ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানি বন্ধে চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্গো টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল মোমেন

সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের ডাক না পাওয়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমরা নিজেরা কীভাবে ভালো করতে পারি, সেটাই দেখার বিষয়। যদি আমাদের দুর্বলতা থাকে, সেটা দূর করার চেষ্টা করব। কারা ডাকল, কারা ডাকল না- এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই।’

আগামী দিনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যেন একটি লোকও মারা না যায়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে ইউপি নির্বাচনে একটি লোকও যেন মারা না যায়, সেটার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বিশ্বের শতাধিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে হতে যাওয়া ভার্চুয়াল ডেমোক্রেসি সামিটে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘আমেরিকা বিভিন্ন দেশকে কখনও গণতন্ত্রের কথা বলে, কখনও সুশাসনের কথা বলে বা কখনও সন্ত্রাসবাদের কথা বলে চাপে রাখতে চায়। এগুলো রাজনীতি।

‘এ কারণে গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের ডাক না পাওয়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমরা নিজেরা কীভাবে ভালো করতে পারি, সেটাই দেখার বিষয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি আমাদের দুর্বলতা থাকে সেটা দূর করার চেষ্টা করব। কারা ডাকল, কারা ডাকল না- এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক সেমিনার শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে দুর্বল, তাদেরই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্মেলনে ডাকা হয়েছে। অনেক বছর ধরে আমাদের একটি স্থির ও স্বচ্ছ গণতন্ত্র আছে। প্রতিবছর হওয়া ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশনে মানুষ ভোট দিচ্ছে। যে দাঁড়াতে চায় সে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।’

তবে সম্মেলন থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলন তারা দুই পর্বে করবে বলেছে। প্রথম পর্বে কয়েকটি দেশকে ডেকেছে। পরের পর্বে হয়তো আমাদের ডাকবে।’

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

চিকিৎসকদের বিএনপিপন্থি সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খালেদা জিয়ার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব)। বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি দ্রুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ড্যাবের শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিভারের মারাত্মক জটিলতাসহ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া করোনা-পরবর্তী জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রিউমোটয়েড আর্থ্রাইটিস, লিভার, কিডনি ও হার্টের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

চিকিৎসক সালাম বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা আর বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তার বিদেশে সুচিকিৎসা ও স্থায়ী মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর বরাতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে ভর্তির রাতেই তার রক্তবমি হয়। তার খাদ্যনালিতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। জীবন রক্ষায় তাকে দ্রুত রক্ত ও প্লাজমা ফ্লুইড দেয়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণের বিষয়টি তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এসব রোগীর পুনরায় রক্তক্ষরণ খুবই স্বাভাবিক। পরবর্তী সময়ে ফের রক্তক্ষরণে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য আমাদের দেশে যে প্রযুক্তি আছে, তা ইতোমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব আধুনিক পদ্ধতি আছে, সেগুলো আমাদের দেশে নেই, এমনকি উপমহাদেশের বা এশিয়ার অন্য কোনো দেশেও নেই৷’

ড্যাব নেতা সালাম বলেন, ‘এমন অবস্থায় চিকিৎসক হিসেবে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদেশে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আশা করি, মানবিক বিবেচনায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেবে।’

‘সরকারের বক্তব্য দিয়েছে বিএমএ’

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদাকে বিদেশ নিতে বিএনপি ও তার পরিবার থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানালেও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বলছে, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা দেশেই সম্ভব।

আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি সোমবার এক বিবৃতিতে দাবি করে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এই রোগের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।

বিএমএর এই ধরনের বক্তব্য সরকারের শেখানো বুলি বলে মন্তব্য করেছে ড্যাব।

ড্যাব নেতা হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজকে বিভক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ। খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার মেডিক্যাল বোর্ড বলেছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে তো নয়, বরং উপমহাদেশেও সম্ভব না।

‘সুতরাং বিএমএর নেতারা যা বলেছেন তা সরকারেরই বক্তব্য। তারা সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আশা ছিল খালেদা জিয়ার এই দুঃসময়ে তারা সঠিক কথা বলবেন এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।’

