ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

player
ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আব্বাস বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলার অডিও ফাঁসের জেরে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া রাজশাহীর কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলী ফেসবুক লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

আব্বাস নিউজবাংলাকে তার ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

এক ফেসবুক পোস্টে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বিষয়টি জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অডিও ফাঁসের পর থেকে এ বিষয়ে সরাসরি আব্বাসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।

‘দেখতে থাকেন আর ভালো লাগলে শেয়ার করতে থাকেন। দেখেন ঘটনা কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যায়। আজ থেকে শুরু করছি, এখন আমি লাইভেই কথা বলব। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দেব। এখন কিছু বলব না।’

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
শুক্রবার দুপুরে মেয়র আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফাঁস হওয়া ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না। যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির ১২টা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে…আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায়।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশ ৯৯ বনাম ১ এ বিভক্ত: সেলিম

দেশ ৯৯ বনাম ১ এ বিভক্ত: সেলিম

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বাষির্কীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ছবি: নিউজবাংলা

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এ বিভক্ত। তার মতে, দেশের ৯৯ ভাগ মানুষই তাদের দাবি-দাওয়া প্রকাশ করতে পারছে না।

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বাষির্কীতে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন সেলিম।

পল্টন মুক্তিভবনের সামনের নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিপিবির সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এইভাবে বিভক্ত। এই ৯৯ ভাগ মানুষ যাতে তারা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা হয়। এই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই ঘটনায় খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরেই ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী।

দেশ ৯৯ বনাম ১ এ বিভক্ত: সেলিম

২১ বছর আগের হামলার দিনটির কথা স্মরণে তিনি বলেন, ‘সেদিন কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। যাতে কমিউনিস্ট পার্টি মানুষকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। হামলার পর জনগণের আরও বেশি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে। অশুভ শক্তির হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। পল্টন বোমা হামলার মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।’

সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম বিকল্প শক্তির উত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারির পল্টন ময়দানের বোমা হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে সিপিবির নেতাকর্মীদের তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এই হামলা দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে। আওয়ামীলীগের সমাবেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরও বিএনপি সরকার একই কাজ করেছিল এবং একই কথা বলেছিল।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বড়পুকুরিয়া মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

বড়পুকুরিয়া মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে  চার্জ শুনানি পেছাল

অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ দিন আদালতে হাজির হতে না পারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম থেমে আছে। ফাইল ছবি

কেরাণীগঞ্জে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরানের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটির চার্জ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বরাবরের মতো প্রধান আসামি খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ আবার পিছিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার অসুস্থতাসহ নানা কারণে এই মামলায় হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চার্জ শুনানি সম্ভব হচ্ছে না বলে নিউজবাংলাকে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

কেরাণীগঞ্জে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরানের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটির চার্জ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বরাবরের মতো প্রধান আসামি খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ৬ মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দেয়।

২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সে সময়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম শাহবাগ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৩ জনকে। বিভিন্ন সময় ৬ আসামি মারা যান। বর্তমানে ৭ আসামি জীবিত থাকলেও তারা অনেকেই বার্ধক্য জনিত কারনে অসুস্থ আদালতে হাজির হতে পারেন না।

এ ছাড়া, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারছে মামলাটিতে তারিখের পর তারিখ পড়লেও বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘ইসি আইন নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তার দাবি, আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন।

বুধবার দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইসি আইন নিয়ে যে খসড়া অনুমোদিত হয়েছে, সে সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারাসহ একটি চিহ্নিত মহল ইসি আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার করছে। দেশের বিশিষ্টজন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের নির্দেশনা মেনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সেখানে বিএনপি ও তাদের দোসর দেশবিরোধী অপশক্তি দূরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘সংসদীয় রীতি অনুযায়ী খসড়া আইনটি সংসদে উত্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে সংসদের বৈঠকে উঠবে।

‘সংসদীয় বিধান অনুযায়ী সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি চূড়ান্ত হবে। জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল ও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। অথচ গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার না মেনে আগে থেকেই বিএনপি নেতারা এই আইন নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।’

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান সব সময়ই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াবিরোধী বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারই হলো বিএনপির রাজনৈতিক গতিপথ। তাই বিএনপি নেতারা ইসি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত না জানিয়ে এটি নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই আইন প্রণয়ন নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি করা হয়নি। রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি ও প্রক্রিয়াকে ভয় পায় বলেই বিএনপি সংলাপে অংশ নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে ইসি আইনের দাবি জানিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ২০১২ ও ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ওই দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দল ইসি আইন প্রণয়নের দাবি জানায়। বিএনপিও তখন একই দাবি জানিয়েছিল।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংলাপে আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সংলাপে অংশ নিয়ে এই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: মোশাররফ

