মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা যাবে বঙ্গভ্যাক্স

মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা যাবে বঙ্গভ্যাক্স

গ্লোব বায়োটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বঙ্গভ্যাক্স। ফাইল ছবি

বিএমআরসির পরিচালক রুহুল আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাদের (বঙ্গভ্যাক্স) দেয়া কাগজপত্র দেখে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বঙ্গভ্যাক্সকে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নৈতিক ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রুহুল আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের (বঙ্গভ্যাক্স) দেয়া কাগজপত্র দেখে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

রুহুল বলেন, ‘বঙ্গভ্যাক্স টিকাটি মানবদেহে প্রয়োগের আগে শর্ত ছিল পরীক্ষামূলক বানরের ওপর প্রয়োগের। তারা সঠিকভাবে বানরের ওপর প্রয়োগের ফলাফল ১ নভেম্বর বিএমআরসির কাছে জমা দেয়।

‘এ বিষয়ে আমাদের অনুমোদন কমিটির একটি সভা হয়। তাদের দেয়া ফলাফল বিবেচনা করে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নৈতিক ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।’

রাজধানীর কোন হাসপাতালে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে বিএমআরসির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আমাদের কাগজ দিয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করোনা রোগীর দেহে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে।’

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভ্যাক্সকে অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এরপর মানবদেহে পরীক্ষামূলক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্ব ১ এবং ২-এর জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের কাছে নৈতিক অনুমোদনের জন্য ১৭ জানুয়ারি আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রয়োগ শুরু কবে

বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ কবে থেকে শুরু করা যাবে জানতে চাইলে গ্লোব বায়োটেকের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করব। তারা অনুমোদন দিলেই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে পারব।’

কবে আবেদন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যেই।’

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২

করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৩ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৮২ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৩ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৮৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনা রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫০।

গত একদিনে মৃত দুই জনের মধ্যে ১ পুরুষ ও ১ নারী। তারা পঞ্চাশোর্ধ্ব। একজন ঢাকার অন্যজন খুলনার বাসিন্দা।

২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৮৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে বিবেচনা করা হয়।

এই হিসেবে দেশের করোনা পরিস্থিতি অনেক আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে। সরকারের লক্ষ্য শনাক্তের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

এর মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসটি আগে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওমিক্রন ঠেকাতে সরকারও তৎপর। ইতোমধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

সুখ তুমি কী…

সুখ তুমি কী…

বিভিন্ন গবেষণায় সুখের পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের একটি বড় প্রভাব বেরিয়ে এসেছে। বিহেভিয়োরাল জেনেটিকসের গবেষকরা যমজদের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন, ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে তাদের সুখী বা অসুখী হওয়ার ব্যাখ্যা জিনগত ভাবে দেয়া যায়।

যান্ত্রিক সমাজ যত বিস্তৃত হচ্ছে তত যান্ত্রিক হচ্ছে মানুষ। পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হয়ে নিরানন্দ, একাকী জীবন ঘিরে ধরছে প্রায় সবাইকে। এমন অবস্থায় ‘অসুখী’ মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

‘অসুখী’ মানুষের সুখের ‘ব্যবস্থা’ করার বিভিন্ন দাওয়াই-এর বিজ্ঞাপন এখন চারদিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়ছে সেলফ-হেল্প ভিডিওর জনপ্রিয়তা। তবে এভাবে ‘সুখের’ ছোঁয়া সত্যিই পাওয়া যায় কিনা- তা নিয়ে আছে বিতর্ক।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আত্ম-বিধ্বংসী প্রবণতা বেড়ে চলায় প্রশ্ন উঠছে, বিষাদগ্রস্ত হয়ে থাকাই বেশির ভাগ মানুষের নিয়তি?

মন নিয়ে কিছু গবেষণায়, সুখের পেছনে জিনের ভূমিকা পাওয়া গেছে। রিভিউ অফ জেনারেল সাইকোলজিতে ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে দাবি করা হয়, মানুষ কতটা সুখী জীবন কাটাবে তা অর্ধেক ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল।

এই গবেষণা বলছে, ৫০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে তাদের সুখী হওয়ার ক্ষমতা জিনগত, ১০ শতাংশ নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর আর ৪০ শতাংশ নির্ভর করে স্বেচ্ছায় বেছে নেয়া কর্মকাণ্ডের ওপর।

তবে এভাবে চার্টের ভিত্তিতে সুখী হওয়ার কারণকে ভাগ করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞের। জিনের ওপর নির্ভর করে এই ফল মেনে নিতে চাননি তারা।

এরপরেও বিভিন্ন গবেষণায় সুখের পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের একটি বড় প্রভাব বেরিয়ে এসেছে। বিহেভিয়োরাল জেনেটিকসের গবেষকরা যমজদের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন, ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে তাদের সুখী বা অসুখী হওয়ার ব্যাখ্যা জিনগত ভাবে দেয়া যায়।

২০০৫ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির সমালোচনার জবাবে একই গবেষক দল ২০১৯ সালে আরেকটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তাতে আনন্দিত বা সুখী হওয়ার প্রবণতার ওপর জিনের প্রভাব নির্ণয়ে আরও নিঁখুত পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশ ও মন পরিচর্যা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। আনবিক ভাবে জিনের গঠন ও ক্রিয়া নিয়ে কাজ করে মলেকিউলার জেনেটিকস। এতে দেখা গেছে, নিজের উপযোগী পরিবেশ বেছে নেয়ার যে স্বভাব তাকে প্রভাবিত করে জিন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া বহির্মুখীনতার স্বভাব সন্তানদেরকেও বন্ধু খুঁজে নিতে সহায়তা করেন।

আবার পরিবেশও জিন-বৈশিষ্ট্যের প্রকাশভঙ্গীকে প্রভাবিত করে। যেমন, সন্তানসম্ভবা মা কোনো দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়লে সন্তানের জিনেও বদল আসে। তাদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়ক রাসায়নিক কর্মকাণ্ড ব্যহত হয়। ফলে শিশুরা খর্বাকৃতি হতে পারে এবং কার্ডিওভাস্কুলার রোগের প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

এছাড়া, মানুষের সুখী হওয়ার সামর্থ্য তাদের বদলে যাওয়ার ক্ষমতা বা পরিবেশগত সংবেদনশীলতার ওপরেও নির্ভরশীল। কিছু মানুষের ওপর আশপাশের পরিবেশেরও প্রভাব ব্যাপক। পরিবেশের কারণে নেতিবাচক বা ইতিবাচক উভয় ঘটনার ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

‘সুখী থাকার ওয়ার্কশপ’ করে বা ইতিবাচক মানসিকতার বই পড়া তাই একেবারেই বৃথা- এমনটি বলার সুযোগ নেই। এসবও কিছু মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুখী হতে সবার জন্য একই দাওয়াই সমান কার্যকর নয়। কারণ আমাদের ডিএনএর মতোই আমরা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুস্থ থাকার বা সুখী হওয়ার সামর্থ্য একেকজনের একেক রকম।

অনেকে নিজেকে সুখী রাখতে গিয়ে অন্যের চেয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এই সংগ্রাম অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আবার কেউ কেউ সারা জীবনেও সুখের খোঁজ খুব একটা পান না।

যাদের জিনগত নমনীয়তা বেশি অর্থাৎ যারা পরিবেশের সঙ্গে বেশি খাপ খাইয়ে নিতে পারেন তাদের পক্ষে হয়তো অনেক ভালো থাকা সম্ভব। তারা সুস্থ জীবনযাত্রা বেছে নিয়ে নিজেদের আরও সুখী করে তুলতে পারেন।

আমরা কে- এটা জেনেটিকস ঠিক করে দেয় না। তবে এটি আমাদের সুখী হওয়ার সামর্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। আমরা কোথায় বাস করি, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করি এবং কীভাবে জীবনযাপন করি সেটি আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সুখী হওয়ার মাত্রাকে নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামীদের করা হচ্ছে করোনা পরীক্ষা। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব যাত্রী আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দেশে আসবে তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে করা করোনার টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।’

আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দেশে আসা যাত্রীদের ৪৮ ঘণ্টা আগে করা করোনাভাইরাসের আরটি-পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর মহাখালীতে বিপিএস অডিটোরিয়ামে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে বুধবার দুপুরে ‘সমতার বাংলাদেশ, এইডস ও মহামারি হবে শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

এর আগে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের ৭২ ঘণ্টা আগে আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে বলা হয়েছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব যাত্রী আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দেশে আসবে তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে করা করোনার টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।

‘যে কোনো দেশ থেকে টেস্ট ছাড়া কেউ এলে তাদেরও ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন এ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা বিদেশে থাকেন, বিশেষ করে যারা আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোয় রয়েছেন, আমি তাদের আহ্বান করব, তারা যেন তাদের স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করেন। দেশের এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য যে যেখানে কর্মরত, সেখানে থাকার আহ্বান করছি।’

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ব এইডস দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এইডস এবং বিভিন্ন রোগবালাই আজকাল আর কোনো বাউন্ডারি মানে না। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের জীবনে যেমন গতি এসেছে, তেমনি ভাইরাসেরও অনেক গতি বেড়ে গেছে।

‘ভাইরাস এখন অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়। তার পরও আমরা যদি নিয়ম এবং নৈতিকতার মধ্যে থাকি, তা হলে এইডসসহ বহু রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বারদান জুং ব্রানাসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

ওমিক্রন নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই: বায়োএনটেক সিইও

ওমিক্রন নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই: বায়োএনটেক সিইও

বায়োএনটেকের সিইও উগুর শাহীন। ছবি: রয়টার্স

বায়োএনটেক সিইও উগুর শাহীন বলেন, ‘আমাদের বার্তা পরিষ্কার, আতঙ্কিত হবেন না। পরিকল্পনা আগের মতোই আছে। করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার গতি আরও বাড়িয়ে দিতে হবে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফাইজার টিকার সহ-প্রস্তুতকারক ও বায়োএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উগুর শাহীন।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উগুর শাহীন বলেন, ‘করোনা টিকা নেয়ার পরও অনেক মানুষ ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলেও তারা সম্ভবত গুরুতর অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা পরিষ্কার, আতঙ্কিত হবেন না। পরিকল্পনা আগের মতো আছে। করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার গতি আরও বাড়িয়ে দিতে হবে।’

শাহীন বলেন, ‘ফাইজারের টিকা নেয়ার পরও যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়া ঠেকাতে ফাইজারের প্রতিষেধক এরই মধ্যে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ফাইজারের টিকা কার্যকর, আমাদের এ বিশ্বাসের মূলে রয়েছে বিজ্ঞান।’

যদিও এর আগে মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্তেফানে ব্যাঁসেল ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘উচ্চ সংক্রামক’ ওমিক্রনের ওপর প্রচলিত টিকার সবগুলোই প্রায় অকার্যকর হবে।

ওমিক্রন ঠেকানোর মতো কার্যকর নতুন টিকা উদ্ভাবনে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে বিদ্যমান টিকা কার্যকর কি না- সে বিষয়টি সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে জানা যেতে পারে।’

আফ্রিকার দেশ বসতোয়ানায় প্রথম চিহ্নিত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বি ১.১.৫২৯ ভাইরাসটি এরই মধ্যে বিশ্বের ১৯টি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

ধরনটি সাউথ আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ওমিক্রন সারা বিশ্বের জন্যই ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশেষজ্ঞরাও ওমিক্রনকে উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে পূর্বসতর্কতা হিসেবে ভ্রমণ নীতিমালা কঠোর করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জাপান, ইসরায়েলের পর হংকংও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভারতও ওমিক্রন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর লাল তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় থাকা দেশগুলো থেকে ভ্রমণকারী অথবা ট্রানজিটগ্রহীতাদের ভারতে পৌঁছানোর পর পরই আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। ফল না আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

এখন পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত করা দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, কানাডা, চেকপ্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, জাপান, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, সাউথ আফ্রিকা, সুইডেন, স্পেন ও যুক্তরাজ্য।

সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ৭৭ জনের দেহে ভাইরাসটির ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে সাউথ আফ্রিকায়। বতসোয়ানায় ১৯ জন, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যে ১৪ জন, পর্তুগালে ১৩ জন মানুষের দেহে ওমিক্রনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

অবশ্য ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার পর এশিয়ার একমাত্র দেশ জাপানেই ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

তবে সাউথ এশিয়ার কোনো দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

ডাক্তারি ভাষায় ব্রোকলিকে বলা হয় ইমিউন বুস্টার। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর টোটকা। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে নানা রকম অসুখ-বিসুখ। কমে যায় রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। ফলে শরীর ক্রমে দুর্বল হতে শুরু করে।

এ সময় মানুষ অতি অল্পতেই যেকোনো অসুখে কাবু হয়ে পড়তে পারেন। একের পর এক অসুখে পড়ার এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সুষম খাবার গ্রহণে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বৃদ্ধ বয়সে স্বভাবতই মুখের রুচি কমে আসে। তাই সব খাবার সবাই খেতে পারেন না। তবে ভ্যান্টেজ ডটকমের এক প্রতিবেদনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দই

দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে ভিটামিন ডি-এর পাশাপাশি উপকারী ব্যাক্টেরিয়া থাকে, যা নানা রকম অসুখের সঙ্গে যুদ্ধ করে। বেশি কার্যকারিতা পেতে দইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ফলমূল মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে বাজারে কিনতে পাওয়া যায় এমন অনেক দই নানাভাবে পরিশোধন করা থাকে। ফলে উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলো পাওয়া যায় না।

পালং শাক
পালং শাক বিভিন্ন পুষ্টিগুণে বোঝাই থাকে। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বেটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি এবং ফাইবার। ম্যাগনেসিয়াম, আয়রনসহ আরও অনেক উপকারী উপাদানও থাকে পালং শাকে।

নিয়মিত পালং শাক খাওয়া চোখের সুস্বাস্থ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স্কজনিত নানা রকম সমস্যাকেও দূরে রাখে পালং শাক।

ব্রোকলি

ডাক্তারি ভাষায় ব্রোকলিকে বলা হয় ইমিউন বুস্টার। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর টোটকা। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে।

এর কার্যকারিতা অনেকটা পালং শাকের মতোই। তবে কাঁচা ব্রোকলি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

জাম

আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে জামের কোনো জুড়ি নেই। এই ফলটির বিশেষত্ব হলো- এটি হৃদরোগকে দূরে রাখে। সাধারণভাবে খাওয়ার পাশাপাশি দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে বা শরবত বানিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।

লাল চাল

লাল চাল ভিটামিন, মিনারেল ও নানা রকম শক্তিবর্ধক উপাদানে পরিপূর্ণ। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। সুস্থ থাকতে সাধারণ চালের চেয়ে লাল চাল খাওয়া বেশি প্রয়োজন।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলুতে বেটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ ছাড়াও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা বয়স্কদের জন্য বিশেষ উপকারী। বয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত এক দিন মিষ্টি আলু খাওয়া উচিত।

ডিম

ডিমকে ভিটামিন ও মিনারেলের স্টোর হাউস বলা হয়। এ ছাড়া এটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

মসলা

হলুদ আর আদার মতো মসলা বয়স্কদের রোগ সংক্রমণ ও অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে। এটি শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সচল করতেও সহায়তা করে।

প্রাণিজ প্রোটিন

চর্বিহীন মুরগি, গরুর মাংস, স্যামন ও সয়া সস স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং কার্ডিওভাসকুলারের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে পূর্ণ স্যামন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

পানি

শরীরকে সুস্থ রাখতে জোয়ান-বৃদ্ধ সবার জন্যই পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার বিকল্প নেই। তবে একজন বয়স্ক ব্যক্তির দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

আফ্রিকা থেকে এক মাসে ফিরল ২৪০ জন

আফ্রিকা থেকে এক মাসে ফিরল ২৪০ জন

ফাইল ছবি

সংক্রমণের মধ্যেই আফ্রিকা থেকে গত এক মাসে ২৪০ জন দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এই তথ্য প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এদের কেউই সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি। তাদেরকে আমরা কন্ট্যাক্ট ট্রেসিয়ের মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা সবাই নিজ নিজ মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তারা ঠিকানাও ভুল দিয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়েছে আফ্রিকায়। আর মহাদেশটির একটিমাত্র দেশ সাউথ আফ্রিকা থেকেই গত এক মাসে দেশে ফিরেছেন ২৪০ জন।

সংক্রমণের মধ্যেই এই অঞ্চল থেকে গত এক মাসে ২৪০ জন দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এই তথ্য প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এদের কেউই সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার ওমিক্রন মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে গণমাধ্যমের সামনে এমনটি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘গত এক মাসে ২৪০ জন মানুষ এসেছে দক্ষিণ (সাউথ) আফ্রিকা থেকে। তাদেরকে আমরা কন্ট্যাক্ট ট্রেসিয়ের মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা সবাই নিজ নিজ মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তারা ঠিকানাও ভুল দিয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আগে চলে গেছেন তারা তো ঘরে চলে গেছেই। এই যে লোকজন ফাঁকি দিয়ে যে চলে গেলেন আমরা ট্রেস করতে পারছি না। এ কারণে এ সব দেশের জন্য আমরা বেশি কড়াকড়ি করবো। আফ্রিকার জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন তো থাকবেই, আমরা সেখান থেকে এখন আসতেই নিরুৎসাহিত করবো।

‘আমাদের সব কোয়ারেন্টিন সেন্টার এখন নেই। হোটেলগুলো আছে। আগে দিয়াবাড়িতে যেটা ছিলো ওটা এখন তো আমরা তুলে নিয়েছি, যদি ওটা অকুপাই না হয়ে থাকে তাহলে আমরা আবার এটাকে ব্যবহার করবো। আর হোটেল তো আছেই প্রায় ১০০টির মতো। খরচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজে বহন করবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে আমরা দেখেছি, যাদের হোটেলে কোয়ারেন্টিন করতে বলা হয়েছে তারা সেটা মানেন নি। ফাঁকি দিয়ে তারা বের হয়ে গেছেন। বাড়িতে পর্যন্ত তারা চলে গেছেন। এ বিষয়ে আমরা শক্ত হতে বলেছি।

‘আপনারা দেখেছেন বিদেশ থেকে যারা এসেছে, ইন্ডিয়া থেকে যারা এসেছে আমরা রুখতে পারিনি। অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থা আমরা চাই না। এ জন্যই আগে ভাগে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপের কয়েকটি দেশে অল্প ছড়িয়েছে আমরা জানি। তবে ঢালাওভাবে তো আমরা ফ্লাইট বন্ধ করতে পারবো না। আমাদের যারা সংক্রমিত দেশ থেকে আসবে তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টি আমরা জোর দেবো।

‘ওমিক্রন এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০টি দেশে ছড়িয়েছে। আমরা এগুলোর বিষয়ে পরীক্ষাটা জোরদার করবো এবং প্রয়োজন হলে কোয়ারেন্টিনেও জোর দেবো।’

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয় চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ওমিক্রন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সতর্ক।

সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার কোন দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি আকাশ পথে যোগাযোগ নেই। তবে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট নিয়ে দেশে আসার সুযোগ রয়েছে। আর এই বিষয়টিই ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু কমে ১, শনাক্ত ২৭৩

করোনায় মৃত্যু কমে ১, শনাক্ত ২৭৩

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮১ জনের।

প্রতিনিয়তই দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৭৩ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮১ জনের।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৩৬৮ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৫ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:
মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স
বঙ্গভ্যাক্সের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দিতে আইনি নোটিশ
কোথা থেকে বানর ধরার অনুমতি গ্লোব বায়োটেকের?
বঙ্গভ্যাক্সের জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছনা কেন
আন্তর্জাতিক প্রটোকলের আগে বঙ্গভ্যাক্সের স্বীকৃতি নয়

শেয়ার করুন