নিরাপদ সড়কে কবে হাঁটব: মেয়রকে প্রশ্ন

নিরাপদ সড়কে কবে হাঁটব: মেয়রকে প্রশ্ন

ডিএসসিসির ময়লার গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারা দিন বিক্ষোভ শেষে মেয়র তাপসের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পক্ষে একজন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাই, কবে নাগাদ নিরাপদে আমরা হাঁটতে পারব। আমরা নিরাপদে চলার স্বাধীনতা চাই।’

ঢাকার সড়কগুলোতে কবে নাগাদ নিরাপদে হাঁটা যাবে, তা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে জানতে চেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মেয়রের কাছে আরও কিছু দাবি তুলে ধরেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মেয়র। সেই সঙ্গে বলেছেন, ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের নামে একটি ফুটওভারব্রিজ করা হবে।

নাঈমের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে গুলিস্তানে নগর ভবনে অবস্থান নেন। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তাদের সামনে আসেন মেয়র তাপস।

এ সময় মেয়রের কাছে শিক্ষার্থীদের একজন তাদের ১০ দফা তুলে ধরেন। নাঈম হাসানের মৃত্যুকে ‘সিস্টেমেটিক হত্যা’ বলে আখ্যা দেন ওই শিক্ষার্থী। এই সিস্টেমের সঙ্গে যারা যারা জড়িত প্রত্যেকের বিচার দাবি করেন তিনি।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাই, কবে নাগাদ নিরাপদে আমরা হাঁটতে পারব। আমরা নিরাপদে চলার স্বাধীনতা চাই।

‘আমাদের দাবি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক গুলিস্তানের জিপিওর সামনে নাঈমের নামে একটি ফুটওভারব্রিজ করতে হবে। বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবি নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের দাবির জবাবে মেয়র তাপস বলেন, ‘আপনাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। ঢাকা শহরে নিরাপদ সড়ক হবে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার ছিল সচল ঢাকা। সচল ঢাকার মূল উপাদান হলো নিরাপদ সড়ক।’

নটর ডেমের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে যেদিন এসেছি সেদিনই আমার আরেক সন্তান নাঈমকে হারাব, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। নাঈম শুধু আপনাদের ভাই না, বন্ধু না আমারও সন্তান। সন্তানহারা পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমাদের নাই।

‘সকল দাবির সঙ্গে শুধু একমতই না। সঙ্গে দাবি তুলতে চাই যার কারণে নাঈম মারা গেছে তার যেন ফাঁসি হয়।’

নিরাপদ সড়কে কবে হাঁটব: মেয়রকে প্রশ্ন
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ডিএসসিসি মেয়র তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

নাঈমের স্মরণে ফুটওভারব্রিজ করে দেবেন বলেও জানান তাপস। তিনি বলেন, ‘যে যে কর্মকর্তা-কর্মচারী এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের বিচার অবশ্যই হবে। আমাদের সন্তান নাঈমের নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে এ বছরের মধ্যেই একটি ফুটওভারব্রিজ করে দেব। শহীদ নামের নামে আমরা এই ফুটওভারব্রিজ করে দেব।’

‘আমাদের এই আশ্বাসের কথা আমরা ছাত্রদের কাছে লিখিত দেব। ছাত্রদের দাবিগুলো ডিও লেটার আকারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পেশ করব।’

মেয়র তাপসের আশ্বাস পেয়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে নগর ভবন ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

নাঈমের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর কয়েকটি পয়েন্টে বিক্ষোভে নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর ফার্মগেট, মতিঝিল ও গুলিস্তানে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে নটর ডেমের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। নাঈমের নিহতের ঘটনার বিচারের পাশাপাাশি অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করা, প্রতিটি জেলা শহরে তাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এর বাইরে নাঈম হাসানের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

তারা বলছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে রোববার আরও আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

নিরাপদ সড়কে কবে হাঁটব: মেয়রকে প্রশ্ন
গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:

০১. যথাযথ তদন্ত করে নাঈমের ‘হত্যাকারীদের’ সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান।

০২. জেলা শহরের বিভিন্ন রুটে শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু।

০৩. স্কুল-কলেজের সামনে হর্ন ও ওভারস্পিডের জন্য স্টুডেন্টদের কাছে জরিমানা এবং প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের অধিকার প্রদান।

০৪. সব ছাত্রের জন্য হাফ পাস নিশ্চিতকরণ।

০৫. প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একাধিক স্পিড ব্রেকার নির্মাণ।

০৬. শহরের প্রতিটি অচল ট্রাফিক লাইটের সংস্কার এবং সঠিক ব্যবহার করা।

০৭. ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ।

০৮. জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

০৯. চলন্ত বাসে যাত্রী ওঠানামা করালে প্রত্যেক বাসকে আইনের আওতায় আনা।

১০. নিরাপদ সড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক। এ ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো শ ১১-১২৪৪।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাসেল খান। পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকার টহল পুলিশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্বপাশ থেকে ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেল খানকে আটক করা হয়। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলকে আদালতে তোলা হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হলের গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধে আইন দাবি

হলের গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধে আইন দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ সমাবেশ করে। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘অঘটন থামাতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো দূরদর্শী চিন্তা নয়। এ ধরনের খুনের দায় ছাত্র রাজনীতির নয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশাসনের প্রশ্রয় পেয়ে এসব অপরাধ করে।’

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বুধবার আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান পরিষদের নেতারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্বদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে বুধবার বিকেলে সমাবেশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা সমাবেশে বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করলে একটা নজির তৈরি হবে। ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে এ নজির জরুরি। সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হলের গেস্টরুমে যে নির্যাতনের ধারা তৈরি হয়েছে, তা থামাতে আমরা গেস্টরুমের নির্যাতনবিরোধী আইন চাই।

‘অঘটন থামাতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো দূরদর্শী চিন্তা নয়। এ ধরনের খুনের দায় ছাত্র রাজনীতির নয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় পেয়ে এসব অপরাধ করে।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের পাশাপাশি সে সময় বুয়েটের হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাদের সহযোগিতায় হলগুলো হয়ে ওঠে নির্যাতন-নিপীড়নের আস্তানা।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা রহমতুল্লাহ, সহসভাপতি সোহেল মৃধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, নাহিদ উদ্দিন, রেদোয়ান উল্লাহ, ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, জহির ফয়সাল, মোহাম্মদ সানাউল্লাহসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি

রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি

সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েট ভিসি বলেন, ‘আমরা সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। সর্বোচ্চ শাস্তিই হয়েছে। এখন আমরা আশা করি, এ রায় যেন দ্রুত ও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হয়।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যামামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার। তবে সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি মর্মাহতও বলে জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন মনোভাবের কথা তুলে ধরেন বুয়েট ভিসি।

দুই বছর তিন মাস পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২৫ আসামির মধ্যে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রায় আজ আমরা পেয়েছি। আবরার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয়েছে। খুব দ্রুতই রায় হয়েছে। তবে কোভিড পরিস্থিতি না থাকলে এ রায় আরও দ্রুত হতো। বিচার বিভাগের এ রায়ের ওপর আমাদের আস্থা রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। সর্বোচ্চ শাস্তিই হয়েছে। এখন আমরা আশা করি, এ রায় যেন দ্রুত ও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হয়।’

সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘আমি বিভাগীয় প্রধান, ডিন এবং প্রভোস্টও ছিলাম। আমি ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষক ছিলাম। আমি আমার ছাত্রদের খুব ভালোবাসি। আমি বিশেষভাবে মর্মাহত হয়েছি।’

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদেরকেও সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে বলে জানান উপাচার্য।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় একেকজন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থেকেও একসঙ্গে ক্লাস করেছি। আমরা চাই, বুয়েট ক্যাম্পাসে সেই জিনিসটা আবার ফিরে আসুক। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন পূর্বের সেই ভালোবাসা এবং মানবতাবোধ ফিরে আসে। এ জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের

রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের

আবরার হত্যার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ১৬ ব্যাচের শাফকাত ইসলাম সাকিব বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এ রকম ফাঁসি নাও হতে পারে। এই রায় দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, সন্তোষজনক রায় হয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে এই রায় পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন হবে কি না সেটির ওপর।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি চেয়েছেন তারা।

দুই বছর তিন মাস পর বুধবার আলোচিত আবরার হত্যা মামলার রায় হয়। রায়ে ২৫ আসামির মধ্যে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরদিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগপত্রে মোট আসামি করা হয় ২৫ জনকে।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন। তবে ওই দিন রায় লেখা বাকি থাকায় তারিখ পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়। সে অনুযায়ী রায় ঘোষণা হলো।

রায়ের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান, আদালতের এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ সময় শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানান।

এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কর্মসূচি আছে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা জানান, এই বিষয়ে তারা একসঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি নির্ধারণ করে পরে জানাবেন।

পুরকৌশল বিভাগের ১৬ ব্যাচের শাফকাত ইসলাম সাকিব বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এ রকম ফাঁসি নাও হতে পারে। এই রায় দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, সন্তোষজনক রায় হয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে এই রায় পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন হবে কি না, সেটির ওপর।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ম্যাটার হচ্ছে আবরারের পরিবার কী রকম ফিল করছে। তারা যদি এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমরাও সন্তুষ্ট। আর তারা যদি মনে করেন এ রায়ে নতুন কিছু মডিফিকেশন দরকার, তাহলে উনাদের সিদ্ধান্তকে আমরা সংহতি জানাব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৭ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতকে ধন্যবাদ। প্রথম থেকে আমরা আদালতের রায়ের ওপর ভরসা করেছিলাম। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সে ভরসার আমরা প্রতিফলন পেয়েছি। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা চাই, অতিদ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক। বর্তমানে বুয়েটে যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে, সেটিও যেন ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকে।’

