জাহাঙ্গীরের মেয়র পদ পর্যালোচনায় মন্ত্রণালয়

জাহাঙ্গীরের মেয়র পদ পর্যালোচনায় মন্ত্রণালয়

গাজীপুর মহানগরীর হারিকেন এলাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের মেয়র পদ থাকবে কি না, তার আইনগত দিক পর্যালোচনা করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। দুই-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারে।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ হারানো জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ থাকবে কি না, তার আইনগত দিক পর্যালোচনা করে দেখছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তাজুল বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়রের বিষয়ে আমি আগেও বলেছি আইনটা দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনটা আমাদের ডিপার্টমেন্ট পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা হোক, তারপর বলব। এটা শেষ হতে দুই-এক দিন লাগতে পারে।

‘পর্যালোচনা হচ্ছে, আইনগত বিষয়ে তার অবস্থানটা কী রকম হবে, সেটা দেখার চেষ্টা করছি। পদ থাকবে কি না, পর্যালোচনা করে পাওয়া যাবে; আইনে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলো।’

দল বহিষ্কার করলে মেয়র পদ যাবে, এমন বিষয় স্থানীয় সরকার আইনে বলা নেই। জাতীয় সংসদেও দেখা গেছে দল থেকে বহিষ্কার করার পরও একাধিক ব্যক্তি তার সংসদ সদস্য মেয়াদের পুরোটা পার করেছেন।

তবে স্থানীয় সরকার আইনে এমন কিছু বিধান আছে, যে কারণে জাহাঙ্গীরের মেয়র পদ ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। যদি ক্ষমতাসীন দল তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং সে মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়, যদি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরের সমর্থন হারান এবং তারা যদি অনাস্থা আনেন, তাহলে জাহাঙ্গীরের মেয়র থাকা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

আইন করার মধ্য দিয়ে দেশে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয় ২০১৬ সালে। সিদ্ধান্ত হয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রার্থী দিতে পারবে দলীয় প্রতীকে। সে বিধান অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। এরপর একে একে দেশের সব সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রতীকে ভোট হয়।

২০১৮ সালের ২৭ জুনের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর।

স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করলে সরকার, লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র বা কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করতে পারবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন, সেটি যদি নেয়া হয় এবং যদি তদন্তে প্রমাণ মেলে এবং যদি মেয়রের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়, তাহলেই পদ হারানোর প্রসঙ্গটি আসে।

বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার নিউজবাংলার কথা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে। দল বহিষ্কার করায় জাহাঙ্গীরের মেয়র পদে থাকা নিয়ে কোনো সংশয় আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটা তো আমাদের জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা। আইনের মধ্যে কিন্তু সুষ্পষ্ট কিছু লেখা নাই। আইনের মধ্যে শুধু লেখা আছে, সে ফৌজদারি মামলা, দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের ক্ষতি করলে পদ হারাবে।’

যেসব কারণে মেয়রকে অপসারণ করা যায়

# স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে, মেয়র অথবা কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হবে যদি তিনি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।

# যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হন।

# যদি তিনি দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করেন বা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন।

# যদি তিনি অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

# বার্ষিক ১২টি মাসিক সভার বদলে ন্যূনতম ৯টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত করতে না পারেন বা সভায় উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হন।

# এই অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

মেয়রকে অপসারণ করা হলে আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপসারণ আদেশটি স্থগিত থাকবে। রাষ্ট্রপতি অপসারণ আদেশটি পরিবর্তন, বাতিল বা বহাল রাখতে পারবেন।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন হয়েছে ২০০৯ সালে প্রণীত স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে। সেখানে করপোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরদের যোগ্যতা, অপসারণ বা পদচ্যুতির বিষয়ে নানা শর্তের কথা বলা আছে। তবে দল বহিষ্কার করলে পদ হারাবেন, এমন কোনো কথা বলা নেই।

আওয়ামী লীগ গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘরোয়া আলোচনায় তিনি বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের শহীদ হওয়ার প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সত্যতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় হায়াত রিজেন্সী হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় উদযাপন হলো বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে হায়াত রিজেন্সী হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের হাইকমিশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে কাউন্সিলর তৌহিদুলের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এতে ভারতীয় সহায়তা, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে তৎকালীন ভারত সরকারের ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বক্তব্য দেন।

এছাড়া রাশিয়াসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ৩১টি দেশের মিশনপ্রধান, ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, থিংকট্যাঙ্ক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ শতাধিক ব্যক্তি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনার সুফিউর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সহায়তা এবং প্রধানমন্ত্রী মুজিব ও ইন্দিরা কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের বিষয়কে স্মরণ করেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং দু’দেশের সব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে বেগবান হয়েছে।

ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরে ভারতের জনগণ গর্বিত। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অস্ট্রেলিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানের জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন তিনি। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়াসহ ১৮টি দেশে বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাস যৌথভাবে দিবসটি পালন করেছে। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিবস ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল সাময়িকভাবে বরখাস্ত। ছবি: নিউজবাংলা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে মতবিনিময় সভায় সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু, আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন; তাই, আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

‘যেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক যে ক্ষেত্রে কোন পৌরসভার মেয়র অথবা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু, আপনি জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল, মেয়র, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, সিলেট স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ উপ-ধারা ১(খ) ও ১(ঘ) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও জনহানিকর বক্তব্য দেয়ায় আপনার এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি মর্মে সরকার মনে করে।’

‘সেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী আপনাকে মেয়র, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

এ আদেশ শিগগির কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার রাবেলকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। বহিষ্কার হওয়ার আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাবেল।

দলীয় পদ যাওয়ার পর এবার পৌরসভা মেয়রের পদও হারালেন রাবেল।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে আগামী ১৫-১৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা সফর করবেন বলে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে আগামী ১৫-১৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা সফর করবেন বলে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির বৈঠক হবে।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিতে চলতি বছরের ২৬ থেকে ২৭ মার্চ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন।

এ বছরই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে ভাঙল ৫০ বছরের রেকর্ড

ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে ভাঙল ৫০ বছরের রেকর্ড

সোমবার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যায়। ছবি: নিউজবাংলা

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি কমে আসবে। তবে আকাশ মেঘলা থাকবে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এর প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টি। তা চলেছে বিরামহীন। এদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে রাজধানীতে একদিনে বৃষ্টিপাতের এই পরিমাণ গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগেরদিন রোববার রাজধানীতে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তা ছিল একই সময়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

নভেম্বর মাসে রাজধানী ঢাকায় সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয় এবার তা হয়নি। আবার ডিসেম্বরে এসে বিপরীত চিত্র। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটা গত ৫০ বছরের মধ্যে ডিসেম্বরে একদিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে এর আগে কাছাকাছি মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছিল ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর, ৬১ মিলিমিটার। এর আগে ১৯৭৩ সালের ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ৪৪ ও ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দেশের সর্বদক্ষিণের এই জনপদে বৃষ্টি হয়েছিল ১৫৪ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি কমে আসবে। তবে আকাশ মেঘলা থাকবে।’

রোববার মধ্যরাত থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে থাকে। এই বৃষ্টি সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকটা বিরামহীন চলতে থাকে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক অনেক কম। এতে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। রাস্তায় গণপরিবহন কম থাকায় রিকশাচালকরাও হাঁকেন অতিরিক্ত ভাড়া। চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষজন।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে লঘুচাপ আকারে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যায় লঘুচাপে পরিণত হতে পারে।

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বসে থাকার সুযোগ নাই: হাইকোর্ট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বসে থাকার সুযোগ নাই: হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে কী করা হয়েছে, সেটা আমরা দেখতে চাই। পানামা পেপার্সে যে নামগুলো আসলো সেটা কী হলো। আপনারা না পারলে বলে দেন।’

দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে, বসে থাকার সুযোগ নাই, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উদ্দেশ করে এমন মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।

অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা জমা দেয়ার পর এ বিষয়ে শুনানিকালে আদালত এ মন্তব্য করে।

এ সময় রিটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে কী করা হয়েছে, সেটা আমরা দেখতে চাই। পানামা পেপার্সে যে নামগুলো আসলো সেটা কী হলো। আপনারা না পারলে বলে দেন।’

বিচারক বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমাদের কিছু একটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক ধরনের সংগঠন আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো সংগঠন নেই। যেটা ভারতে আছে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হোক এটা আমরা চাই না। আমরা কেন? কেউই চায় না।’

