‘প্রশ্ন ফাঁস করে কেন সুনাম নষ্ট করতে চাইব’

‘প্রশ্ন ফাঁস করে কেন সুনাম নষ্ট করতে চাইব’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আমি বুয়েটের একজন শিক্ষক। হঠাৎ করে কেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করে বেড়াব? কেন এ কাজ করে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের সুনাম নষ্ট করতে যাব?’ অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের বক্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। তাই উনি বুয়েটে শিক্ষকতা করতে পারবেন।’

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নাম আসা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন এই অধ্যাপক।

তদন্তে নাম আসায় বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের পদ থেকে রোববার অব্যাহতি দেয়া হয় নিখিল রঞ্জন ধরকে।

সন্ধ্যায় বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার।

উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তাকে (নিখিল রঞ্জন ধর) বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে কোনো পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আমি বুয়েটের একজন শিক্ষক। বুয়েটের অনেক পরীক্ষার সঙ্গে আমি জড়িত। কখনও অনৈতিক কিছু করলাম না। হঠাৎ করে কেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করে বেড়াব? আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। আমি ভালো একটা পজিশনে আছি৷ কেন এ কাজ করে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের সুনাম নষ্ট করতে যাব?’

হতবাক হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ‌প্রশ্ন ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য আমি পিয়নকে বলেছি। পিয়নকে আমি এ কথা বলব এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পিয়নকে কি কেউ এ কথা বলে?’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘যতটুকু হয়েছে, যা ঘটেছে সবাইকে একই কথা অর্থাৎ সত্য যেটা সেটি বলি। ওনারা (তদন্ত কমিটি) যা প্রশ্ন করবেন আমি সততার সঙ্গে উত্তর দেব। কালকে যখন তাদের ডাকে আমি যাব। তারা কী কী জানতে চান আমাকে জানাবেন। আমি ডিটেইলস বলব। আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’

একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন ও অব্যাহতির বিষয়ে অবগত আছেন বলেও জানান নিখিল রঞ্জন ধর।

তবে এই অব্যাহতি প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে নয় বলে দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর।

নিউজবাংলাকে নিখিল রঞ্জন ধর বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধানের পদ দুই বছরের জন্য। এই মাসে (নভেম্বর) এই পদে আমার মেয়াদ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের এক সপ্তাহ আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। তাই আমাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এটি আমাদের নরমাল প্র্যাকটিস।’

অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর সম্ভবত ওনার দায়িত্ব শেষ। গতকাল (শনিবার) উনি চিঠি দিয়ে নিজেই তার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। সে প্রেক্ষিতে ওনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আর অভিযোগ যেহেতু প্রমাণিত হয়নি সুতরাং উনি শিক্ষকতা করতে পারবেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক জড়িতদের নাম।

প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেসরকারি আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে কর্মরত একাধিক জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে ইতোমধ্যেই।

পরে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধরের বিরুদ্ধেও।

নিখিল রঞ্জন বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর তিনি একটি বা দুটি সেট নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতেন। তবে এই প্রশ্নপত্র ব্যাগে নিয়ে কী করতেন, সেটি এখনও জানা যায়নি।

প্রশ্নপত্র ছাপাখানা থেকে নিয়ে নিখিল কোনো পরীক্ষার্থীকে দিতেন কি না, সেটি যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ।

শুক্রবার ডিবির তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা অনেকের নামই পাচ্ছি। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় তাদের কী ভূমিকা থাকত, সেটি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটিকে জানাব।’

তিনি বলেন, ‘কমিটির বক্তব্য ও আমাদের তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র নিজের ব্যাগে নেয়ার বিষয়টি নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেছেন বুয়েট শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর।

তিনি দাবি করেছেন, চেক করার পর ওই প্রশ্নের সেটগুলো তিনি ময়লার স্তুপে ফেলে আসতেন।

ওই ময়লার স্তুপ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আহসানউল্লা ইউনিভার্সিটির লোকজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় ৬ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১ হাজার ৫১১টি পদের বিপরীতে এই পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন।

পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। ডিবির তেজগাঁও বিভাগ বিষয়টি তদন্তে নেমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পায়।

পরীক্ষার দিন ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। তারা হলেন মোক্তারুজ্জামান রয়েল, শামসুল হক শ্যামল, জানে আলম মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন ও রাইসুল ইসলাম স্বপন।