মাহফুজুর রহমান নামের ১৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের আইন ব্যবস্থা এবং মহামান্য আদালতের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা ছিল। এখন যে রায় হয়েছে সেই রায়ে আবরারেন পরিবার সন্তুষ্ট হলে আমরাও সন্তুষ্ট।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুততম সময়ে এ রায় কার্যকর করা হোক। যদিও এখানে আরও অনেক জটিলতা আছে। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আপিল বিভাগ আছে। সবকিছু মিলিয়ে এই জটিলতা দ্রুত শেষ হয়ে দ্রুত যেন রায় কার্যকর হয়, এটিই আমাদের চাওয়া।’

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মেয়ের কাঁথা শুকাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু

মেয়ের কাঁথা শুকাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

আব্দুল হান্নানের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, তার ছোট ভাই পল্টনে মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাসার ছাদে মেয়ের কাঁথা, বালিশ শুকাতে যান। ওই সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি।

রাজধানীর শাজাহানপুর এলাকায় মেয়ের কাঁথা শুকাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে আব্দুল হান্নান (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

পাঁচ তলা ভবন থেকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে পড়ে যান আব্দুল হান্নান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুপুর দুইটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

তিন মেয়ের জনক আব্দুল হান্নানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার গোরাগ্রাম এলাকায়। তিনি শাজাহানপুরের বেনজির বাগান এলাকার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।

আব্দুল হান্নানের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, তার ছোট ভাই পল্টনে মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাসার ছাদে মেয়ের কাঁথা, বালিশ শুকাতে যান। ওই সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি।

সাইফুল আরও জানান, আব্দুল হান্নানকে শুরুতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

ইউজিসিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

ইউজিসিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

আগারগাঁওয়ে ইউজিসি কার্যালয়ে বুধবার বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার উদ্বোধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কমিশনের লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে জাতির পিতার একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। সেখানে ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা’ গ্যালারিতে তার পরিবারের সদস্যদের আলোকচিত্র, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উজ্জীবিত হবে। বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

কমিশনের লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে জাতির পিতার একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। সেখানে ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা’ গ্যালারিতে তার পরিবারের সদস্যদের আলোকচিত্র, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ও ছয় দফা ঘোষণাপত্র এবং দেশের উচ্চ শিক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি কর্নারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নারে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ওপর দুই শতাধিক বই।

দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির সহায়তায় এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বুধবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বুধবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রদূতকে সেনাবাহিনীর ক্রেস্ট উপহার দেন।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের সাত ক্যাডেট বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত, যারা আগামী ১২ ডিসেম্বর কমিশন লাভ করবেন।

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

চেরাগ আলীর যানজট ঠেকেছে মহাখালী

চেরাগ আলীর যানজট ঠেকেছে মহাখালী

যানজটের ছবিটি কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে তোলা-নিউজবাংলা

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে যানবাহন বের হতে পারছে না। খুবই ধীর গতি। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

সংস্কার কাজের কারণে গাজীপুরের চেরাগ আলী এলাকায় তিন লেনের রাস্তায় দুই লেনই বন্ধ। গাড়ি চলাচল করছে এক লেনে। এতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পরেছে রাজধানীতেও।

চেরাগআলীর যানজট বুধবার ১২টায় ছাড়িয়ে গেছে মহাখালী। এতে এয়ারপোর্ট, উত্তরা ও গাজীপুরগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে যানবাহন বের হতে পারছে না। খুবই ধীর গতি। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

ঢাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র যানজটে পড়লেও সেই তুলনায় ঢাকায় প্রবেশের যানজট কিছুটা কম।

ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বদরুল হাসান জানান, রাস্তার সংস্কার কাজের জন্য গাজীপুরের চেরাগ আলীতে ৩ লেনের জায়গায় ১ লেনের গাড়ী চলছে। এজন্য গাজীপুর থেকে রাজধানীর বনানী পেরিয়ে মহাখালী পর্যন্ত যানজট ছড়িয়েছে।

গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে আউটগোয়িং অনেকটা বন্ধ থাকায় এর প্রভাব ইনকামিংয়ের সড়কগুলোতেও পড়ছে।’

চেরাগ আলীর যানজট ঠেকেছে মহাখালী

রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট থাকায় অন্যান্য সড়কেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাফিক গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চেরাগ আলীর যানজট মহাখালী পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এয়ারপোর্ট বা উত্তরাগামী যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে আছে। যেকারণে অন্যান্য সড়কগুলোতেও ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউলুপগুলোর কাছে সব গাড়ি আটকে আছে। কারণ একপাশে গাড়ি আগাচ্ছেই না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিমান্ডে
ডিএসসিসির গাড়িচালক হারুনকে খুঁজছে পুলিশ
মেয়র তাপসের সাক্ষাৎ চান আন্দোলনকারীরা
১০ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
নটর ডেম শিক্ষার্থীর নিহতের বিচার চেয়ে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন