‘ইসলামে পাপ’: বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ আ.লীগের মেয়র

‘ইসলামে পাপ’: বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ আ.লীগের মেয়র

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। ছবি: সংগৃহিত

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অনিল কুমার সরকার বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের অডিওর বিষয়ে আমরা অ্যাকশনে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি। তারা শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি জানাবেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী।

ফাঁস হওয়া একটি অডিও থেকে মেয়রের এই অবস্থানের কথা জানা গেছে। তবে এই অডিওর বিষয়ে মেয়রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্বাস পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। অডিও ফাঁসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ।

মেয়রের অডিওটি মঙ্গলবার থেকে ঘুরছে ফেসবুকে। এক মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। …ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে, আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

মেয়রের অডিওটি কোন সময়ে বা কাদের সঙ্গে আলাপের সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি। পরিচয় জানিয়ে তাকে এসএমএস করা হলেও জবাব দেননি মেয়র আব্বাস।

‘ইসলামে পাপ’: বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ আ.লীগের মেয়র
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অনিল কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের অডিওর বিষয়ে আমরা অ্যাকশনে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি। তারা শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি জানাবেন।’

বহিষ্কার হতে পারেন কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এটি কেন্দ্র থেকেই নিশ্চিত করা হবে। তবে আমি এবং জেলার সেক্রেটারি কথা বলে কেন্দ্রকে তার বিষয়টি জানিয়েছি। এখন কেন্দ্র থেকে কী জানাচ্ছে, সেটির জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করায় সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরের দাবি, তার বক্তব্য সুপার এডিট করা হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আলোচনার ওই রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে (জাহাঙ্গীর আলম) মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে শোনা যায়। এরপর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামে।

ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন বলে জানান।

২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ১৯ নভেম্বর তাদের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এই বৈঠকের আগে কয়েক দিনে মেয়রের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব হয়ে যায় গাজীপুর। মেয়রবিরোধীরা দাবি করতে থাকেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে। তবে তার অনুসারীরা দাবি করতে থাকেন, তার কিছুই হবে না।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসার পরপর গাজীপুরের সালনা, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করেন মেয়রবিরোধীরা।

টঙ্গীতে মেয়রবিরোধীরা সন্ধ্যার পর আতশবাজি পুড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তারা একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ করেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কুমিল্লার কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুইজনকে। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ গ্রেপ্তার দুইজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু। এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

সবশেষ গ্রেপ্তার দুইজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু।

এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসান ও দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার দিন অন্তুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খান এজাহারভুক্ত ৭ আসামি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

পরাজিত সদস্য প্রার্থী রমেছা খানম তার দেয়া অনুদানের কম্বল ফেরত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কম্বল পাওয়া অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরীবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভোটে হেরে যাওয়ায় চারজনকে দেয়া অনুদানের কম্বল ফিরিয়ে নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রমেছা খানম। ওই চারজন এমন অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ও সেই প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ক্ষেপে গিয়ে রমেছা এ কাজ করেছেন।

রমেছা খানম সহদেবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকাকালে দুই বছর আগে ইউপির অনুদানের টাকায় একটি করে কম্বল দেন আকুয়া গ্রামের মকবুল হোসেন, অনু মিয়া, মো. সংকু ও মো. বংকুকে। তারা চারজন ভাই।

ওই আসনের জন্য এবার রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জোসনা বেগম। ভোটে জয় হয় জোসনার। কম্বল পাওয়া চার ভাইয়ের বাড়ি জোসনার বাড়ির পাশেই। তারা জোসনার পক্ষে নির্বাচনে কাজও করেছেন বলে জানান।

এর মধ্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার পাশের বাড়ির জোসনা বেগম এ বছর নির্বাচন করলে আমরা তার পক্ষে কাজ করি। এজন্য রমেছা আমাদেরকে দেয়া কম্বলগুলো নিয়ে গেছেন।’

অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরীবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

অভিযোগ সত্য কি না জানতে রমেছা খানমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে ইউপি নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ৯ জনের।

মৃত দেলোয়ার হোসেন সাগর মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যার হেতায়েতুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুরে ভোট চলাকালে মাছিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী সেলিম রেজা মোল্লা ও হিরা সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভোট দেখতে এসে মারধরের শিকার হন স্কুলছাত্র সাগর। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে ছেলেটি মারা যায়।

সংঘর্ষ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।

আহতদের মধ্যে হিরা মন্ডল, আমিরুল হোসেন সবুজ, হাদি, ইব্রাহিম, আশরাফুল, মতি, আমিরুল ইসলাম ও শফি খানকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

নরসিংদীর রায়পুরায় এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার আমিরগঞ্জ বাজারের একটি বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে ফারজানা আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতের স্বামী মো. লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফারজানা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের টিপ্পিনগর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাতে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল জব্বার বলেন, লোকমান-ফারজানা দম্পতি আমিরগঞ্জ বাজারের কাছে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। এরমধ্যে একটিতে তারা থাকতেন আরেকটিতে ফারজানা বিউটি পার্লার করেন।

রোববার রাত দুইটায় লোকমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ফারজানাকে বিউটি পার্লারের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ দুপুরে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরায় ইউপির ভোটে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের দিন সংঘর্ষ হয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে। ভোট শেষের আগমুহূর্তে রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। পরদিনও রায়পুরে ভোটে জয়ী-পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান।

লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরদিনও থেমে নেই সহিংসতা। ভোটের দিন সংঘর্ষে রামগঞ্জ উপজেলায় একজনের প্রাণহানির পর সোমবার আবারও রায়পুর উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উপজেলায় ভোটের দিনও সংঘর্ষ হয়েছে।

রায়পুরের উত্তর চরবংশীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিয়া মোড় এলাকায় সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়ান নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় তারা অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, রোববারের নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের সদস্য হন জাহাঙ্গীর বকসি। পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ানের সমর্থকরা দুপুরে কুচিয়া মোড় এলাকায় জড়ো হন। জাহাঙ্গীরের লোকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পড়ে সংঘর্ষে গড়ায়।

তিনি বলেন, অন্তত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকরা বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় জাহাঙ্গীর বকসির ভাই লিটন বকসির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে, একটি মাছ ধরার নৌকা ও জাল পুড়িয়ে দেয়।

জবাবে বিজয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মফিজের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা হামলা চালায় তার লোকজনের ওপর।

এর আগে ভোটের দিন রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশীর পশ্চিম চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অন্য সদস্য পদপ্রার্থী খালেকুজ্জামান খালেক বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

এতে খালেকুজ্জামানসহ দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন।

একই সময় রামগঞ্জের বাদুর ইউপির আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে হানুবাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে।

এরপর ভোট শেষের আগমুহুর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকেন ঋতু। তার কাছে নিরাপদ থাকবে ইউনিয়ন। ঋতু সরকারি বরাদ্দ নয়ছয় করবেন না, এমনটিও আশা ভোটারদের।  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে ঋতুর বিশাল জয়ে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। নৌকার প্রার্থীও পরাজয় মেনে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋতুকে।
নতুন চেয়ারম্যান বলছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।

ইউপি নির্বাচনে ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা হাতপাখার মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৮০৯ ভোট।

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বদিলাপাড়ার ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ঋতু অনেক ভালো। তিনি মানুষের উপকার করেন। তাই আমরা তাকে ভোট দিছি।’

বহিরগাছি গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ‘ঋতু বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। তাকে আমরা জিতাইছি। এখন সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুক।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিম শেখ বলেন, ‘ঋতুর ঘর নেই, সংসার নেই, তার কাছে ইউনিয়ন নিরাপদ। আশা করছি, আমাদের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দ তিনি ঠিকমতো বিতরণ করবেন।’

আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মানুষ বলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। সে কথাটা ঠিক না। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের ইউনিয়ন।

‘‘মানুষ যদি যোগ্য হয় তাহলে তার স্থান ঠিকই পাবে। সারা দেশের ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা ঋতুর মতো যোগ্য হন, মানুষের উপকার করেন। তাহলেও মানুষও আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’’

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে


বিজয়ী নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার বয়স ৪৩ বছর। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। অল্প বয়সে চলে যেতে হয়েছিল ঢাকায়। সেখানে ডেমরা থানায় দলের গুরুমার কাছেই তার বেড়ে ওঠা।

ঋতু বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও নিয়ম করে এলাকায় যেতাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতাম।

‘জনগণ আমার পক্ষে আছে। আমি একটা কথা জানি, অনেক মানুষের অনেক কথা থাকে। আমার কিচ্ছু নেই। আমার ঘর নেই, সংসার নেই। এই জন্য আমার লোভ-লালসা নেই। এই জনগণই আমার সব।’

আগামীর পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে সব করতে চাই। জনগণ যা বলবে আমি তাই করব। জনগণ বলেছে, ওর ছেলে নেই মেয়ে নেই, ঘর সংসার নেই, ও আমাদের জন্যই কাজ করবে। আমি জনগণের পক্ষেই সব সময় থাকব। জনগণ আমাকে যেইটা বলে আমি সেইটা করব।’

ঋতু বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কাজ এখনও হয়নি। রাস্তাঘাট ভাঙা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এসব কাজ করার জন্য আমি চেষ্টা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন একটু সুনজর দেন।’

পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালো নিয়েছে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন।

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওইদিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসাতে নারাজ মেয়রের নামে মামলা

শেয়ার করুন