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: মোশাররফ

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের যে গণতন্ত্র হত্যা করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, চুরি-ডাকাতি করে এ দেশের অর্থনীতি লুণ্ঠন করছে- এগুলো যাতে ধামাচাপা দেয়া যায় সে জন্য তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে ১৪ বছর ধরে। এটা যখন পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে, আজকে এই সরকার এ ধরনের একটি মিথ্যা-বানোয়াট কতগুলো ডকুমেন্ট দিয়ে তার শুধু জবাব দেয়ার জন্য বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে। এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।'

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি টাকা পাঠাতে বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করেছে কি না- বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়ার পরদিন দলটির পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো।

বুধবার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা বলতে চাই- এই যে অভিযোগ (বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ), এটা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যখন আমেরিকা থেকে দেশের একটি সংস্থা এবং এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, যখন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সামিটে দাওয়াত পায় না, তখন কিন্তু আজকে এই কথাগুলো উঠছে। আমাদের প্রশ্ন আগে কেন এগুলো ওঠেনি?’

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার পর মঙ্গলবারও একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে তিনটি ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। যার মূল ঠিকানায় বিএনপির পুরানা পল্টনের অফিসের নাম দেয়া হয়েছে।’

‘বিএনপির হয়ে যিনি চুক্তি করেছেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার এবং একটি লবিস্ট কোম্পানির নাম ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক এলএমসি। ২০১৮ সালে করা এ চুক্তিতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সব মিলিয়ে দলটি তিনটি চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’

বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, ‘নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে আওয়ামী লীগ সরকারই ৪ বছর ধরে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের যে গণতন্ত্র হত্যা করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, চুরি-ডাকাতি করে এ দেশের অর্থনীতি লুণ্ঠন করছে- এগুলো যাতে ধামাচাপা দেয়া যায় সে জন্য তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে ১৪ বছর ধরে। এটা যখন পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে, আজকে এই সরকার এ ধরনের একটি মিথ্যা-বানোয়াট কতগুলো ডকুমেন্ট দিয়ে তার শুধু জবাব দেয়ার জন্য বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে। এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।'

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শিগগিরই সংবাদ ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান বিএনপি নেতা।

বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, ফরহাদ হালিম ডোনার, যুবদল নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, এস এম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খাবার বিতরণ জবি ছাত্রদলের

জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খাবার বিতরণ জবি ছাত্রদলের

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বুধবার জবি এলাকায় খাবার বিতরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে বুধবার দুপুরে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে খাবার বিতরণ করা হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতারা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে বুধবার দুপুর ১টার দিকে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে খাবার বিতরণ করা হয়।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নেতা কাওছার হামিদ খান, মিহির বিশ্বাস, মো. নাহিদ চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, নাছিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ, জামাল সাগর, মাহবুব, জাহিদ হাসান, আজিজুর রহমান, তৌহিদ চৌধুরী, রাকিব হাসান, সুমন রাজাসহ অনেকেই।

খাবার বিতরণ নিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গরিব, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে। আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বর্তমান বগুড়ায় জন্ম হয় জিয়াউর রহমানের।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বহিষ্কৃত হলেও বিএনপির পাশে থাকব: তৈমূর

বহিষ্কৃত হলেও বিএনপির পাশে থাকব: তৈমূর

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি একজন সমর্থক ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে যাব।’

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও দলটির সমর্থক হিসেবে রাজনীতি করে যাবেন বলে জানিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরের দিন বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তৈমূর বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি একজন সমর্থক ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে যাব।’

বহিষ্কৃত হলেও দলের প্রতি খেদ নেই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের। জানালেন, দলের প্রতি তার আনুগত্যও অটুট আছে। তিনি বলেন, ‘দল আমার ব্যাপারে যে সিধান্ত নিছে, আমি সে ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করব না। কারণ আমি দলের প্রতি অনুগত।

‘এখন আমার দায়িত্ব হলো, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জনমত গড়ে তোলা এবং ডাকাতির বাক্স ইভিএম এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। আমি সকল রাজনৈক দলকে অনুরোধ করব, এই ইভিএমের মাধ্যমে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে।’

তৈমূরের মতে, দেশের বর্তমান আমলাতন্ত্রের কাছ থেকে একটা সুষ্ঠু ভূমিকা আশা করা যায় না। ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনে গেলে কোনো লাভ হবে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দল বিএনপি। তারা সিটিতে প্রার্থী দেয়নি। তবে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করার কথা জানালে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় দলটি।

