সেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’

সেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’

রাজধানীর গুলিস্তানে ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন নটর ডেমের ছাত্র নাঈম হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মো. রাসেল নামের ওই ব্যক্তি একসময় সিটি করপোরেশনের মাস্টার রোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তবে মাস্টার রোলের ওই চাকরিটি চলে যাবার পর রাসেল কীভাবে গাড়ির চালক হয়ে গেলেন তা জানা যায়নি। আটকের পর রাসেল পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে, তবে তা তিনি দেখাতে পারেননি। কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটিতে নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে সেখানে যান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছিলেন, তা চালাচ্ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। চালকের পরিবর্তে ময়লা বহন করা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তিনি।

মো. রাসেল নামের ওই ব্যক্তি একসময় সিটি করপোরেশনের মাস্টার রোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

তবে মাস্টার রোলের ওই চাকরিটি চলে যাবার পর রাসেল কীভাবে গাড়ির চালক হয়ে গেলেন তা জানা যায়নি। আটকের পর রাসেল পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে, তবে তা তিনি দেখাতে পারেননি।

রাসেল কী হিসেবে কাজ করতেন তা স্পষ্ট জানাতে পারেনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতেই সব তথ্য উঠে আসবে বলে জানান ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিস্তানে হল মার্কেটের কাছে ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হন। তার গ্রামের বাড়ী লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার সমষপুর মিয়াজীবাড়ী গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন তিনি।

ঘটনার পরপরই গাড়ির চালক রাসেলকে আটক করে পুলিশ। রাসেলকে আসামি করে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বাদী হয়েছেন নিহত নাঈমের বাবা শাহ আলম।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সড়ক পরিবহন আইনের ৬৬, ১০৫ ও ৭৮ ধারায় মামলাটি হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিএসসিসির গাড়ির তুলনায় চালকের সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চালক পদে নিয়োগ নেই। এই সংকটকে পুঁজি করে একটি চক্র চালক নয় এমন ব্যক্তি দিয়েও সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালাচ্ছে।

তিনি জানান, রাসেল একসময় সিটি করপোরেশনের মাস্টার রোলে ক্লিনারের কাজ করতেন। এখন তিনি ক্লিনার হিসেবেও সেখানে নেই।

তবে কীভাবে কার মাধ্যমে গাড়িটি রাসেল চালাচ্ছিলেন তা জানাতে পারেননি তিনি।

সিটি করপোরেশনের ময়লার এই ট্রাকটির প্রকৃত চালক তিনি নন তা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন মো. রাসেল।

রাসেলের বরাত দিয়ে থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, বদলি চালক হিসেবে রাসেল সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তার কাছে কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএসসিসি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সিতওয়াত নাঈমকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির দুই সদস্য হলেন জিএম ট্রান্সপোর্ট ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।

কমিটি তদন্তে নেমে দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেবে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে সংঘটিত হলো তা সবিস্তারে উত্থাপন ও দোষীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশ দেয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গাড়ির চালকের পরিচয়সহ সব বিষয় উঠে আসবে বলে মনে করেন আবু নাছের।

নাঈম হাসান মৃত্যুর প্রতিবাদে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গুলিস্তানের পুলিশ বক্সের পাশে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে অবস্থান নেন নটর ডেমের শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মতিঝিল, পল্টন, জিরো পয়েন্ট এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট।

সেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’
ডিএসসিসির গাড়ির চাপায় সহপাঠীর নিহতের ঘটনায় দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গুলিস্তান মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নটর ডেমের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা নাঈম হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়ক দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ করছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা গুলিস্তান, শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিহত শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পরিবারের কাছে নাঈমের মৃতদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই মুনতাসির মামুন বলেন, ‘ভাইয়ের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছি কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকায়। সেখানে জানাজা শেষে তার মৃতদেহ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার মিয়াজী বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হবে।’

কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটিতে নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে সেখানে যান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মেয়র বলেন, আসলে সন্তানহারা পিতা-মাতাকে তো সান্ত্বনা দেয়া যায় না। আমার নিজেরও দুই সন্তান। নিজেই উপলব্ধি করি, এটা কি রকম বেদনাদায়ক-মর্মান্তিক ঘটনা। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

ঘাতক চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করে মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘এ রকম গাফিলতি, কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। আমরা এরই মাঝে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ব্যবস্থা নেয়া আরম্ভ করেছি। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি এবং আমরা এরই মাঝে তাদের চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক যে কার্যক্রম আছে সেগুলোও আমরা নেব। যাতে করে সুষ্ঠুভাবে বিচার সম্পন্ন হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি যেন হয়, সেটাই আমরা কামনা করি।’

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

ভবনে বিস্ফোরণের পর এই জীবন বাঁচাতে এই পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই যুবক। ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দগ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনজন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে পারভেজ মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আদনান টাওয়ারে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. পারভেজ নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তিনি মারা যান।

গত বৃহস্পতিবারের ওই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুজনে। গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় সেদিন তিনজন দগ্ধ হয়েছিলেন।

বিস্ফোরণে পারভেজের শরীরের ১০০ ভাগই দগ্ধ হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক।

পারভেজের আগে মারা যাওয়া মামুনের শরীরেও শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। জীবন নামের আরেকজন ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দগ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনজন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে পারভেজ মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।’

নিহতের ভাই মো. সুমন বলেন, ‘আমার ভাই ১০ বছর ধরে অনন্ত অ্যাপারেলস গার্মেন্টসে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতেন। তার পরিবারে তিন বছর বয়সী মেয়ে ও এক বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।’

তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার নন্দীগ্রামে। পারভেজ সিদ্ধিরগঞ্জে সহকর্মীদের সঙ্গে মেস বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

উত্তরা থেকে যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধান

উত্তরা থেকে যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধান

আনিসুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবক। অন্তর্ধানের আগে তিনি নিজের ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন। স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। 

রাজধানীর উত্তরা থেকে আনিসুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি গত ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ। তিনি বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার আর্থ ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি বায়িং হাউজের কোয়ালিটি (কিউসি) ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে উত্তরায় বন্ধুর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ১৮ নভেম্বর আনিসুরের স্ত্রী ফাতিহা ইয়াসমিন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল মিল্লাদ বলেন, ‘আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আমরা উদ্ধার করেছি, যেটি তিনি বিক্রয় ডটকমের মাধ্যমে ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে ওনার ফোন বন্ধ। এরপর তিনি তার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলেন। সেই বন্ধুর বাসা থেকে আনিসুর তার নিজের বাসায় ফেরার জন্য বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ।’

আনিসুরের নিখোঁজ থাকাকে রহস্যজনক বলছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা। এসআই বদরুল বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার দিন কারো ফোন রিসিভ না করা, ফোনটি বিক্রি করে দেয়া, এরপর থেকে খোঁজ না পাওয়া বা বাসায় না ফেরা রহস্যজনক। তিনি নিজে থেকে নিখোঁজ রয়েছেন, না কোনো সমস্যা হয়েছে, তা আমরা তদন্ত করছি। আমরা আনিসুরকে উদ্ধারে চেষ্টা করছি।’

নিখোঁজের স্ত্রী ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঘটনার দিন আমাদের কারও সঙ্গে উনি ফোনে কথা বলেননি। আমার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছে। তিনি বাসায় ফিরবেন বলছিলেন, কিন্তু ফেরেননি।’

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল বলেন, যে বন্ধুর বাসায় আনিসুল সর্বশেষ গিয়েছিলেন, তাকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: গ্রেপ্তার হারুন রিমান্ডে

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: গ্রেপ্তার হারুন রিমান্ডে

নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের লাইব্রেরি কার্ড। ফাইল ছবি

আসামি হারুন মিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হারুনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়।

গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মী হারুন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম শনিবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনা আইনে করা মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হারুন মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় বলে নিউজবাংলাকে জানান পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মো. মোতালেব হোসেন।

র‌্যাব শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হারুন গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় বৃহস্পতিবার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেয় আদালত।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। ওই সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান।

গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকার টহল পুলিশ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্ব পাশ থেকে ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহ আলম দেওয়ান পল্টন থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত

পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত

নিহত গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের জা রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমার শাশুড়ি রুপবানু ও আমার জা মৌসুমী সকাল ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় ভ্যাকসিন নিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে সাড়ে ১২টায় আবারও সিএনজিতে বাসায় ফেরার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিআরটিএর সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী পিকআপ দুজনকে ধাক্কা দেয়।’

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে করোনার টিকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মৌসুমী আক্তার এবং তার শাশুড়ি রুপবানু।

নিহত গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের জা রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমার শাশুড়ি রুপবানু ও আমার জা মৌসুমী সকাল ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় ভ্যাকসিন নিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে সাড়ে ১২টায় আবারও সিএনজিতে বাসায় ফেরার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিআরটিএর সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী পিকআপ দুজনকে ধাক্কা দেয়।’

তিনি জানান, তাদের সঙ্গে থাকা মৌসুমী আক্তারের মেয়ে মোহনা আক্তার আহত হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আদ দ্বীন হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার শাশুড়িকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান রুবিনা বেগম।

পরে মৌসুমীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা আড়াইটার দিকে তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রুবিনা জানান, মৌসুমীর স্বামী মোহন মিয়া সৌদী প্রবাসী।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূকে হাসপাতালে আনার পর মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার ২

৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার ২

জব্দ করা ভারতীয় রুপি। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, এসব মুদ্রা পাকিস্তান থেকে দেশটির দুই নাগরিকের মাধ্যমে আমদানি করা মার্বেল পাথরের সঙ্গে আনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আনা হয় এসব মুদ্রা।

রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগ।

রাজধানীর খিলক্ষেত ও ডেমরা থানা এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে শনিবার ব্রিফিংয়ে জানায় ডিএমপি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফাতেমা আক্তার অপি ও শেখ মো. আবু তালেব।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, খিলক্ষেত থানার বনরূপা আবাসিক এলাকার মেইন গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নারী ভারতীয় জাল রুপিসহ অবস্থান করছেন বলে তথ্য পায় খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা আক্তার অপি নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়।

পরে ফাতেমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানার পন্ডিতপাড়া এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে আরও ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে জালিয়াতি চক্রের অপর সদস্য শেখ মো. আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফাতেমা আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে ভারতীয় জাল মুদ্রা কৌশলে সংগ্রহ করে দেশীয় চক্রের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিপণনসহ ভারতে পাচার করত। জব্দ করা মুদ্রা গত ২৩ নভেম্বর ফাতেমার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন তালেব।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তালেব পাকিস্তানি নাগরিক সুলতান ও শফির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথরের ৫০০টি বস্তার মধ্যে ৯৫টি বস্তায় করে ভারতীয় রুপিগুলো আনেন। এসব মুদ্রা শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আনা হয়।

পুলিশ জানায়, ফাতেমার বিরুদ্ধে আগেও মতিঝিল থানায় জাল টাকা সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় রাজধানীর গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার এবং বাসে হাফ পাস কার্যকরের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করেছে তারা।

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে তারা।

তাদের অবস্থানের কারণে রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ও এর আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের কয়েকটি দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে। আমরা তাদের সাধারণদের ভোগান্তির কথা বুঝিয়ে বলেছি। তারা আর কিছুক্ষণ থেকে চলে যাবে বলেছে। কিছুক্ষণ পর আমরা তাদের আবার বোঝাব। এখানে যেন কোনো অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের আহ্বান, তাদের ৯টি দাবি যেন দ্রুত কার্যকর করে সরকার। তাদের দাবিগুলো হলো:

০১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সকল সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

০২. ঢাকাসহ সারা দেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেল ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

০৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

০৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

০৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। (এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে)।

০৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

০৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএর সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

০৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

০৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হলে নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যাবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ময়লাবাহী ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার বিচার, বাসে হাফ পাস কার্যকর এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে টানা দুই দিন বিক্ষোভের পর শুক্রবার বিরতি দিয়ে ফের রাস্তায় নেমেছে তারা।

আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের মরদেহ হস্তান্তর
নটর ডেম শিক্ষার্থী নিহত, তদন্ত কমিটি
গুলিস্তান অবরোধ নটর ডেম শিক্ষার্থীদের
ডিএসসিসির গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেমের ছাত্র নিহত

শেয়ার করুন