ঢাকা-মালে সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা-মালে সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

গণভবনে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম সাক্ষাৎ করেন।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছি। এটি একটি হৃদয়স্পর্শী বিষয়।’

বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সেবা ব্যবহার করারও পরামর্শ দিয়েছেন মালদ্বীপকে।

সরকারি বাসভবন গণভবনে বুধবার দুপুরে ঢাকা সফরে আসা মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিমের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য সেবায় মালদ্বীপকে কারিগরি সহায়তা দিতে পারে বাংলাদেশ। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে মালদ্বীপকে সহায়তা করতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে মালদ্বীপকে একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসাবে তুলে ধরার বিষয়টি মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টকে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি মালদ্বীপের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ যখন কোনো সংকটের মুখে পড়ে তখনই বাংলাদেশের সমর্থন পায়।

ফয়সাল নাসিম বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছি। এটি একটি হৃদয়স্পর্শী বিষয়।’

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ’র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশে মেডিক্যাল কলেজে মালদ্বীপের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করার উল্লেখ করে এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট তার ঢাকা সফরকে খুবই ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহমেদ নাসিম, শিক্ষামন্ত্রী ড. ইব্রাহিম হাসান ও ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিরুজিমাথ সামীর এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ফাইল ছবি

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও রোধ করতে হবে।

রহমান মাসুদ, ঢাকা

সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত ৫০ বছরের অংশীদারত্ব: আগামী ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (রিস) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও হয়। যৌথভাবে এটা রোধ করতে হবে।

‘বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান সমস্যা হলো লজিস্টিক। বাণিজ্যের বেশির ভাগই হয়ে থাকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে। তবে শুধু সড়কপথে নয়, নদী এবং রেলপথেও বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ড. বীনা সিক্রি, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের এই ফ্লাইটটি। ছবি: নিউজবাংলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার পর সেটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, ফ্লাইটিতে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন । ঢাকা থেকে রাত পৌনে ৯টায় এটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করেন। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআর জানায়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবে।

মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো এ বছর কুচকাওয়াজে বন্ধুপ্রতিম এসব দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে লোগো উন্মোচন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইএসপিআর জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে যোগদান করবে।

জাঁকজমকপূর্ণ এই কুচকাওয়াজ আয়োজনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগ্রত হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল হবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম শফিকুল আলম।

এছাড়াও আসন্ন বিজয় দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণকারী এবং ঢাকা এরিয়ার ঊধ্বর্তন সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র কোনো অধিকার নয় বলে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে, আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

বুধবার ১৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ এমনটি বলেছে।

দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগ এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, ৩৬ অনুচ্ছেদে যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই ফৌজদারি অপরাধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ ও তার বিদেশযাত্রা আটকানো যাবে। তার পরও যদি কেউ আইনকে পাশ কাটিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তাকে আটকানোর পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধে কারও নাম এলেই তার বিদেশযাত্রা রোধ করা যাবে না।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুদকের আবেদন পর্যবেক্ষণসহ গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ।

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিটে হাইকোর্ট তিনটি রায় ও দুটি আদেশ দেয়। ওই সব আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।

বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। সেই আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয়। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বুধবার প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।'

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অভিযোগে হওয়া মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বুধবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।

ওই সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে কারণ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হলো। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বামে প্রথম)। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার।’

‘আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মামলার জট কমাতে ভার্চুয়াল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশন করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।’ ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন!

‘সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এ জন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দেব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি।’

সে সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তারপরে দেখা গেল মন্ত্রিসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করা হলো। পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিন্যান্স, সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব।’ সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

“কারণ বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে।”

তিনি বলেন, ‘প্রথম আমাদের একটা মিসটেক ছিল; ইউএনডিপির হেল্প নিয়েছি। ইউএনডিপির রিসোর্স লিমিটেড। আর সরকারের রিসোর্স হচ্ছে আনলিমিটেড। ইউএনডিপির রিসোর্স দিয়ে জাজদের অ্যাপ দিতে পারি নাই। সব কোর্ট কাজ করতে পারে নাই। লজিস্টিকের এত অভাব ছিল।

‘এমনকি নিম্ন আদালতে তারা ফ্রি অ্যাপ দিয়ে কাজ করেছে। নিম্ন আদালতের জাজদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিব। তারা তখন ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করেছে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “তারপর আমি দেখলাম এটা তো সমাধান হতে পারে না। কারণ এই প্যানডেমিক কত দিন চলবে তার কোনো ঠিক নাই। আমি আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ‘আপনি তো ভার্চুয়াল কোর্ট করে দিয়েছেন। এখন তো ভার্চুয়াল কোর্ট ভালোভাবে চলছে না লজিস্টিকের অভাবে।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এটা তো আমাকে প্রথমেই বলা উচিত ছিল। আপনার কত টাকার প্রয়োজন?’

“আমি বললাম আপাতত ১০ কোটি টাকা দিলে অ্যাপ-ট্যাপ এগুলা কিনব। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কেউ ১০ কোটি টাকা চায়?’ আমি একটু লজ্জা পেলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বললেন, ‘প্রধান বিচারপতি যা কিছু চাবে, সব তাৎক্ষণিক দিতে হবে।’ এরপর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী সব দিয়েছেন। এরপর আমি সবকিছু চালু করতে পেরেছি। সুতরাং এটা আমার কাছে বেশি সাফল্য।”

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেছিলাম, লাখ লাখ ফাইল আমাদের বারান্দায় পড়ে আছে। আমি একদিন আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল, তখন তিনি বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাকে নিয়ে দেখলাম লাখ লাখ ফাইল বারান্দায় পড়ে আছে। তারপর গেলাম ক্রিমিনাল সেকশনে। সেখানেও একই অবস্থা। এখান থেকে ফাইল খুঁজে বের করে কোর্টে দেয়াটা দুঃসাধ্য কাজ।

‘আমরা যদি এটা আর্কাইভ করে রাখতে পারি, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আমি আশা করি আমরা অচিরেই এটা করতে পারব। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে আমি দুইটি মিটিং করেছি। তিনি আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, টাকা কোনো সমস্যা না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শুধু সুপ্রিম কোর্টের কাজ করার জন্য ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে। যেখানে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু করেছি ১ লাখ ডলার দিয়ে, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এখানে হচ্ছে একটা ডেটা সেন্টার, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্ত কিছু থাকবে, এটার জন্য খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটি উপদেষ্টা আমাদের যেইভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। একজন প্রধান বিচারপতির সময় কোর্ট বন্ধ থাকা, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আমার জীবনে বোধ হয় কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুতরাং আমি যে কোর্ট চালু রাখতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

‘আমি আর একটা কথা বলব, আমার উত্তরসূরি যে আসবেন, উনি এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটাকে অনেক সামনে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। কারণ আমাদের বিচারক সংখ্যা দুই, তিন গুণ করা প্রয়োজন হবে। এখনও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্ডিং হয়নি সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। যেমন: অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হয়, চেষ্টা করা হবে আইনজীবীর চেম্বারে আইনজীবী এনআইডির সঙ্গে করেসপন্ড করে যদি করা যায়, তাহলে অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হবে না। এর ফলে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাবে।

‘ভারতে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাচ্ছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমার যে উত্তরসূরি আসবে তিনি যদি এটা করেন, বিচার বিভাগে একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। শুধু তাই নয়, এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে জায়গায় যাচ্ছে, শুধু মুখে কথা বলবেন, লেখা হয়ে যাবে; কষ্ট অনেক কমে যাবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন জায়গায় যাবে যে জুডিশিয়ারিতে কোনো পেন্ডিং মামলা থাকবে না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবার: প্রধানমন্ত্রী
লক্ষ্য, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলা: প্রধানমন্ত্রী
অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কিছু মানুষ বৈঠক করছে: প্রধানমন্ত্রী
তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

শেয়ার করুন