১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৭ হাজার ভোটে হেরে যান তৈমুর আলম। পরে অভিযোগ তোলেন ইভিএম মেশিনে কারসাজি করে তাকে হারানো হয়েছে। অবশ্য নির্বাচনের পরের দিনই তিনি ফল মেনে নিয়ে মেয়র আইভীর সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার কথা জানান।

মঙ্গলবার দিনই বিএনপি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নতুন কোনো দলে নাম লেখাবেন কি না, এমন প্রশ্ন রাখা হয় তৈমূরের কাছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তো দল পরিবর্তন করব না। তবে আমি মানুষের জন্য কাজ করব। বিএনপি যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে। দল যেহেতু আমাকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিছে, তাই আমার হাতের সামনে যে দুইটা কাজ সে দুইটা করব। আর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য রাজনীতি করব।

‘আমি বিএনপির সমৃদ্ধি কামনা করি। তারেক জিয়ার বাংলাদেশে আগমন কামনা করি; তার সুস্বাস্থ কামরা করি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব, আপনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমুতি দেন, ইতিহাসে আপনার নামটা লেখান।’

দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কেন নির্বাচন করেছেন তারও ব্যাখ্যা করলেন তৈমূর আলম খন্দকার। বলেন, ‘দল না চাইলেও নারায়ণগঞ্জের খেটে খাওয়ার মানুষের চাপে আমি নির্বাচন করেছি। সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থপনা এবং খেটে খাওয়া মানুষের পুর্নবাসন না করে উচ্ছেদসহ নানা কারণে আমি প্রার্থী হয়ে ছিলাম।

‘আমি আমার স্ত্রী ও মেয়েকে প্রস্তাবকারী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেই। দলের অনেকে আমাকে নির্বাচনে থাকতে ফোন করেছে, এসএসএস করে উৎসাহ দিয়েছে। দল থেকে কোনো বাধা আসেনি।’

তৈমূর আরও বলেন, ‘দল থেকে আমাকে কখনও বলা হয় নাই, নির্বাচনে যাবা না। দলের পল্টন অফিস থেকে কোনো কোনো নেতা বলেছেন নেতা-কর্মীদের আমার পক্ষে না যেতে। আমার পক্ষে না গেলে কার পক্ষ যাবে বিএনপির লোকজন। সেক্ষেত্রে ভোটটা তো নৌকার পক্ষেই যায়।’

নির্বাচনে তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমার সঙ্গে যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি এ টি এম কামালের সঙ্গে যা হইছে তা ঠিক হয়নি। কারণ, এমন একটা ত্যাগী কামাল তৈরি হবে না।

‘আমার কোনো চিন্তা নাই। আমার এখন একটাই চিন্তা, নির্বাচনের সময় আমার যেসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ছাড়ানো। তারা ছাড়া পেলে আমার চিন্তা শেষ।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হেরে যাওয়ার বেদনার মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় তৈমূরকে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

রুহুল কবীর রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে আগেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচন প্রশ্নে দল যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা না মেনে তিনি নির্বাচনে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাকে দুটি পদ অব্যাহতি দেয়ার পর এবার বিচার-বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে যদি বহিষ্কার করে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। দুইটা বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মহামারি লাগছে। দুইটা রাজনৈতিক দলেই বহিষ্কার-অব্যাহতির হুমকি চলছে। এই দুইটা দলের যারা ত্যাগী নেতাকর্মী, তাদের আল্লাহর কাছে পানা চাওয়া উচিত, জালালি খতম পড়াইয়া।’

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে কথা কথা বলছেন তৈমূর।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার বেদনার মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন।

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে কথা বলছেন তৈমূর।

মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হারের পর ‘তৈমূরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী’ শিরোনামে নিউজবাংলায় খবর প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন তৈমূর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

রুহুল কবীর রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে আগেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচন প্রশ্নে দল যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা না মেনে তিনি নির্বাচনে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাকে দুটি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এবার বিচার-বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে তৈমূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে যদি বহিষ্কার করে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। দুইটা বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মহামারি লাগছে। দুইটা রাজনৈতিক দলেই বহিষ্কার-অব্যাহতির হুমকি চলছে। এই দুইটা দলের যারা ত্যাগী নেতাকর্মী, তাদের আল্লাহর কাছে পানা চাওয়া উচিত, জালালি খতম পড়াইয়া।’

তৈমূরের পাশাপাশি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও তার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেই মেয়র আব্বাসের ওপর সব কাউন্সিলরের অনাস্থা
মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার দাবি মহানগর আ.লীগের
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাসকে শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল: মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন