নিরাপত্তা ছাড়াই ভবন নির্মাণ, রড পড়ে আহত ছাত্র

নিরাপত্তা ছাড়াই ভবন নির্মাণ, রড পড়ে আহত ছাত্র

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে নির্মানাধীন ভবনের রড পড়ে আহত হন শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

রড পড়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার শামীম বলেন, ‘যে ছাত্র আহত হয়ে সে আমার আত্মীয়। তার সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।’

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পরীক্ষা শেষে বের হচ্ছিলেন মাস্টার্সের ছাত্র নাছিম আহমেদ। কলেজের নির্মাণাধীন ১০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি রড ছুটে তার পিঠে পড়ে। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনা রোববার দুপুরের। শিক্ষার্থীরা তখনই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। সোমবার কলেজের সামনে মানববন্ধন করে তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই ভবন নির্মাণকাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। এখন ৩০ মাস পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৩ তলার পর্যন্ত ছাদ ঢালাই হয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। কোনো নিরাপত্তা বলয়ও দেয়া নেই চারপাশে। প্রায়ই ভবনের ইট-সুরকি সিমেন্ট খসে মানুষের গায়ে পড়ে।

সবশেষ নাছিমের ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মাথায় লাগলে মৃত্যুও হতে পারে। তারা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে এরপর নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানান। দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা জানান।

তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনসার জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে আর কাজ করতে দেয়া হবে ঠিকাদারদের। নাছিমের ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিরাপত্তা ছাড়াই ভবন নির্মাণ, রড পড়ে আহত ছাত্র
রড খসে গায়ে পড়ায় আহত হন মাস্টার্সের ছাত্র নাছিম আহমেদ

এই ভবনের নির্মাণকাজ যৌথভাবে করছেন ঠিকদার এন হোসেন ও মো. শামীম। ২০১৯ সালের ২০ মে তারা কার্যাদেশ পান। দরপত্রে খরচ ধরা হয় ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ওপরে। ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

ঠিকাদার এসএম শামীম বলেন, ‘প্রথমে ভবনের জন্য রাস্তার উল্টোপাশের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরে পরিবর্তন করে সয়েল টেস্ট করাসহ নানা কারণে কাজ শুরু করতেই ৮ মাস লেগে যায়। তাছাড়া করোনার কারণ ও আমার অন্য কাজ চলায় এই বিলম্ব হয়েছে।’

তিনি জানান, বড় কোনো বিপর্যয় না হলে আগামী ১ বছরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

রড পড়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার শামীম বলেন, ‘যে ছাত্র আহত হয়ে সে আমার আত্মীয়। তার সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।’

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন ঠিকাদাররা।

নিরাপত্তা ছাড়াই ভবন নির্মাণ, রড পড়ে আহত ছাত্র
কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

এই নির্মাণ প্রকল্পের প্রকৌশলী সাহেব আলী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে এভাবেই শিডিউল করা হয়েছে। তারপরও আমরা নিরাপত্তা বলয় তৈরির জন্য ঠিকাদারকে বলেছিলাম। তিনি কাজও শুরু করেছিলেন, এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা। এখন ঠিকাদারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপর কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সাহেব আলী বলেন, ‘অন্য কাজের কারণে দেরি করায় ঠিকাদার নিজেই এখন বিপাকে পড়েছেন। রডসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। এখন লোকসান দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। তবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেই আগামী দেড় বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যে বিভাগীয় শহরে হাঁটাই দায়

যে বিভাগীয় শহরে হাঁটাই দায়

নগরবাসী জানান, ২০০ বছরের পুরোনো শহর ময়মনসিংহে বর্তমানে মানুষ বেড়েছে কয়েক গুণ। এ জন্য যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে সড়কগুলো আছে আগের মতো সরু ও অপ্রশস্ত। এতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ তাদের জীবন।

ময়মনসিংহকে ২০১৫ সালে বিভাগ ঘোষণার পর শহরে যেমন জনসংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। যান চলাচলও বেড়েছে। অথচ সড়কগুলোর প্রশস্ততা বাড়ানো হয়নি।

অপ্রশস্ত সড়কে অনিয়ন্ত্রিত রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানের কারণে এখন চলাচলের অনেকটাই অযোগ্য হয়ে পড়েছে শহরটি।

নগরীর ভেতর দিন-রাত সব সময় রিকশা-অটোরিকশা ছাড়াও বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের কারণে ভয়াবহ যানজট লেগেই থাকে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটে দূরত্বে যেতেও গাড়িতে বসে থাকা লাগে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।

হেঁটে চলাচল করাও কঠিন। শহরের অধিকাংশ সড়কেই নেই ফুটপাত। আর সড়কগুলোতে গাড়িগুলো এমনভাবে জট লেগে থাকে তার পাশ বা মাঝ দিয়েও সামনে এগোনো যায় না।

নগরবাসী জানান, ২০০ বছরের পুরোনো শহর ময়মনসিংহে বর্তমানে মানুষ বেড়েছে কয়েক গুণ। এ জন্য যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে সড়কগুলো আছে আগের মতো সরু ও অপ্রশস্ত। এতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ তাদের জীবন।

তারা আরও জানান, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের পাশাপাশি যানজটের আরেক কারণ নগরীর ভেতর দূরপাল্লা ও স্থানীয় মিলিয়ে তিনটি টার্মিনাল। যেখান থেকে প্রতিদিন কয়েক শ বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। টার্মিনাল থেকে নগরীর মধ্য দিয়েই বাসগুলো আসা-যাওয়ার সময় যানজট তৈরি করে। এরমধ্যে পাটগুদাম ও ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের পুরো এলাকায় যানজট হয়ে পড়েছে নিত্যসঙ্গী।

যে বিভাগীয় শহরে হাঁটাই দায়

শহরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী অরুপ পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে এ এলাকায় ব্যবসা করছি। সে সময় নগরীর কোনো সড়কেই যানজট দেখিনি। তবে এখন যানজটই নিত্যদিনের সঙ্গী।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ১০টায় দোকানে আসি। এ সময় থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রিকশা আর অটোরিকশার সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় অপ্রশস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের অবস্থা পুরাই হযবরল।’

আমিনুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, লাইসেন্স পাওয়া লাল ও সবুজ রঙের ইজিবাইকগুলোর নগরীর ভেতরের বিভিন্ন সড়কে জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় ভাগ হয়ে একদিন পরপর চলাচল করার নিয়ম, অথচ চালকরা প্রতিদিন চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ রাতারাতি ইজিবাইকের রং বদলে ভুয়া নম্বর ব্যবহার করে প্রতিদিন চালাচ্ছেন। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন বলছে, শহরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে ১২ হাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিন চাকার যান। পাশাপাশি কিছু অবৈধভাবেও চলছে। গত ২ মাসে অবৈধ রিকশা-অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

যে বিভাগীয় শহরে হাঁটাই দায়

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম অভিযোগ করেন, নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বড়বাজার ও ছোটবাজারের পুরো রাস্তা এখন ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া চলাচলের লাইসেন্স পাওয়া তিন চাকার যানবাহনের চেয়ে দ্বিগুণ যান অবৈধভাবে চলাচল করছে। ফলে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নগরীর যানজট পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অসহনীয়। রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়া জরুরি। এ ছাড়া অবিলম্বে শহরের সড়কগুলো প্রশস্ত করা না করা হলে ভবিষ্যতে এই নগরী অচল হয়ে পড়বে।’

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নগরীর যানজট নিরসনে সড়কগুলো প্রশস্তকরণের বিকল্প নেই। এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে নগরবাসীকে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

‘নগরীর পাটগুদাম মোড় বাসস্ট্যান্ড, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড ও টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড সরানোসহ ট্রাফিক মোড়গুলো প্রশস্ত করে ইন্টারসেকশন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নগরীর ভেতরের দশটি রেলক্রসিং অন্যত্র সরানো প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ, নতুন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দুর্ভোগ কমে আসবে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

শিশু হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শিশু হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, ২০১৫ সালে শিশু আদুরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈরে শিশু হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ রায় দেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিং নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে শিশু আদুরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস থেকে বরের লাফ

নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস থেকে বরের লাফ

মেহেরপুর সদরে মাইক্রবাস থেকে লাফিয়ে ট্রাকচাপায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি নিউজবাংলা

নিহত বোরহানের বাবা মিয়া জান জানান, বোরহানের স্ত্রীর আগেও দুইবার বিয়ে হয়েছিল। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারছিলেন না। ফেরার সময় মাইক্রোবাসে ওই বিষয়ে বোরহানের সঙ্গে আমাদের মনমালিন্য হয়। পরে সে মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় বোরহান।

মেহেরপুর সদরে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস থেকে লাফিয়ে পড়ে ট্রাকচাপায় এক যুবক নিহত হয়েছেন।

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে রোববার রাত ১টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বোরহান উদ্দিনের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

বোরহানের বাবা মিয়া জান বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে পপি খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমাদের না জানিয়ে তারা গত শনিবার বিয়ে করে।

‘পরে বোরহান নববধূকে নিয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার সিংহাটি গ্রামে তার চাচাতো বোনের বাড়ি গিয়ে ওঠে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ি না ফেরায় আমরা বোরহানকে খোঁজাখুঁজি করি। রোববার রাতে জানতে পারি সে (বোরহান) সিংহাটি গ্রামে আছে। সেখানে রাতেই তাদের আনতে যাই। পরে মাইক্রোবাসে করে নববধূকে নিয়ে নতুন দরবেশপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হই।’

পথে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয় বোরহান। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয় বলে জানান তিনি।

মিয়া জান জানান, বোরহানের স্ত্রীর আগেও দুইবার বিয়ে হয়েছিল। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারছিলেন না। ফেরার সময় মাইক্রোবাসে ওই বিষয়ে বোরহানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনমালিন্য হয়। কিছু পরে বোরহান মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি মেহেরপুর সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ আছে, সেবা নেই

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ আছে, সেবা নেই

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও মিলছে না সেবা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে। তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লেগে যায়। এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১০ মিনিটের মধ্যে রোগী ম্যানেজ করতে পারলে এক ধরেনের রেজাল্ট আসে আবার ১০ মিনিট পর ম্যানেজ করলে আরেক ধরনের রেজাল্ট পাওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি মিনিটই গোল্ডেন মিনিট।

গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোগীদের জরুরি চিকিৎসা না দিয়েই পাঠানো হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এতে তাৎক্ষণিক সেবা না পেয়ে রোগীর জটিলতা বাড়ে এমনকি অনেকের মৃত্যুও হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর নাম-ঠিকানা রেজিস্ট্রার আর কোন ওয়ার্ডে যাবে সেটি ঠিক করে দেয়া ছাড়া কোনো কাজ নেই। জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকলেও সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

রাজশাহী নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকার জাহিদুজ্জামান চলতি মাসের শুরুর দিকে তার স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখানে টিকিট কেটে খাতায় নাম এন্ট্রি করে প্রায় ২০ মিনিট পর মাকে নিয়ে পৌঁছান ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এরপর রিপোর্ট নিয়ে যান ওয়ার্ড চিকিৎসকের কাছে। সেখানেও লম্বা লাইন। মিনিট বিশেক পর সিরিয়াল পান ডাক্তারের। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাইরে থেকে ওষুধপত্র আনাসহ নানা প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর তার মায়ের চিকিৎসা শুরু হয়। অথচ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা মিললে চিকিৎসা আরও আগে শুরু করা যেত।

শুধু জাহিদুজ্জামানের মা নন, এভাবে প্রত্যেক রোগীকেই হাসপাতালে যাওয়ার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসা শুরু হতে।

দুর্গাপুর উপজেলার সায়বাড় গ্রামের বাসিন্দা জনাব আলীর স্বজনরা জানান, জনাব আলী ডায়াবেটিস রোগী। রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ২২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।

জরুরি বিভাগে নাম, ঠিকানা এন্ট্রি শেষে তাকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিতে বলা হয়। রোগীকে ট্রলিতে তুলে ওয়ার্ডের দিকে যাচ্ছিলেন স্বজনরা। মাঝপথে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই আবারও জরুরি বিভাগের দিকে ট্রলি ঘুরিয়ে নেয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সময়ই তিনি মারা যান।