১১ নভেম্বর আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। তারা হলেন এমদাদুল হক খোকন, সোহেল রানা ও ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবি জাহিদ।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ নভেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির অফিস অ্যাটেনডেন্ট দেলোয়ার হোসেন ও আহছানিয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনসের কাটিংম্যান রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আহসান উল্লাহর ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পারভেজ মিয়াকে। আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্ত সংস্থা ডিবি জানিয়েছে, দেলোয়ার হোসেন ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে আহ্‌সানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কাজী শফিকুল ইসলামের অফিসে পিওন হিসেবে চাকরি করতেন। কয়েক মাস পর জানতে পারেন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপা ও পরীক্ষার টেন্ডার পায় আহ্‌সানউল্লা। যেহেতু ট্রেজারার পরীক্ষা কমিটিতে থাকতেন, সেহেতু তাকে প্রশ্ন ছাপার বিভিন্ন কাজে নেয়া হতো।

ডিবি জানিয়েছে, এ কাজে নিয়মিত আশুলিয়ায় আহছানিয়া মিশনের নিজস্ব ছাপাখানায় যেতেন দেলোয়ার। সেখানে নজরদারি ও নিরাপত্তার অভাব ছিল। সেই সুযোগে দেলোয়ার লুকিয়ে প্রশ্ন নিয়ে বের হতেন।

বাহিনীটি বলছে, দেলোয়ার জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তসংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অল্প টাকায় পরীক্ষার টেন্ডারগুলো আনতেন বুয়েটের শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর। তিনিই সব কাজ করতেন এবং সব নিয়ন্ত্রণ করতেন। প্রতিবার প্রশ্ন ছাপার পর দুই সেট প্রশ্ন তিনি ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতেন। তিনি নিজেও অনেকবার নিখিলের ব্যাগে প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কোনো প্রশ্ন বা শব্দ করলে দেলোয়ারের চাকরি খাওয়ার হুমকি দিতেন নিখিল ধর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েট শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বলি শোনেন, কোশ্চেন প্রিন্ট হওয়ার পর সেগুলো চেক করে কোথায় রাখব দুইটা প্রশ্ন? তখন সেগুলো ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে আসার সময় ওয়েস্টেজে ফেলে আসি। আমি বুয়েটের শিক্ষক, আমি কেন প্রশ্ন নিয়ে আসব?’

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করে আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এ কাজে বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে আপনি কীভাবে জড়িত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট চায়, আমি তখন যাই। সিট ও সেন্টার অ্যারেজমেন্টটা আমি করে দিই।’

নিখিল বলেন, ‘ওনারা পরীক্ষাটা নেয়ার জন্য কন্ট্যাক্ট করত। আমার কাছে হেল্প চাইত, আমি হেল্প করতাম। এখন সবই টেন্ডার। আমার কাছে হেল্প চায়, আমি হেল্প করেছি। সবকিছু উনারাই করেন।’

‘পরীক্ষার চারদিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রেসের কাটিংম্যান’

ডিবি পুলিশকে দেলোয়ার জানিয়েছেন, তাকে এই কাজে লোভ দেখান আহ্ছানউল্লার টেকনিশিয়ান মুক্তারুজ্জামান এবং ল্যাব সহকারী পারভেজ মিয়া। তাদের অনুরোধে তিনি কমপক্ষে চার-পাঁচটি পরীক্ষার প্রিলি ও রিটেনের প্রশ্ন এনে দিয়েছেন। প্রতিবার তারা দেলোয়ারকে ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছেন।

ডিবিকে তিনি জানিয়েছেন, এদের সঙ্গে শ্যামল নামে একজন ছিল। এ ছাড়াও তিনি আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলডিসি হারুনুর রশিদ এবং তার ভগ্নিপতি মুবিন উদ্দিনকেও প্রশ্ন এনে দিয়েছেন। সর্বশেষ পাঁচ ব্যাংকের প্রশ্ন ছাপার কাজে তাকে রাখা হয়নি।

দেলোয়ার ডিবিকে জানিয়েছেন, মুক্তার ও পারভেজ খুব অনুরোধ করায় তিনি প্রেসের কাটিংম্যান রবিউলকে ডেকে আনেন। রবিউলের সঙ্গে পারভেজ এবং মুক্তারের এক লাখ টাকায় চুক্তি হয়। রবিউল বৃহস্পতিবার চক্রের সদস্যদের প্রশ্ন এনে দেন।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানান, তিনি আহছানিয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনসের কাটিংম্যান। তার হাতের আঙ্গুলের আঁচিলের জন্য আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির সহকারী দেলোয়ারের কাছে ওষুধ চেয়েছিলেন। ওষুধ দেয়ার কথা বলে দেলোয়ার তাকে ফোন করে কামারপাড়া গিয়ে মুক্তার ও পারভেজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওইদিন মুক্তার ও পারভেজ তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পাঁচটি ব্যাংকের অফিসার ক্যাশ পদে চাকরির জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রস্তাব দেন।

ডিবিকে রবিউল জানান, মুক্তার পারভেজকে তার ছোট ভাই বলে পরিচয় দেন। মুক্তার পারভেজের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। মুক্তার তাকে জানান, আহছানিয়া প্রেসে এমসিকিউ প্রশ্ন ছাপা হবে আশুলিয়ায়।

ডিবিকে রবিউল জানান, কাজটি তিনি করবেন না বললে মুক্তার ও পারভেজ তার হাতপা ধরে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করায়। ২ নভেম্বর প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হয়। ওইদিন প্রশ্নটি রবিউল লুকিয়ে রাখেন। দুই দিন পর ৪ নভেম্বর বিকেলে নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশে মুক্তারের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেন রবিউল।

পারভেজ মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি এবং মুক্তার মিলে দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বলে প্রেসের রবিউলের সঙ্গে এক সপ্তাহ আগে দেখা করেন। ৪ নভেম্বর নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশ থেকে মুক্তার এবং পারভেজ রবিউলের কাছ থেকে পাঁচ ব্যাংকের প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করেন। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআর জানায়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবে।

মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো এ বছর কুচকাওয়াজে বন্ধুপ্রতিম এসব দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে লোগো উন্মোচন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইএসপিআর জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে যোগদান করবে।

জাঁকজমকপূর্ণ এই কুচকাওয়াজ আয়োজনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগ্রত হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল হবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম শফিকুল আলম।

এছাড়াও আসন্ন বিজয় দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণকারী এবং ঢাকা এরিয়ার ঊধ্বর্তন সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র কোনো অধিকার নয় বলে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে, আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

বুধবার ১৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ এমনটি বলেছে।

দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগ এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, ৩৬ অনুচ্ছেদে যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই ফৌজদারি অপরাধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ ও তার বিদেশযাত্রা আটকানো যাবে। তার পরও যদি কেউ আইনকে পাশ কাটিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তাকে আটকানোর পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধে কারও নাম এলেই তার বিদেশযাত্রা রোধ করা যাবে না।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুদকের আবেদন পর্যবেক্ষণসহ গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ।

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিটে হাইকোর্ট তিনটি রায় ও দুটি আদেশ দেয়। ওই সব আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।

বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। সেই আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয়। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বুধবার প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।'

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অভিযোগে হওয়া মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বুধবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।

ওই সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে কারণ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হলো। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বামে প্রথম)। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার।’

‘আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মামলার জট কমাতে ভার্চুয়াল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশন করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।’ ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন!

‘সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এ জন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দেব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি।’

সে সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তারপরে দেখা গেল মন্ত্রিসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করা হলো। পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিন্যান্স, সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব।’ সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

“কারণ বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে।”

তিনি বলেন, ‘প্রথম আমাদের একটা মিসটেক ছিল; ইউএনডিপির হেল্প নিয়েছি। ইউএনডিপির রিসোর্স লিমিটেড। আর সরকারের রিসোর্স হচ্ছে আনলিমিটেড। ইউএনডিপির রিসোর্স দিয়ে জাজদের অ্যাপ দিতে পারি নাই। সব কোর্ট কাজ করতে পারে নাই। লজিস্টিকের এত অভাব ছিল।

‘এমনকি নিম্ন আদালতে তারা ফ্রি অ্যাপ দিয়ে কাজ করেছে। নিম্ন আদালতের জাজদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিব। তারা তখন ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করেছে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “তারপর আমি দেখলাম এটা তো সমাধান হতে পারে না। কারণ এই প্যানডেমিক কত দিন চলবে তার কোনো ঠিক নাই। আমি আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ‘আপনি তো ভার্চুয়াল কোর্ট করে দিয়েছেন। এখন তো ভার্চুয়াল কোর্ট ভালোভাবে চলছে না লজিস্টিকের অভাবে।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এটা তো আমাকে প্রথমেই বলা উচিত ছিল। আপনার কত টাকার প্রয়োজন?’

