই ব্যক্তির নাম লিনগালা নারসিমহোলা। তিনি ট্রাকের হেলপার।

এ ঘটনায় গাড়ির চালক গুরুগু পোচায়াকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার নিউজবাংলাকে জানান,ভারত থেকে ১১টি ট্রাকে করে গত ১৫ জানুয়ারি বিস্ফোরক আমদানি করা হয়। বিস্ফোরকবাহী ট্রাকের একজন সহকারী লিনগালা। তার বাড়ি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদহে ৩১ নম্বর সেড ট্রাকের ভেতরেই আছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এএসপি জুয়েল ইমরান, বন্দরের উপপরিচালক আব্দুল জলিল ও বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান।

ওসি মামুন খান বলেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

মাইক্রোর ধাক্কায় পথচারী নিহত

মাইক্রোর ধাক্কায় পথচারী নিহত

প্রতীকী ছবি

ওসি জানান, গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি রিয়াজকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. রিয়াজ কক্সবাজারের মীর আহমদের ছেলে।

সোমবার সকালে এ তথ্য জানান দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে নিহত রিয়াজের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ওসি জানান, গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি রিয়াজকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক মানিক দেবনাথ জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণে রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয় পাওয়া মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ছবি: সংগৃহীত

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার পরাজিত হলেও কাউন্সিলর পদে বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

খোরশেদ কাউন্সিলর নামেই এলাকায় এমনকি দেশেও সমধিক পরিচিতি পান মাকসুদুল আলম।

মূলত করোনাভাইরাস মহামারির সময় নারায়ণগঞ্জে ভাইরাসটিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন-সৎকারে একটি দল গড়ে তোলেন খোরশেদ।

তার নেতৃত্বে দলটি করোনায় মৃতদের দাফন-সৎকার করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেন। তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই।

রোববারের নির্বাচনে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে ১২ হাজার ৭৭০ ভোট বেশি পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। তার ভোটসংখ্যা ১৩ হাজার ৭৯২।

খোরশেদ এর আগেও দুইবার একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহর সঙ্গে। ফয়েজ উল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ২২ ভোট।

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তৈমূর ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার তিনি নির্বাচন শেষে ছোটোখাটো অভিযোগ দিলেও পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

ঝিকরগাছায় ২১ বছর পর ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। ছবি: নিউজবাংলা

যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়ে উচ্চ আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

২১ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন হলেও মেয়র পদে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

উচ্চ আদালতের রায়ে একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়ে আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ কম্পিউটার প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১২ ভোট। ফলাফলে মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ১২০১ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্থগিত খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্রে মোট ভোট এক হাজার ৪শ ৫৯টি।

যশোর জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, স্থগিত কেন্দ্রসহ ১৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়র আনোয়ার পাশার মোট ভোট ৭ হাজার ৩৭৫। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৬ ভোট। কিন্তু ফলাফল প্রস্তুত করার মুহূর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটগ্রহণের তিনদিন আগে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র পরিবর্তন করে খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে।

কেন্দ্রটি কাউন্সিলর প্রার্থী একরামুল হক খোকনের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান। তাই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরেও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ করায় উচ্চ আদালতে রিট করায় ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এর আগে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘসময় পর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেন।

কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিপুল সংখ্যক বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঝিকরগাছার নির্বাচনি ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯ টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হলো তা বের করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে চাচ্ছেন না এই প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম বলেন, ‘যদি তারা হল না ছাড়ে তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চই সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।


শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না।

এসব দাবিতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
অনেক শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে হল ছাড়তে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে টিকা উৎপাদন আগামী বছর
ঢাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকাদান শুরু
টিকাদান কেন্দ্রে ২ পুলিশ কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ’: তদন্ত কমিটি গঠন
সিরামের টিকা এবার আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে
১০ দিনে দেড় কোটি টিকা দেবে সরকার

শেয়ার করুন