কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল ও তার সঙ্গীকে হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে মেয়র সাক্কু বলেন, ‘কুমিল্লার ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আমরা সিটি করপোরেশনের সকল কাউন্সিলরসহ নগরবাসী এক হয়েছি। আমরা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।

নগর মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে মেয়র সাক্কু বলেন, ‘কুমিল্লার ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা সিটি করপোরেশনের সব কাউন্সিলরসহ নগরবাসী এক হয়েছি। আমরা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

মেয়র আরও বলেন, ‘যদি দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় নেয়া না হয় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন খান জম্পি বলেন, ‘এমন খুনের ঘটনায় আমরা কাউন্সিলররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের নিরাপত্তা চাই।’

৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ বলেন, ‘আমরা যদি সঠিক বিচার না পাই, তাহলে আমরা সিটি কাউন্সিলররা সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিব।’

২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদুর মাসুদ বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীকে যেভাবে হত্যা করা হলো তাতে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। শুধু মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাই কাল হয়েছে আমার বন্ধু সোহেলের।’

মানববন্ধন শেষে মেয়র সাক্কুর নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের ও শাস্তির দাবি জানিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

নিজ কার্যালয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরীয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে। এরই মধ্যে মো. সমুন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

নরসিংদীর রায়পুরায় এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার আমিরগঞ্জ বাজারের একটি বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে ফারজানা আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতের স্বামী মো. লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফারজানা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের টিপ্পিনগর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাতে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল জব্বার বলেন, লোকমান-ফারজানা দম্পতি আমিরগঞ্জ বাজারের কাছে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। এরমধ্যে একটিতে তারা থাকতেন আরেকটিতে ফারজানা বিউটি পার্লার করেন।

রোববার রাত দুইটায় লোকমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ফারজানাকে বিউটি পার্লারের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ দুপুরে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরায় ইউপির ভোটে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের দিন সংঘর্ষ হয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে। ভোট শেষের আগমুহূর্তে রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। পরদিনও রায়পুরে ভোটে জয়ী-পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান।

লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরদিনও থেমে নেই সহিংসতা। ভোটের দিন সংঘর্ষে রামগঞ্জ উপজেলায় একজনের প্রাণহানির পর সোমবার আবারও রায়পুর উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উপজেলায় ভোটের দিনও সংঘর্ষ হয়েছে।

রায়পুরের উত্তর চরবংশীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিয়া মোড় এলাকায় সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়ান নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় তারা অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, রোববারের নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের সদস্য হন জাহাঙ্গীর বকসি। পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ানের সমর্থকরা দুপুরে কুচিয়া মোড় এলাকায় জড়ো হন। জাহাঙ্গীরের লোকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পড়ে সংঘর্ষে গড়ায়।

তিনি বলেন, অন্তত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকরা বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় জাহাঙ্গীর বকসির ভাই লিটন বকসির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে, একটি মাছ ধরার নৌকা ও জাল পুড়িয়ে দেয়।

জবাবে বিজয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মফিজের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা হামলা চালায় তার লোকজনের ওপর।

এর আগে ভোটের দিন রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশীর পশ্চিম চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অন্য সদস্য পদপ্রার্থী খালেকুজ্জামান খালেক বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

এতে খালেকুজ্জামানসহ দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন।

একই সময় রামগঞ্জের বাদুর ইউপির আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে হানুবাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে।

এরপর ভোট শেষের আগমুহুর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকেন ঋতু। তার কাছে নিরাপদ থাকবে ইউনিয়ন। ঋতু সরকারি বরাদ্দ নয়ছয় করবেন না, এমনটিও আশা ভোটারদের।  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে ঋতুর বিশাল জয়ে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। নৌকার প্রার্থীও পরাজয় মেনে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋতুকে।
নতুন চেয়ারম্যান বলছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।

ইউপি নির্বাচনে ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা হাতপাখার মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৮০৯ ভোট।

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বদিলাপাড়ার ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ঋতু অনেক ভালো। তিনি মানুষের উপকার করেন। তাই আমরা তাকে ভোট দিছি।’

বহিরগাছি গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ‘ঋতু বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। তাকে আমরা জিতাইছি। এখন সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুক।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিম শেখ বলেন, ‘ঋতুর ঘর নেই, সংসার নেই, তার কাছে ইউনিয়ন নিরাপদ। আশা করছি, আমাদের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দ তিনি ঠিকমতো বিতরণ করবেন।’

আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মানুষ বলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। সে কথাটা ঠিক না। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের ইউনিয়ন।

‘‘মানুষ যদি যোগ্য হয় তাহলে তার স্থান ঠিকই পাবে। সারা দেশের ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা ঋতুর মতো যোগ্য হন, মানুষের উপকার করেন। তাহলেও মানুষও আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’’

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে


বিজয়ী নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার বয়স ৪৩ বছর। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। অল্প বয়সে চলে যেতে হয়েছিল ঢাকায়। সেখানে ডেমরা থানায় দলের গুরুমার কাছেই তার বেড়ে ওঠা।

ঋতু বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও নিয়ম করে এলাকায় যেতাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতাম।

‘জনগণ আমার পক্ষে আছে। আমি একটা কথা জানি, অনেক মানুষের অনেক কথা থাকে। আমার কিচ্ছু নেই। আমার ঘর নেই, সংসার নেই। এই জন্য আমার লোভ-লালসা নেই। এই জনগণই আমার সব।’

আগামীর পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে সব করতে চাই। জনগণ যা বলবে আমি তাই করব। জনগণ বলেছে, ওর ছেলে নেই মেয়ে নেই, ঘর সংসার নেই, ও আমাদের জন্যই কাজ করবে। আমি জনগণের পক্ষেই সব সময় থাকব। জনগণ আমাকে যেইটা বলে আমি সেইটা করব।’

ঋতু বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কাজ এখনও হয়নি। রাস্তাঘাট ভাঙা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এসব কাজ করার জন্য আমি চেষ্টা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন একটু সুনজর দেন।’

পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালো নিয়েছে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন।

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওইদিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র

বায়েজিদ বলেন, ‘বাড়িতে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আনন্দঘন মুহুর্তে বাবা জেলে।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এস এম দীন ইসলাম কারাগারে দুই বছর। টানা দুইবারের চেয়ারম্যান হওয়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে জেলে থেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেন দীন ইসলাম। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে এস এম বায়েজিদ। রাজনীতিতে কোনো দক্ষতা না থাকলে বাবার হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন তিনি।

উঠান বৈঠক, পথসভা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রচারে জনগণের মন কেড়েছেন। অবশেষে ২৮ নভেম্বর খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে বাবাকে বিজয়ী করেছেন ছেলে।

নির্বাচনের পরদিন সোমবার কোদলা গ্রামে চেয়ারম্যান এস এম দীন ইসলামের বাড়িতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ। তখন বাবার শূন্যতায় আবেগাপ্লুত ছেলে বায়েজিদ।

নিউজবাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বায়েজিদ বলেন, ‘আমার বাবা ৮ বছর ধরে ছাগলাদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দুইবারের চেয়ারম্যানও তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালে এলাকায় একটি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়। এজাহারে প্রথমে বাবার নাম না থাকলেও পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় বাবাকে।

‘আদালত থেকে কয়েকবার জামিন পেলেও জেলগেট থেকে তা বাতিল হয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারণে কোনোভাবেই বাবাকে জামিনে মুক্ত করা যায়নি।’

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র
বাবা জেলে থাকায় তার পক্ষে প্রচার চালান বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করছি। রাজনীতির কোনো বিষয় তেমন জানা নেই আমার। বাবা জেলে থাকার কারণে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাননি৷ কিন্তু এলাকার জনগণ বাবাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে জোরাল দাবি করেন।সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি বাবার হয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেই। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে যাই।

‘পথসভা, উঠান বৈঠক সবকিছুতেই অংশ নেই। এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তবে প্রচারের সময় প্রতিপক্ষের অনেক বাধার মুখেও পড়েছি। কিন্তু আমরা কোনো প্রকার ঝামেলায় না গিয়ে শুধু মানুষের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। রোববারের নির্বাচনে জনগণ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। জেলে থেকেও বাবা বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিজয় এলাকাবাসীর।’

বায়েজিদ বলেন, ‘বাড়িতে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আনন্দঘন মুহুর্তে বাবা জেলে।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ভাগনে চেয়ারম্যান, আনন্দ আয়োজনে মামার মৃত্যু

ভাগনে চেয়ারম্যান, আনন্দ আয়োজনে মামার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভাগনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রঙ মেখে আনন্দ করার সময় মামার মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাড়াদি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে জয়লাভ করায় সোমবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে আনন্দ করছিলেন আমার ছোট মামা। সবাই মিলে রং মাখামাখি করে আনন্দ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভাগনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রং মেখে আনন্দ করার সময় মামার মৃত্যু হয়েছে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত ইকার উদ্দিন মালিথার বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য।

বাড়াদি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন বলেন, ‘রোববার তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বাড়াদি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। নির্বাচনে জেতায় সোমবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে আনন্দ করছিলেন আমার ছোট মামা।

‘এ সময় তিনি তার দোকান থেকে এলাকার সবাইকে চকলেট-বিস্কুট খাওয়াতে থাকেন। সবাই মিলে রং মাখামাখি করে আনন্দ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াসাদ জামান তুলন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকার উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন

নৌকার চেয়ারম্যানের ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যা

নৌকার চেয়ারম্যানের ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবি

চকরিয়া থানার ওসি ওসমাণ গণি জানান, রোববার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর মিছিল বের করেন তিনি। গাউসিয়া মসজিদ হেফজখানা এলাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে মিছিলে হামলা চালায় চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হেফাজ সিকদারের এক থেকে দেড় শ সমর্থক।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নতুন চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফের ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

বদরখালী ইউনিয়নে রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার দুপুরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমাণ গণি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গিয়াস উদ্দিন মিন্টুর বাড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ড ঢেমুশিয়া পাড়ায়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, রোববার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর মিছিল বের করেন তিনি। গাউসিয়া মসজিদ হেফজখানা এলাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে মিছিলে হামলা চালায় চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হেফাজ সিকদারের এক থেকে দেড় শ সমর্থক।

এ সময় আরিফের ভাগনে গিয়াস উদ্দিনকে লাঠি ও দা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে মিন্টুর মৃত্যু হয়।

ওসি ওসমাণ গণি আরও জানান, মরদেহ চকরিয়া হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল
শেষকৃত্যের পরও মা জানেন না ছেলে নেই
কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আসামি সুমন গ্রেপ্তার
কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ১১ জনের নামে মামলা
সোহেল হত্যা: ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

শেয়ার করুন