বিদেশে থেকে চিকিৎসক আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগের সব চিকিৎসা হয়। তার পরও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হলে তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো হয়েছে। বিদেশ থেকে একজন চিকিৎসক আনলেই হবে না। এটা টিমওয়ার্ক। সুতরাং এই কথার মানে হচ্ছে সময় ক্ষেপণ করা।’

সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক এমএ সেলিম, মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, শহীদ হাসান, এরফানুল হক সিদ্দিকী, জহিরুল ইসলাম শাকিল, মেহেদী হাসান, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, পারভেজ রেজা কাকন, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শেখ ফরহাদ, খালেকুজ্জামান দীপু, নিলোফা ইয়াসমিন, ফখরুজ্জামান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

বাংলা একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে অধ্যাপক রফিকুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুধবার জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

এর আগে বাংলা একাডেমি থেকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালককে।

দুপুর দেড়টায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। নজরুল গবেষক এই অধ্যাপকের মরদেহবাহী কফিন একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। এরপর বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদার নেতৃত্বে একাডেমি পরিবার, কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট, শালুক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সর্বশেষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কলকাতার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে বর্ষণ ইসলাম বলেন, “আমার বাবার সম্পূর্ণ জীবনই সফলতা। আমি কখনো কোনো ব্যর্থতা দেখিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় আব্বুর ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিগুলোই ইতিহাস।

“সেগুলো যদি না থাকত তাহলে আমরা আজকে ইতিহাস জানতে পারতাম না। আমি আব্বুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোনো ছবিতে আপনার নাম দেখলাম না।’ আব্বু বলেছেন, ‘আমার নামের তো দরকার নেই। সবাই ইতিহাস জানতে পারছে, তাতেই হবে।’”

বর্ষণ বলেন, ‘আমরা আব্বুকে বিদেশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আব্বু দেশেই থাকতে চেয়েছেন। তাই আমরা উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে পারিনি।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নজরুল গবেষণা সেন্টার তৈরি হয়, তখনই রফিকুল ইসলাম স্যার এবং আনিসুজ্জামান স্যার পথিকৃৎ হয়ে নজরুলবিষয়ক গবেষণাকে কেন্দ্র করে গবেষণাগার তৈরি করে দেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রফিকুল ইসলাম স্যারকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়ার কথা। যে বছর দেয়ার কথা ছিল, তার পরের বছর করোনা হয়ে গেছে।

‘করোনায় সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এখনও দিতে পারিনি। নিশ্চয়ই আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। গবেষণার মাধ্যমে নজরুলকে দেশে-বিদেশে আমাদের সকলের মধ্যে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা একমাত্র রফিকুল ইসলাম স্যারের পক্ষেই সম্ভব।’

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে এ অধ্যাপকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হওয়ায় আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপতি

দেশ উন্নয়নশীল হওয়ায় আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপতি

ফরিদপুর-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ছবি: সাইফুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর, কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ায় ‘আত্মতুষ্টিতে’ না ভুগে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর, কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পথিকৃতের ভূমিকা নিতে হবে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিশ্বব্যাপী সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে সেভাবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট ও ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মানই মূল সূচক।’

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রাপথে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।’

মাতৃভাষা রক্ষা থেকে স্বাধীকার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাঁথা উঠে আসে আচার্যের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গবেষণা-উদ্ভাবন, মুক্তবুদ্ধি চর্চা, প্রগতিশীল ভাবনা, জাতি-গঠন ও দেশাত্মবোধের চেতনার এক তেজোদীপ্ত আলোকবর্তিকা; বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য বাতিঘর।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, ‘১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ তথা অখণ্ড বাংলা প্রদেশকে ভেঙে পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠনের পর ১৯১১ সালে এই সিদ্ধান্ত রদের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত নাথান কমিটির সুপারিশের সঙ্গে স্যাডলার কমিশন নামে খ্যাত ১৯১৭ সালে গঠিত ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন’ এর সুপারিশের ভিত্তিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০’ প্রণীত হয়। সেই আইনের ভিত্তিতেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

প্রতিষ্ঠাকালে ১২টি বিভাগ ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৮৪টি বিভাগ ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

দুইজন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। দেশে নারীর ক্ষমতায়নের এটি একটি বিশাল সাফল্য বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বেকার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব অগণতান্ত্রিক, অপসংস্কৃতি এবং সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে। এরই স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