“আমি বললাম আপাতত ১০ কোটি টাকা দিলে অ্যাপ-ট্যাপ এগুলা কিনব। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কেউ ১০ কোটি টাকা চায়?’ আমি একটু লজ্জা পেলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বললেন, ‘প্রধান বিচারপতি যা কিছু চাবে, সব তাৎক্ষণিক দিতে হবে।’ এরপর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী সব দিয়েছেন। এরপর আমি সবকিছু চালু করতে পেরেছি। সুতরাং এটা আমার কাছে বেশি সাফল্য।”

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেছিলাম, লাখ লাখ ফাইল আমাদের বারান্দায় পড়ে আছে। আমি একদিন আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল, তখন তিনি বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাকে নিয়ে দেখলাম লাখ লাখ ফাইল বারান্দায় পড়ে আছে। তারপর গেলাম ক্রিমিনাল সেকশনে। সেখানেও একই অবস্থা। এখান থেকে ফাইল খুঁজে বের করে কোর্টে দেয়াটা দুঃসাধ্য কাজ।

‘আমরা যদি এটা আর্কাইভ করে রাখতে পারি, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আমি আশা করি আমরা অচিরেই এটা করতে পারব। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে আমি দুইটি মিটিং করেছি। তিনি আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, টাকা কোনো সমস্যা না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শুধু সুপ্রিম কোর্টের কাজ করার জন্য ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে। যেখানে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু করেছি ১ লাখ ডলার দিয়ে, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এখানে হচ্ছে একটা ডেটা সেন্টার, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্ত কিছু থাকবে, এটার জন্য খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটি উপদেষ্টা আমাদের যেইভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। একজন প্রধান বিচারপতির সময় কোর্ট বন্ধ থাকা, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আমার জীবনে বোধ হয় কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুতরাং আমি যে কোর্ট চালু রাখতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

‘আমি আর একটা কথা বলব, আমার উত্তরসূরি যে আসবেন, উনি এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটাকে অনেক সামনে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। কারণ আমাদের বিচারক সংখ্যা দুই, তিন গুণ করা প্রয়োজন হবে। এখনও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্ডিং হয়নি সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। যেমন: অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হয়, চেষ্টা করা হবে আইনজীবীর চেম্বারে আইনজীবী এনআইডির সঙ্গে করেসপন্ড করে যদি করা যায়, তাহলে অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হবে না। এর ফলে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাবে।

‘ভারতে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাচ্ছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমার যে উত্তরসূরি আসবে তিনি যদি এটা করেন, বিচার বিভাগে একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। শুধু তাই নয়, এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে জায়গায় যাচ্ছে, শুধু মুখে কথা বলবেন, লেখা হয়ে যাবে; কষ্ট অনেক কমে যাবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন জায়গায় যাবে যে জুডিশিয়ারিতে কোনো পেন্ডিং মামলা থাকবে না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে। এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বহুল আলোচিত পরিবেশবান্ধব ‘বর্জ্য বিদ্যুৎ’ যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ইনসিনারেশন পদ্ধতি অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে।

‘এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই
‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

‘শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নয়; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।

‘যেসব বিভাগ, জেলা শহর ও পৌরসভা প্রতিদিন ছয়শ’ টন আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য ইনসিনারেশন অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বর্জ্য-বিদ্যুৎ স্মার্ট শহর গড়তে তাৎপর্যময় অবদান রাখবে। বর্জ্যের এই ব্যবস্থাপনা শুধু বিদ্যুৎই দেবে না; একইসঙ্গে গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করবে।

‘দেশের সব জেলায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ঢাকা শহরে দ্রুত ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল চালু করতে পারলে পরিবেশের জন্য ভালো হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন করে দেবে।’

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ ও চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াং পেংফেই এবং বাস্তবায়ন চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব নাজমুল আবেদীন স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা উত্তর সিটির আমিনবাজারে সিএমইসি ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। প্ল্যান্টটি সচল রাখতে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে। আর এখানে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ফাঁস: বুয়েটের সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের তদন্তে বুয়েট শিক্ষকের নাম
প্রশ্ন ফাঁস: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ রিমান্ডে আরও ৩
ব্যাংকের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

শেয়ার করুন