সিনহা গ্রুপের ঋণ আদায়ে তৎপর ব্যাংক

সিনহা গ্রুপের ঋণ আদায়ে তৎপর ব্যাংক

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের কারখানা কমপ্লেক্স। ছবি: নিউজবাংলা

চলতি বছরের জুন শেষে গ্রুপটির কাছে এবি ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কাছে ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কাছে গ্রুপটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৭০ কোটি টাকা। গত জুন শেষে পূবালী ব্যাংকে গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা।

বন্ধ হয়ে যাওয়া ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের অর্থ তুলতে তৎপর ব্যাংকগুলো।

দুই-একটি ব্যাংক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুরু হয়েছে আলোচনা। দ্রুতই অর্থ ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

এশিয়ার বৃহত্তম গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প গ্রুপটির কাছে ব্যাংকগুলোর অনিয়মিত ঋণের পরিমাণ চার হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

চলতি বছরের জুন শেষে গ্রুপটির কাছে এবি ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কাছে ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কাছে গ্রুপটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৭০ কোটি টাকা। গত জুন শেষে পূবালী ব্যাংকে গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের কাছে ওপেক্স গ্রুপের বকেয়া ঋণ জুন পর্যন্ত প্রায় ৬০ কোটি টাকা। একই সময় পর্যন্ত সিটি ব্যাংকে গ্রুপটির বকেয়া ঋণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া জুন পর্যন্ত মেঘনা ব্যাংকে ৪০ কোটি ও ট্রাস্ট ব্যাংকে ১২ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে গ্রুপটির।

রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের কাছে ঋণ রয়েছে সিনহা গ্রুপের। ঋণের টাকা উত্তোলনে নড়েচড়ে বসেছে কয়েকটি ব্যাংক।

এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনআই অ্যাক্ট অর্থাৎ দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টে মামলা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মামলা করা ছাড়া উপায় ছিল না। আইনগত দিকেই এগোচ্ছে এবি ব্যাংক। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। সাধারণত চেক প্রত্যাখ্যাত হলে এনআই অ্যাক্টে মামলা করা যায়।’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের অধিকাংশ ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রুপটির প্রধান আনিসুর রহমান সিনহা কাউকে প্রতিনিধি না করে তার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেই পরিচালনা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটাই গ্রুপটির আজকের এই দশার কারণ।’

ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলী বলেন, ‘এত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও গ্রুপটির ব্যাংক ঋণ আদায় করা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ব্যাংকগুলো সময়মতো ঋণের টাকা পেয়ে যাবে। কারণ এটা খুব বড় এবং ভালো শিল্প গ্রুপ। ইমেজ ধরে রাখতে ঋণ বাধা হবে না হয়তো।’

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৪৫ হাজার কর্মচারীর পোশাক শিল্প কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান টিকে থাকুক।

‘কারণ একটি প্রতিষ্ঠান অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। প্রণোদনা দিয়ে হলেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বাঁচানো প্রয়োজন।’

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণায় ব্যাংক খাতে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধ করছে খুবই ধীরগতিতে, তবে সমস্যা হয়তো মিটে যাবে। সেই উপায় বের করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সিনহার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

সিনহা গ্রুপের ঋণ আদায়ে তৎপর ব্যাংক

পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ওপেক্স গ্রুপের বিপুল পরিমাণ অনাদায়ি ঋণের বিষয়ে অবগত আছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঋণ পুনরুদ্ধার বা এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেনি কোনো ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, এক ডজনেরও বেশি ব্যাংকের কাছে ওপেক্সের অনাদায়ি ঋণ রয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তবে এখনও ওপেক্স গ্রুপ থেকে ঋণ পুনঃতফসিল বা সুদ মওকুফের আবেদন করেনি।

হঠাৎ করেই বন্ধ

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা ১৯৮৪ সাল থেকে ওপেক্স গ্রুপের অধীনে দুই ডজনেরও বেশি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গুণগত মানের পণ্যের কারণে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করে।

পোশাক খাতে এশিয়ার বড় এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণসহ নানা জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গেল ১৯ অক্টোবর তাদের নারায়ণগঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এর আগের দিন ১৮ অক্টোবর গ্রুপটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) বানিজ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রশিক্ষণ শাখা আয়োজিত অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার বিষয়ক দিনব্যাপী ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ) স্বপন কুমার ঘোষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বিসিক প্রধান কার্যালয়ের হিসাব ও অর্থ বিভাগ, অডিট বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়, বিসিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখার ৩০জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