এ সময় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করে এ বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশটা বির্নিমাণ করতে হবে। রক্তের বিনিময়ে গড়া দেশটা। আমাদেরকেও কিছু একটা করতে হবে। বাংলাদেশ একটি সভরিন (সার্বভৌম) রাষ্ট্র। দেশের প্রয়োজনে এটা করতে হবে। দেশ যেটা চাইবে, সেটাই হবে। বসে থাকার সময় নাই। কাজ করতে হবে।

পরে আদালত পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে দেয় আদালত। আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডি ও বিএফআইইউকে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার দুদকের পক্ষ থেকে ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা জমা দেয়া হয়। যার মধ্যে প্যারাডাইস পেপার্সে ২৯ আর পানামা পেপার্সে ১৪। এ প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর রোববার আংশিক শুনানির পর সোমবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়। এরপর আজকে পরবর্তী শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

দেশে টিকা উৎপাদনে দুই-চার দিনের মধ্যে চুক্তি

দেশে টিকা উৎপাদনে দুই-চার দিনের মধ্যে চুক্তি

সোমবার ’টাইমস অফ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ’দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ’টাইমস অফ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ’দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।’

কোন দেশের সঙ্গে বা কোন কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি সই হবে এটা মন্ত্রী উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ’দেশের টিকা উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।’

এর আগে গত ১৫ আগস্ট চীনা একটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন (বিসিপিএস) মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ওই চুক্তিতে ছয় মাসের মধ্যে টিকা উৎপাদনের কথা উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা বাড়াচ্ছে

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা বাড়াচ্ছে

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্লিপ অ্যাপেনিয়া শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সবকিছু মিলে স্থূলতা সমস্যা সারা বিশ্বেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ওবিসিটি বাড়ার অন্যতম কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম কমে আসা।’

ফাস্টফুড, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও হতাশাজনক জীবনযাত্রা স্থূলতা (ওবিসিটি) বাড়াচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশেও এই সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্লিপ অ্যাপনিয়া শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিএমএ) অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোসাররফ হোসেন ও অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু মিলে স্থূলতা সমস্যা সারা বিশ্বেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ওবিসিটি বাড়ার অন্যতম কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম কমে আসা।

‘শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়ে চলেছে। সঠিক সময়ে খেলাধুলা করতে না পেরে বড়দের মতো শিশুরাও এই সমস্যায় ভুগছে। শিশুদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।

নাক ডাকার ক্ষেত্রে ওবিসিটি একটি কারণ উল্লেখ করেন দীপু মনি বলেন, ‘নাক ডাকা বিষয়ে অনেক গবেষণা দরকার। এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। নাক ডাকা যে অসুস্থতা, এটা অনেকেই জানেন না। নাক ডাকার যে ভালো চিকিৎসা রয়েছে, সেটাও অনেকের অজানা। এ বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

‘ঘুমের বিষয়টি জরুরি। খাবার ছাড়া একটা মানুষ ৬৬ দিন বাঁচতে পারে, আর ঘুম ছাড়া বাঁচতে পারে মাত্র ১১ দিন- এমন একটি গবেষণা রয়েছে। না ঘুমালে মস্তিষ্ক কাজ করে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান তফাদার বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার ফলে মানুষের ঘুম নষ্ট হয়। সারা‌ দিনের কাজে কর্মস্পৃহা থাকে না। বিশেষ করে গা‌ড়িচালকরা য‌দি ওবিসি‌টি সমস‌্যায় ভোগেন, তা হলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

‘দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে সেগুলোর অধিকাংশই ঘটে থাকে চালকের স্লিপ অ্যাপেনিয়ার কারণে। এই কনফারেন্সের মাধ‌্যমে আমরা সব চালকের স্লিপ‌ অ‌্যাপেনিয়া স্টা‌ডি (পরীক্ষা) আইন করে বাধ‌্যতামূলক করার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘পাশাপা‌শি এটাও স্মরণে রাখতে হবে, কারও মধ্যে নাক ডাকার সমস‌্যা দেখা দিলেই তা বন্ধের পিল বা ঘুমের ওষুধ খাওয়া‌ যাবে না। নাক ডাকা বন্ধে ক‌বিরা‌জি চি‌কিৎসার মতো কুসংস্কারও রয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের জায়গায় আসছেন কে
বিনা নোটিশে আত্মসমর্পণ করব: মেয়র জাহাঙ্গীর
বহিষ্কারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন: মেয়র জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন