পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্তু এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির ঘটনায় পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে পতন থামছে না। টানা পাঁচ দিন কমল সূচক। আর ৭ মাস পর লেনদেন নামল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

আগের কর্মদিবসে ৯৫ পয়েন্ট সূচক পতনের স্মৃতি নিয়ে বৃহস্পতিবার লেনদেনের আগেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল চিড় ধরা। বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক তার অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও এরপর শেয়ারগুলো দর হারাতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ৬৫ পয়েন্ট পতন দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন।

সূচকের এই অবস্থান গত ৮ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৯৯ পয়েন্ট। সেদিনের পর থেকে সূচক বেড়ে ১৮ নভেম্বর দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯১ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর সেখান থেকে আবার শুরু হয় পতন।

সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে আসছিল গত কয়েক দিনে। এবার সেটি গত ২৮ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো নেমে গেল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

১৩৬ কর্মদিবস আগে সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছিল ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ৮৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে যে পর্যন্ত লেনদেন সেভাবে কমেনি, সে পর্যন্ত পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা সেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নামার পর তারাও এখন আর আশার কথা বলছেন না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্ত এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে পতনে বিনিয়োগকারীরা এখন আতঙ্কিত। গত কয়েক সপ্তাহ আগে যে শেয়ার ৫০ টাকায় কেনা হয়েছে, সেটির দাম এখন ৩০ টাকার ঘরে। ফলে কেনা দামে আবার শেয়ার বিক্রি করা যাবে কি না, সেটি নিয়েও সংশয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার যখনই ভালো হতে থাকে, তখনই বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর আসে এদিকে। সম্প্রতি এক্সপ্লোজার লিমিটের কারণে কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করায় অন্য ব্যাংকগুলো এখন হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো যেভাবে বিনিয়োগে আসছিল সেখান থেকে ফিরে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এক্সপ্লোজার লিমিট অবশ্যই কেনা দাম বিবেচনা করা উচিত। মার্কেট প্রাইসের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে যখনই বাজার ভালো হবে তখনই স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের ওপর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়বে। পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনার জন্য দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

আগের দিনের মতো এদিনও প্রায় আড়াই শ কোম্পানির দরপতন হলো এক দিনে। দিন শেষে বেড়েছে কেবল ৮৯টি কোম্পানির দর, কমেছে ২৪১টির। ৩২টি কোম্পানি দর ধরে রাখতে পারে।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও পরে সূচক টানা কমেছে

লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯২২ পয়েন্টে ছিল। সেখান থেকে বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক টানা নেমে আসে ৬ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে।

সেখান থেকে কিছুটা উত্থান হলেও দেড়টাই সূচক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে ৬ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে।

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় যারা

এদিন সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। কোম্পানির শেয়ার দর দশমিক ৯৩ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ।

গত এক বছরে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড আরও ২.০৭ শতাংশ দর হারানোয় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। কোম্পানিটির মালিকপক্ষ তিন কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়ার পরও দাম কমে যাওয়ার এই বিষয়টি বাজারের প্রতি অনাস্থার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড জেনারেশনের শেয়ার দর কমেছে আরও ১.৯৫ শতাংশ। এতে সূচক কমেছে ৫.৭১ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
সূচক কমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৭ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ৫০ টাকারও বেশি দর হারিয়েছে। যারা এই লভ্যাংশ নিয়েছেন, লাভ হয়নি তাদের। যত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন, রেকর্ড ডেটের পর দাম কমেছে এর চেয়ে বেশি।

সূচক পতনে ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১.৭ শতাংশ দরপতনও। এর ফলে সূচক থেকে কমেছে আরও ৩.১১ পয়েন্ট। দরপতন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাও।

ব্যাংক খাতের পাঁচটি কোম্পানিও সূচক ফেলে দিয়েছে অনেকখানি। এগুলো হলো হলো ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৩৪.৩ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে আগের তিন দিন টানা পতন হওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১.৪৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।

ওরিয়ন ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেনেক্স ইনফোসিস, গ্রামীণফোন, আমান ফিড, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও আমান ফিডের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে অল্প কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে।

তবে শেয়ার দর অল্প বাড়ার কারণে সূচকে খুব বেশি পয়েন্ট যোগ হয়নি। ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে যোগ হয়েছে ৮.৭৩ পয়েন্ট।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই ১০টি কোম্পানি অল্পবিস্তর পয়েন্ট যোগ করেছে সূচকে

আগের দিনের মতোই ঢালাও দরপতন হয়েছে ব্যাংক খাতে। তবে আগের দিনের মতো সব ব্যাংকের শেয়ার দর কমেনি। ৪টির দর অল্প বেড়েছে।

বিমা খাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই খাতের ৫২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৩টি। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। বেড়েছে কেবল ৭টির দর।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দর বৃদ্ধির হারও বেশি নয়, কমার হারও বেশি নয়। ১০ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত পার্থক্য ছিল ইউনিটপ্রতি। সেখানেও ৩টির ইউনিট দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৫টির।

কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে। এই খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৬টির দর, কমেছে ৪টির। একটির লেনদেন ছিল স্থগিত।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে থাকা সেরা ১০ কোম্পানির মধ্যে দুটি ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত। তবে আগের মতোই দিনের সর্বোচ্চ দরেও শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ আর একমি পেস্টিসাইডসের দর বেড়েছে ৯.৮১ শতাংশ।