এমনকি জরুরি বিভাগে ইসিজি করার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করতে পারেনি নার্স। ইসিজি করতে পাঠানো হয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। পরে জনাব আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে।

একইভাবে ১৫ জুন নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা বেলালুজ্জামানকে নেয়া হয় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ৩৬ মিনিটে। এরপর চিকিৎসা শুরু হতে না হতেই তিনি মারা যান।

এভাবে অনেক রোগীই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যাচ্ছেন। জরুরি সেবা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

তবে জরুরি সেবার বিষয়ে রামেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামসুর রহমান জানান, জরুরি বিভাগে রোগী এলে তার অবস্থা বুঝেই তাকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এখানে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকেন। তারা রোগী দেখে প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের ওয়ার্ডে পাঠান।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের জরুরি সেবা দিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন। জরুরি বিভাগকে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন হলে এ বিভাগেই মিলবে সব ধরনের চিকিৎসা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে। তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায়। এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘১০ মিনিটের মধ্যে রোগী ম্যানেজ করতে পারলে এক ধরনের রেজাল্ট আসে, আবার ১০ মিনিট পর ম্যানেজ করলে আরেক ধরনের রেজাল্ট পাওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি মিনিটই গোল্ডেন মিনিট।

‘এখন জরুরি বিভাগ ৮ থেকে ৯ জন ডাক্তার দিয়ে চলে। তারা সময় ভাগ করে দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি বিভাগকে যুগোপযোগী করতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছি। এটি আধুনিকায়নের জন্য বাজেটও চেয়েছি। পেলে এ বিভাগ আরও সমৃদ্ধ হবে।’

পরিচালক বলেন, ‘আমাদের জরুরি বিভাগের ভবনে বর্তমানে ওয়ানস্টপ সেবা, পুলিশ বক্স, ডিএনএসহ নানা বিভাগ ঢুকে পড়েছে। এগুলো এখান থেকে সরিয়ে ভবনটি জরুরি সেবার জন্য ছেড়ে দিতে হবে। তবে ওই বিভাগগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওই বিভাগগুলোর জন্য আমরা জায়গা দিয়েছি। এখন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বাজেট এলেই কাজ শুরু করা হবে।’

জরুরি বিভাগে কী কী থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে শুরু করে সব কিছুই থাকবে সেখানে। ছোটোখাটো অপারেশনও করা হবে। এখন যেমন হার্টের রোগী এলে তাকে ওয়ার্ডে পাঠাতে হয়। তখন আর সময় নষ্ট হবে না। এখানেই চিকিৎসা শুরু করব। অর্থপেডিকের চিকিৎসাও শুরু করার পরিকল্পনা আছে। অনেক রোগীকে এখান থেকেই চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিজিবির ছোড়া গুলিতে নিহত শাহপলি আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ভোট শেষ হওয়ার পর পাঁচ জেলা থেকে সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সহিংসতাহীন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দাবি করলেও শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এই ভোটে আরও দুজনসহ প্রাণহানি হয়েছে সাতজনের। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবর। এরপর নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সহিংসতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিহত হন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির ছোড়া গুলিতে দুজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউএনও জানান, ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে বেশ দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়।

পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করলে তাকে ভোটকেন্দ্রে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি বের হয়ে যেতে পারলেও একটি কক্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১৫ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে যান বিজিবি সদস্যরা। ওই সময় হামলার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে শাহপলি আহমেদ নামে একজন নিহত হন। আহত চারজনকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল জাব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে পাঠাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবুল ইসলাম চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আধ ঘণ্টা পর তাদের মধ্যে মজাহারুল ইসলাম নামের একজনের মৃত্যু হয়।’

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
কুমিল্লার বরুড়ায় একটি ‘কেন্দ্র দখল করতে’ হামলায় আহত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজিবি সদস্য হলেন নায়েক রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়।

তিনি জানান, ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেয়।

তাদের হামলায় নায়েক রুবেল নিহত হন। আহত হন তিনি (প্রিসাইডিং অফিসার) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।

মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজার কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়।

সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হন সদর থানার এক কনস্টেবল

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, রাজবাড়ী ও লালমনিরহাটে।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের ফল ঘোষণা নিয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।

স্থানীয়রা জানান, অবরোধকারীরা কয়েকটি দোকান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে এবং সড়কে টায়ার জ্বালায়।

অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক পথে যোগাযোগ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

অলিগলিতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অলিগলিতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু উপজেলা সদরেই ক্লিনিক রয়েছে ছয়টি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। আবার কয়েকটির লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই।

ফরিদপুরের মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা সদরের আনাচ-কানাচে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব চিকিৎসক, নার্স, প্যাথলজিস্ট বা টেকনিশিয়ানও নেই, অথচ সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাধারণ রোগীদের জীবন নিয়ে করছে ব্যবসা।

সরকারি তদারকি না থাকায় দালালচক্রের মাধ্যমে অসাধু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ঠকিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অথচ এ বিষয়ে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু উপজেলা সদরেই ক্লিনিক রয়েছে ছয়টি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। আবার কয়েকটির লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই।

ক্লিনিকগুলোতে বাইরের চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনও করা হচ্ছে নিয়মিত। কয়েকটি ক্লিনিকে আবার অস্ত্রোপচার করছেন সহযোগী চিকিৎসকরা। কিছু ক্লিনিকে নেই অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত। এ ছাড়া পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা।

সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এমন চারটি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হয়নি। উপসম ক্লিনিক, কবিতা ক্লিনিক, সুমী প্রাইভেট হাসপাতাল ও দি শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা একজন জানান, তাদের নিজস্ব কোনো চিকিৎসক ও নার্স নেই। প্রসূতি এলে তারা ফরিদপুর থেকে চিকিৎসক এনে সিজারিয়ান অপারেশন করেন। লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন করা হয়েছে, এখনও অনুমোদন পাননি।

একটি ক্লিনিকে এক্স-রে করতে যাওয়া আসমা বেগম জানান, উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক বাইরে থেকে এক্স-রে করতে বলেছেন। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে দ্বিগুণ টাকায় এক্স-রে করিয়েছেন।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।

শরিফ নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক কর্মচারী জানান, বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজিস্ট নেই। যেগুলোতে রয়েছে তারা কেউই ডিপ্লোমা করা না। বেশির ভাগই দেখে দেখে শেখা লোক। তাদের দিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান আবার রোগী আসার পর নমুনা ফরিদপুর নিয়ে পরীক্ষা করে এনে রিপোর্ট দেয়। সেই খরচও রোগীর কাছ থেকে তোলা হয়।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নেই সেগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লাইসেন্সের বিষয়ে বলেন, ‘কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছে। আবার অনেকে আবেদন করেনি। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা বেশির ভাগেরই নেই।

‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক করতে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুর রহমান চৌধুরী জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শিগগিরই তারা ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে নিহত ১, আহত ৪

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে নিহত ১, আহত ৪

পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার জানান, রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের আগেই মৃত্যু হয়। বাকি চারজনকে তারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতায় বিজিবির ছোড়া গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন।

উপজেলার ৩ নম্বর সনগাঁও ইউনিয়নের গিডক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিতে নিহত শাহপলি আহমেদের বাড়িও একই ইউনিয়নে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ৩ নম্বর সনগাঁও ইউনিয়নে ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণায় দেরি হওয়া নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়।

পরে প্রিসাইডিং অফিসার নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করলে তারা ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করেন। ওই সময় প্রিসাইডিং অফিসার বের হয়ে গেলেও একটি কক্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১৫-১৬ জন আনসার সদস্য আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে যান দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা। ওই সময় হামলার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে একজন নিহত ও চারজন আহত হন।

পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার জানান, রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের আগেই মৃত্যু হয়। বাকি চারজনকে তারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন বানাতেই ৬ বছর পার
৫ তলার অনুমতি নিয়ে ১১ তলা, ভাঙল সিটি করপোরেশন
ধসে পড়লে সংস্কার?
আ. লীগের সভায় মেঝে দেবে আহত ৭
‘মাটির কলসের’ ওপর ৩০০ বছর ভবন

শেয়ার করুন