ডব্লিউএইচও ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

যেকোনো খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত চর্বি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জারি করা প্রবিধানকে স্বাগত জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

এসব সংগঠন বলছে, খাদ্যদ্রব্যে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে। এর ফলে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী জারি করা ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ এর গেজেট প্রকাশ হয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে।

এই প্রবিধান অনুযায়ী, সর্বোস্তরের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মোড়কাবদ্ধ খাদ্য, মোড়কবিহীন খাদ্য, সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাদ্য, যেকোনো তেল ও চর্বি, খাদ্য তৈরির ব্যবহৃত কাঁচামাল অথবা মানুষের খাওয়ার যোগ্য ও অনুমিত যেকোনো খাদ্য বা খাদ্য অংশের জন্য এই প্রবিধানমালা কার্যকর হবে।’

ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের মাত্রা খাদ্যের লেভেল বা মোড়কে উল্লেখ বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে প্রবিধানে। এছাড়া হাইড্রোজেনেটেড তেল বা পিএইচও কোন মাত্রায় রয়েছে তাও উল্লেখ করতে হবে।

এই প্রবিধিান বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে- কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (প্রতি ১১০ গ্রাম ফ্যাটে ২ গ্রাম ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, পূর্ব ঘোষিত সময় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন বছর থেকেই খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বাজারজাতকারী সব শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর সবার জন্য প্রবিধানটি বাধ্যতামূলক হবে। কেউ আইন ও প্রবিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা স্বার্থ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

এসব সংগঠনের দাবি, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্স ফ্যাট ঘটিত হৃদরোগে মারা যান। ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে তরুণ ও মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এর অন্যতম কারণ। প্রবিধানটি বাস্তবায়িত হলে দেশে হৃদরোগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের রিজিওনাল ডিরেক্টর বন্দনা শাহ্ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নীতি হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

বিষয়টিকে ভোক্তাস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। প্রবিধানমালা সঠিকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, জিএইচএআই এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে।’

২০১৯ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের ৯২ শতাংশে ২ শতাংশের চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে। ২০২০ সালে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্স ফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্স ফ্যাট। প্রবিধানমালাটি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

শেয়ার করুন

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন।

লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা দি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ব্যাংক ও অর্থনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ এর ‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার ২০২১’ পুরস্কারে পেয়েছে বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার পেয়েছে ব্যাংকটি।

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দি ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন বলে ইবিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারি বিবেচনায় বিচারকমন্ডলি এ বছর বিজয়ী ব্যাংকগুলোর দৃঢ়তা, গ্রাহকসেবা, এবং কিভাবে তারা ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কাজ করেছে তার ওপর বিশেষ গুরুত্বরোপ করেন। বিচারকদের মতে, বিজয়ী ব্যাংকগুলোর এ বছর ‘সত্যিকার অর্থেই স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে যা তাদের প্রতিষ্ঠানিক শক্তির পরিচয় বহন করে।’

ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘এটি আমাদের ডিজিটাল রূপান্তর এবং সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির পুরো সময়জুড়ে ইবিএল অসাধারণ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে; তারল্য, মুনাফা এবং স্বচ্ছলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০২১ সালেও চলমান ছিল।’

শেয়ার করুন

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

দেশের আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাফর আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ বিভাগ) একেএম শফিক উল হক এবং সহমহাব্যবস্থাপক (ইনটেল এং জেব্রা) আশরাফ হোসেন।

স্মার্ট টেকনোলজিতে যোগ দেওয়ার আগে সারোয়ার জাহান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডে সিনিয়র ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে সনি’র হয়ে টানা ২০ বছর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের শুরু এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের মাধ্যমে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেই উল্লম্ফন আর নেই। এখন ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। সেই মাসেও আগের বছরের একই মাসের চেয়ে কম এসেছিল প্রবাসী আয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। মে মাসে তা বেড়ে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে ওঠে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময় (২০২০-এর জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যায়। ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রথম পাঁচ (জুলাই-নভেম্বর) ৮৬০ কোটি ৯২ লাখ (৮.৬০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ শতাংশ।

‘বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে এখন যেটা রেমিট্যান্স আসে, সেটাই আসলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের প্রকৃত চিত্র। গত অর্থবছরে যা এসেছিল সেটা ছিল অস্বাভাবিক। করোনার কারণে অবৈধ চ্যানেল হুন্ডি বন্ধসহ আরও কয়েকটি কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি এসেছিল। এখন বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, অনন্তকাল ধরে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, এটার কোনো কারণ নেই।’

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর বলেন, ‘কোভিডের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় এতদিন হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসেনি। সেটাই ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। সে কারণে প্রবাহ বেড়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় প্রবাসীদের খরচ বেড়েছে। ভ্রমণ-শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করছেন তারা। এ কারণেই আগের মতো পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না।

‘আর আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, প্রণোদনা দিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। আমাদের একটা বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বৈশ্বিক কোনো কারণ নেই, বেড়েছে দেশীয় কারণে। সেটা হলো অবৈধ চ্যানেল (হুন্ডি) বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এ কারণে যারা আয় পাঠিয়েছিলেন, সবই বৈধ পথে এসেছিল। প্রকৃতপক্ষে করোনায় আয় আসা কিন্তু কমেছিল। কারণ, প্রবাসীদের আয় কমে গিয়েছিল।’

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা সরকার অব্যাহত রেখেছে।

রিজার্ভও কমছে

রেমিট্যান্স কমায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর পর থেকে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

শেয়ার করুন

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) খুলেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এ নিয়ে দেশজুড়ে ২০০টি জিপি সেন্টারের মাইলফলকে পৌঁছাল।

গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সারা দেশে এই জিপিসি সেন্টারগুলো খুলেছে গ্রামীণফোন। বুধবার দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ এই জিপিসি উদ্বোধন করেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোনের হেড অফ কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হোসেন সাদাত ও হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে গ্রাহক ও জিপিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা নাগেশ্বরী থেকে যুক্ত হন এবং জিপিসির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের অনুপ্রেরণা থেকে এখন দেশজুড়ে গ্রামীণফোনের প্রয়োজনীয় কাস্টমার সল্যুশন সেন্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সম্পৃক্ততা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০ জিপিসির পাশাপাশি গ্রামীণফোনের বিদ্যমান অন্যান্য ডিজিটাল সেবা চ্যানেল-১২১ হটলাইন ও মাইজিপি অ্যাপ্লিকেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জেলা সদরের বাইরে জিপিসির বিস্তৃতি ঘটেছে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন গ্রামীণফোন সেন্টার রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০টি জিপিসির মধ্যে ঢাকায় ২৪টি, সিলেটে ২৪টি, রাজশাহীতে ২১টি, বরিশালে ১৯টি, বগুড়ায় ১৮টি, খুলনায় ১৭টি, ময়মনসিংহে ১৭টি, কুমিল্লায় ১৬টি, চট্টগ্রামে ১২টি এবং রংপুরে ৭টি জিপিসি রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকরা সারা দেশের ৪ লাখ ২০ হাজার রিটেইল পয়েন্ট থেকেও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিটিআরসির মহাপরিচালক নাসিম পারভেজ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই গ্রামীণফোনের জন্য আজকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ জনগণের কাছাকাছি আসার এক বিশাল মাইলফলক প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে। জনগণের সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের হটলাইন, মাইজিপির মতো সেবা থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য গ্রামীণফোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সাধারণ মানুষ যারা এখনও পুরোপুরি ডিজিটাল সেবায় অন্ত অন্তর্ভুক্ত হয়নি, জিপি সেন্টার তাদের জন্য সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব বলেন, ‘২০০তম জিপিসির এই দুর্দান্ত মাইলফলক অর্জন নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই স্টোরগুলো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রতিফলন। দুই দশক ধরে গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে তাদের পছন্দসই পণ্য, সেবা এবং সুবিধা পেতে সানন্দে আমাদের সেন্টারগুলোয় আসছেন। গ্রামীণফোন সেন্টারে আমরা প্রত্যেক গ্রাহকের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি এবং তাদের ডিজিটাল জীবনধারার মানোন্নয়নে যথোপযোগী সমাধান প্রদান করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশজুড়ে সবচেয়ে বিস্তৃত উচ্চ গতিসম্পন্ন ফোরজি কাভারেজ রয়েছে এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানে এই সেন্টারগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রয়েছে। গ্রাহকরা এসব সেন্টার থেকে তাদের ডিজিটালের সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবেন।’

হেড অফ গ্রামীণফোন কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টারের এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছি, যা একই সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। সামনের দিনগুলোয় আরও স্টোর চালুর মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিসিএও হোসেন সাদাত বলেন, ‘সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোন এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বেশিসংখ্যক গ্রাহকের ডিজিটাল সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।’

শেয়ার করুন