দর বৃদ্ধিতে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের আধিক্য ছিল বেশি। বস্ত্র খাতের নিউ লাইনের শেয়ার দর বেড়েছে ৬.০৪ শতাংশ। আর দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৮৬ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেনের দিন কেবল দুটি খাতেই লেনদেন হয়েছে এক শ কোটি টাকার বেশি

প্রকৌশল খাতের সুহৃদের দর বেড়েছে ৯.৬৭ শতাংশ। কোম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৫ হাজার ৯৪৫টি শেয়ার। একই খাতের আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের দর বেড়েছে ৬.৬৯ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির সেরা দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমতা লেদারের শেয়ার দর ৫.৪৫ শতাংশ, আমান ফিডের দর ৪.৬৫ শতাংশ, হেমিনি সি ফুডের দর ৪.৯৫ শতাংশ, আরামিট সিমেন্টের দর বেড়েছে ৪.৬৫ শতাংশ।

সেরা দশের পর ৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৫টি কোম্পানির। দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১৭টি কোম্পানির। আর ১ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির।

দর পতনের সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি দর পতন হওয়া কোম্পানির তালিকায় ছিল এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান, যার ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৯.৮৭ শতাংশ। আগের দিন বুধবারও একই হারে দর কমেছিল এই ফান্ডটির।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫১ পয়সা লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, রেকর্ড ডেট শেষে দ্বিতীয় দিনেই তারা লোকসানে পড়ে গেছেন। দুই দিনে ইউনিট দর কমেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে ছিল ন্যাশনাল টি কোম্পানি, যার শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৬.০৩ শতাংশ।

শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ার দর কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭৪ টাকা। ২৩ লাখ টাকা লেনদেন হাতবদল হয়েছে ৩২ হাজার ১০২টি শেয়ার।

এ ছাড়া কেডিএস একসেসোরিজের দর কমেছে ৫.৭৪ শতাংশ। ৬৭ টাকা ৯০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৬৪ টাকায়।

পেনিনসুলার দর কমেছে ৫.৬০ শতাংশ। ৩৫ টাকা ৭০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া ঢাকা ডাইংয়ের দর ৫.২৪ শতাংশ, বারাকা পাওয়ারের দর ৫.১১ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪.৬৬ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৫৬ শতাংশ আর ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পর এসএস স্টিলের দর কমেছে ৪.৪৪ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানি

লেনদেনে সেরার অবস্থান এক দিন পরই ফিরে পেয়ছে বেক্সিমকো লিমিটেড, যার মোট ১১৮ কোটি ৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ২১৪টি শেয়ার।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা। ১৭৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা ২০ পয়সা।

আগের দুই দিন লেনদেনে শীর্ষে থাকা ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকার। আগের দিন ৫ কোটির বেশি শেয়ার হাতবদল হলেও বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬ হাজার ১৭৩টি শেয়ার।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই খাতগুলোর প্রতিটিতেই লেনদেন একসময় এক শ কোটি টাকার বেশি হতো

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪২টি শেয়ার ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে। এই কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি লেনদেনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল।

চতুর্থ স্থানে থাকা ব্যাংক খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫০ পয়সা। আগের দিন দাম ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, সেটি কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৭০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ছিল লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানির ৬ নম্বরে। ব্যাংকটির ১ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ২৬৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।

জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩টি শেয়ার।

এ ছাড়া ফরচুন সুজের ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এনআরবিসির ২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেকের ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মার ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

ব্যাংক খাতের আরও কিছু প্রতিষ্ঠান লেনদেনে এগিয়ে থাকলেও কমেছে শেয়ার দর। এর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৪০ পয়সা। ব্যাংকটির লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের দর কমেছে ৫০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিমানসহ ১৭ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে চিঠি

বিমানসহ ১৭ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে চিঠি

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ফাইল ছবি

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৭টি কোম্পানিকে পাঠানো হয়েছে। মূলত যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো, সেসব কোম্পানিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ১৭ কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। মূলধন সংগ্রহে কোম্পানিগুলোকে শেয়ার বা বন্ড ইস্যুর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯টি কোম্পানি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে প্রকৌশল এবং ভ্রমণ খাতের আছে দুটি করে।

বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দুটি হলো বাংলাদেশ বিমান ও সরকারি ওষুধ কোম্পানি এসেনসিয়াল ড্রাগস।

এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি বুধবার কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বিএসইসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৭টি কোম্পানিকে পাঠানো হয়েছে। মূলত যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো, সেসব কোম্পানিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে সে সময়ের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কোম্পানিগুলোর বৈঠক হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে, যাতে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মূলধন সংগ্রহ করে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বণ্টনের মাধ্যমে অংশীদারত্ব বাড়ায়।’

চিঠিতে তালিকাভুক্তির সুবিধা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ইক্যুইটি শেয়ার, বন্ড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উপায়ে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করার সুযোগ রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। প্রতিষ্ঠানে সাধারণ জনগণের মালিকানা থাকলে তারাও উপকৃত হবে।

পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত মূলধন সরকারের ওপর পুনঃবিনিয়োগের বোঝা কমাবে উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সার্বিক সহযোগিতা কমিশন সব সময় সেবাদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ মনে করেন, সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা উচিত। যেসব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করছে তাদেরও পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এসব কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজ হয়নি। এখন যেহেতু নতুন করে বিএসইসি আবারও উদ্যোগ নিয়েছে, সেহেতু তাদের এখন বাধ্য করে হলেও পুঁজিবাজারে আনা উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকেও চিঠি দেয়া হবে, যেন তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

চিঠি দেয়া হয়েছে সেব কোম্পানিকে

যাদের তালিকাভুক্ত হতে বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিই বেশি। এগুলো হলো- বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, এলফি গ্যাস, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি-জিটিসিএল, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অফ বাংলাদেশ।

প্রকৌশল খাতের কোম্পানির মধ্যে আছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প।

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানির মধ্যে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল।

টেলিযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিকেও দেয়া হয়েছে চিঠি।

অন্য দুই কোম্পানি হলো কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কর্ণফুলী পেপার মিলস, ওষুধ ও রসায়ন খাতের এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি এবং সিরামিক খাতের বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড সেনেটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি।

আর্থিক অবস্থা

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ২০২০-২১ অর্থবছরে আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট আয় করেছে ২ হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাাজর ৯৭৯ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৬৩৪ কোটি ৫১ লাখ ৬৬ হাজার ২৫ টাকা।

এই সময়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৪৮ কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী আয় হয়েছিল ৯৭ কোটি ৪৯ লাখ ৩৫ টাকা।

এলপি গ্যাস লিমিটেড তথ্যে দেখা গেছে, উত্তর পতেঙ্গা চট্টগ্রাম এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলার এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট দুটিতে উৎপাদিত এলপিজি পাইপলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বোতলজাত করা হয়।

বোতলজাত এলপিজি বিপিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করার লক্ষ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও এসএওসিএলকে বিপিসির নির্দেশিত হারে সরবরাহ করা হয়।

এক শিফটে এলপি গ্যাস লিমিটেডের চট্টগ্রাম কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং কৈলাশটিলা কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ।

জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কোম্পানিটি ডিএসএল বাবদ ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা, লভ্যাংশ বাবদ ৭০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আয়কর বাবদ ৭৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আমদানি শুল্ক বাবদ ১১ কোটি ১ লাখ টাকাসহ ১৬৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির এলএনজি ডিভিশনের আওতায় এলএনজি সংক্রান্ত টার্মিনাল ডেভেলপমেন্ট, এলএনজি আমদানি, রিগ্যাসিফাই ও জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ এবং রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অর্জনে সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে আরপিজিসিএল কর্তৃক যথাযথ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে এলএনজি টার্মিনাল (ভাসমান ও স্থলভিত্তিক) স্থাপনসহ এলএনজি সংক্রান্ত কার্যাবলি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ কোম্পানির আওতায় কক্সবাজারে মহেশখালীতে ৫০০ এমএমএসসিএফ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে রিগ্যাসসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন

আগের দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুঁজিবাজার নিয়ে যে বৈঠক হয়, তার দিকে বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে ছিল দুটি ইস্যুতে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বা বাজারমূল্যে নির্ধারণ হবে কি না, বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, এ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি ঘোষণা প্রত্যাশা করছিলেন তারা।

পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠক শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবার হতাশা ছড়িয়েছে। বৈঠকের ও তার আগের দিন দুই দিনে সূচক যত বেড়েছিল, একদিনেই কমে গেল তার চেয়ে বেশি। কমে গেছে লেনদেনও। যতগুলো শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে তার দ্বিগুণেরও বেশি।

মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পরদিন বুধবার সকালে লেনদেনের শুরুতেই সূচক পড়ে যায় ৪০ পয়েন্টের বেশি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচক অবস্থান ফিরে পেলেও এরপর থেকে কেবলই পড়েছে। শেষ এক ঘণ্টায় পতনের গতি ছিল আরও বেশি।

শেষ পর্যন্ত সূচক কমে ৯৬.৮৫ পয়েন্ট। এক দিনেই দর হারায় ২৫৭টি কোম্পানি। এর বিপরীতে বেড়েছে কেবল ৯৭টির দর। আর দর ধরে রাখতে পেরেছে ২০টি কোম্পানি।

পতনের দিন বাজারে দাপট দেখা গেছে লোকসানি ও স্বল্প মূলধনি কোম্পানির। বিপরীতে বড় মূলধনির বেশিরভাগ মৌলভিত্তির কোম্পানি দর হারিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৭টি লোকসানি। বাকি তিনটি স্বল্প মূলধনি, যেগুলোর শেয়ার সংখ্যা খুবই কম।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানিকে বিবেচনায় নিলেও একই চিত্র দেখা যায়। এই ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টিই লোকসানি, যেগুলোর মধ্যে বহুগুলো বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ নিতে পারেনি লোকসানের কারণে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে সূচক কমেছে টানা, শেষ সময়ে পতনের গতি ছিল আরও বেশি

আগের দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুঁজিবাজার নিয়ে যে বৈঠক হয়, তার দিকে বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে ছিল দুটি ইস্যুতে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বা বাজারমূল্যে নির্ধারণ হবে কি না, বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, এ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি ঘোষণা প্রত্যাশা করছিলেন তারা।