মুজিব জন্মশতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ স্থাপনও একটি অনন্য উদ্যোগ বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও কারিকুলাম নির্ধারণ ও পাঠ দানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।’

অভিভাবকরা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘তাদের পেছনে দেশ ও জনগণের বিনিয়োগও যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদেরকে পবিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ আসলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটি ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুলসহ সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফের বন্ধ করা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি মাথায় রেখে সময়কে সঠিক ব্যবহার এবং ক্লাসে মনোযোগী হতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন এবং ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হওয়া কোভিড-১৯-এর সর্বশেষ এই ভ্যারিয়েন্টকে সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশে ‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বাস ভাঙচুর না করে ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস, কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটা ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুল-সব বন্ধ হয়ে যাবে।’

তাই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান সরকারপ্রধানের। তিনি বলেন, ‘যেটুকু সময় পাওয়া যাচ্ছে সবাইকে অন্তত যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমি আরেকটা কথা বলব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল।… এখন সব স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

‘রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না’

বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভে নামা ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যানবাহন ভাঙচুর করা তাদের কাজ নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা এটা ছাত্রদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করেন। আর যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে, সেটা আমরা করব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেয়ার ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেয়া হবে। কেননা যে গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে সে গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা আগুনে পোড়ে তার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এ কথাও মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

এবি ব্যাংক: ৪ কর্মকর্তার নামে মামলা নিতে নির্দেশ

এবি ব্যাংক: ৪ কর্মকর্তার নামে মামলা নিতে নির্দেশ

প্রতীকী ছবি

গত ২৬ অক্টোবর এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় তার ব্যাখ্যা দিতে দুদক নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানকে তলব করে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে বুধবার হাজির হন তিনি।

এবি ব্যাংকের নোয়াখালীর চৌমুহনী শাখার সাবেক ও বর্তমান চার কর্মকর্তার নামে দুর্নীতির মামলা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ নির্দেশ দেয়।

নাসির ছাড়াও অন্য তিনজন হলেন চৌমুহনী শাখার বর্তমান ম্যানেজার তপন কান্তি পোদ্দার, সাবেক এসপিও মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. হানিফ।

এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতেও বলেছে আদালত।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

রিভিশন আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম নুরুল আলম। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক।

গত ২৬ অক্টোবর এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় তার ব্যাখ্যা দিতে দুদক নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানকে তলব করে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে বুধবার হাজির হন তিনি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, মশিউর রহমান দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে এবি ব্যাংক চৌমুহনী শাখার গ্রাহক আবদুল মমিনের ৩ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে বেআইনিভাবে স্থানান্তর করে আত্মসাতের প্রমাণ পান। এর পরও ব্যাংকের কর্মকর্তা ওই শাখার সাবেক ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ, ম্যানেজার তপন কান্তি পোদ্দার, সাবেক এসপিও মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. হানিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে গ্রাহক আবদুল মমিন বিশেষ জজ আদালত, নোয়াখালীতে মামলা করতে গেলেও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা লিখিত আপত্তি জমা দেন। এ কারণে গ্রাহক আব্দুল মোমিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু

সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু

শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরুর প্রথম দিন সুপ্রিমকোর্ট অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে প্রায় ১ বছর ৯ মাস ধরে আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি চলছিল। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বেঞ্চ শারীরিক উপস্থিতিতে এবং কয়েকটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি চলেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ১ বছর ৯ মাস পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দিনের কার্যতালিকা অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালত চলাকালীন অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই সময়ে আপিল বিভাগে থাকা ২৪ হাজার মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে এখন সাড়ে ১৫ হাজারের মতো মামলা রয়েছে।

আপিল বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত চালু হলে সকাল থেকেই সেখানে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড়।

শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু নিয়ে গত সোমবার প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

এতে বলা হয়, ‘প্রধান বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিগণের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, আগামী ১ ডিসেম্বর, বুধবার হতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে প্রায় ১ বছর ৯ মাস ধরে আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি চলছিল। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বেঞ্চ শারীরিক উপস্থিতিতে এবং কয়েকটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি চলেছে।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্রে দুর্বলদেরই হয়তো ডাকা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
নিজ শহরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার মিছিল’
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মানব পাচার রোধে প্রয়োজনে গুলি
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন