মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে

২০১৫ সালের মাঝামাঝি মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। অর্ধযুগ পর এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫১ হাজার হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা করার সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ব্যয় বৃদ্ধির হার ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে। সাত বছর আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে সমুদ্র বন্দরের জন্য সহায়ক অবকাঠামোও তৈরি হবে।

২০১৫ সালের মাঝামাঝি মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। অর্ধযুগ পর এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫১ হাজার হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা করার সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ব্যয় বৃদ্ধির হার ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

একই সঙ্গে ২০২৩ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সাড়ে তিন বছর সময় চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এ প্রস্তাব মঙ্গলবার অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হচ্ছে। একনেকের কার্যতালিকা প্রকল্পটি রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিটেইল ডিজাইন করে। সে অনুযায়ী খরচ বেড়েছে প্ল্যান্ট ও জেটির ক্ষেত্রে। তা ছাড়া মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরের উপযোগী কিছু অবকাঠামোর জন্যও বাড়তি ব্যয় হবে। বাড়তি কাজের জন্য বাড়তি সময়ও লাগবে।

নতুন প্রস্তাবে চ্যানেল, জেটি, ভূমি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিভিল কার্যক্রম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরামর্শক, ভ্যাট-আইটি ও আমদানি শুল্ক, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন ও টাউনশিপ নির্মাণেও বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

গত সাত বছরে এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৪৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৪৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক) বা মেগা প্রকল্পের একটি। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। এতে তুলনামূলক কম কয়লার প্রয়োজন হবে, ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডও নির্গত হবে কম। বায়ুদূষণ ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব কম পড়বে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ রোধে লোরেট বার্নার স্থাপন এবং সালফার-ডাই অক্সাইড রোধে সাগরের পানিতে ডি-সালফারাইজেশন মেথড ব্যবহার করা হবে। অ্যাশ রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর ব্যবহার করা হবে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাব-বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে। পরিবেশ দূষণ রোধে অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৭০০ কেজি স্ট্যান্ডার্ডে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মাণে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সিপিজিসিবিএল।

বাস্তবায়নকারী সিপিজিসিবিএল বলছে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্টিম টারবাইন, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন স্থাপন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি ও পানি শোধন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি টাউনশিপ নির্মাণ, গ্রাম বিদ্যুতায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কাজের আওতায় চকোরিয়া-মাতারবাড়ী ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও ১৩২/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে অ্যাশ ডিসপোজাল এরিয়া এবং বাফার জোন।

সিপিজিসিবিএল বলছে, এ প্রকল্পে পোর্ট ও জেটি নির্মাণ প্রক্রিয়া সবচেয়ে দৃশ্যমান। সমুদ্রগামী বিভিন্ন জাহাজ থেকে প্রকল্পের মালামাল খালাসে ডিসেম্বর থেকেই নবনির্মিত একটি স্থায়ী জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি জেটি নির্মাণকাজ চলমান।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এ প্রকল্পে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আনার জন্য একটি বন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা দেশের আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। কয়লা আমদানির জন্য নদীতে ৭ কিলোমিটার নৌ চ্যানেল করা হবে। পাশাপাশি কয়লা ওঠানামার জন্য নির্মাণ করা হবে জেটি। ৫৯ ফুট গভীর এ বন্দরে ৮০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। কয়লা আমদানির পর তা সংরক্ষণের জন্য বানানো হবে কোল ইয়ার্ড।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। এতে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকার মাতারবাড়ীকে বিদ্যুৎ হাব হিসাবে তৈরি করতে চায়। এখানে মোট আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপেই আরও তিনটি কয়লা বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। গত বছর এই দুই দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এদিকে এলএনজি আমদানির জন্য এলএনজি টার্মিনাল করারও পরিকল্পনা আছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।   

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।

ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুর রহমান ও ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সেলস ডিরেক্টরশাহরুখ হাসনাইনসহ প্রতিষ্ঠান দুটির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কমেছে। ফাইল ছবি

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ডিসেম্বরে কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এটি আগের মাসের চেয়ে ৮৫ টাকা কম।

নভেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩১৩ টাকা।

অন্যদিক যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাস কেজিপ্রতি ৫৭.২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি বৃহস্পতিবার নতুন এই দর ঘোষণা দিয়েছে।

ভার্চুয়াল এই দর ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, কমিশনের সদস্য মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান ও মো. কামরুজ্জামান।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে। সৌদির দর ওঠানামা করলে এলপিজির মূল্য ওঠানামা করবে।

আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে। নভেম্বর মাসে সৌদি সিপির দর ছিল প্রোপেনে ৮৭০ ডলার এবং বিউটেনে ৮৩০ ডলার।

চলতি মাসে এলপিজির দর কমে যথাক্রমে টনপ্রতি ৭৯৫ ও ৭৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি, কিন্তু বাস্তবে সেই দরের কমই প্রতিফলন লক্ষ্যণীয়।

কোথাও বেশি দরে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে কম দরে বিক্রির খবর মিলেছে। ১২ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন।

গত এপ্রিল ঘোষিত দরে এলপিজির আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৩৫৯ দশমিক ৪০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই কমিশন বাড়িয়ে অক্টোবরে করা হয় ৪৪১ টাকা। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

রেমিট্যান্স নিম্নমুখী হওয়ার মধ্যে অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে রপ্তানি আয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আয় এমনকি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না।

সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

তবে এই সুবাসের মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যদি করোনার এই নতুন ধরন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রপ্তানি বাণিজ্যেও আগের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা টাকার হিসাবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

এ পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। এ হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক ছাড়াও কৃষি প্রক্রিয়াজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানি বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে সাড়ে ১৭ শতাংশ।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত, ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এরমধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৮৯৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৬৮৭ কোটি ডলার। আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা আছে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা খুশি। এত দ্রুত করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব, ভাবতে পারিনি। তবে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। জানি না, কী হবে। যদি ওমিক্রন সার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের রপ্তানি আবার থমকে যাবে। আর যদি, তেমনটা না হয়, তাহলে এই ইতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওমিক্রনকে গভীরভাবে পর‌্যবেক্ষণ করছি। সবকিছুই নির্ভর করছে করোনার এই নতুন ধরনের উপর। যদি ওমিক্রনের ছোবল বিশ্বে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে আগামী দিনগুলোতেও রপ্তানি আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা অর্থবছর শেষ করতে পারব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

নেটফ্লিক্সও নিল ভ্যাট নিবন্ধন

নেটফ্লিক্সও নিল ভ্যাট নিবন্ধন

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট স্ট্রিমিং অ্যাপ নেটফ্লিক্স। ছবি: এএফপি

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। নেটফ্লিক্স পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর নামে নিবন্ধন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে।

ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা সংস্থা নেটফ্লিক্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ব্যবসায় নিবন্ধন নম্বর (বিআইবিএন) নিয়েছে; যা ভ্যাট নিবন্ধন নামে পরিচিত।

বুধবার ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বাংলাদেশের অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংস্থাটি এই ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির ।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। নেটফ্লিক্স পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর নামে নিবন্ধন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে।

প্রতিষ্ঠাটির স্থানীয় পরামর্শক হিসেবে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বর থেকে নেটফ্লিক্স নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করবে।

হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য জন্য ভালো খবর যে, নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা সংস্থা ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এমন প্রতিষ্ঠান এলে বাংলাদেশের ইমেজও ভালো হবে।

‘এই ভ্যাট নিবন্ধনের ফলে নেটফ্লিক্সের ভ্যাটের আইন প্রতিপালন করা সহজ হবে এবং তাদের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখা যাবে।’

এর আগে ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাটের ব্যবসায় শণাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেয়। গত ২৩ মে গুগল প্রথমে ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়। এরপর দেড় মাসের মধ্যে ফেসবুক ও আমাজন ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। পরে গত ১ জুলাই মাইক্রোসফট ভ্যাট নিবন্ধন নেয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ দেশে বিনিয়োগ করতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। আর আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ২৫ বছর পালন করছে। এটা আমাদের বন্ধুত্বের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।

‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে তুলা ও তুলাজাতীয় পণ্যের ওপর থেকে মাত্রাতিরিক্ত কর তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করি। সেই আমদানিতে অনেক ট্যাক্স। ফলে সেই তুলার উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারেও যায়, কিন্তু তাতেও অনেক ট্যাক্স। আমেরিকা এই ট্যাক্সটা তুলে নিতে পারে।’

জলবায়ু ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রধান। আমাদের নর্দান জোনের নদীভাঙন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদের ডেল্টা প্ল্যানে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নদীভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারে। ফলে উদ্ধার করা জমি শিল্পাঞ্চল, নগর ও পুনর্ব্যবহার করা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই লাভবান হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া ১০টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করেছে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা এখন একটি সুযোগ হিসেবে এসেছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা পিপলের বোঝা বহন করে চলছে। এটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। জোর গলায় রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছে।

‘কোভিড-১৯-এর কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুত্বের হাত বাংলাদেশের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সত্যিই খুব জটিল ও কঠিন সময় ছিল। যখন আমরা ভ্যাকসিনের জন্য হন্যে হয়ে দেশে দেশে হাত পাতছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

বস্ত্র সম্মাননা পাচ্ছে ৭ প্রতিষ্ঠান

বস্ত্র সম্মাননা পাচ্ছে ৭ প্রতিষ্ঠান

প্রতীকী ছবি

আগামী ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবসে ৭ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হবে।সচিবালয়ে বস্ত্র দিবস আয়োজন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।

আগামী ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবসে এ সম্মাননা দেয়া হবে।

সচিবালয়ে বস্ত্র দিবস আয়োজন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

সম্মাননা দেয়া নিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের মধ্যে বস্ত্র খাতকে রক্ষায় অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, “জাতীয় বস্ত্র দিবসের জন্য নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ উদযাপন করবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বস্ত্র শিল্পের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য বস্ত্র খাত সংশ্লিষ্ট সকল উদ্যোগকে সমন্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন, উদ্যোক্তা, শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগ-দপ্তর-সংস্থার বহুমুখী কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে এ দিবস পালন করা হচ্ছে।

“বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে তৈরি পোশাক খাত। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জন হয় এ খাত হতে। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে বস্ত্র খাত থেকে।”

তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রমউন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ জীবনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে। বর্তমানে বস্ত্র খাতে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমজীবী কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমজীবী নারী এবং এসব কর্মকাণ্ড নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

‘বস্ত্র শিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গতি বেগবান করা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস দেশব্যাপী উদযাপন করা হবে।’

গোলাম দস্তগীর বলেন, “এবারের জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বস্ত্র খাতের বিশ্বায়ন: বাংলাদেশের উন্নয়ন’। এ উপলক্ষে ৪ ডিসেম্বর ওসমানী মিলনায়তনে বস্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

“এ অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের অভিঘাতে বস্ত্র খাতকে রক্ষায় অবদানের জন্য ৭টি অ্যাসোসিয়েশন ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।”

পুরস্কার পেতে পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ), বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস অ্যান্ড পাওয়ার লুম ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএসটিএমপিআইএ), বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ) এবং বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী সমিতি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন

ই-কমার্স: প্রতারণা বন্ধে বিজনেস আইডির রূপরেখা চূড়ান্ত

ই-কমার্স: প্রতারণা বন্ধে বিজনেস আইডির রূপরেখা চূড়ান্ত

প্রতীকী ছবি

এ টু আই এর মাধ্যমে ‘আমার সরকার’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে এ টু আই এর সঙ্গে আলোচনাক্রমে ‘আমার সরকার’ পোর্টালে একটি নিবন্ধন উইন্ডো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউভিআইডির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউভিআইডির সার্বিক নিবন্ধন হবে।

ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতারণামূলক লেনদেন বন্ধে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির (ইউভিআইডি) রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই রূপরেখা অনুযায়ী সবাইকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় আনা গেলে দেশের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান সহজ হবে এবং ব্যবসায় শৃঙ্খলা আসবে।

এই লক্ষ্যে রূপরেখায় সেইফ গার্ড পদক্ষেপ হিসেবে প্রতারণায় জড়িত যেকোনো ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্তকরণের সহজ ৮টি উপায় চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তা মাঠপর্যায়ে চার ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এর আওতায় ই-কমার্স খাত বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ইউভিআইডিতে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। যা চলতি ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তবে ই-কমার্সসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ইউভি আইডির আওতায় আনতে হলে এ সংক্রান্ত আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীতাও উল্লেখ করা হয়েছে ইউভিআইডির রূপরেখায়। একই সঙ্গে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

মনিটরিংয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ই-কমার্স সেলকে দায়িত্ব প্রদান এবং সেই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও নিয়মিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে মনিটরিং করতে পারে বলে মতামত দেয়া হয়েছে।

গত ৩০ নভেম্বর ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি (ইউভিআইডি) সংক্রান্ত রূপরেখা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেল।

আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউভিআইডির এই রূপরেখা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা।

যা রয়েছে ইউভিআইডর রূপরেখায়

০১. দেশে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সনাক্ত ও তদারকি সহজ করতে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি ডিজিটাল সিস্টেমে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি নম্বরের আওতায় নিবন্ধন প্রদান।

০২. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আরজেএসসির সব লাইসেন্স বা ব্যবসায় সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন এর সাথে সংযুক্ত রাখা।

০৩. ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেইজের সাহায্য নেয়া।

০৪. প্রতিটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ফেইসবুক পেইজ, কোম্পানি প্যাড ইত্যাদিকে ইউনিক বিজনেস আইডি নম্বর প্রদর্শন।

০৫. (www.ubid.gov.bd) ও ‘আমার সরকার’ (myGov) উভয় ওয়েবসাইট থেকে সহজ এবং অনলাইন পদ্বতিতে ইউনিক বিজনেস আইডি নম্বরের নিবন্ধন দেয়ার ব্যবস্থা। অন্যান্য লাইসেন্স বা নিবন্ধন প্রদানের সময়ও স্বয়ংক্রিয় পদ্বতিতে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন সনদ প্রস্তুত হওয়া।

০৬. ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ গ্রহণের সময় আবেদনকারি চাইলে সরাসরি ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, বিআইএন, আরপিএ (রিটেইলারস পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট) গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা।

০৭. সব ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ ও ব্যবসার তথ্যাদি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজে সংরক্ষণ।

০৮. মোবাইল সেটসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা রাখা।

বাস্তবায়ন পদ্ধতি

এ টু আই এর মাধ্যমে ‘আমার সরকার’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে এ টু আই এর সাথে আলোচনাক্রমে ‘আমার সরকার’ পোর্টালে একটি নিবন্ধন উইন্ডো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউভিআইডির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউভিআইডির সার্বিক নিবন্ধন হবে।

মন্ত্রিপরিষদে জমা দেয়া ইউভিআইডির রূপরেখা সম্পর্কিত প্রতিবেদন তথ্যমতে, এ টু আই ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের একটি ‘ডেমো ভার্সন’ তৈরি করেছে। এটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ওই ‘ডেমো-ভার্সন’ কেই পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা হবে।

বাস্তবায়নের ধাপসমূহ

প্রতিবেদন তথ্যমতে, সমগ্র নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে কয়েকধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে প্রথম ধাপে শুধু ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়। এ প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনে গৃহীত প্রক্রিয়ার সংশোধন বা সংযোজন হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে এই প্রথম ধাপটির বাস্তবায়ন সমাপ্ত করা সম্ভব।

নিবন্ধনের দ্বিতীয় ধাপে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে আরজেএসসিতে নিবন্ধিত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে। এটির জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেধে দেয়ার সুপারিশ রয়েছে।

তৃতীয় ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সকল ট্রেড লাইসেন্সকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় নেয়ার পরামর্শ রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়াটি শেষ করতে বলা হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন বিজনেস ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এনবিআর থেকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর গ্রহণ বাধতামূলক করার অনুরোধ এসেছে। একই সঙ্গে ভ্যাট আইনের অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডিন্টিটি সনদ গ্রহণও বাধ্যতামূলক করার বিধান আছে।

কেন এই ইউভিআইডির উদ্যোগ

সাধারণত নতুন যে কোনো অনিবন্ধিত ব্যবসার ক্ষেত্রে তার কোন আইডেন্টি থাকে না। বিশেষ করে যারা নতুন উদ্যোক্তা (নতুন বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারি) অনলাইন এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি কোম্পানি, এসএমই, কারিগর বা গ্রামীণ এলাকায় ছোট কারিগর।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ ধরনের ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবদান থাকলেও অনেক সময় ব্যবসায় নিবন্ধন না থাকার কারণে বা বিজনেস প্রোফাইল না থাকার কারণে একদিকে যেমন তারা সরকার কর্তৃক প্রদেয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশ সব ধরনের ব্যবসাকে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনার সঠিক প্ল্যাটফর্মের অভাব এবং কোনো মনিটরিংয়ের আওতায় না থাকায় কখনও কখনও তাদের দ্বারা ভোক্তা সাধারণ প্রতারিত হওয়ারও সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইউনিক বিজনেস আইডি (এইউভিআইডি) এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে, যা ট্রেড লাইসেন্স অর্জন এবং ব্যবসা নিবন্ধন করার প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।’

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সব ধরনের ব্যবসাকে একটি অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। অনিবন্ধিত ব্যবসাসমূহেকে শনাক্তকরণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হবে। যার আওতায় সব ব্যবসার একটি বিজনেস রেডি প্রোফাইল থাকবে।

এতে যেমন স্বচ্ছ বাণিজ্যিক পরিষেবা নিশ্চিত হবে। একইভাবে সব ব্যবসাকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সাধারণ নীতি, কর, ভর্তুকি, আনুষ্ঠানিক ব্যবসা এবং অন্যান্য ব্যবসাকে আর্থিক সুবিধার আওতায় থাকবে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে ভেড়ানো যাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ
মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়বে জাহাজ
মাতারবাড়ীতে জাহাজ বিনিয়োগে শুভ বার্তা
মাতারবাড়ীতে ভিড়ল প্রথম জাহাজ

শেয়ার করুন