বৈঠক শেষে এর সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ জানান, তারা চলতি মাস বা জানুয়ারির শুরুতে আরেকটি বৈঠক করবেন। সেই বৈঠক শেষে দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিএসইসি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা দেয়া না হলেও বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, তারা এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি করা না করার বিষয় আর নেই। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তাদের দিক থেকে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। এটি করার জন্য আইন পরিবর্তনের দরকার পড়বে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে, এ জন্য কিছু সময় লাগবে।’

কিন্তু এই বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মনে চিড় ধরা আস্থা ফেরাতে পারেনি। ফলে আরও কমে যাবে আশঙ্কায় কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে নির্ভার হতে চেয়েছে বহুজন। আর এর সুযোগ নিয়েছে অন্যরা।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

সূচকের পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার ৪.৩৫ শতাংশ দাম কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ১০.৮৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওয়ালটন, যার কারণে সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি, বহুজাতিক ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি ও লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেক্সিমকো ও স্কয়ার ফার্মা, বিদ্যুৎ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার, ব্যাংক খাতের ব্র্যাক ও টেলিকমিউনিকেশনসের গ্রামীণ ফোনের দরপতনও সূচকের অবনমনে রেখেছে প্রধান ভূমিকা।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৪৬.৮০ পয়েন্ট।

খাতওয়ারি বিশ্লেষণ করলে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দর হারিয়েছে। আর্থিক, জ্বালানি, বিমা, বস্ত্র, টেলিকমিউনিকেশন খাতেও হয় সবগুলো নয় প্রায় সবগুলো কোম্পানিই দর হারিয়েছে।

খাবার দিন গেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিমেন্ট, কাগজ, চামড়া খাতেও। কেবল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ও বেক্সিমকো লিমিটেড ছাড়া বিবিধ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়তে দেখা গেছে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
এই ১০টি কোম্পানি সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে

এর বিপরীতে বিকন ফার্মের দর ২.২৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক ২.০১ পয়েন্ট বড়েছে। জিপিএইচ ইস্পাত, সোনালী পেপার, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিএসসি, পদ্মা অয়েল. ম্যারিকো, এটলাস বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর বৃদ্ধিতে সূচক অল্প বেড়েছে।

এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে কেবল ৫.৮৫ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে দুর্বল কোম্পানি

বুধবার দর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল লোকসানি ফাইনফুডস। যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৮৯ শতাংশ। গত ১০ দিনের লেনদেনে কোম্পানিটির এমন উত্থান আর হয়নি।

লভ্যাংশ না দেয়া ফু ওয়াং ফুডসের দর বেড়েছে ৯.৬৩ শতাংশ। গত ২৪ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। শেয়ার দর ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা ২০ পয়সা।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভা না করা সুহিৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৯.৪৪ শতাংশ। আরেক লোকসানি ফার্স্ট ফাইন্যান্সের দর বেড়েছে ৯.৩৩ শতাংশ।

লভ্যাংশ দেয়া দেশ গার্মেন্টস ছিল দর বৃদ্ধির তালিকায় পঞ্চম স্থানে। কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা ছিল না বললেই চলে। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৮.৬৮ শতাংশ। ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ১ লাখ ৬ হাজার ৯৫৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
বুধবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

বছরের পর বছর ধরে লোকসানি মেঘনা পেটের দর ৮.৬১ শতাংশ, এএমসিএল (প্রাণ) এর দর ৭.৯৩ শতাংশ, লোকসানি সেন্টাল ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৮৫ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ফার্মা এইডের দর ৭.৪৯ শতাংশ, লোকসানে থেকেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিচ হ্যাচারির শেয়ার দর ৭.৪৮ শতাংশ আর লোকসানে থাকা এমবি ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৪৫ শতাংশ।

দর পতনের দশ কোম্পানি

গত ১০ দিনের লেনদেনে ৫ দিন দর হারানো দুলামিয়া কটনের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ৭.৩৮ শতাংশ। দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৫০ টাকা ২০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আরামিট সিমেন্টের শেয়ার দর কমেছে ৫.৭৮ শতাংশ। ৩৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে দাম কমে হয়েছে ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

আমরা নেটওয়ার্কের দর কমেছে ৫.৭২ শতাংশ কমে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ৪৯ টাকা ৪০ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৫.৬১ শতাংশ। কোম্পানিটির দর ১৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের দর কমেছে ৫.৩৩ শতাংশ। দাম ২৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন শুরুর পর ২৩ তম কর্মদিবসে এসে দর হারিয়েছে। ৫.০৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৮৭ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ৮২.৭০ টাকা।

দর পতনের তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৮৪ শতাংশ, হামিদ ফেব্রিক্সের ৪.৮৩ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ৪.৭৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ৪.৬৯ শতাংশ।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
খাদ্য ছাড়া প্রধান সব খাতেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে

লেনদেনে এগিয়ে থাকা ১০ কোম্পানি

শেয়ার প্রতি ৭ টাকার বেশি দর হারালেও লেনদেনে আবার সেরা বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মোট ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ২৪২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

শেয়ারদর ১৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬২ টাকা ৮০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের দর কমেছে ৮০ পয়সা। ১৯ টাকা ২০ পয়সা থেমে কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা। ৪৪ কোটি টাকায় হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৪ হাজার ২৫১টি শেয়ার।

জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮টি শেয়ার।

ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটির ১ কোটি ৬৩ রাখ ৬৫ হাজার ১৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৩৫১টি শেয়ার হাতবদলের বিপরীতে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯ হাজার ৩৯৫টি শেয়ার।

লেনদেন এগিয়ে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপার, ডেল্টা লাইফ ও পাওয়ারগ্রিডে।

এছাড়া ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৭টি। ৯ কোটি টাকার বেমি লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল তিনটি।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা

এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা

অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে অংশ নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির প্রতিনিধিরা কেউ গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেননি। তবে একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘এই দুটি বিষয়ে আলাপ হয়েছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি করা না করার বিষয় আর নেই। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তাদের দিক থেকে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। এটি করার জন্য আইন পরিবর্তনের দরকার পড়বে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে, এ জন্য কিছু সময় লাগবে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না এলেও বৈঠকে অংশ নেয়া একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা নিয়ে যে মতভেদ আছে, তা নিরসন এখন বিএসইসি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই। বিষয়টি এখন সরকারের হাতে।

গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে বৈঠকের এক সপ্তাহ পর প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় বৈঠকটির আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ছাড়াও যোগ দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির প্রতিনিধি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির কেউ কথা বলেননি। বৈঠকের সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা যেসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন, সেটি চূড়ান্ত আকার নিতে আরও একটি বৈঠক লাগবে। চলতি ডিসেম্বরে বা আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই হবে সেই বৈঠক।

এই বৈঠককে ঘিরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দুটি বিষয়ে প্রত্যাশা ছিল। একটি হলো পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে নাকি বাজার মূল্যে বিবেচনা হবে, বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমায় থাকবে নাকি বাইরে থাকবে।

তবে বৈঠক শেষে এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি বৈঠকের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এগুলো খুবই সেনসিটিভ ইস্যু। এ ব্যাপারে এখনই কোনো কথা বলতে চাইছি না। এর জন্য আপনাদেরকে পরবর্তী বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

বৈঠকে অংশ নেয়া অন্য কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই দুটি বিষয়ে আলাপ হয়েছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি করা না করার বিষয় আর নেই। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তাদের দিক থেকে এসব বিষয়ে দিক নির্দেশনা আসবে। এটি করার জন্য আইন পরিবর্তনের দরকার পড়বে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে, এ জন্য কিছু সময় লাগবে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্তব্য জানতে চাইলে সংস্থাটির সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো কথা বলবে না।’

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে কিছু বিধি নিষেধ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানির আলোকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলো আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। এ জন্য তিন বছর সময় দিয়ে কারও অতিরিক্ত বিনিয়োগ ২০১৬ সালের ২১ জুলাইর মধ্যে নামিয়ে আনতে বলা হয়।

এই বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভেদ আছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শেয়ারের বাজারমূল্য বা ক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় এই বিনিয়োগসীমা।

এর ফলে কোনো ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে সীমা অতিক্রম করে গেলে তা বিক্রি করে দিতে হয়। এর ফলে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ আসে।

এটিকে পুঁজিবাজার উন্নয়নের বাধা হিসেবে দেখছে বিএসইসি। গত ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তিনি এই হিসাব গণনার পদ্ধতি পাল্টে ক্রয়মূল্যে করতে আইন সংশোধনের অনুরোধ করেন সরকারপ্রধানকে।

প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, সেটি উল্লেখ না করলেও বিএসইসি চেয়ারম্যান বৈঠকের প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সুপার আলোচনা হয়েছে।’

পরদিন রাজধানীতে এক আয়োজনে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের যে আন্তরিকতা সেটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম

বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম

এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা ও এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

২০২২-২০২৩ কার্যকালের জন্য তারা নির্বাচিত হলেন। তাদের সহযোগিতা করবেন ১৯ সদস্যের নির্বাহী কমিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সমিতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ বা বিএপিএলসিতে নতুন নেতৃত্ব এসেছে।

এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা এবং সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

২০২২-২০২৩ কার্যকালের জন্য তারা নির্বাচিত হলেন।

সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন

উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টসের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের স্বতন্ত্র পরিচালক আনিস এ খাঁন, দেশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের, হামিদ ফেব্রিকসের এমডি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

আরও আছেন বারাকা পাওয়ারের পরিচালক গোলাম রব্বানী চৌধুরী, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ)-এর এমডি তাবিথ আউয়াল, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি মমিনুল ইসলাম, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের এমডি হুমায়ুন রশিদ, গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এমডি ফারজানাহ্ চৌধুরী।

জেমিনি সি ফুডের এমডি কাজী ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের এমডি কায়ছার হামিদ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের এমডি ইমাম শাহীন, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এমডি ফারমান আর চৌধুরী, বঙ্গজের পরিচালক আতিকুল হক, সামিট পাওয়ারের পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খাঁনও আছেন নির্বাহী কমিটিতে।

অন্য সদস্যরা হলেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের অলি কামাল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব তানভীর আলী, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারহোল্ডার তাজওয়ার মুহাম্মদ আউয়াল এবং ন্যাশনাল ফিড মিলের পরিচালক আদিব হোসেন বাবুল।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠকের দিন ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীরা তাকিয়েছিলেন আলোচনার ফলাফলের দিকে।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৭০ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ হয় ৭ হাজার ৪৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয় এক হাজার ৩৩১ কোটি ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা গত ২১ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আগে কয়েক দিন পুঁজিবাজারের লেনদেন গতি হারালেও বৈঠকের দিন দিয়েছে লাফ। শেয়ারদর ও সূচক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে অনেকটাই।

১০ কর্মদিবস পর সূচক আবার ৭ হাজার পার করেছে, যেটিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই বিষয়টি অবশ্য লেনদেন চলাকাছে জানা যায়নি। তবে সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে সূচক। বেলা ১১টা বাজার কিছুক্ষণ আগে সূচক বাড়ে ৭৫ পয়েন্ট। এরপরের বেলা সোয়া একটা পর্যন্ত সেখান থেকে কিছুটা কমে সূচক। এরপর থেকে আবার বাড়ে।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৭০ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ হয় ৭ হাজার ৪৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয় এক হাজার ৩৩১ কোটি ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা গত ২১ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

দিন শেষে বেড়েছে ২৭৪টি কোম্পানির শেয়ারদর, কমেছে ৬৯টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৩২টি।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে বৈঠক হয়, তার প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে বুধবার। কারণ, এই বৈঠক শেষে এর সভাপতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ যে বক্তব্য রাখেন, তা লেনদেনের পরেই বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেন।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, ‘ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও একটি বৈঠক করতে হবে। সেটি চলতি মাসে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে।… ওই বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।’

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনা পদ্ধতি আর বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না- এ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এগুলো খুবই সেনসিটিভ ইস্যু। এ ব্যাপারে এখনই কোনো কথা বলতে চাইছি না। এর জন্য আপনাদেরকে পরবর্তী বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের দিন শুরুতে সূচক বেড়ে পরে কমলেও শেষ সময়ে আবার ক্রয়চাপ দেখা দেয়

আড়াই মাস ধরে দর সংশোধনে থাকা পুঁজিবাজারে সম্প্রতি টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয় বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে বিরোধ ইস্যুতে।

গত ৩০ ডিসেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা যা এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ নিয়ে মতভিন্নতার অবসানের আশা তৈরি হয়।

সেই বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেউ বক্তব্য না দিলেও বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনা ও বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তারা নীতিগতভাবে এসব বিষয়ে একমত হয়েছেন।

পরদিন পুঁজিবাজারে হয় উত্থান। এক দিনেই সূচক বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট। তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তৈরি হয় উদ্বেগ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেসব সঠিক নয়।

এই খবরে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে। তবে এ সময় তার আগের রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ তুমুল আলোচনা তৈরি করে, ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। শেষ পর্যন্ত লেনদেন শেষ হয় ৮৯ পয়েন্ট সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে।

ওই বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের যে আন্তরিকতা আছে, তা প্রকাশ হবে সামনের কিছু দিনে।

এসব ঘটনার পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে যায় পুঁজিবাজার। এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা, পর্যালোচনা, তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়। বাজার নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী আসছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পাল্টাবে কি না, বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে- এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতে থাকে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে।

কিন্তু এই বৈঠকে কী হয়, তা নিয়ে সংশয়ে কমে যায় লেনদেন। দুই দিনই সূচক বাড়লেও লেনদেন একেবারেই কমে যায়। দুই দিনই নয়শ কোটি টাকার কম শেয়ার হাতবদল হয়। এতে স্পষ্ট হয় বড় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে না গিয়ে হাত গুটিয়ে আছেন।

বৈঠকের দিন হাত গুটিয়ে রাখা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকেই সক্রিয় হয়েছেন, এটা স্পষ্ট।

লেনদেন ও সূচকে ভূমিকা যেসব কোম্পানি ও খাতের

খাত হিসেবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্থিক, বস্ত্র, প্রকৌশল, সিমেন্ট খাতে প্রায় সব কোম্পানির দর বেড়েছে। ভালো দিন গেছে ব্যাংক, বিমা ওষুধ রসায়ন, তথ্য প্রযুক্তি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও।

লেনদেনে আবার সেরা ব্যাংক খাত। এর পরের অবস্থান যথাক্রমে ওষুধ ও রসায়ন, বিবিধ, বস্ত্র, আর্থিক ও বিমা খাত। মোট পাঁচটি খাতে লেনদেন হয়েছে একশ কোটি টাকার বেশি।

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি না বাড়লেও সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ২.১ শতাংশ বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ৫.৫৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, যার দর ২.৮২ শতাংশ বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৬৩ পয়েন্ট।

সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করেছে, এমন কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে উইনাইটেড পাওয়ার, আইসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণ ফোন, বার্জার পেইন্টস, ওয়ান ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ২৯.০৮ পয়েন্ট।

বাজারে ভালো দিনেও শেয়ারদর কমেছে ওয়ালটনের, যার দর ০.৩৬ শতাংশ কমায় সূচক থেকে হারিয়েছে ২.৩৬ পয়েন্ট।

এ ছাড়া রবি, শাহজিবাজার পাওয়ার, ফরচুর সুজ, সোনালী পেপার, আমান ফিড, পদ্মা অয়েল. ডেল্টা লাইফ, ইউনিক হোটেল, ও উত্তরা ব্যাংকও সূচক কমিয়েছে। তবে দরপতনের হার খুব একটা বেশি না হওয়ায় সূচকে প্রভাব পড়েছে কমই।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৭.১৩ পয়েন্ট।

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির দিন সূচক কিছুটা হলেও কমিয়েছে এই কোম্পানিগুলো

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

এই তালিকার প্রথম তিনটিই লোকসানি কোম্পানি, যেগুলোর দর বেড়েছে সমান ১০ শতাংশ করে। তিনটি কোম্পানিই লোকসানের কারণে এবার লভ্যাংশ দেয়নি আর এরপর ক্রমেই দর হারাচ্ছিল। এই তিনটির মধ্যে দুটির আবার গত এক যুগের লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস নেই।

কোম্পানিগুলো হলো খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মেঘনা পেট ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক।

এর মধ্যে খাদ ব্রাদার্সের দর, যার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। শেয়ার দর ১১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের দর ১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা আর মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের দর ১৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা ৯০ পয়সা।

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
বেশ কিছুদিন পর পাঁচটি খাতে একশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন দেখা গেল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকার বাকি ৭টি কোম্পানির দরও বেড়েছে একদিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। এগুলো হলো ওটিসিফেরত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, নতুন তালিকাভুক্তি সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, মুনাফায় থাকার পরেও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ক্রমেই দর হারানো ফুওয়াং ফুড, অ্যাপোলো ইস্পাত, ডেল্টা স্পিনার্স, ফাইন ফুডস ও জিএসপি ফাইন্যান্স।

আরও ৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায়।

আরও পাঁচটি কোম্পানির দর ৮ শতাংশের বেশি, ৬টি কোম্পানির দর ৭ শতাংশের বেশি, ৭টি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, ১০টি কোম্পানির দর ৫ শাতংশের বেশি, ২১টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ১৭টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৫২টির দর ২ শতাংশের বেশি, ৭৩টির দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

দর পতনের শীর্ষ ১০

যেগুলোর দর কমেছে, সেগুলোর দর শতকরা হারে খুব বেশি কমেনি। এই তালিকার শীর্ষে থাকা আমান ফিড দর হারিয়েছে ৩.৫৭ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এশিয়ার ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৩.০৬ শতাংশ।

বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
শেয়ারদরের পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে বেশিরভাগ খাতেই

জিবিবি পাওয়ার, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, ফরচুন সুজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, দেশ গার্মেন্টস, সোনলী পেপার, শাহজিবাজার পাওয়ার দর হারিয়েছে ২ শতাংশের বেশি। আর তালিকায় ১০ নম্বরে থাকা স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ১.৮৯ শতাংশ।

দর হারানো বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরও ১৫টি দর হারিয়েছে ১ শতাংশের বেশি, বাকিগুলোর দর কমেছে এক শতাংশের কম।

লেনদেনে সেরা যেগুলো

লেনদেনের এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট ৭৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫১টি।

একশ কোটি টাকার লেনদেনের ঘরে ছিল ওয়ান ব্যাংকও। ৫ কোটি ৬ লাখ ২৮ হাজার ৯৪১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১০০ কোটি ১১ লাখ টাকায়।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৯টি শেয়ার।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা পাওয়ার গ্রিডে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকার। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫১ লাখ ৩ হাজার ২৫১টি।

পঞ্চম স্থানে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এছাড়া প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের ২৭ কোটি ৫১ লাখ, ডেল্টা লাইফে ২৫ কোটি ৭২ লাখ, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালে ২৪ কোটি ২ লাখ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকে ২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩৪.০৭ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৬১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪৬.১০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’

আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আলোচিত এই বৈঠক হয়।

‘ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও একটি বৈঠক করতে হবে। সেটি চলতি মাসে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে।… ওই বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার কথা জানিয়েছেন বৈঠকের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ। তবে যেসব বিষয় নিয়ে মতভেদ, সেগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও একটি বৈঠক করতে হবে বলে জানিয়েছে তিনি। বলেছেন, সেই বৈঠকের পরেই ‘দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।’

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতীক্ষিত এই বৈঠক হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, এনবিআর, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মনোনীত প্রতিনিধিসহ অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সোয়া দুইটার পর বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির পক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তারা কিছু বলেননি।

পরে মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও একটি বৈঠক করতে হবে। সেটি চলতি মাসে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে।… ওই বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিরতির পর আমাদের মধ্যে এই বৈঠক হয়েছে। আমাদের আলোচনায় তথ্য উপাত্তের বেশ কিছু ঘাটতি ছিল যা আলোচনায় উঠে এসেছে। এ কারণে আরও একটি বৈঠক করতে হবে।’

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনা পদ্ধতি আর বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না- এ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এগুলো খুবই সেনসিটিভ ইস্যু। এ ব্যাপারে এখনই কোনো কথা বলতে চাইছি না। এর জন্য আপনাদেরকে পরবর্তী বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

২০১৯ সালে শেষবার যখন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়, তখন বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে ছিল পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠন, বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা দেয়া এবং পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগ পুঁজিবাজার এক্সপোজারের বাইরে রাখা।

এবার বাইরেও পুঁজিাবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর পুঞ্জিভূত লোকসান থাকলেও কোনো বছরে মুনাফা করলে লভ্যাংশ দেয়ার সুযোগ দেয়ার পক্ষে প্রস্তাব তেয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত মুনাফা দিয়ে গঠন করা স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানি থেকে টাকা আসতে যেন বাধা দেয়া না হয়, এই বিষয়টিও নিশ্চিত হতে চাইছে সংস্থাটি।

তবে বিএসইসির প্রধান চাওয়া পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজার মূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণ করা এবং বন্ডে বিনিয়োগকে ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখা।

এসব বিষয় নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই দুটি বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমতও হয়েছে। তবে দাপ্তরিক কিছু কাজ শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তার এই বক্তব্যের পর পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান হয়। বৈঠকের পর দিন সূচক বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট। কিন্তু সেই রাতেই কেন্দ্র্রীয় ব্যাংকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে তৈরি হয় নতুন উদ্বেগ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন এসেছে, সেগুলো সঠিক নয়।

এই বিজ্ঞপ্তির পর আতঙ্ক এতটাই জেঁকে বসে যে, পরদিন লেনদেনের দুই মিনিটেই সূচক পড়ে যায় ৮৪ পয়েন্ট। এর পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকার এই খবর গণমাধ্যমে আসার পর তৈরি হয় উল্টো পরিস্থিতি। দিন শেষে সূচক বাড়ে ৮৯ পয়েন্ট।

এরপর আরও দুই দিন সূচক বাড়ে অল্প করে। সব মিলিয়ে চার কর্মদিবসে সূচক বাড়ে ২৭৫ পয়েন্ট। বৈঠকের দিন আরও ৭০ পয়েন্ট বাড়ায় টানা ৫ দিনে বাড়ল ৩৪৫ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

পুঁজিবাজারে লেনদেন করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

এই বৈঠককে ঘিরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সকাল থেকেই পুঁজিবাজারে মূল্য সূচকের উত্থান দেখা দিয়েছে। বেড়েছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর।

পুঁজিবাজার নিয়ে যখন স্বতন্ত্র দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতবিরোধ চূড়ান্ত, তারই মধ্যে দুই পক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতীক্ষিত সেই বৈঠকে বসেছে।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।

গত বুধবার রাতে এই বৈঠকটি আহ্বান করা হয়। আর বৃহস্পতিবার সেই তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এই বৈঠক ডাকার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে পুঁজিবাজারে উদ্বেগ তৈরি করলেও এই উদ্যোগের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, এনবিআর, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মনোনীত প্রতিনিধিসহ অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত আছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে ইতোপূর্বে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন অংশীজনদের কাছ থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছিল, তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি কতদূর এগিয়েছে এবং অসম্পূর্ণ পদক্ষেপগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে; তার সমন্বয় ও তদারকিই বা কীভাবে করা যায় তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে আজকের এই বৈঠকে।

পুঁজিবাজার উন্নয়ন সম্পর্কিত কয়েকটি ইস্যুতে সৃষ্ট মতবিরোধের প্রেক্ষিতে আইনি দিকটির অধিকতর পর্যালোচনাও গুরুত্ব পাবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই বৈঠক থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বন্ডে ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এক্সপোজার লিমিটের (নির্ধারিত বিনিয়োগ সীমার) বাইরে রাখা না রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসে কিনা তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

এই ‘এক্সপোজার লিমেট’ এর ‘গণনা পদ্ধতি’ নির্ধারণের বিষয়টি কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূল্যে বিবেচিত হবে, না ক্রয়মূল্যে হবে- তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা আছে।

এছাড়া বিএসইসির উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের ফলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন চায় বিনিয়োগকারীরা।

পুঞ্জিভূত লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়েও বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। বিএসইসি চায় পুঞ্জিভূত লোকসান থাকলেও কোনো একটি অর্থবছরে মুনাফা করলে লভ্যাংশ বিতরণের সুযোগ করে দিতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা পক্ষে নয়।

সব পক্ষের আলোচনা শুনে অর্থমন্ত্রণালয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন সম্পর্কিত নতুন কিছু সিদ্ধান্তে আসতে পারে, যা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতে পারে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে পরবর্তীতে ভিন্নতর আঙ্গিকে সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উপস্থিতিতে জানানো হতে পারে। যা পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে লাগাতার দরপতনের প্রেক্ষাপটে করণীয় নির্ধারণে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনের এনএসই ভবনে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন।

চার ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ ওই বৈঠকে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, বাজার মধ্যস্থতাকারী, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই অংশ নিয়েছিলেন।

ওই বৈঠকের পর গৃহীত নীতি সিদ্ধান্তগুলোর কোনোটির বাস্তবায়ন আদৌ হয়েছে কি-না, তা কেউ বলতে পারনেনি। তবে বৈঠকের কোনো প্রভাব পুঁজিবাজারে ছিল না। বরং লাগাতার দরপতন অব্যাহত ছিল পুঁজিবাজারে।

তবে আজকের এই বৈঠককে ঘিরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সকাল থেকেই পুঁজিবাজারে মূল্য সূচকের উত্থান দেখা দিয়েছে। বেড়েছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর।

আরও পড়ুন:
আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য
টানা তিন দিন দরপতন, গতি ফেরেনি লেনদেনেও
এবার বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় শেয়ার কেনার ঘোষণা
ব্যাংক খাতে উল্টো চিত্র, সূচকে বড় পতন

শেয়ার করুন