শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণের হুমকি’: রিমান্ডে ঠিকানা বাসের চালক-সহকারী

শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণের হুমকি’: রিমান্ডে ঠিকানা বাসের চালক-সহকারী

বাসে শিক্ষার্থীর হাফ ভাড়া না নিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. রুবেল ও তার সহকারী মো. মেহেদী হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

আবেদনে বলা হয়, ২০ নভেম্বর সকালে ওই শিক্ষার্থী শনির আখড়া থেকে বদরুন্নেসা কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে ঠিকানা ওঠেন। পথে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাস কন্ডাক্টরের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। বাস থেকে নামার সময় ওই শিক্ষার্থীকে দেখে নেয়ার ও ধর্ষণের হুমকি দেন তিনি।

রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার মামলায় ঠিকানা পরিবহনের বাসচালক মো. রুবেল ও তার সহকারী মো. মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

এর আগে রোববার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশের উপপরিদর্শক কৃষ্ণপদ মজুমদার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০ নভেম্বর সকালে ওই শিক্ষার্থী শনির আখড়া থেকে বদরুন্নেসা কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে ঠিকানা ওঠেন। পথে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাস কন্ডাক্টরের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। বাস থেকে নামার সময় ওই শিক্ষার্থীকে দেখে নেয়ার ও ধর্ষণের হুমকি দেন তিনি।

পরে বিষয়টি নিয়ে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিচার চেয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের জন্য চান তদন্ত কর্মকর্তা ।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী ফিরোজ মোল্লা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘একটি বাসে ৫০-৬০ যাত্রী থাকে। সেখানে কোনো মেয়ে তো দূরের কথা একটা ছেলেকেও কিছু বললে সবাই প্রতিবাদ করে থাকেন। সেখানে কীভাবে একটি মেয়ের সঙ্গে এ আচরণ করবে? এটা সঠিক না। তারা ছয় বছর গাড়িতে কাজ করেন। আগে কখনও আদালতে আসেননি।’

আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চান এই আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে তাদেরকে মামলার তদন্তের স্বার্থে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদেশ দেন।

এদিকে সোমবার ওই শিক্ষার্থী ঢাকার মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার ঘটনায় তার বাবা চকবাজার থানায় মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বনশ্রীতে অভিমানে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

বনশ্রীতে অভিমানে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

প্রতিবেশী উম্মে ইফাত বলেন, ‘বনশ্রীর জে ব্লকের আটতলা ভবনের ছয় তলায় কান্না শুনে ভেতরে যাই। দেখি অহনার মা কান্না করছে। পরে শুনতে পাই অহনা রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে।’

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় উদ্ধারের পর অহনা রহমান নামে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে ওই শিক্ষার্থী।

অহনা রাজধানীর একটি স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে আনলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অহনাদের প্রতিবেশী উম্মে ইফাত বলেন, ‘বনশ্রীর জে ব্লকের আটতলা ভবনের ছয় তলায় কান্না শুনে ভেতরে যাই। দেখি অহনার মা কান্না করছে। পরে শুনতে পাই অহনা রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

ডিএনসিসি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টার শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে মিডিয়া ব্রিফে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন স্ত্রী নাদিরা পারভীন।

মামলায় ময়লার গাড়িটির চালককে আসামি করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র জানান, মামলার আসামি ওই গাড়ির চালক পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনার একদিন আগে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। পান্থপথ বসুন্ধরা সিটির বিপরীত পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি দৈনিক সংবাদ ও প্রথম আলোর সাবেক কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, সিগন্যাল ছাড়ার পর ময়লা বহনকারী উত্তর সিটির একটি ট্রাক সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনে থাকা আহসান কবির ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান চালক। এসময় তার মাথার ওপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়। চাপা দেয়ার পর গাড়িটি নিয়ে পান্থপথ সিগন্যালের দিকে পালিয়ে যান চালক। সিগন্যালের আগে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনা তদন্তে ডিএনসিসি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়িটি বৃহস্পতিবার থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার সড়কে চালকবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আমার স্যারদের বলে চালককে এক ঘণ্টা বসিয়ে কাউন্সেলিং করাই। এতে আরও হিতে বিপরীত হলো। সকালে অফিসে এসে দেখি আমার অফিসের সামনে ময়লা ফেলে গেছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি। যে ময়লা সারা দিনেও তাদের ফোনের পর ফোন দিয়ে সরানো সম্ভব হয়নি।’

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে তিন দিনের মাথায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যু হয়, সেই গাড়িটি দুই হাত ঘুরে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের কাছে ছিল।

লাইসেন্স ছাড়া সিটি করপোরেশনের চালকরা কীভাবে গাড়ি চালান, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশ সেগুলো চেক করে কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের গাড়ি আইন অমান্য করে চলছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাফিকের কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিনের বেলা সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে ইউটার্ন নিচ্ছিল, চালকের কানে ছিল মোবাইল। গাড়িটি আমি আটকাই এবং কাগজ যাচাই করি। কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি চালক। তার গাড়ি আটকানোর পর আমি বিপদে পড়ি। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে একের পর এক কল। সঙ্গে যুক্ত হয় আমাদের কর্মকর্তাদের কল। তারাও ছেড়ে দিতে বলেন। কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আমাকে ছাড়তে হয়।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আমার স্যারদের বলে চালককে এক ঘণ্টা বসিয়ে কাউন্সেলিং করাই। এতে আরও হিতে বিপরীত হলো। সকালে অফিসে এসে দেখি আমার অফিসের সামনে ময়লা ফেলে গেছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি। যে ময়লা সারা দিনেও তাদের ফোনের পর ফোন দিয়ে সরানো সম্ভব হয়নি।’

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

রাজধানীর কলাবাগান মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আবর্জনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন। ছবি: নিউজবাংলা

সিটি করপোরেশনের গাড়ি বা চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে দাবি করেন এক ট্রাফিক কর্মকর্তা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলো সেভাবে চেক করা হয় না বলে জানান তিনি। চেক করা বা ব্যবস্থা নেয়া হলে ওপর থেকে প্রচুর চাপ আসার কথা স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।

লাইসেন্স ছিল না চালক হারুনেরও

নটর ডেম শিক্ষার্থী নাঈমকে চাপা দেয়া সিটি করপোরেশনের গাড়িটি বরাদ্দ ছিল চালক ইরান মিয়ার নামে। তিনি গাড়িটি না চালিয়ে দেন হারুন মিয়াকে। আর হারুনের হাত ঘুরে গাড়িটি ছিল রাসেলের কাছে। রাসেল চালকের আসনে থাকা অবস্থায় ময়লা বহনকারী গাড়িটির ধাক্কায় মারা যান নাঈম।

সিটি করপোরেশনের প্রকৃত চালক ইরান মিয়া বাদে বাকি দুজনের গাড়ি চালানোর কোনো ধরনের লাইসেন্স ছিল না। তারাই পালাক্রমে চালাচ্ছিলেন গাড়িটি (গাড়ি নং ১১-১২৪৪)। ইরান মিয়ার নামে বরাদ্দ করা গাড়ি কীভাবে হারুন ও রাসেল চালাচ্ছিলেন, তার কোনো জবাব দিচ্ছে না দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সারওয়ার জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টা শর্ষের মধ্যে ভূতের মতো অবস্থা। যারা অঘটন ঘটান, তারা যেভাবে দায়ী, এর বাইরে যারা এসব বিষয় তদারকিতে থাকেন, তাদেরও গাফিলতি রয়েছে।

‘সিটি করপোরেশনের ত্রুটির বিষয়টা পরপর দুটি ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে। ময়লা বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকৃত চালক গাড়িটি চালাচ্ছে কি না, তা যেমন সিটি করপোরেশন তদারকির কথা তেমনিভাবে রাস্তায় থাকা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব সেগুলো চেক করা। কোনোটাই ঠিকমতো হয় না বলে প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলো ঘটছে।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো উচিত বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্জ্য আনা-নেয়ায় ব্যবহৃত গাড়িগুলো অত্যন্ত আধুনিক। জাপান সরকারের দেয়া। কোনো ধরনের কারিগরি জ্ঞান ছাড়া অদক্ষ লোক দিয়ে সেগুলো চালানো হচ্ছে। দিনে গাড়ি চলার কথা না, সেটাও চলছে। আইন না মেলে হরহামেশাই উল্টো পথে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দক্ষ জনবল দিয়ে এই ব্যবস্থাপনা করা উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।’

কলাবাগান স্টেশন থেকে ময়লা নেয়নি সিটির ট্রাক

গুলিস্তানে দক্ষিণ সিটির গাড়ির চাপায় নাঈম নিহতের পরদিন পান্থপথে উত্তর সিটির গাড়ির চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। বৃহস্পতিবার রাতেই চালক মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে চালককে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ির চাপায় একজন মারা যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টার থেকে কোনো ময়লা সরানো হয়নি।

শুক্রবার বিকেলে ওই সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ট্রান্সফার সেন্টারের ভেতরে প্রতিটি কনটেইনার ময়লায় পূর্ণ।

সেন্টারের ভেতরে থাকা শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনার পর রাতে আর কোনো ট্রাক ময়লা নিতে আসেনি। চালককে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না।

বাসা বা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যানে করে ময়লা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টারে নিয়ে আসেন আকাশ নামে এক শ্রমিক। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে কথা হয় তার সঙ্গে।

আকাশ বলেন, ‘কাইলকা রাইত ১২টা লাগাত বইসা রইছি। কোনো ট্রাক আয় নাই। আজকে আইব কি না জানি না।’

২৭ নম্বর সড়কের পাশে একটি ময়লা বহনকারী ট্রাককে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কাইলকা দুপুর থেইক্কা এই ট্রাকটা এইহানেই আছে। ড্রাইভার কই খবর নাই। শুনছি, বসুন্ধরার সামনে ঘটনার পর থেইক্কা ড্রাইবাররা পলাইছে।’

বৃহস্পতিবার রাতে কেন ময়লা নিতে কোনো ট্রাক আসেনি, এ বিষয়ে জানতে ওই সেকেন্ডারি স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি।

সেকেন্ডারি সেন্টারটিতে দক্ষিণ সিটির ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা জমা করা হয়, যা রাতে ট্রাক এসে নিয়ে যায়। এই দুই ওয়ার্ডের কমিশনারদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কঠোর হচ্ছে পুলিশ

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান মৃত্যুর পর করপোরেশনের গাড়ি অন্যায় করলে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান রমনা ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার মো. রেফাতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কাউকে কোনো ছাড় না দিয়ে যিনি আইন অমান্য করবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমাদের সে ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।’

এত সব অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশন বলছে, দুই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের করণীয় সম্পর্কে জানা যাবে।

বুধবার গুলিস্তান হল মার্কেটসংলগ্ন সড়কে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান নাঈম হাসান। ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িটির চালকের আসনে থাকা রাসেল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পল্টন থানায় নাঈমের বাবা শাহ আলমের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, রাসেলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, রাসেল মাস্টার রোলে একসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। তিন রিমান্ডে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘রাসেল মাঝে মাঝেই বিভিন্ন রুটে ট্রিপ দিতেন। তিনি হারুনের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিতেন। প্রতি ট্রিপে তিনি পেতেন ১০০ টাকা।’

এদিকে হারুনকে শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। বিকেলে পল্টন থানার পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব-৩-এর অপারেশনস অফিসার বীণা রানী দাস জানান, ২০২০ সাল থেকে হারুন ময়লাবাহী এই গাড়িটি নিয়মিতভাবে চালিয়ে আসছেন। ২৪ নভেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী মো. রাসেল গাড়িটি চালান। হারুন এবং রাসেল দুজনেরই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

শ্লীলতাহানির মামলায় ভাইবোন কারাগারে

শ্লীলতাহানির মামলায় ভাইবোন কারাগারে

প্রতীকী ছবি

আসামিপক্ষের দুই আইনজীবী দাবি করেছেন, ২ নম্বর আসামি জুঁই এই মামলার বাদীর স্বামীর বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর যৌন নির্যাতনের একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলার প্রতিশোধ নিতেই বর্তমান মামলাটি করা হয়েছে।

রাজধানীর শাহ আলী থানায় করা যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির মামলায় সহোদর দুই ভাইবোনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস মামলাটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. শরীফ ও তার বোন মোছা. জুঁই।

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মহিদুল ইসলাম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান ও ওবায়দুল্লাহ কাজী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তারা দাবি করেন, ২ নম্বর আসামি জুঁই এই মামলার বাদীর স্বামীর বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর যৌন নির্যাতনের একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। সেই মামলার প্রতিশোধ নিতেই বর্তমান মামলাটি করা হয়েছে।

আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, বোনের উপস্থিততে তার আপন ভাই অন্য নারীকে শ্লীলতাহানি ঘটানোর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সাজানো। আসামিরা নির্দোষ।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিনের বিরোধিতা করা হয়। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নাকচ করে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার সূত্র ধরে গত ২৫ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে শাহ আলী থানাধীন এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুই ভাইবোনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৬ নভেম্বর আসামি জুঁই মাগরিবের নামাজ শেষে বাদীর বাসায় যান। বাদী তাকে বসতে বলে আপ্যায়ন করার জন্য পাশের রুমে চা তৈরি করতে যান। চা নিয়ে ফিরে এসে দেখেন, জুঁইয়ের ভাই শরীফও এসেছেন। তিনি চা রাখার জন্য টেবিলের কাছে গেলে শরীফ পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করলে আসামিরা পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

বাসে হাফ ভাড়া তো আগেও ছিল: জি এম কাদের

বাসে হাফ ভাড়া তো আগেও ছিল: জি এম কাদের

বাস ভাড়া হাফ চেয়ে গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

‘গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। ছাত্রদের জন্য হাফ ভাড়া আগেও ছিল। ছাত্রদের হাফ ভাড়ার দাবি যৌক্তিক, এ দাবি মেনে নেয়া উচিত।’

বাসে ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগেও ছিল উল্লেখ করে এই দাবি মেনে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার মতে, ছাত্রদের এই আন্দোলন পুরোপুরি যৌক্তিক।

শুক্রবার দুপুরে এফডিসি মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা গৌণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। ছাত্রদের জন্য হাফ ভাড়া আগেও ছিল। ছাত্রদের হাফ ভাড়ার দাবি যৌক্তিক, এ দাবি মেনে নেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘পরিবহনমালিক ও শ্রমিকরা যেন দেশকে জিম্মি করে ফেলেছে। সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছে শ্রমিকরা। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সরকারের যেন কিছুই করার নেই।’

বাসে হাফ ভাড়া তো আগেও ছিল: জি এম কাদের

সড়কের চাঁদাবাজির কারণে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে বলেও মনে করেন জাতীয় পার্টির নেতা। বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের। বলেন, ‘নির্বাচন সঠিকভাবে হচ্ছে না। নির্বাচনের নামে ভোটকেন্দ্র দখল হচ্ছে, ভোটের নামে সহিংসতা হচ্ছে, খুনোখুনি হচ্ছে। জোর করে ভোটের বাক্স ছিনতাই করছে। ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভোটের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই ভোটের ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে।… নির্বাচন সঠিকভাবে হলেই সুশাসন নিশ্চিত হবে আর গণতন্ত্রচর্চা হলেই সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে বিতর্ক অনুষ্ঠানে ছায়া সংসদে সরকারি দল হয়ে বিতর্কে অংশ নেয় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি এবং বিরোধী দল হিসেবে অংশ নেয় ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায় এ কার্ড। ফাইল ছবি

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়ির মূল চালক ছিলেন হারুন মিয়া।

রাজধানীর গুলিস্তানের গোল চত্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হয়েছিলেন, তার মূল চালক হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৩-এর অপারেশন্স অফিসার বীণা রানী দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে আটক করে। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এদিকে ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে কর্মচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ পাঠান।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন

খিলক্ষেতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর

খিলক্ষেতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি

পথচারী রাজু জানান, খিলখেত রেলগেট এলাকায় বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় এক নারী। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজধানীর খিলক্ষেতে রেল গেইট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পথচারী রাজু জানান, খিলখেত রেলগেট এলাকায় বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় এক নারী। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খিলক্ষেত রেলগেট এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারী ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি, তার পরনে ছিল সালোয়ার কামিজ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ৫ বাসচালককে জরিমানা
জনগণের কেন এই ‘ভাড়াদণ্ড’
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক: ১৪ দল
নতুন হার সত্যিই কার্যকর হলে বাস ভাড়া কমবে!

শেয়ার করুন