তুরস্কে ইন্টারপোল সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন আইজিপি

তুরস্কে ইন্টারপোল সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন আইজিপি

তুরস্কে ৮৯তম ইন্টারপোল সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর সম্মেলন শেষ হবে। ইন্টারপোলের ১৯৪টি দেশের পুলিশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন

তুরস্কে ৮৯তম ইন্টারপোল জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তুরস্কে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর সম্মেলন শেষ হবে। ইন্টারপোলের ১৯৪টি দেশের পুলিশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।

আইজিপি সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পুলিশ এবং আসিয়ানাপোলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পুলিশ প্রতিনিধিরা বর্তমান বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ও আন্তরাষ্ট্রীয় অপরাধ পর্যবেক্ষণ, সহিংসতা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ, মানিলন্ডারিং, অর্গানাইজড ক্রাইম, সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং নানাবিধ অপরাধবিষয়ক ডাটা ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা যেত। ছবি বিটিভির ভিডিও থেকে নেয়া

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে সংসদ নেতার বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার স্মরণ করেন জাতি পিতাকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে এ লক্ষ্য অর্জিত হতো।

নিজের বক্তব্যে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট প্রসঙ্গ আসতেই আবেগতাড়িত হতে দেখা যায় সরকারপ্রধানকে। কথা বলতে গিয়ে বাবরবারই কেঁপে উঠেছিল তার কণ্ঠ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছিলাম। আমার বাবা, আমার মা, ছোট তিনটি ভাই, ভ্রাতৃবধূ, একমাত্র চাচাসহ আত্মীয় স্বজনদের। সবকিছু হারিয়ে হারানোর বেদনা পাশে রেখে শুধু একটা লক্ষ্য সামনে রেখেছি।

‘এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। নিজের জীবনে তিনি কিছু চাননি। পাশে থেকেছিলেন আমার মা। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমার মায়ের ভূমিকা রয়েছে। পর্দার আড়ালে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! দুঃখের বিষয়, যে দেশের মানুষের জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, এত তাগ স্বীকার করলেন, সেই বাংলাদেশের মানুষের হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো। শুধু আমার বাবাকে না, পুরো পরিবারকে। রেহানা আর আমি বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন খুনিরা মুক্ত, যুদ্ধাপরাধীরা মুক্ত, তারাই দেশ চালাচ্ছে। যেখানে আমার ছোট ১০ বছরের ভাইকেও ছাড়েনি, সেখানে আমিও রেহাই পাব না। হয়তো যেকোনো সময় মৃত্যু আমার হতে পারে। এটা জেনেও শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নিয়ত নিয়ে দেশে এসেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে জয় আর ৮ বছরের মেয়েকে বোনের কাছে দিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, যে স্বপ্নটা অধরা রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নটা যেন পূরণ করতে পারি। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

‘বারবার আঘাত এসেছে, আমি জানি না, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাকে বাঁচিয়েছেন এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে মানবঢাল রচনা করে আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। আমাকে এটুকু সুযোগ দিয়েছেন আজকে একটি মর্যাদায় বাংলাদেশকে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।

‘তাদের সঙ্গে কিছু লোক, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দলে নিয়ে এলিট শ্রেণি তৈরি করা। দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে ছিল। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা একটি কথা সব সময় বলতেন আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে। এ দিয়েই আমরা দেশ গড়ব। এ কথা কিন্তু এখন কেউ বাস্তবায়নও করেনি, চিন্তাও করেনি। বরং বিদেশ থেকে আরও আমদানি হবে, সেখান থেকে কমিশন খাবে, দেশে উৎপাদন হবে না। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

‘সেই শস্যবীজ, ধানের বীজ সবকিছুতেই পরনির্ভরশীলতা। আর মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পাতা। এটাই ছিল তাদের নীতি। কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে, যে আদর্শ জাতির পিতা দিয়ে গেছেন, যে আদর্শের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, সেটি বাস্তবায়ন করা। সেভাবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে এটি বাস্তবায়নের ফলে অনেক সুবিধাও আমরা যেখানে পাব, সেদিক আমি মনে করি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে এবং সেই প্রস্তুতিও কিন্তু আমরা নিয়ে রেখেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের যে সুবিধাগুলো সেটি হয়তো পাব না সব, তবে আমরা একটি কাজ করেছি।

‘আমরা জাতিসংঘের কাছে একটি সময় চেয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণটা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরা সময় নিয়েছি ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সব কাজ করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করার একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উদীয়মান। বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারব।

‘যে যেটাই বলুক, যত সমালোচনাই করুক। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এ গতি যেন কেউ রোধ করতে না পারে। অনেক রকমের চক্রান্ত থাকবে। সেগুলোকে মাথায় নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের যে মার্যাদা পেয়েছি, এটি জনগণেরই অবদান। তাদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

রোববার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট। ছবি: নিউজবাংলা

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবে মুনাফা কতটুকু হবে সে বিষয়ে সরকারের কিছুই করণীয় নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সহজ উপায় বের করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রোববার রাজধানীতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট (আইআইএস)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সামিটে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি দেশ। অনলাইনে যুক্ত হতে বিদেশ থেকে দু’হাজার ৫৭৪ জন ও দেশের দু’হাজার ১০৯ জন নিবন্ধন করেছেন।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে সোমবার। সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত থাকবেন।

সামিটে যোগ দিতে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দিতে সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ও চীনের ভাইস মিনিস্টার (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া জাপানের একজন ভাইস মিনিস্টারের বার্তা ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি সম্মেলনে পড়ে শোনান।

সামিটে বিডার পক্ষ থেকে ১১টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেউ এর বাইরে অন্য কোনো খাত নিয়ে আগ্রহ দেখালে তা নিয়েও আলোচনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ বিনিয়োগ সম্মেলন (ইনভেস্টমেন্ট সামিট) অনুষ্ঠিত হয়।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা নীতি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সফলতা পেতে পারে। এদেশে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

‘অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও বন্দরসহ বড় বড় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও। একইসঙ্গে এখানে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘গত কয়েক বছর ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জিডিপি ৪১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৫৪ ডলার। আগের হিসেবে তা ছিল দুই হাজার ২২৭ ডলার। দেশের অভ্যন্তরে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সব খাত এগিয়ে যাচ্ছে। সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছি।

‘তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, প্লাস্টিক, চামড়াজাতীয় পণ্যসহ বাংলাদেশে কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হচ্ছে। এখানে বিনিয়োগে সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

বিডার আয়োজনে সামিটে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইউকেএইড সামিট আয়োজনে সহায়তা করছে।

সম্মেলনের প্রথম দিন বিজনেস সেশনে ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিক: দ্য রাইট মুভ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: দ্য রাইজিং টাইগার’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: চার্জ অ্যাহেড’, ‘লিগাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস: এনশিউরিং সাসটেইন গ্রোথ’, ‘এগ্রোবিজনেস: গ্রোথ বাই ন্যাচার’, ‘লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস: স্টেপ ইট আপ’, ‘রেডিমেড গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল: ওয়েভিং দ্য ওয়ে’, ‘ইলেকট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্লাস্টিক গুডস: রাইড দ্য কারেন্ট’ বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্লেনারি সেশনে থাকছে ইনভেস্টমেন্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড বিজনেস এনভায়রনমেন্ট: রেসিং নিউ হাইস্ট ইন দ্য নিউ নরমাল শীর্ষক আলোচনা। দুটি বিজনেস সেশন ইন প্যারালালে থাকছে ইকোনমিক জুন: এক্সেডিং অল এক্সপেক্টেশনস, ব্লু ইকোনমি: ডিসকভার দ্য ফিউচার, লেভেরাজিং ফোর্থ-আইআর: নিউজ এভিনিউ ফর ইনোভেটিভ ইনভেস্টমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস: অ্যাফর্ডেবল ওয়েলবিং: হেলদি লিভিং ফর অল শীর্ষক আলোচনা।

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ‘সন্দেহভাজন’ যুবক আটক

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ‘সন্দেহভাজন’ যুবক আটক

বাসে হাফ ভাড়াসহ ৯ দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনের সময় এক ছাত্রী আন্দোলনরতদের খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। তখন হাফিজুর নামের ওই যুবক ছাত্রীর কাছে গিয়ে তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে চান। তিনি ওই ছাত্রীর বিকাশ নম্বরও চান। ওই যুবককে সন্দেহ হলে আন্দোলনরতরা ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।’

গণপরিবহনে হাফ ভাড়াসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নিজেকে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে রাস্তা অবরোধের সময় তাকে পুলিশে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা ।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হাফিজুরের কাছ থেকে জাল টাকা ও ঘুমের ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।

হাফিজুরকে মোহাম্মদপুর থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনের সময় এক ছাত্রী আন্দোলনরতদের খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। তখন হাফিজুর নামের ওই যুবক ছাত্রীর কাছে গিয়ে তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে চান। তিনি ওই ছাত্রীর বিকাশ নম্বরও চান। ওই যুবককে সন্দেহ হলে আন্দোলনরতরা ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।’

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, ‘তখন তাকে চেক করে কিছু জাল টাকা আর ঘুমের ইনজেকশন-সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়। যুবকটির আচরণও সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে মোহাম্মদপুর থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ঢুকেছে কি না বা তার অসৎ কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।’

তিনি জানান, যে ছাত্রীর কাছে ওই যুবক বিকাশ নম্বর চেয়েছিল তাকেও মোহাম্মদপুর থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তার মেয়েকে নিতে মোহাম্মদপুর থানায় আসেন। সেখানে ওই যুবক তার পূর্ব পরিচিত কি না যাচাই করা হয়েছে। ওই ছাত্রী যুবককে চেনে না। তাই তাকে বাসায় যেতে দেয়া হয়েছে।

হাফিজুরের সঠিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে শনিবারও আন্দোলনে অংশ নিতে দেখেছে বলে জানান মৃত্যুঞ্জয় দে সজল।

ওই যুবকের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

এবার মানব পাচারের দায়ে কুয়েতে দণ্ডিত পাপুল

এবার মানব পাচারের দায়ে কুয়েতে দণ্ডিত পাপুল

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়েতের আপিল আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাপুলকে ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করেছে। কোর্ট অফ সেসেশন্সের আদেশে বলা হয়েছে, সে দেশে সাজা শেষ করে নিজ দেশে (বাংলাদেশ) ফিরতে পারবেন আসামি।

মানব পাচারের দায়ে কুয়েতে লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

কুয়েতের স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দেশটির আপিল আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাপুলকে ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করেছে।

কোর্ট অফ সেসেশন্সের আদেশে বলা হয়েছে, সে দেশে সাজা শেষ করে নিজ দেশে (বাংলাদেশ) ফিরতে পারবেন আসামি।

সেই মামলায় একই মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহ এবং মানবসম্পদবিষয়ক পরিচালক হাসান আল খেদরকে। ঘুষ নেয়ার অপরাধে তাদের সরকারি পদ থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়েছে।

সেই মামলায় একই মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহ এবং পরিচালক হাসান আল খেদরকে। ঘুষ নেয়ার অপরাধে তাদেরকে সরকারী পদ থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে কুয়েতের সাবেক আইনপ্রণেতা সালাহ খুরশেদকে। তাকে ৭ লাখ ৪০ হাজার কুয়েতি দিনার জরিমানাও করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে, কুয়েতের ফৌজদারি আদালত সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানাও করা হয়। বাংলাদেশি টাকায় ৫৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন পাপুল।

গত ২৬ এপ্রিল মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে কুয়েতে পাপুলের সাজা বাড়ে আপিল বিভাগে। বিচারিক আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে।

আপিল বিভাগ কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ লাখ দিনার জরিমানা করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি ৫৬ কোটি টাকার বেশি।

সাজা প্রাপ্ত পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার পর সেখানে উপনির্বাচনের তারিখ জানায় নির্বাচন কমিশন।

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে যাওয়ার কয়েক দশকের মধ্যে ধনকুবের হয়ে যাওয়া পাপুল একাদশ সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য হন।

সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল।

তবে ভোটের আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান সরে দাঁড়ান। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পাপুলের পক্ষে কাজ করেন।

পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংসদের আসন বণ্টনের হিসাবে নারী আসনের একটি পেয়েছিলেন এবং তারা সেলিনাকে মনোনয়ন দেন।

পাপুলের স্ত্রীও আসামি

পাপুলের পাশাপাশি তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানও অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচার মামলার আসামি।

দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১১ নভেম্বর মামলাটি করে। এই মামলায় সেলিনা এবং ওয়াফা গত ২৭ ডিসেম্বর জামিন পান। পরে গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে স্থায়ী জামিন দেয়া হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জেসমিন প্রধান ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

‘কাগুজে প্রতিষ্ঠান’ করে তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলেও বলা হয় মামলায়।

বলা হয়, এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন।

পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

সেলিনা ইসলাম এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের আট ব্যাংকের ৬১৩টি হিসাব জব্দ করেছে দুদক।

তাদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৩০ দশমিক ২৭ একর জমি ও গুলশানের ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দুদক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়েও চিঠি দিয়েছে কমিশন।

শেয়ার করুন

এমপিদের অবসর ভাতা চান জি এম কাদের

এমপিদের অবসর ভাতা চান জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন, ১৫-২০-২৫ বছর আছেন। তারা সৎভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বা অনেক জায়গায় অবসরের পর আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। অনেক দেশে এমপিদের অবসর সহায়তা দেয়া হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা করার দাবি করছি। তাহলে যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, তারা মানবেতর জীবনে পড়বেন না।’

জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য অবসর ভাতার সুবিধা রাখার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন, ১৫-২০-২৫ বছর আছেন। তারা সৎভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বা অনেক জায়গায় অবসরের পর আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। অনেক দেশে এমপিদের অবসর সহায়তা দেয়া হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা করার দাবি করছি। তাহলে যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, তারা মানবেতর জীবনে পড়বেন না।’

রোববার সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ভাড়ায় যাতায়াত করে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা বাস ভাড়া অর্ধেক চেয়েছে। এটা অনেক দেশেই আছে। শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার যে দাবি করছে, আমি মনে করি সেটা যৌক্তিক।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করতেই পারেন। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে দেশব্যাপী মানুষ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো। তেলচালিত বাস বন্ধ হলো। সেটা হতেই পারে, মানলাম। গ্যাসচালিত বাস বন্ধ হলো কেন?’

হঠাৎ করে সারা দেশে পরিবহন বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ বা সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সারা দেশে পরিবহন বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক নয়। আমাদের বিআরটিএ বলে একটা সংস্থা আছে। যাত্রীদের জিম্মি করে অঘোষিত ধর্মঘট ডেকে যারা দাবি আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার উদাহরণ দেখছি না।’

জি এম কাদের বলেন, ‘মালিক সমিতির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে। ডিজেলচালিত বাসের জন্য একটা আর গ্যাসের জন্য একটা। কিন্তু নেয়া হচ্ছে একই ভাড়া। একটা অনিয়মের চিত্র দেখা গেল। পত্রিকায় দেখলাম, যাত্রীরা সরকারনির্ধারিত ভাড়া দিয়ে যেতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবহন সেক্টর আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে? সরকার? সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক আছে এখানে? নাকি মালিক-শ্রমিক সমিতি করছে? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি এই খাতের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছে?’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চুরি হওয়া নথি নিয়েও উদ্বেগ জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে অনেক দিন ধরে কথা বলছি। দুর্নীতি দূর হয়েছে এমন মনে হচ্ছে না। সম্প্রতি কেনাকাটাসংক্রান্ত ১৭টি নথি গায়েব হয়ে গেল। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়া হলো, ফাইল ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। যেখানে দুর্নীতি হয়, সেখানে ফাইল গায়েব করে দিলে আর সাজা হয় না। ফাইল গায়েবে বোঝা যায় দুর্নীতি হচ্ছে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি খুব কি বেশি প্রয়োজন ছিল? আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে কমানো হয় না। কিন্তু বাড়লে বাড়ানো হয়। করোনার সময় আমরা সেটা করিনি। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমবে বলে অনেকে মনে করছেন। এটি দেশের বাজারে পুনর্নির্ধারণ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, বেকারত্বের হার বাড়ছে। খোলাবাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো যুক্তিসংগত কারণ চোখে পড়েনি। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। বেকারত্ব বাড়ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে আয় কমছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।’

শেয়ার করুন

বিচারক-নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইনের খসড়া হচ্ছে

বিচারক-নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইনের খসড়া হচ্ছে

জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন নিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা (চলতি সংসদের) পরের সংসদ বা তার পরের সংসদে আমরা এটা আলাপ করব, কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়ো করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি।’

উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে দুটি আইনের খসড়া হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০২২ সালে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে আইন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেছেন, সংসদের আগামী বা তার পরের অধিবেশনে এ আইন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাতীয় সংসদে রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিলের আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আনিসুল বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা (চলতি সংসদের) পরের সংসদ বা তার পরের সংসদে আমরা এটা আলাপ করব, কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়ো করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল স্পিকিং অ্যান্ড স্পিকিং দ্য ট্রুথ ইজ দ্য রাইট থিং। সেই জন্য আমি আশ্বস্ত করিনি, তবে দুটোই আমরা করার চেষ্টা করছি।’

এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগে আইন হয়নি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইসির মেয়াদ শেষ হবে। এখনও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন হয়নি।

তিনি এ সময় প্রশ্ন রাখেন সরকার ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চাইছে কি না। তার মতে, এ ধরনের নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।

ওই সময় তিনি ইসি নিয়োগে আইন করার দাবি জানান। একই দাবি জানান জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক।

‘বিএনপির বক্তব্য সঠিক নয়’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন বলে বিএনপি সংসদ সদস্যরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) সরকারের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলেই তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন, মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন।’

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই।’

এর আগে সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব-জেল বানিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা কেবল বলেন, সাব-জেল বানিয়ে রাখা হয়েছে। উনার বাসাটাকে কোনো জেলই বানানো হয়নি। উনাদের (বিএনপির) তথ্যে কেন এত বিভ্রাট, তা বুঝতে পারি না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে, তাহলে তো তথ্যটি জেনে এখানে কথা বলতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত সুপারফিসিয়ালি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৬ মাস করে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।

‘সেখানে দুটো শর্ত যুক্ত ছিল। সেটা এখনও আছে। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন।’

৪০১ ধারার ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘৪০১ ধারায় যাকে মুক্তি দেয়া হবে, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন কোনও কথা নেই, কিন্তু কথা আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তমুক্ত। আমরা সেখানে বলেছি, উনি বিদেশ যেতে পারবেন না, বাংলাদেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। উনি অবশ্যই মুক্ত। অবশ্যই মুক্ত।

‘উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই। উনি সরকারের কাস্টডিতে নেই। উনি এখানকার (দেশে) যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই চিকিৎসা নিতে পারেন এবং সেটা তিনি নিচ্ছেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলছেন, উনাদের নেত্রী কাস্টডিতে। উনি কাস্টডিতে নেই। শি ইজ ফ্রি অ্যান্ড শি ইজ টেকিং ট্রিটমেন্ট অ্যাকর্ডিং টু হার উইল।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না উল্লেখ করে আনিসুল বলেন, ‘আমি বলেছি একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে অরিজিনাল পজিশনে যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত হয়তো নেয়া যাবে।

‘৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার দ্বিমত আছে। আমি আমার অবস্থান থেকে নড়ব না।’

শেয়ার করুন

নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংযোজন কেন নয়: হাইকোর্ট

নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংযোজন কেন নয়: হাইকোর্ট

আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবির বলেন, জানুয়ারি মাসে রংপুরের অধিবাসী মোফাজ্জল হোসেন মোফা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংযোজন করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেয়।

সব ধরনের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংযোজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আতাউল্লাহ নুরুল কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পরে আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবির বলেন, জানুয়ারি মাসে রংপুরের অধিবাসী মোফাজ্জল হোসেন মোফা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংযোজন করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেয়।

আইনজীবী বলেন, ব্রিটিশ ভারতে প্রচলিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সংযুক্ত ছিল। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশের রেভিনিউ স্ট্যাম্পে ও টাকায় নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা জাতির জনকের ছবি সংযুক্ত আছে। পাশাপাশি সংবিধানের ৪ (ক) অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেশের সব সরকারি অফিসে প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।

শেয়ার করুন